ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নোবিপ্রবিতে ১১ বছরের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন


নোবিপ্রবিতে ১১ বছরের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) জুন ২০১৫ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে নিয়োগ, পদোন্নয়ন, আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্য যাচাই-বাছাই করার জন্য ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ তথ্য বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়।

 

আরও পড়ুন: সরকারকে সময় না দিয়ে বিরোধিতা করছে বিরোধী দল: ডা. কাজী মনির

বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের ৭০তম সভার সিদ্ধান্তের আলোকে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, জুন ২০১৫ থেকে মে ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নয়ন, আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্য যাচাই-বাছাই করে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত করার জন্য কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

গঠিত কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে নিযুক্ত করা হয়েছে। সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার।

 

আরও পড়ুন: বিসিএস গেজেটবঞ্চিতদের অনশন থেকে ছাত্রলীগের ৪ নেতাকর্মী আটক

কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন নোবিপ্রবির ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন, নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও নোবিপ্রবি রিজেন্ট বোর্ডের একজন সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একজন উপযুক্ত প্রতিনিধি।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ, আর্থিক লেনদেন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে। পরে এসব বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) তামজিদ হোছাইন চৌধুরী বলেন, ‘রিজেন্ট বোর্ডের ৭০তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিগত সময়ে ঘটে যাওয়া সার্বিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য মাউশির জরুরি নির্দেশনা জারি

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে আমদানি নির্ভরতার কারণেই জ্বালানি সংকট: জোনায়েদ সাকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৪১ পি.এম


ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে আমদানি নির্ভরতার কারণেই জ্বালানি সংকট: জোনায়েদ সাকি

জ্বালানি সংকটের কারণ হিসেবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, এটি বর্তমান সরকারের তৈরি কোনো সমস্যা নয়। বরং, পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমদানি-নির্ভর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতির ফলস্বরূপ এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে কুমিল্লা টাউনহলে ঢাকা-কুমিল্লা বিকল্প মহাসড়ক ও কোটবাড়ি এএইচকে স্যাটেলাইট সিটির ধারণাপত্র উপস্থাপনবিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, “চলমান আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি (ইরান-ফিলিস্তিন) হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহের যে চ্যালেঞ্জ, এটাও সংকটের অন্যতম কারণ। ফলে আমরা দেখতে পাচ্ছি জ্বালানি সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের দেশের গ্যাস উত্তোলন, ব্যাপকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির মজুদ তৈরি করা এবং আমাদের নিজস্ব যে গ্যাস আছে সেগুলো কিভাবে ম্যানুয়ালি আনা যায়, এসব উৎপাদনে মধ্যম মেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে আমরা এর সুফল পাব।”

জুনায়েদ সাকি আরো জানান, “একমাত্র যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর কারণে আমাদের ৪০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়েছে। এতে একদিকে আর্থিক চাপ তৈরি করেছে, অন্যদিকে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।

 

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক নির্বাসনের পর বাংলাদেশে এসে ইউটার্ন করেছেন, এটা আমাদের একটা পরিকল্পনা আছে। একটানা অবৈধভাবে ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে ফ্যাসিস্ট সরকার উন্নয়নকে সবচেয়ে বড় অস্ত্র করার চেষ্টা করেছে তাদের শাসনের বৈধতার জন্য। কিন্তু কী উন্নয়ন তারা করেছে? এমনই উন্নয়ন করেছে কুমিল্লাবাসী মহাসড়কের এপার থেকে ওইপারে যেতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে দীর্ঘ গণ-অভ্যুত্থানের পরে হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এবং এখনো যারা শরীরে ক্ষত নিয়ে জীবনযাপন করছেন, তাদের প্রতি আমাদের যে ঋণ সেটি হচ্ছে গণতান্ত্রিকভাবে এবং সমস্ত উন্নয়নকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা।”

সেমিনারে মূল ধারনপত্র পাঠ করেন কুমিল্লা-৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী।

 

তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর চাপ কমাতে বিকল্প আরেকটি মহাসড়ক অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রস্তাবিত মহাসড়কটি নির্মাণ হলে অবহেলিত কুমিল্লা উত্তরাঞ্চল ও কৃষি ও শিল্প বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আমিরুজ্জামান আমিরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

 

 

’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউপি নির্বাচনে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৪৩ পি.এম


ইউপি নির্বাচনে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর

খাদ্য প্রতিমন্ত্রী নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ইউপি নির্বাচনে।

 

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেছেন, ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়, বরং জনগণের স্বার্থে দলের নির্দেশনা মেনে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে জয়পুরহাট শহরের মাদরাসা পাড়া মহল্লায় বেসরকারি সংস্থা এহেড সোশ্যাল অর্গানাইজেশনের হলরুমে জেলা বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত আলোচনা সভায় তিনি এই আহ্বান জানান।

 

প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী মন্তব্য করেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়, জনগণের স্বার্থ রক্ষায় দলের নির্দেশনা মেনে সবাইকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী কোনো কাজ ব্যক্তির পক্ষ নিয়ে করা যাবে না।

 

দল মনোনীত যোগ্য প্রার্থীর পক্ষে জনগণের সমর্থন আদায়ের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী যোগ করেন, ‘আমরা সৎ পাত্রে কন্যাদান করতে চাই। তাই সকল ভেদাভেদ ভুলে দলের চেইন অব কমান্ড বজায় রেখে মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

