ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ট্রাম্প: ইউক্রেনকে বিপুল সহায়তা দিয়েও কিছু পায়নি যুক্তরাষ্ট্র


ট্রাম্প: ইউক্রেনকে বিপুল সহায়তা দিয়েও কিছু পায়নি যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, ইউক্রেনকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সহায়তা দিয়েও যুক্তরাষ্ট্র কিছুই পায়নি। তিনি দাবি করেন, ইউক্রেনকে সহায়তা দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে এবং এর বিনিময়ে উচ্চ ডিজেলের দাম ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি ইউক্রেনকে অর্থ সহায়তা দিতে গিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নও ক্লান্ত হয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছাতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে তাগিদ দেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনকে এই যুদ্ধের অবসান চাইতে হবে। জেলেনস্কিকে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় আগ্রহী হতে হবে। তিনি যদি তা না চান, তাহলে তার মতে, এর পরিণতি খুব খারাপ হবে।

আরও পড়ুন: বিক্ষোভের মধ্যেই সৌদি সফরে গেলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন যে, ইউক্রেনকে সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ খরচ করেছে এবং ইউরোপও বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে। এখন ইউরোপ এতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।

ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে বিপুল পরিমাণ সহায়তা দিয়েছে, কিন্তু এর বিনিময়ে উচ্চ ডিজেলের দাম ছাড়া আর কিছুই পায়নি।

নরওয়ের রাজধানী অসলোতে আলোচনার পর শান্তিপ্রক্রিয়া আবারও এগোচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া যুদ্ধের অবসান চায় বলেই মনে হচ্ছে। তবে তিনি রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতার কথা তুলে ধরে বলেন, দেশটি একটি বিশাল ‘শক্তি’। তারা ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের হাতে জনবলের সীমাহীন সরবরাহ রয়েছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে তীব্র বৈরিতাকে সমঝোতার পথে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তার মতে, দুই নেতার মধ্যে বিদ্বেষের কারণেই মূলত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন: স্ত্রীকে সুনামিতে হারিয়ে ১৫ বছর ধরে সাগরে ডুব দিচ্ছেন স্বামী

শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের জন্য পুতিন ও জেলেনস্কিকে একই কক্ষে বসতে হবে কি না, জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তাদের একই কক্ষে থাকার প্রয়োজন নেই। অন্যভাবেও চুক্তি করা সম্ভব। কীভাবে চুক্তি হবে, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন।

২০২২ সালে শুরু হওয়া ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে বৈঠকে বসার আগ্রহের কথাও সম্প্রতি জানিয়েছেন ট্রাম্প।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

আরও পড়ুন: কুয়েতে ডিজেল পাচারের মামলায় পৌর কর্মকর্তা ও ভারতীয় নাগরিকের ৭ বছরের কারাদণ্ড

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দ্বিতীয় মেয়ের নাম দেবী প্রকাশ করলেন দীপিকা-রণবীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২৬ এম


দ্বিতীয় মেয়ের নাম দেবী প্রকাশ করলেন দীপিকা-রণবীর

বলিউডের জনপ্রিয় তারকা দীপিকা পাড়ুকোন এবং রণবীর সিং তাদের দ্বিতীয় মেয়ের নাম প্রকাশ করেছেন। দশেরার বিশেষ উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা একটি পরিবারের ছবি শেয়ার করে মেয়ের নাম ঘোষণা করেন। তাদের দ্বিতীয় সন্তানের নাম রাখা হয়েছে দেবী পাড়ুকোন সিং।

দীপিকা ইনস্টাগ্রামে ছবিটি শেয়ার করে লিখেছেন, "ভালোবাসা ও প্রাচুর্যের... দেবী পাড়ুকোন সিং।" দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর এটি প্রথমবারের মতো পরিবারের পূর্ণাঙ্গ ছবি প্রকাশ করলেন তারা।

ছবিতে দীপিকা, রণবীর, তাদের বড় মেয়ে দুয়া এবং ছোট্ট দেবীকে সোনালি রঙের মিলিয়ে পরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে দেখা যাচ্ছে। রণবীরের কোলে ছিল দুয়া, যে তার ছোট বোনের গালে চুমু দিচ্ছে। অন্যদিকে, দীপিকা কোলে আগলে রেখেছেন দেবীকে। পরিবারের এই মধুর মুহূর্তের ছবি প্রকাশের পর ভক্তদের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে।

