বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
১১:৪১ এম
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইং বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে পৌঁছেছেন। এটি বেসামরিক নেতা হিসেবে তার প্রথম থাইল্যান্ড সফর বলে জানা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মন মতে, এই সফরের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিয়ানমারের সম্পর্কগুলি উন্নত করার চেষ্টা করছেন।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর মিয়ানমার একটি গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতির মধ্যে প্রবেশ করে। বিভিন্ন রিপোর্ট বলছে, এ সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এপ্রিলের নির্বাচনের পর মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তবে গণতন্ত্রপন্থী সংগঠন এবং পশ্চিমা দেশগুলি ওই নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু নয় বলে সমালোচনা করেছে।
অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আসিয়ান মিয়ানমারের শীর্ষ নেতাদের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যোগদান সীমিত করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। গত মাসে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাংককে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নেন। বেসামরিক পোশাক পরিধান করার পর মিন অং হ্লাইং ইতিমধ্যে ভারত, চীন এবং লাওসে সফর করেছেন।
এবার তিনি থাইল্যান্ড সফরে গেলেন।
থাইল্যান্ড সফরের পূর্বে গৃহবন্দি অং সান সু চি আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির এক প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। ২০২১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই ছিল তার কোনো বিদেশি প্রতিনিধির সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ। মিয়ানমার বিশেষজ্ঞ মরগান মাইকেলস বলেন, মিয়ানমার আবার আসিয়ানে পূর্ণ সদস্য হিসেবে সক্রিয় হলে, পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সুযোগ গঠন করে।
তবে তার মতে, ভারত, চীন, রাশিয়া এবং থাইল্যান্ডের সমর্থন থাকায় আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন এখন মিয়ানমারের জন্য জরুরি নয়, বরং এটি অতিরিক্ত কূটনৈতিক সুবিধা।
স্বাধীন বিশ্লেষক ডেভিড ম্যাথিসনের মতে, আসিয়ানে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার প্রচেষ্টা মিন অং হ্লাইংয়ের জন্য মর্যাদার একটি বিষয়। তিনি বলেন, একদিকে মিন অং হ্লাইং নিজেকে আসিয়ানের দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে প্রমাণ করতে চান, অন্যদিকে তিনি সংঘাত নিরসনের জন্য আসিয়ানের প্রস্তাবিত পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণ করেননি।
থাইল্যান্ডের একজন কর্মকর্তা জানান, ব্যাংককের গভর্নমেন্ট হাউসে মিন অং হ্লাইংকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হবে। পরে তিনি থাই প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সাথে বৈঠক করবেন। এছাড়াও তিনি একটি ব্যবসায়িক ফোরাম এবং সরকারি নৈশভোজে অংশগ্রহণ করবেন। সফরে দুই দেশের মধ্যে শ্রম সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এই সফরের বিরুদ্ধে সমালোচনাও রয়েছে।
সমালোচকদের দাবি, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের জন্য বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ মিন অং হ্লাইংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তাই তার জন্য আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া উচিত নয়।
অপরদিকে, বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার জন্য বাস্তব কারণ রয়েছে থাইল্যান্ডের। দুই দেশের দীর্ঘ সীমান্তে চলমান সংঘাত, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা লাখো শরণার্থী, সীমান্তে সাইবার প্রতারণা এবং অবৈধ মাদক পাচার, এসব সকল বিষয় থাইল্যান্ডের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেট বলেছেন, মিন অং হ্লাইংয়ের সফরে সাইবার প্রতারণা দমনের বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ দেশটিতে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। একই সাথে অং সান সু চির সঙ্গে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির প্রতিনিধির সাম্প্রতিক সাক্ষাৎটিকে তিনি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টানা বর্ষণের কারণে কক্সবাজারে পৃথক দুটি স্থানে ঘটে গেছে পাহাড়ধসের ঘটনা। এর মধ্যে মেরিন ড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগর এলাকায় পাহাড়ের মাটি ও পাথর সড়কে পড়ে যাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে যান চলাচলে সৃষ্টি হয় বিঘ্ন। তবে সেনাবাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
