ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পাকিস্তানে পুলিশ হেফাজতে নারী ও কিশোরীর মৃত্যু, তদন্তের দাবি এইচআরডব্লিউর


পাকিস্তানে পুলিশ হেফাজতে নারী ও কিশোরীর মৃত্যু, তদন্তের দাবি এইচআরডব্লিউর

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের লাহোরে পুলিশ হেফাজতে দুই নারীর মৃত্যুর ঘটনায় 'দ্রুত, স্বাধীন ও স্বচ্ছ ফৌজদারি তদন্ত' করার আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

এইচআরডব্লিউ জানায়, গত ৫ আগস্ট পুলিশ হেফাজতে আনমোল ও আমিনা নামে পরিচিত দুই ননদ-ভাবির মৃত্যু হয়েছে।

তাদের মধ্যে একজন নারী এবং অপরজন ১৭ বছর বয়সী কিশোরী। তবে তাদের পুরো পরিচয় প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি। এই দুই মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন ও অন্যান্য ধরনের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে জানায় এইচআরডব্লিউ। একই সঙ্গে, ২০২২ সালে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু প্রতিরোধ ও শাস্তি আইন করার পরও পুলিশ কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে সম্ভাব্য ৪ পরিস্থিতি ২৭ অক্টোবর

এইচআরডব্লিউর জ্যেষ্ঠ এশিয়া সহযোগী পরিচালক প্যাট্রিসিয়া গসম্যান বলেন, "লাহোরে দুই নারীর মৃত্যুর ঘটনা পাকিস্তানের আইন এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। তদন্তে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের প্রভাব থাকা চলবে না।" তিনি আরো বলেন, "কেউ দায়ী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে মামলা করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।"

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে উল্লিখিত হয়েছে, ৪ আগস্ট দুপুর প্রায় ২টা ৪৫ মিনিটে লাহোর পুলিশ এক বাসিন্দার কাছ থেকে অভিযোগ পায়।

ওই ব্যক্তি অভিযোগ করেন, "দুই নারী তার বাড়িতে ঢুকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরি করেছে।" অন্য কয়েকটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এইচআরডব্লিউ জানায়, স্থানীয় বাসিন্দারা দুই ননদ-ভাবিকে আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দেন। ওই দিন বিকেলেই পুলিশ একটি প্রাথমিক তথ্য প্রতিবেদন (এফআইআর) করে। পরে দুই নারীকে আলাদা থানায় নেওয়া হয়। তাদের একজনকে নারী পুলিশ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে লিটন রোড থানায় এবং অন্যজনকে টাউনশিপ থানায় রাখা হয়।

পুলিশের দাবি, থানায় নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুই নারীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। আনমোল থানার ভেতরেই মারা যান বলে জানা গেছে। আমিনাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু ঘটে।

আরও পড়ুন: গাড়িচাপায় দুই পা হারালেন অস্ট্রেলীয় এমপি হেলেন হেইনস

এইচআরডব্লিউ জানায়, পুলিশ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে দেরি করায় দুই নারীর ময়নাতদন্ত করতে প্রায় দুই দিন সময় লাগে। পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, দুই নারীর পরিচয়পত্র যাচাই করতে সমস্যা হওয়ায় এই দেরি হয়েছে। তবে, হেফাজতে মৃত্যুর পর মরদেহ পরীক্ষা করতে অপ্রয়োজনীয় দেরি হওয়াকে গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে মনে করছে এইচআরডব্লিউ। বিশেষ করে, যে পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা তদন্তের আওতায় আসতে পারেন, সেই বিভাগের কারণে যদি ময়নাতদন্তে এতো দেরি হয়, তাহলে তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ হবে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা যায়নি। চিকিৎসা পরীক্ষকেরা আরও পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন আলামত ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছেন।

এইচআরডব্লিউর তথ্য অনুযায়ী, দুই নারীর পরিবারের সদস্যরা পুলিশের বক্তব্য নিয়ে আপত্তি করেছেন। তারা জানান, দুই নারীকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়ার পর তারা টাউনশিপ থানায় যান। সেখানে পুলিশ তাদের জানায়, দুই নারীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের জামিনের ব্যবস্থা করতে হবে। পরদিন, ৬ আগস্ট পরিবারের কাছে দুই নারীর মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মরদেহ দুটির কাপড় ছেঁড়া ছিল এবং শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখা গেছে। তারা আরও দাবি করেছেন, চুপ থাকার বিনিময়ে পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে পুলিশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের আরেক দাবি হলো, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুই নারী দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবহার করতেন। অতিরিক্ত মাদক গ্রহণের কারণে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