ছবিটি প্রকাশের পরপরই বলিউডের অনেক তারকা দম্পতি তাদের শুভেচ্ছা জানান।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর দীপিকা ও রণবীর দ্বিতীয় সন্তানের মা-বাবা হন। এর আগে ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তাদের প্রথম সন্তান দুয়ার জন্ম হয়।

দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কের পর ২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন এই তারকা জুটি। ইতালির লেক কোমোয় জমকালো আয়োজনে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

২০১৩ সালে ‘গালিও কি রাসলীলা রাম-লীলা’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় দীপিকা ও রণবীরের সম্পর্কের শুরু। কয়েক বছর প্রেম করার পর ২০১৫ সালে তারা গোপনে বাগদান সারেন। পরে ২০১৮ সালে বিয়ের মাধ্যমে তাদের সম্পর্ককে পূর্ণতা দেন এই জুটি।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২ পক্ষ ১ হয়েছে, সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৯ এম


২ পক্ষ ১ হয়েছে, সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রীর

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে রাজধানীর বাইরে ৩টি বিভাগীয় শহর রংপুর ও চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজশাহীতে একটি জনসভায়ও অংশগ্রহণ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে রংপুরে যান, পরে রাজশাহী এবং সবশেষে রাতে চট্টগ্রামে পৌঁছান।

রংপুর

দুপুর ১২টার দিকে রংপুর নগরের ধর্মসভা রাধাগোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মন্দিরে পৌঁছানোর পর, মন্দির কর্তৃপক্ষ তাকে বরণ করে নেন। এ সময় তিনি শিশুদের সঙ্গে সেলফি তোলেন এবং পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন। মন্দিরের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী ১০ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন।

তিনি সেখানে বলেন, "অতীতের রাজনীতি পরিবর্তন করতে চাই। পরিবর্তনের বড় শক্তি জনগণ। অতীতের মতো, জনগণকে পাশে নিয়েই সরকার এগিয়ে যেতে চায়।"

তারেক রহমান আরও বলেন, "যারা ভোট দিয়েছেন এবং যারা ভোট দেননি, সরকার সবার জন্যই কাজ করতে চায়।"

রাজশাহী

বেলা ৩টার দিকে সামরিক বিমানে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় যোগ দেন।

শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, ২ পক্ষ ১ হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে।"

চট্টগ্রাম

সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি রহমতগঞ্জের জেএম সেন পূজামণ্ডপে যান। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, "১৯৭১ সালে কোনো ধর্ম দেখিনি, শুধু দেখেছি মুক্তিযুদ্ধ। ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানে কেউ জিজ্ঞেস করেনি, গুলি খাওয়া মানুষটি কি মুসলমান নাকি হিন্দু, বৌদ্ধ নাকি খ্রিস্টান। আগামীর বাংলাদেশেও ধর্মের নামে যেন কোনো বিভেদ না থাকে।"

তিনি আরও বলেন, "আজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনাদের সামনে এটুকু বলার জন্য উপস্থিত হয়েছি যে, দেশ আপনার, দেশ আমার, আমাদের সকলের। আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান যে-যাই হই না কেনো, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। আমাদের একমাত্র পরিচয়- আমরা বাংলাদেশের নাগরিক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংবাদমাধ্যমের সংকটের নেপথ্যে সহকর্মীরাই, পেশাগত ঐক্য ভাঙলে দুর্বল হয় সাংবাদিকতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাছুদুর রহমান আসলাম,

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫০ এম


সংবাদমাধ্যমের সংকটের নেপথ্যে সহকর্মীরাই, পেশাগত ঐক্য ভাঙলে দুর্বল হয় সাংবাদিকতা

সাংবাদিকতার শত্রু শুধু ক্ষমতার অপব্যবহারকারী, প্রভাবশালী মহল কিংবা সংবাদ প্রকাশে বাধা সৃষ্টিকারীরা নন। পেশার ভেতরে যখন ব্যক্তিস্বার্থ, হিংসা, প্রতিহিংসা, অস্বচ্ছতা ও অসুস্থ প্রতিযোগিতা জায়গা করে নেয়, তখন সাংবাদিকতার ভিত্তিও দুর্বল হতে শুরু করে। যে পেশার দায়িত্ব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা, সেই পেশার মানুষদের আচরণেই যদি ন্যায়, সততা ও জবাবদিহির ঘাটতি দেখা দেয়, তাহলে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ কীভাবে শক্তিশালী হবে?