 

দলকে আরো সুসংগঠিত করে জনগণের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

আলোচনা সভায় জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান ও এম. এ ওহাবসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

সভায় আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় কৌশল, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং প্রার্থীদের পক্ষে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজ প্রণালিতে আটকা ৬ হাজার নাবিক, ৪০০ জাহাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৪৫ পি.এম


হরমুজ প্রণালিতে আটকা ৬ হাজার নাবিক, ৪০০ জাহাজ

চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সেখানে প্রায় ৬ হাজার নাবিকসহ ৪০০টি জাহাজ আটকা পড়েছে। সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের

এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)।

এক সাক্ষাৎকারে আইএমওর মহাসচিব আর্সেনিও ডমিঙ্গেস বলেন, "সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।" তিনি উল্লেখ করেন, এর প্রভাব শুধু ওই অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তা অনুভূত হচ্ছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, "হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন দেখা দিলে বিশ্ব অর্থনীতিতে আরো ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।" কারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পরিবহন করা হয়। ফলে যুদ্ধের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আকাশ, সড়ক ও নৌপথ পেরিয়ে সেন্ট মার্টিনে পৌঁছাল প্রবাসীর মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৪৬ পি.এম


আকাশ, সড়ক ও নৌপথ পেরিয়ে সেন্ট মার্টিনে পৌঁছাল প্রবাসীর মরদেহ

সেন্ট মার্টিনে পৌঁছাল প্রবাসীর মরদেহ, আকাশ, সড়ক ও নৌপথ পেরিয়ে।

 

২০১৩ সালে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তারেক রহমান (৩১) ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করে তিনি গত ১৩ বছর ধরে নিয়মিত দেশে টাকা পাঠিয়ে আসছিলেন।

কিছু বছর পর দেশে ফিরে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হলো না। গত ১৯ আগস্ট মালয়েশিয়ায় বহুতল ভবনের নির্মাণকাজের সময় তিনতলা থেকে পড়ে তার মৃত্যু ঘটে।

গত বুধবার রাতে বিমানযোগে তারেকের মরদেহ মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আনা হয়।

এরপর বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার একটি হিমায়িত লাশ পরিবহনকারী অ্যাম্বুল্যান্সে করে তার মরদেহ টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বিকেলে ট্রলারে করে সেন্ট মার্টিনে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায় মরদেহ। সন্ধ্যায় সেন্ট মার্টিন জেটিঘাটসংলগ্ন সমুদ্রসৈকতে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

তারেকের জেঠাতো ভাই আল ছাবের বলেন, ‘দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় ছিলেন তারেক। বিভিন্ন সময়ে ফোনে কথা হলে বলতেন, এতদিনে দেশের জন্য খুব মায়া হচ্ছে। পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও গ্রামের প্রকৃতি তাকে টানত। একবার পরিবার নিয়ে দেশে ফিরে ঘুরে যাওয়ার ইচ্ছার কথাও বলেছিলেন।’

আল ছাবের আরও বলেন, ‘তারেক দেশে ফিরেছেন, নিজের জন্মভূমি সেন্ট মার্টিনের মাটিতেও ফিরেছেন। তবে ফিরেছেন প্রাণহীন নিথর দেহ হয়ে।

 

তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে তারেকের মরদেহবাহী ট্রলারটি সেন্ট মার্টিন জেটিঘাটে পৌঁছালে শত শত মানুষ সেখানে জড়ো হন। স্বজন ও গ্রামের মানুষ শেষবারের মতো তাকে দেখতে ভিড় করেন। মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার পর শুরু হয় শোকের মাতম।

স্বজনেরা জানান, তারেক সেন্ট মার্টিনের এক নারীকে বিয়ে করে তাকে ভিসার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যান। তাদের সংসারে তিন বছর ও ছয় মাস বয়সী দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তারেকের মরদেহের সঙ্গে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানও বিমানে বাংলাদেশে আসেন। স্বামী ও বাবার মরদেহের পাশে বসেই তারা ট্রলারে করে সেন্ট মার্টিনে পৌঁছান।

পরিবারের সদস্যরা জানান, তারেকের মরদেহ দেশে আনতে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও বাংলাদেশ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে সহযোগিতা পেয়েছেন তারা। সরকারের আন্তরিক উদ্যোগের কারণে দ্রুত সময়ের মধ্যে মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তারা।

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুর রহমান বলেন, তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে মালয়েশিয়ায় নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। সেখানে দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু ঘটে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ দেশে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সেন্ট মার্টিনে তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

তারেকের মৃত্যুর পর বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নির্মাণশ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মালয়েশিয়াপ্রবাসী জামাল হোসাইন বলেন, মালয়েশিয়া সরকার ও স্থানীয় ঠিকাদার সরাসরি যুক্ত থাকা বড় নির্মাণকাজগুলোতে সাধারণত শ্রমিকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাংলাদেশ, ভারত বা পাকিস্তানের নাগরিকদের সাব-ঠিকাদার, তদারককারী বা ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলে শ্রমিকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায় না। এসব ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের উদাসীনতার কারণে শ্রমিকেরা ঝুঁকিতে পড়েন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%