দুই নারীর মৃত্যুর ঘটনায় পরে একজন ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত শুরু করেছেন। এইচআরডব্লিউ জানায়, তদন্তকারীরা টাউনশিপ থানায় যান। তারা মর্গে মরদেহ পরীক্ষা করেন এবং পুলিশ সদস্য ও পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেন। তবে এইচআরডব্লিউ বলেছে, পাকিস্তানের আইনে ম্যাজিস্ট্রেটের তদন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ ফৌজদারি তদন্তের বিকল্প নয়।

২০২২ সালের নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু প্রতিরোধ ও শাস্তি আইনে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব ফেডারেল তদন্ত সংস্থার (এফআইএ) ওপর দেওয়া হয়েছে। এই তদন্ত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কার্যকর তদারকিতে হওয়ার কথা। কিন্তু এই দুই নারীর মৃত্যুর ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।

আরও পড়ুন: ফ্রান্সে বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনী মোতায়েন

লাহোরে পুলিশ হেফাজতে দুই নারীর মৃত্যুর কয়েক দিন আগে আরেকটি গুরুতর অভিযোগ ওঠে। ২ আগস্ট লাহোরের গাজিয়াবাদ থানার ভেতরে এক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়। এইচআরডব্লিউর তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় একজন সহকারী উপপরিদর্শকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে ওই থানায় কর্মরত ৭৮ জন পুলিশ সদস্যকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এই দুই ঘটনা সামনে আসার পর পাকিস্তানে পুলিশ হেফাজতে থাকা নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এইচআরডব্লিউ বলছে, পাকিস্তানে পুলিশ হেফাজতে মারধর, যৌন সহিংসতা, ঘুম থেকে বঞ্চিত করা এবং বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনা তারা আগেও নথিভুক্ত করেছে। বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। হেফাজতে থাকা নারীদের যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের অভিযোগও রয়েছে। খাবার বা অন্য সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করার অভিযোগও সংস্থাটি নথিভুক্ত করেছে।

এইচআরডব্লিউ বলেছে, পাকিস্তানের সংবিধানে নির্যাতন নিষিদ্ধ। আটক ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো- আটকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে। পাকিস্তান নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং নির্যাতনবিরোধী সনদেরও সদস্য। এসব আন্তর্জাতিক চুক্তিতে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের কথা বলা হয়েছে। পাকিস্তান শিশু অধিকার সনদেরও সদস্য। এই সনদ অনুযায়ী, কোনো শিশুকে গ্রেপ্তার, আটক বা কারাদণ্ড দেওয়া হলে তা অবশ্যই আইনসম্মত হতে হবে। শিশুকে আটক করা কেবল শেষ উপায় হিসেবে এবং যত কম সময় সম্ভব তত সময়ের জন্য করা উচিত।

এইচআরডব্লিউ ২০২২ সালে পাকিস্তানে একটি বিশেষ আইন করার পরও সেটির প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে ফেডারেল তদন্ত সংস্থা লাহোর হাইকোর্টকে জানায়, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে ওই আইনের অধীনে ৩৬৪টি তদন্ত শুরু হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ৫২টি আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি মামলায় পরিণত করা হয়। পাঞ্জাব প্রদেশে ২৬৬টি তদন্ত শুরু হয়েছিল। কিন্তু মাত্র ১৯টি ঘটনায় প্রাথমিক তথ্য প্রতিবেদন বা এফআইআর করা হয়। ফেডারেল তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, 'অর্থ ও প্রয়োজনীয় সম্পদের ঘাটতি আইনের কার্যকর প্রয়োগে বাধা তৈরি করছে'। এ ছাড়া, ২০২২ সালের আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিধিমালা অনুমোদন করা হয়েছে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে। অর্থাৎ, আইন পাস হওয়ার কয়েক বছর পর তার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিধিমালা অনুমোদন করা হয়েছে।

এইচআরডব্লিউ পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে ২০২২ সালের আইনের অধীনে দুই নারীর মৃত্যুর ঘটনায় ফৌজদারি মামলা করার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, তদন্ত অবশ্যই পাঞ্জাব পুলিশের বাইরে থাকা তদন্তকারীদের দিয়ে করতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। তদন্তে পাওয়া সব আলামত সংরক্ষণ ও স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ। যেসব পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ রয়েছে এবং যারা তদন্তে প্রভাব ফেলতে বা তদন্তে বাধা দিতে পারেন, তাদের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে একই সঙ্গে তাদের আইনি অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছে। কেউ দায়ী প্রমাণিত হলে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের মানদণ্ড মেনে পরিচালিত বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাটি।