অন্যদিকে, শহরের কলাতলীর মেম্বারঘাটা এলাকায় পাহাড়ধসে চারটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায় এবং এতে তিনজন আহত হন। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দরিয়ানগর এলাকায় পাহাড়ের একটি অংশ ধসে মেরিন ড্রাইভ সড়কের ওপর পড়ে। এর ফলে সড়কে মাটি ও পাথর ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তার জন্য কিছু সময়ের জন্য যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, পাহাড়ধসের খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে সড়ক থেকে মাটি ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণের কাজ শুরু করেন। এর ফলে অল্প সময়ের মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক করার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, একই দিন বেলা ২টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলীর মেম্বারঘাটা এলাকায় পাহাড় ধসে চারটি বসতঘরের ওপর মাটি চাপা পড়ে। এতে অন্তত তিনজন আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, সকাল থেকে টানা ভারী বৃষ্টির এক পর্বে হঠাৎ করে পাহাড় ধসে কয়েকটি বাড়ির ওপর পড়ে। আহতদের স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, বুধবার বেলা ১২টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় জেলা জুড়ে ১২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভারী বৃষ্টি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষত বর্ষা মৌসুমে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাহাড়ঘেঁষা বিভিন্ন অংশে এ ধরনের ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে।
অন্যদিকে, ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসন পাহাড়ে বসবাসরত মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একইসাথে পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় অপ্রয়োজনে যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং চালকদের সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শুল্ক আরোপের পাল্টা হিসেবে চীন যুক্তরাষ্ট্রের ৭টি প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে। বুধবার এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে এবং এতে বলা হয়েছে, চীনের কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি এখন থেকে তালিকাভুক্ত মার্কিন ফার্মগুলোর সাথে কোনো ধরনের সহযোগিতা বা ব্যবসা করতে পারবে না।
আগামী মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং যুক্তরাষ্ট্র সফরের করার পরিকল্পনা করেছেন। শি-ট্রাম্প হাই প্রোফাইল বৈঠকের আগে এ বাণিজ্য যুদ্ধ দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরো বাড়াবে।
চীন জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আরোপ করা হয়েছে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে, তারা একটি বায়োটেক ফার্ম এবং একটি রিসোর্স অ্যানালিটিক্স ফার্মসহ একাধিক মার্কিন কোম্পানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ড্রোন এবং এর সাথে সম্পর্কিত যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তির রপ্তানি নিয়ন্ত্রণকে আরো কঠোর করা হচ্ছে।
উইঘুর এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে গত সপ্তাহে ৪৩টি চীনা কম্পানির পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পাল্টা হিসেবে ৬টি চীনা কোম্পানিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে, মন্ত্রণালয় এমন তথ্য জানিয়েছে।
সপ্তম আরেকটি কোম্পানির তালিকাভুক্তি যুক্ত ছিল মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন-এফসিসি দ্বারা গত মাসে নেওয়া একটি পদক্ষেপের সাথে। জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত দিয়ে মার্কিন এফসিসি গত মাসে চীন থেকে নতুন ধরনের মানবিক রোবট ও চার পায়ের রোবটের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে চীনও তাদের দেশে ড্রোন, ড্রোনের যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি রপ্তানির নিয়ম অনেক কঠিন করে দিয়েছে। পাশাপাশি, চীন তাদের দেশে ব্যবহৃত মার্কিন বা বিদেশি সফটওয়্যারযুক্ত অফিসিয়াল যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা তদন্ত শুরু করেছে। কারখানার উৎপাদন বা ট্র্যাকিং নিয়ে আমেরিকার সাথে চলমান কিছু যৌথ পরিদর্শন কাজও চীন স্থগিত করে দিয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, চীনা ফার্মগুলোকে লক্ষ্য করে নেওয়া সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপের জবাবে বেইজিংয়ের সামনে ‘প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।’
এই মুখপাত্র আরো বলেন, ‘চীন যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপগুলো প্রত্যাহার করতে, তাদের ভুল কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে এবং একটি গঠনমূলক ও স্থিতিশীল চীন-মার্কিন সম্পর্ক বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছে।’ তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র চীনের বিরুদ্ধে নতুন কোনো বিধিনিষেধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জেদ ধরে, তবে চীন আরো কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।’
