আব্দুল আউয়াল মিছবাহ সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
০১:৪০ পি.এম
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আয়াতুল্লাহর বাবা হাজী মো. সিরাজুল ইসলাম তাঁর ছেলের স্মৃতি চিরস্মরণীয় করে রাখতে মধ্যনগর নদীর ওপর নির্মিত সেতুর স্থায়ীভাবে 'শহীদ আয়াতুল্লাহ সেতু' নামকরণের দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমার ছেলে দেশকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করতে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে জীবন দিয়ে শহীদ হয়েছে।তার স্মৃতি ধরে রাখতে এই সেতুটির স্থায়ীভাবে তার নামে নামকরণ করা হলে আমাদের পরিবারের পাশাপাশি পুরো এলাকার মানুষ গর্ববোধ করবে।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টের ৪ তারিখ গাজীপুর আনসার ক্যাম্পের সামনে ছাত্র জনতার মিছিলে আনসার ও পুলিশের যৌথ এলোপাতাড়ি গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন শহীদ আয়াতুল্লাহ ইসলাম।।
তার স্মৃতিকে স্বরণীয় করে রাখতে তৎকালিন সময়ে স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে মধ্যনগর নদীর ওপর নির্মিত ৩২০ মিটার দীর্ঘ সেতুর সামনে তাঁর নামে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁর বাবা হাজি মো. সিরাজুল ইসলাম ওই নামফলকের উদ্বোধনও করেন।
শহীদ আয়াতুল্লাহর পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী চান শহীদ আয়াতুল্লাহ দেশের গণতান্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে আত্মত্যাগ করেছেন। তাই তাঁর স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান জানাতে সরকারি গেজেটের মাধ্যমে সেতুটির স্থায়ী নাম 'শহীদ আয়াতুল্লাহ সেতু' ঘোষণা করে তার নামপলক যুক্ত ভিত্তি প্রস্তর স্হাপন করার জোড় দাবী জানাচ্ছেন স্হানীয় বাসিন্দারা ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রাম জেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জাবেদা ফি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নকলনবিশ মো. মমিনুল ইসলাম (পিতা: আবুল কাশেম) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে প্রথমে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) জেলা সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের ভিতরে এ ঘটনা ঘটে।ঘটনার পর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে
অভিযোগ রয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত কয়েকজন ব্যক্তি মেরাজ, জীবন ও জাহিদুল ইসলাম নকলনবিস মমিনুল ইসলামের ওপর হামলা চালান।এতে গুরুতর আহত হন মমিনুল ইসলাম।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, জাবেদা ফি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। নকলনবিশদের দাবি অনুযায়ী ফি নির্ধারণ নিয়ে মতবিরোধ হয়।মাত্র ১০০ টাকার জেরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
হামলায় মমিনুল ইসলামের হাতে হাড় ভেঙে যায় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত লেগে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। সহকর্মীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার মো. রুহুল কুদ্দুস বলেন,জাবেদা ফি নিয়ে একটি দ্বন্দ্ব চলছিল। বিষয়টি আমরা আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করছিলাম। এরই মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটে। যারা এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ধারাবাহিক গোয়েন্দা ও আভিযানিক অভিযানে পৃথক তিনটি অভিযানে আলোচিত হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার ৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে ২টি বিদেশি পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড গুলি, ৩ রাউন্ড কার্তুজ এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি এলজি ও একটি বড় ছোরা।
জেলা ডিবি পুলিশ মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার দুই আসামি দিদার ও আফসারকে গ্রেফতার করে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার করে।
জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ হত্যাচেষ্টা মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।
এছাড়া হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ নুরুল আজিম হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে এবং তার দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত এলজি ও বড় ছোরা উদ্ধার করে।
সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপের একটি বেসামরিক ভবনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দ্বারা শক্তিশালী একটি বোমা আঘাত হেনেছে, এমন দাবি করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। সংবাদমাধ্যমটি শুক্রবার ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা করা ফুটেজ এবং স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানিয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতের হামলার ফলে একটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এই হামলায় এক দম্পতি এবং তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান নিহত হয়। তবে পরিবারের অপর দুই সন্তানকে বেঁচে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণের মতে, হামলায় সম্ভবত ২ হাজার পাউন্ড বা প্রায় ৯০০ কেজি ওজনের একটি বোমা ব্যবহার করা হয়েছে, যা মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত সবচেয়ে বড় বোমাগুলির মধ্যে একটি।
অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট গর্তের আকৃতি এবং ঘটনাস্থলে পাওয়া গোলাবারুদের ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ করে এটি মার্ক ৮৪ বোমা হতে পারে।
প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, হামলার সময় এবং স্থান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার সময়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল।
দ্য জেরুজালেম পোস্টকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ইরানে পরিচালিত হামলার একটি প্রসার আগের রাতে হওয়া হামলার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল। তিনি হামলাগুলোকে ব্যাপক এবং উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলার কথা উল্লেখ করেছেন।
ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, হামলার ফলে আশপাশের প্রায় ২০টি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষ গর্তের কেন্দ্র থেকে ২০০ ফুটেরও বেশি দূরে ছিটকে পড়েছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের তদন্তে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটির আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না। হামলার পর ইরানও কোনো সামরিক হতাহতের তথ্য প্রকাশ করেনি।
তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম জানিয়েছে, তারা বেসামরিক হতাহতের অভিযোগের তদন্ত করছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু, ব্যবহৃত অস্ত্র এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তায় কী ধরনের সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, তারা এ–সংক্রান্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত এবং বিষয়টি তদন্ত করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনী কখনও বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অডিওর মাধ্যমে অবস্থান ফাঁস হতে পারে, সেজন্য মোজতবা খামেনি রেকর্ড করা বার্তা দিচ্ছেন না, এমন রিপোর্ট দিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
ইরানের দৈনিক আল-মাশহারি উল্লেখ করেছে যে, অডিও রেকর্ডিং বিশ্লেষণ করে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মোজতবা খামেনির অবস্থান শনাক্ত করতে পারে—এমন আশঙ্কায় তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
রবিবার পত্রিকাটি তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, খামেনির কোনো অডিও বার্তা এখন প্রকাশিত হচ্ছে না, এই কারণেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, একটি অডিও রেকর্ডিং থেকেই অন্তত পাঁচটি ভিন্ন উপায়ে বক্তার অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব।
প্রথমত, কক্ষের নিজস্ব শব্দগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে বোঝা যায় বক্তা কী ধরনের কক্ষে কথা বলছিলেন।
প্রতিটি স্থানের আলাদা আলাদা অ্যাকুস্টিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা বিশ্লেষণ করে বক্তার অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
এছাড়া, বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের বৈদ্যুতিক সংকেতও বিশ্লেষণ করা যায়। এটি রেকর্ডিংটি কখন করা হয়েছে এবং এটি কোন বিদ্যুৎ গ্রিডের আওতায় ছিল, তা নির্ধারণ করতে সাহায্য করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, প্রতিটি মাইক্রোফোন এবং রেকর্ডিং যন্ত্র অডিওতে আলাদা প্রযুক্তিগত ছাপ ফেলে। উদাহরণ হিসেবে, মোবাইল ফোনের মাইক্রোফোন সাধারণত নিম্ন কম্পাঙ্কের শব্দকে দুর্বল করে এবং স্বল্পমূল্যের যন্ত্রাংশ বিশেষ ধরনের বিকৃতি সৃষ্টি করে।
এই তথ্যগুলো ব্যবহার করে ব্যবহৃত যন্ত্র সম্পর্কে ভিত্তি করা সম্ভব।
এছাড়া, ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা, জেনারেটর, কুলিং সিস্টেম কিংবা আশপাশের অন্যান্য যন্ত্রপাতির শব্দ বিশ্লেষণের মাধ্যমে রেকর্ডিংয়ের সম্ভাব্য স্থান শনাক্ত করা সম্ভব বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সবশেষে, পত্রিকাটির দাবি করা হয়েছে যে, কণ্ঠস্বরের অনুরণন বিশ্লেষণ করে বক্তার শ্বাস-প্রশ্বাসের ধরন, শব্দের মধ্যে বিরতি, শারীরিক অবস্থা, হৃদস্পন্দন এবং মানসিক চাপের মাত্রা সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