আরও পড়ুন: রাশেদ খান: এনসিপি ল্যাপটপ ও ছাগল চোরদের আশ্রয়স্থল, জামায়াত অপরাধীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র

এইচআরডব্লিউ পাকিস্তানকে হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা বাড়াতে আরো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য আলাদা ও শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা বলেছে সংস্থাটি। এসব ব্যবস্থার মধ্যে আইনজীবীর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের সুযোগ, স্বাধীনভাবে চিকিৎসা পরীক্ষা, হেফাজত-সংক্রান্ত সঠিক নথি সংরক্ষণ এবং পরিবারের সদস্যদের দ্রুত আটকের খবর দেওয়ার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। নারী বন্দিদের সঙ্গে আচরণ এবং নারী অপরাধীদের কারাগারের বাইরে রাখার ব্যবস্থা নিয়ে জাতিসংঘের নিয়ম মেনে চলারও আহ্বান জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ। এসব নিয়মকে সাধারণভাবে ‘ব্যাংকক নিয়ম’ নামে পরিচিত। সংস্থাটি সাধারণ থানার হাজতখানার বাইরে নারী পুলিশ কর্মকর্তাদের যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে।

একই সঙ্গে, আটক ব্যক্তিরা যাতে প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই অভিযোগ করতে পারেন, সে জন্য গোপন অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছে। এইচআরডব্লিউ বলেছে, আনমোল ও আমিনার মৃত্যুর ঘটনা পাকিস্তান সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। বিশেষ করে পুলিশ কর্মকর্তারা জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলে, ২০২২ সালের আইন সরকার কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে পারে, সেটি এই ঘটনায় স্পষ্ট হবে। সংস্থাটির ভাষ্য, থানাগুলো এমন জায়গা হওয়া উচিত যেখানে আইন প্রয়োগ ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। সেখানে এমন কোনো ঘটনা তোলা উচিত নয় যেখানে মানুষ নির্যাতনের শিকার হবে এবং এর জন্য কাউকে জবাবদিহি করতে হবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝিনাইদহে নেশাগ্রস্ত ছেলের হাতে মা খুন, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৯ এম


ঝিনাইদহে নেশাগ্রস্ত ছেলের হাতে মা খুন, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামে নেশাগ্রস্ত ছেলের হাতে খুন হয়েছেন তার মা। নিহত নারীর নাম শকের বানু (৫০) এবং তিনি ওই গ্রামের মৃত জেকের আলীর স্ত্রী।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভোরে ঘটনাটি ওই গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় ঘটেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে ইখলাসকে এলাকাবাসী আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মশিউর রহমান টিংকু জানান, ইখলাস দীর্ঘদিন ধরে নেশা করছে। সে প্রায় সময় তার বৃদ্ধ মায়ের কাছে টাকার দাবি করে।

রাতে মায়ের কাছে টাকা চাইলে, মায়ের টাকার দিতে অপারগতা জানালে ইখলাস ভোরে তার মায়ের গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। সকালে নিহতের ছোট ছেলের স্ত্রী যখন খাবার দিতে যান, তখন বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় তার মা কে দেখতে পেয়ে তিনি পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি হাসান জানান, অভিযুক্ত ইখলাসকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাজ্যে ট্রেন লাইনচ্যুত, গুরুতর আহত ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:০০ এম


যুক্তরাজ্যে ট্রেন লাইনচ্যুত, গুরুতর আহত ২

যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল লুইস শহরের কাছাকাছি বৃহস্পতিবার একটি যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

আহত দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বড় ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। এই তথ্য জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে।

সংবাদ মাধ্যম এএফপি’র খবরে বলা হয়েছে, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে যে, ট্রেনটি প্রায় ১৫০ জন যাত্রী নিয়ে লন্ডনের ভিক্টোরিয়া স্টেশন থেকে বের হয়। স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার কিছুক্ষণ আগে ট্রেনটি লাইন থেকে ছিটকে পড়ে।

ঘটনার স্থান থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে অন্তত তিনটি বগি উল্টে পড়ছে এবং সেখানে জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি।

এক সংবাদ সম্মেলনে উপপ্রধান প্যারামেডিক কর্মকর্তা মাইকেল ব্র্যাডফিল্ড জানান, হাসপাতালে পাঠানো ২০ জনের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের আঘাত দেখা দেয়। তাদের মধ্যে দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং এই দুজনকে বড় ট্রমা সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশের কর্মকর্তা ইয়ান ড্রামন্ড-স্মিথ ঘটনাটিকে ‘বড় ধরনের দুর্ঘটনা’ হিসেবে রিপোর্ট করেছেন। তবে ট্রেনের সব যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