তবে সাংবাদিকতার সব সংকটের দায় সহকর্মীদের ওপর চাপানোও বাস্তবসম্মত নয়। কম পারিশ্রমিক, অনিয়মিত সম্মানী, পেশাগত নিরাপত্তার অভাব, রাজনৈতিক চাপ, সংবাদমাধ্যমের আর্থিক দুর্বলতা এবং ব্যবস্থাপনার অস্বচ্ছতা—এসব সমস্যাও সাংবাদিকদের প্রতিনিয়ত মোকাবিলা করতে হয়। সংকট আরও গভীর হয়, যখন এসব বাস্তব সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে ব্যক্তিগত বিরোধ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব কিংবা পরস্পরকে দুর্বল করার প্রবণতা প্রাধান্য পায়।

প্রশ্ন হলো, সাংবাদিকতা কি শুধু বাইরের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে, নাকি নিজের পেশার ভেতরের অনিয়ম ও অসংগতির বিরুদ্ধেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে? এই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

সাংবাদিকতায় প্রতিযোগিতা থাকবে। কে আগে সংবাদ প্রকাশ করবেন, কে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করবেন কিংবা কে জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করবেন—এসব ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা পেশার মান বাড়াতে পারে। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা যখন কাজের মান উন্নয়নের পরিবর্তে সহকর্মীর সাফল্য খাটো করা, যাচাইহীন অভিযোগ ছড়ানো কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, তখন তা আর সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকে না।

একজন সাংবাদিকের ভালো প্রতিবেদন অন্য সাংবাদিকের ব্যর্থতার প্রমাণ নয়। বরং ভালো কাজ থেকে শেখা এবং নিজের দক্ষতা বাড়ানোই হওয়া উচিত পেশাগত প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য। সহকর্মীর কাজের ভুল ধরিয়ে দেওয়া অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু তা হতে হবে তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে; ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে নয়।

একই সথে সমালোচনাকে হিংসা বা ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে এড়িয়ে যাওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়। পেশাগত ভুল, অনিয়ম কিংবা দায়িত্বহীনতার বিষয়ে প্রশ্ন তোলা সাংবাদিকতার নৈতিক দায়িত্বের অংশ।

একটি সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম নির্ভর করে প্রতিবেদক, বার্তা সম্পাদক, আলোকচিত্রী, অনলাইন ডেস্ক এবং ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ের ওপর। দায়িত্ব বণ্টন, সংবাদ যাচাই, প্রকাশনার অনুমোদন, ভুল সংশোধন ও পারিশ্রমিকের নিয়ম স্পষ্ট না থাকলে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।

কোনো প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া অস্পষ্ট হলে কিংবা কর্মীদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত না হলে আস্থার সংকট বাড়ার আশঙ্কা থাকে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এক ধরনের প্রত্যাশা এবং মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অন্য ধরনের মানদণ্ড থাকলে বিরোধ আরও জটিল হতে পারে।

এখানে শুধু সংবাদকর্মীদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুললেই হবে না; প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনাকেও নিজেদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কর্মীদের কাছ থেকে পেশাগত সততা ও দায়িত্বশীলতা প্রত্যাশা করার পাশাপাশি ন্যায্য কর্মপরিবেশ, স্বচ্ছ নীতিমালা এবং অভিযোগ জানানোর কার্যকর সুযোগ তৈরি করাও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব।

উপজেলা, থানা ও জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকেরা স্থানীয় অপরাধ, দুর্নীতি, জনদুর্ভোগ, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং মানুষের অধিকারসংক্রান্ত নানা তথ্য সংগ্রহ করেন। অনেক ক্ষেত্রে সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তাঁদের মাঠে কাজ করতে হয়। যাতায়াত, যোগাযোগ ও তথ্য সংগ্রহের খরচও কারও কারও জন্য ব্যক্তিগত আর্থিক চাপ তৈরি করে।

কিন্তু তাঁদের দায়িত্ব, কাজের মূল্যায়ন, সম্মানী এবং সম্পাদকীয় বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের নিয়ম স্পষ্ট না হলে অসন্তোষ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের কাছ থেকে নিয়মিত সংবাদ প্রত্যাশা করা হলে তাঁদের কাজের মূল্যায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার ব্যবস্থাও থাকতে হবে।