জোরপূর্বক শ্রমের সম্পর্কের অভিযোগে চীনা ফার্মগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করা এবং নতুন রোবট ও পাওয়ার কনভার্টার আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি, ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানি জ্বালানি বহনের অভিযোগে চীনা শিপিং অপারেটরদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সেই সাথে দুটি শীর্ষস্থানীয় বেসামরিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ নতুন কিছু প্রতিষ্ঠানকে পেন্টাগনের কালো তালিকায় যুক্ত করেছে।
জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে তৈরি পণ্য রপ্তানি বন্ধে ব্যর্থতার অভিযোগে গত মাসে ওয়াশিংটন যেসব দেশের ওপর ১০% বা ১২.৫% শুল্ক আরোপ করেছে, তার মধ্যে চীন ছিল। পাশাপাশি, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা সম্প্রতি চীনা এআই ফার্মগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞাগুলো মূলত একটি ‘অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত যুদ্ধ’। দুই দেশই একে অপরের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বাজারে সর্বশেষ ৫ দফা দাম সমন্বয়ের ফলে ৩ বার স্বর্ণের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে টানা ২ দফায় ১২ হাজার ৭২ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
বুধবার (৬ আগস্ট) সকালে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) টানা ২য় দফা স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এই দফায় ভরিতে ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা বাড়ানোর চিন্তা করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারের তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। অন্যদিকে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইনের উপর ভিত্তি করে মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজারের পূর্ববর্তী নিয়ম বহাল থাকবে।
এর আগে, ৩১ জুলাই সকাল ১০টার সময় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। ওইদিন ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধির ফলে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকায় বাড়ানো হয়।
এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৯৮ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, ৪৯ দফা কমানো হয়েছে এবং ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।
স্বর্ণের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ভরিতে ২৯২ টাকা বেড়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৩৩ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
এ নিয়ে চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত দেশের বাজারে রুপার দাম ৬১ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং বাকি ৩০ দফা কমানো হয়েছে। গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছিল এবং কেবল ৩ বার কমেছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কারিগরি ত্রুটি মেরামত সম্পন্ন হয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ পর কক্সবাজারের মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে আবারও গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) তথ্য জানিয়েছে।
জানা গেছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে থাকার ফলে দেশে গ্যাস সংকট দেখা দেয়। এই সংকটের প্রভাব শিল্প, বিদ্যুৎ ও আবাসিক খাতের গ্রাহকদের গ্যাসের স্বল্পচাপ এবং সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করে। পরে দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি বয়লার মেরামত করা হয়। এর ফলে অতিরিক্ত ২০০ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। তবে অপর বয়লার মেরামত করতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগবে।
এদিকে, গত কয়েক দিনের তীব্র সংকটের পর চট্টগ্রামে গ্যাস পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটেছে। বুধবার রাত থেকে গ্যাসের সরবরাহ ও চাপ বাড়ানোর ফলে সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলোর ভোগান্তি অনেকটাই কমে গেছে।
গ্যাস নিতে আসা গাড়িচালকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত কয়েকদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় গ্যাস পাওয়া যায়নি। তবে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে এবং এখন মাত্র ৫ থেকে ১০ মিনিট অপেক্ষা করেই গ্যাস সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে।
সিএনজি স্টেশনগুলোর কর্মচারীরা জানান, বুধবার রাত থেকেই গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে গেছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষমাণ যানবাহনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। গ্যাসের চাপ ভালো থাকায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে স্টেশনগুলোতে তেমন কোনো যানজটও দেখা যায়নি।
এছাড়া, বুধবার সকালে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানিয়েছিলেন, সন্ধ্যার পর মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে অতিরিক্ত ২০০ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