দুর্ঘটনাটি সাদার্ন রেল-এর একটি ট্রেনের মধ্যে ঘটে। এই রেল পরিষেবা লন্ডনের দক্ষিণাঞ্চল ও আশপাশের এলাকার সঙ্গে রাজধানী শহরকে যুক্ত করে।

নেটওয়ার্ক রেলের সাসেক্স অঞ্চলের রুট পরিচালক লুসি ম্যাকঅলিফ বলেন, ‘ঠিক কী ঘটেছে, তা জানতে ঘটনাস্থলে থাকা রেল দুর্ঘটনা তদন্ত শাখার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমরা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি।’

তদন্তকারী দল ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।

মোটামুটি ব্রিটেনে ট্রেন দুর্ঘটনা, বিশেষ করে প্রাণহানির ঘটনা তুলনামূলকভাবে খুবই কম ঘটে। এর আগে গত জুনে লন্ডনের উত্তরে একটি ট্রেন সংঘর্ষের ঘটনায় এক চালক নিহত হন এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হন।

এছাড়া গত বছরের নভেম্বরে ইংল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এক প্রত্যন্ত এলাকায় ভূমিধসের কারণে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হলে চারজন সামান্য আহত হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ছাড়ার নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:০২ এম


পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ছাড়ার নির্দেশ

অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অবরোধের মধ্যবর্তী অবস্থায় থাকা ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর কয়েকজনকে নিজেদের বাড়িঘর ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এই নির্দেশটি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সরিয়ে নেওয়ার অভিযানের সময় দেওয়া হয়েছে।

গত রবিবার থেকে নাবলুসের কাছে কুসরা গ্রামের তিনটি বাড়িতে প্রায় এক ডজন ফিলিস্তিনি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল বসতি স্থাপনকারীরা। এই সময়ে তাদের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে কুসরার মেয়র আবদেল আজিম ওয়াদি জানালে, পুরো গ্রামকে ‘বন্ধ সামরিক এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনারা খালি করে দেওয়া কয়েকটি ফিলিস্তিনি বাড়িকে ব্যারাক হিসেবেও ব্যবহার করছে।

তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।

ইসরায়েলি সরকারের মুখপাত্র ডেভিড মেনসার বলেছেন, বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডকে ‘নিন্দনীয়’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এ ঘটনায় তদন্ত করে অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং বিচারের আওতায় আনা হবে।

বর্তমান ইসরায়েলি সরকারের অধীনে অবৈধ বসতি দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ার কারণে বসতি স্থাপনকারীরা আরও দুঃসাহসী হয়ে উঠেছে। এর ফলে ফিলিস্তিনিদের নিজেদের জমি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সকল ইসরায়েলি বসতিই সম্পূর্ণ অবৈধ বলে বিবেচিত।

সূত্র: বিবিসি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কানাডার আলবার্টায় অক্টোবরে ‘গণভোট’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:০৪ এম


কানাডার আলবার্টায় অক্টোবরে ‘গণভোট’

কানাডার আলবার্টা প্রদেশে আগামী অক্টোবরে উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা নিয়ে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এটি একটি গণভোট যেখানে ভোটারদের মতামত জানার জন্য বিচারক নিয়োগের বর্তমান ব্যবস্থায় পরিবর্তনের বিষয়ে আয়োজন করা হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে, আলবার্টার কোর্ট অব কিংস বেঞ্চ এবং কোর্ট অব আপিলের বিচারকরা ফেডারেল সরকার কর্তৃক নিয়োগ করা হয়। কিন্তু প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথের নেতৃত্বাধীন সরকার এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রাদেশিক সরকারের আরও ব্যাপক ভূমিকা চায়।

প্রাদেশিক সরকারের দাবি হলো, আলবার্টার আইন ও বিচারব্যবস্থার সাথে জড়িত বিচারক নিয়োগে প্রদেশের মতামত থাকার প্রয়োজন। তবে সমালোচকরা মনে করছেন যে, বর্তমান ব্যবস্থায়ও বিচারক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আলবার্টার মতামত জানানো সম্ভব।

যদি গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট পাওয়া যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আলবার্টার হাতে বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা আসবে না। এই পরিবর্তনের জন্য কানাডার সংবিধান পরিবর্তন প্রয়োজন, যা ফেডারেল পার্লামেন্ট এবং অন্তত সাতটি প্রদেশের অনুমোদন দাবি করবে।

অক্টোবরের গণভোটে অভিবাসন এবং প্রদেশের বিচ্ছিন্নতার মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন বিষয়ের পাশাপাশি বিচারক নিয়োগের বিষয়টিও ভোটারদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%