সংবাদ প্রকাশিত না হলেই যে কোনো প্রতিবেদকের প্রতি অবিচার করা হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তও ঠিক নয়। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের নির্ভুলতা, জনস্বার্থ, আইনগত ঝুঁকি এবং সম্পাদকীয় নীতি বিবেচনা করতে হয়। তবে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশযোগ্য না হলে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে কারণ জানানো এবং ভবিষ্যতে কাজের মান উন্নয়নে সহায়তা করা ভালো পেশাগত চর্চা।


সাংবাদিকতার বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দেখা যায়। আর্থিক অনিশ্চয়তা: পর্যাপ্ত ও নিয়মিত আয় না থাকলে সাংবাদিকদের পেশাগত স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের দায়িত্ব ও সম্মানীর মধ্যে অসামঞ্জস্য থাকলে তাঁদের ওপর চাপ বাড়তে পারে।

নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা: অপরাধ, দুর্নীতি কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে হুমকি, হয়রানি ও চাপের আশঙ্কা সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা: দায়িত্ব বণ্টনে অস্পষ্টতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতার অভাব এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে কর্মপরিবেশ নষ্ট হয়।

ডিজিটাল প্রতিযোগিতা: দ্রুত সংবাদ প্রকাশের চাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্যের বিস্তার এবং বিজ্ঞাপননির্ভর আয়ের অনিশ্চয়তা অনলাইন সংবাদমাধ্যমের কাজকে আরও কঠিন করে তুলছে।

পেশাগত সম্পর্কের অবনতি: ব্যক্তিগত বিরোধ, যাচাইহীন অভিযোগ এবং অসুস্থ প্রতিযোগিতা সংবাদকর্মীদের পারস্পরিক সহযোগিতা কমিয়ে দিতে পারে।

এসব সংকটের সমাধানে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও পেশাগত সংগঠন—তিন পক্ষেরই দায়িত্ব রয়েছে। শুধু একজনকে দায়ী করে কিংবা শুধু ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।


সাংবাদিকদের ঐক্য প্রয়োজন, কিন্তু সেই ঐক্য কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি অন্ধ আনুগত্যের নাম নয়। সহকর্মীর অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তার পাশে দাঁড়ানো যেমন জরুরি, তেমনি তাঁর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণভিত্তিক অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষভাবে তা যাচাই করাও প্রয়োজন।

অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। আবার পেশাগত পরিচয়ের কারণে কাউকে জবাবদিহির বাইরে রাখার সুযোগও থাকা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ, তথ্য যাচাই এবং ন্যায্য প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়াই হওয়া উচিত নীতি।

ঐক্যের প্রকৃত শক্তি প্রকাশ পায় অন্যায়কে আড়াল করার মধ্যে নয়, বরং ন্যায্যতার প্রশ্নে একসঙ্গে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে।

সাংবাদিকতার পরিবেশ উন্নত করতে হলে কয়েকটি পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

দায়িত্ব ও সম্মানীর লিখিত নীতিমালা: সংবাদমাধ্যমে প্রত্যেক কর্মীর দায়িত্ব, মূল্যায়নের মানদণ্ড, সম্মানী এবং অর্থ পরিশোধের নিয়ম স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে। বিলম্ব হলে কারণ ও সম্ভাব্য সময়সীমা জানাতে হবে।

নিরপেক্ষ অভিযোগ নিষ্পত্তি: অভিযোগ গ্রহণ, তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য শোনা এবং সিদ্ধান্ত জানানোর নির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকতে হবে। গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা: সংবাদ প্রকাশ, স্থগিত রাখা কিংবা সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নীতি অনুসরণ করতে হবে। সম্ভব হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দিতে হবে।

নিয়মিত সমন্বয় সভা: সপ্তাহে বা মাসে অন্তত একবার কাজের সমস্যা, তথ্য যাচাই, দায়িত্ব বণ্টন এবং ভুল সংশোধন নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে সংরক্ষণ করলে জবাবদিহি বাড়বে।

মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের সহায়তা: সংবাদ সংগ্রহের প্রয়োজনীয় যোগাযোগ, তথ্য যাচাই, নিরাপত্তাঝুঁকিতে করণীয় এবং সম্পাদকীয় বিভাগের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখতে হবে। তাঁদের কাজের মূল্যায়নও নির্ধারিত মানদণ্ডে হওয়া উচিত।

