বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৩৩ পি.এম
টালিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর গুজব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। অভিনেতার একটি ছবির নিচে ‘প্রয়াত’ লেখা দেখে মুহূর্তের মধ্যে এটি ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাটি নজরে আসার পর খোদ অভিনেতা ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। তিনি শুধু প্রতিবাদই করেননি, বরং নিজের স্বভাবসুলভ রসিকতায় গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদেরও একহাত নিয়েছেন।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো তথ্য ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগে না। যাচাই-বাছাই ছাড়াই একটি পোস্ট মুহূর্তেই হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।
বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও এমনটাই ঘটেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনেতার একটি ছবি পোস্ট করে তার নিচে ‘প্রয়াত’ লেখা হয়। পোস্টটি দেখে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁর অনুরাগীরা। অনেকেই শোক প্রকাশ করতে শুরু করেন।
বিষয়টি নজরে আসার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওয়েস্ট বেঙ্গাল মোশন পিকচার্সের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তাঁর মৃত্যুর খবরটি ভুয়া।
এরপর নিজেই ভিডিও বার্তায় বিষয়টি পরিষ্কার করেন অভিনেতা। সেখানে তিনি বলেন, ‘একটা খবর ছড়িয়ে পড়েছে, আমি নাকি মারা গেছি। মারা তো যাবই।
তবে ঈশ্বর যত দিন রেখেছেন, তত দিন থাকি। যে বা যিনি এই কাজ করেছেন, তিনি এটা বন্ধ করুন। চট করে সবাইকে মৃত বলে দেবেন না। শুধু আমার নয়, কারো সম্পর্কে এমনটা বলবেন না। বলার আগে একটু ভাববেন।’
মৃত্যুর মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে এমন গুজব ছড়ানোর ঘটনাকে ‘শিক্ষার অভাব’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে নিজের বক্তব্যের শেষদিকে বরাবরের মতোই রসিকতার ছলে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি অভিনেতা।
বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাকে অনেক বদমায়েশের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখেছেন। অনেকেই আমাকে খারাপ লোক হিসেবে চেনে। তবে আমি রাজনৈতিক নেতাদের থেকে খারাপ নই।’
অভিনেতার এই বক্তব্যের পর স্বস্তি ফিরেছে তাঁর অনুরাগীদের মধ্যে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
র্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ জানিয়েছেন, সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে দস্যুতার পথ ত্যাগ করে আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
তিনি বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) র্যাব-৬ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন।
র্যাব ডিজি উল্লেখ করেন, দস্যুতার পথ ত্যাগ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা জরুরি। আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রক্রিয়ায় র্যাব সহযোগিতা করবে। তবে, যদি কেউ অপরাধের সাথে যুক্ত থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন ও উপকূলীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাবের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে।
ডিজি জানান, ২০১৮ সালে ৩২৮ জন বনদস্যু আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তাদের মধ্যে ৩০ জন পরবর্তীতে আবারও দস্যুতায় জড়িয়ে পড়েন। ভবিষ্যতে আত্মসমর্পণকারীরা যেন পুনরায় অপরাধে না জড়ায়, সে জন্য তাদের পাশে দাঁড়াতে সামাজিক সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর সুন্দরবন পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ৩১ আগস্ট পাঁচটি সক্রিয় জলদস্যু বাহিনীর ৫৯ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। একই সময়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে র্যাব।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতাব বাহিনীর ৮ জন এবং মিজান বাহিনীর ৭ জন রয়েছেন।
এছাড়া, সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় তিন দিনের অভিযানে ৫৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি ও ১৪টি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব জানাচ্ছে, আত্মসমর্পণের ঘটনায় সুন্দরবনে সক্রিয় কয়েকটি দস্যু বাহিনীর সাংগঠনিক সক্ষমতা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।
সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখার পাশাপাশি বনজীবী ও উপকূলীয় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউরোপীয় ফুটবলে প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি) একসময় ছিল টাকার ঝনঝনানি এবং তারকা কেনার মহোৎসবের প্রতীক। কাতারি অর্থায়নের পর থেকে তারা দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে নেইমার, এমবাপ্পে, মেসি, জালাতানসহ অনেক তারকাকে।
হাজার হাজার কোটি টাকা উড়িয়ে তারা ‘বিগ স্পেন্ডার’ তকমা অর্জন করেছিল। অনেকেই আজকের ফুটবলের অস্থির দলবদলের জন্য প্যারিসের এই ক্লাবটিকে দায়ী করেন। তবে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন এসেছে। সেই বাজে খরুচে তকমা ঝেড়ে ফেলে ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা এখন খেলোয়াড় বিক্রির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
