১১:৫১ পি.এম
কমলাপুর জামে মসজিদ সুলতানি আমলে পোড়ামাটি দিয়ে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক মসজিদ। বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামে অবস্থিত এই মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে এটি সতেরো শতকের শেষের দিকে নির্মিত হয়েছে। মসজিদটির দেয়ালের পুরুত্ব ১.৮৩ মিটার বা ছয় ফুট। এর দৈর্ঘ্য উত্তর দক্ষিন দিকে ১৭.২২ মিটার বা ৫৬ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিম দিকে ৮.০৮ মিটার বা ২৬ ফুট।
দেয়ালগুলিতে রয়েছে বহুখাঁজ বিশিষ্ট খিলানযুক্ত প্রবেশপথ। পূর্ব দিকে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে একটি করে মোট পাঁচটি প্রবেশপথ রয়েছে, যার মধ্যে পূর্ব পাশে মসজিদের মধ্যভাগের প্রবেশ পথটি বাকিগুলোর থেকে বড় এবং এটিকে প্রধান ফটক হিসেবেই ব্যবহার করা হয়। কিবলার দিকে তিনটি অর্ধ অষ্টভুজ মিহরাব রয়েছে। এরমধ্যে মাঝখানের মিহরাবটি বাইরের দিকে অভিক্ষিপ্ত এবং দু’প্রান্তে দুটি ছোট অষ্টভুজ বুরুজ রয়েছে।
মসজিদটির ইটের নির্মাণ এবং খিলানের সাহায্যে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যার প্রত্যেকটি ভাগে একটি করে সামান্য কন্দাকৃতির গম্বুজ রয়েছে। কেন্দ্রীয় গম্বুজটি অপর দুটি থেকে বড়। গম্বুজগুলির শীর্ষে রয়েছে পদ্ম ও কলসের নকশা। মসজিদের অলংকরণে সুলতানি বৈশিষ্ট্যের পোড়ামাটির কাজ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ফেনীতে মাদক সেবনের অভিযোগে ছাত্রদলের দুই নেতা সহ ৪ জন গ্রেপ্তার
প্রবেশপথের আয়তাকার অংশে প্যাঁচানো ফুলের নকশা, গোলাপ নকশা, জালি নকশা প্রভৃতি মোটিফ দিয়ে সাজানো পোড়ামাটির ফলক রয়েছে। মিহরাবের বহুখাঁজ নকশাগুলি এখনও অসাধারণ। মসজিদের তিনপাশ দিয়ে রয়েছে হাটার রাস্তা এবং মসজিদের সামনের অংশে বিশাল বসার স্থান রয়েছে, যার পূর্বদিকে ছোট ছোট চারটি স্তম্ভ রয়েছে।
মসজিদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা সৈয়দ সুমন আহম্মেদ জানালেন, প্রধান প্রবেশপথের শিলালিপিটি হারিয়ে যাওয়ার কারণে নির্মাণ সময় সঠিকভাবে জানা যায়নি, তবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মতে এটি সতেরো শতকের শেষভাগে নির্মাণ হয়েছিলো। স্থানীয় বাসিন্দা মো. এমদাদ হোসেন হাওলাদার বলেন, ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরবর্তীতে মসজিদটিতে বহুবার সংস্কার কাজ হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ১৯৮৭ ও ২০১২ সালের সংস্কার কাজ তিনি নিজেই দেখেছেন।
ঝড়ের কারণে মসজিদের গম্বুজগুলোর ওপর থাকা কলসের নকশা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং কিছু সমস্যা রয়েছে, যার কারণে জরুরি ভিত্তিতে মসজিদের সংস্কার করা প্রয়োজন। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পক্ষ থেকে মসজিদটি দেখভালের জন্য নিয়মিত একজন লোক ছিল, তবে বর্তমানে তিনি নিয়মিত নন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ২৬ শতক জায়গার ওপর মসজিদ কমপ্লেক্সের পাশে এখন একটি মাদ্রাসা অবস্থিত। সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মসজিদের দেখভাল করছেন। মসজিদ ভবনের উত্তরপূর্ব কোণে একটি বিদেশী সংস্থার দ্বারা নির্মিত ওজুখানা রয়েছে। এছাড়া ওজুর জন্য পুকুরও রয়েছে মসজিদের পূর্বদিকে।
আরও পড়ুন: টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৪০ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক
মসজিদের নিয়মিত মুসল্লিরা জানান, বহু বছর ধরে এখানে স্থানীয়দের সহায়তায় পবিত্র রমজান মাসে ইফতারের আয়োজন করা হয়ে আসছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি রমজান মাসে তারাবির নামাজসহ সকল ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করা হয়ে থাকে। মসজিদের ভিতরের অংশে তিনটি কাতারে ৮০ থেকে ৯০ জন একসাথে নামাজ আদায় করতে পারেন। বাহিরের খোলা অংশ নিয়ে দুই থেকে তিনশ’ মুসল্লী একত্রে নামাজ আদায় করেন। বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার দূর-দূরান্ত থেকে জুমআর নামাজ আদায় ও মসজিদ দেখতে অসংখ্য মানুষ আসে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