ভুল সংবাদ সংশোধনে দ্রুততা: ভুল তথ্য প্রকাশিত হলে দ্রুত সংশোধন, প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা এবং ভবিষ্যতে একই ভুল প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে হবে। দায় এড়িয়ে যাওয়ার পরিবর্তে সংশোধনকে প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব হিসেবে নিতে হবে।

প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন: তথ্য যাচাই, ডিজিটাল নিরাপত্তা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, নৈতিকতা এবং আইনগত ঝুঁকি সম্পর্কে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

বিরোধ নিষ্পত্তিতে মধ্যস্থতা: ব্যক্তিগত বা পেশাগত বিরোধের ক্ষেত্রে সরাসরি আলোচনা, সম্পাদকীয় কর্তৃপক্ষ কিংবা নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। তবে মধ্যস্থতার নামে কাউকে ন্যায্য অভিযোগ প্রত্যাহারে চাপ দেওয়া উচিত নয়।

সাংবাদিক সংগঠনের জবাবদিহি: সাংবাদিক সংগঠনগুলো সদস্যদের অধিকার, নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রের হয়রানি এবং পারিশ্রমিকসংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে তথ্যভিত্তিক উদ্যোগ নিতে পারে। সংগঠনের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণেও স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি।


সাংবাদিকতার পরিবেশ উন্নত করতে হলে প্রত্যেককে নিজের ভূমিকা নিয়ে ভাবতে হবে। আমি কি সহকর্মীর সাফল্যকে সম্মান করি? কোনো অভিযোগ করার আগে তার সত্যতা যাচাই করি? মতবিরোধ হলে যুক্তি দিয়ে কথা বলি? নিজের দায়িত্ব পালনে আন্তরিক থাকি? ভুল হলে তা স্বীকার ও সংশোধন করি?

এসব প্রশ্নের উত্তর ব্যক্তিগত আচরণ উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে। তবে ব্যক্তিগত সততার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত সংস্কারও জরুরি। কারণ, স্বচ্ছ নীতিমালা ছাড়া শুধু ভালো সম্পর্কের ওপর একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন পরিচালনা করা কঠিন।

সাংবাদিকতার সংকট মোকাবিলায় বাইরের চাপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি পেশার অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাগুলোও স্বীকার করতে হবে। সহকর্মীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে, মতপার্থক্য থাকবে এবং সমালোচনাও থাকবে। কিন্তু এসবের ভিত্তি হতে হবে তথ্য, পেশাগত নৈতিকতা ও জবাবদিহি।

কোনো সহকর্মীর ভুল তুলে ধরা দায়িত্ব, তাঁর ন্যায্য অধিকার রক্ষা করাও দায়িত্ব। একইভাবে, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষা করতে হলে সংবাদকর্মীদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে হবে, অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তের পরিবর্তে স্বচ্ছ নিয়ম প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সাংবাদিকতার শক্তি শুধু ঐক্যের স্লোগানে নয়; সত্যনিষ্ঠ সংবাদ, স্বাধীন সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত, ন্যায্য কর্মপরিবেশ ও জবাবদিহির বাস্তব চর্চায়। লক্ষ্য কাউকে শত্রু বানানো নয়—লক্ষ্য এমন একটি পেশাগত পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে সাংবাদিকেরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলতে পারবেন এবং নিজেদের পেশার ভেতরেও ন্যায় ও সততার মানদণ্ড বজায় রাখতে পারবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের স্বার্থে কোনো ছাড় নয়: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী টুকু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৬ এম


দেশের স্বার্থে কোনো ছাড় নয়: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী টুকু

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মন্তব্য করেছেন, দেশের স্বার্থে কোথাও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, "দেশকে বুকে ধারণ করে পথ চলতে হবে। ভবিষ্যতের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।"

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়া পাঞ্জাপাড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ। এখানে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলে কোনো কথা নেই। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার পরিচয় একটাই- বাংলাদেশি।" টুকু বলেন, বিএনপির আদর্শও হচ্ছে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গঠন করা।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আরও বলেন, "যারা ফ্যাসিবাদী শক্তি হিসেবে জনগণের দ্বারা বিতাড়িত হয়েছে, তারা আবারও ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে।"

তবে তিনি বলেন, "কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। আমরা যদি সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকি, তাহলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। ষড়যন্ত্রকারীরা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%