চলতি গ্রীষ্মকালীন দলবদলে খেলোয়াড় বিক্রি করে সবচেয়ে বেশি আয় করা ক্লাবের তালিকায় পিএসজি শীর্ষে রয়েছে। এই উইন্ডোতে তাদের মোট রাজস্ব ৪০০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৪৬৪ মিলিয়ন ডলার) ছাড়িয়ে গেছে, যা অ্যাস্টন ভিলা কিংবা ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে অনেক বেশি।
সর্বশেষ সংযোজন হিসেবে সেনেগালিজ ফরোয়ার্ড ইব্রাহিম এমবায়ে, যাকে দলবদলের শেষ দিনে অ্যাস্টন ভিলার কাছে বিক্রি করেছে পিএসজি। নিজেদের একাডেমির ১৮ বছর বয়সী তরুণ এই ফরোয়ার্ডের প্যাকেজ মূল্য ৬০ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত ধরা হয়েছে।
এ মৌসুমের সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে ফ্রান্সের তারকা ব্রাডলি বারকোলাকে ১৪৫ মিলিয়ন ইউরোতে লিভারপুলের কাছে বিক্রি করেছে পিএসজি।
এছাড়া, মূল একাদশে নিয়মিত না থাকা রোহাম কামারা, লি কাং-ইন, র্যান্ডাল কোলো মুয়ানি এবং গনসালো রামোসকেও ছেড়ে দিয়েছে প্যারিসের দলটি।
২০২৪ সালে রিয়াল মাদ্রিদে কিলিয়ান এমবাপের পাড়ি জমানোর পর কোচ লুইস এনরিকে ক্লাবের দর্শনে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন। সুপারস্টারনির্ভর ফুটবল বাদ দিয়ে তিনি তরুণ ও ক্ষুধার্ত প্রতিভাদের ওপর জোর দেন। এই স্ট্র্যাটেজি মাঠে এবং ক্লাবের ব্যাংক ব্যালেন্সে সাফল্য এনে দিয়েছে।
টানা দুইবার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফি জেতার পাশাপাশি এনরিকে ক্লাবের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করেছেন।
এই ট্রান্সফার উইন্ডোতে পিএসজি ফেরান তোরেস, ম্যাগনেস আকলিউচে, মিকা গডটস, লুকাস দিনিয়ে এবং আলেসান্দ্রো লঙ্গোনিকে দলে ভিড়িয়েছে ২১০ মিলিয়ন ইউরোরও কম খরচে। অর্থাৎ কেনাবেচার পার্থক্য হিসাব করলে পিএসজির পকেটে নিট লাভ প্রায় ২০০ মিলিয়ন ইউরো হয়েছে।
অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, প্রথমে বারতি দামে তারকাদের কিনে বাজার অস্থিতিশীল করার পাশাপাশি নিজেদের ক্লাবের ফেইস ভ্যালু বাড়িয়েছে খেলাইফির পিএসজি। পরে সেই বাজারেই নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ খুঁজে বের করেছে দলটি। তাদের নিখুঁত পরিকল্পনার সাফল্যই এখন তারা উপভোগ করছে।
২০১১ সালে কাতারি গ্রুপ কাতার স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্টস দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পিএসজির রাজস্ব বেড়েছে প্রায় ৯ গুণ। ২০২৪-২৫ মৌসুমে তারা রেকর্ড ৮৩৭ মিলিয়ন ইউরোর রাজস্ব আয় করেছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী জানিয়েছেন, দেশে গ্যাসের সরবরাহ এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তিনি দাবি করেছেন যে, গ্যাসসংকট বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা।
রিজভী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে এই সংকটকে পুঁজি করে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনশ ফিট এলাকায় গাছের চারা রোপণ শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, ‘গ্যাসের বর্তমান সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। সরকার জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ সংকট মোকাবেলায় কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট নিরসনে সরকার বসে নেই। নিজস্ব অবস্থান থেকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আশা করি, এক-দেড় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’
গ্যাসসংকট বৈশ্বিক কারণে সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। অন্যদিকে মহেশখালীতে এলএনজি গ্যাসের টার্মিনালের ত্রুটি ছিল। এসব কারণে বাসাবাড়ি ও কল-কারখানায় গ্যাসের কিছুটা চাপ কম ছিল। তবে সংকট নিরসনে সরকার এ খাতে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষায় ২৫ কোটি গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বিএনপি একটি দক্ষ দল।’
এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব মোস্তফা জামান ও যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে সরকার ও দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থকদের একটি জমায়েতে গাড়ির ধাক্কায় চারজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় ১০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে।
বুধবার ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
বলা হয়েছে, একটি দ্রুতগতির গাড়ি প্রথমে আরেকটি গাড়িকে ধাক্কা দেয়। এরপর চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। নিরাপত্তাবেষ্টনী ও ট্রাফিক সাইনবোর্ডে ধাক্কা দেওয়ার পর গাড়িটি ভিড়ের মধ্যে থাকা মানুষের ওপর উঠে যায়।
রেজাভি খোরাসান প্রদেশের ট্রাফিক পুলিশের প্রধান মোহসেন মুসা-আবাদি জানিয়েছেন, ঘটনার পর গাড়িচালককে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, চালক স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন না। তবে তার শারীরিক বা মানসিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ঘটনার পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের প্রমাণ পায়নি।
তারা এটিকে একটি সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছেন।
মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ও দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থকেরা নিয়মিত এ ধরনের জমায়েত করে আসছেন। মঙ্গলবার রাতের অনুষ্ঠানটিও ছিল এমনই একটি আয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