বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৭:৩৬ পি.এম
ঢাকা, ২০ আগস্ট, ২০২৬ : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি।
তিনি মন্তব্য করেন, বিগত ১৭ বছর ধরে মানুষ ভোট দেওয়ার বিষয়টি ভুলে গেছে। ভোট দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার ধারণাটিও মানুষের মনে থেকে হারিয়ে গিয়েছিল। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবাধ ভোটদান, ফলাফল মেনে নেওয়া এবং বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর মধ্যে পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে সেই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি আবারও ফিরে আসতে শুরু করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু উপস্থিত ছিলেন।
চিফ হুইপ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি ও জোটের প্রার্থী মির্জা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়েছেন। বিরোধী দলের প্রার্থী মো. অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। মোট ছয়জন সদস্য ভোট দিতে পারেননি অথবা ভোটদানে বিরত ছিলেন।
চিফ হুইপ আরও বলেন, জনগণকে আশ্বস্ত করতে হবে যে দেশে সবসময় একটি স্মুথ ট্রানজিশন থাকবে এবং সেই বিশ্বাস মানুষের মনে তৈরি করতে হবে। একইসঙ্গে সবাইকে নিয়ে পথ চলার মাধ্যমে একটি ইনক্লুসিভ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি মন্তব্য করেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা ভোট দেওয়ার পর একে অপরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং পরাজিত প্রার্থী ড. অলি আহমদ বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই ধরনের রাজনৈতিক সৌহার্দ্য হারিয়ে যেতে বসেছিল, তবে এখন দেখা যাচ্ছে যে সেই সংস্কৃতি আবার ফিরে আসতে শুরু করেছে।
গণতন্ত্রকে সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু করার আহ্বান জানিয়ে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। গণতন্ত্র ছাড়া ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কাঙ্ক্ষিত পথ তৈরি করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্র নির্মাণে সবার সহযোগিতা চাই। সরকার ও বিরোধী দল যৌথভাবে সংসদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজও যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও দেশের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে চিফ হুইপ সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের কলম দিয়ে যেন এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। আপনাদের কলমের মাধ্যমে উন্নয়ন অব্যাহত থাকুক। আপনাদের কলম দিয়ে যদি দেশের অগ্রগতি সাধিত হয়, তাহলে আমরা সার্থক হব।’
তিনি মন্তব্য করেন, গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সঠিক দিকনির্দেশনা তৈরি করা সম্ভব হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন, আজই নির্বাচনের গেজেট প্রকাশিত হবে এবং আগামীকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি শপথ গ্রহণ করবেন। এ সময় তিনি সংসদের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ৭০ অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদে গণতন্ত্র চর্চা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে-এমন আলোচনা রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার, নির্বাচন কমিশন, ভোটার তালিকা, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, নির্বাচন ও সংসদ সদস্যদের শপথ-সবকিছুই বর্তমান সংবিধানের অধীনেই হয়েছে। তাই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদও বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর অংশ।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদের সীমাবদ্ধতা না রেখে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকার ও বিরোধী দল সম্মিলিতভাবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
চিফ হুইপ বলেন, ‘আগামী নির্বাচন যাতে ফ্রি, ফেয়ার ও ক্রেডিবল হয় এবং ৭০ অনুচ্ছেদ না থাকে, সে কার্যক্রম সরকার ও বিরোধী দল সবাই মিলে ইনশাআল্লাহ করবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চৌমুহনী পৌরসভার চৌমুহনী বাজারের রিলাক্স আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন, চাটেখেলর তালতলা গ্রামের আবু নাছের শরীফ (৬৩), চট্রগ্রামের মিরসরাই থানা এলাকার মো. ইমন হোসেন (৩২), চৌমুহনী পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপুর এলাকার মো. হানিফ (৩৫), চৌমুহনী পৌরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ডের সাফায়েত হোসেন সাকিব (২৭), বরিশালের বড় জালিয়া গ্রামের রিনা বেগম (৩৪), সুনামগঞ্জের লালপুর গ্রামের স্নেহা আক্তার (২১), ঢাকার যাত্রাবাড়ির মাইশা আক্তার (১৮), সুধারাম থানার সল্যা সোনাপুর ইসরাত জাহান পূর্ণিমা (১৮), নোয়াখালীর পৌরসভার ৪নম্বর ওয়ার্ডের ফাতেমা আক্তার নুসরাত (১৮), একই ওয়ার্ডের জান্নাতুল ফেরদৌস মারিয়া (১৮), বেগমগঞ্জের হাজীপুর গ্রামের মরিয়ম আক্তার (৩০) এবং নওগাঁ জেলার বদলগাছি গ্রামের মিম আক্তার (২৮)।
পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনার ভিত্তিতে ওসি এবং ডিবির সার্বিক তত্ত্বাবধানে রিলাক্স আবাসিক হোটেলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানের সময় অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৮ যুবতীসহ মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার আরও জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পর তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের (রায়গঞ্জ ও তাড়াশ) বিএনপির সংসদ সদস্য আয়নুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দুটি জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ এ দুজনকে একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে রায়গঞ্জ আমলি আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রিমান্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন রায়গঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও রায়গঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মুক্তাদির (মুত্তাকিন) (৪২) এবং রনতিথা গ্রামের বাবলু মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেন (২৫), যিনি ক্যাফে ফাস্ট ফুডের দোকানদার।
সিরাজগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক রওশন ইয়াজদানি জানিয়েছেন, এমপির গাড়িতে হামলা মামলায় কারাগারে থাকা দুই আসামির বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেককে একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার ধানগড়া বাজারে টিটিসির ভবন নির্মাণসংক্রান্ত মতবিনিময়সভা থেকে বের হওয়ার পর এমপি আয়নুল হকের গাড়িতে হামলা করা হয়েছিল।
এতে এমপি অক্ষত থাকলেও তার গাড়ির পেছনের গ্লাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতা শামীমুল হাসান বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে এনসিপি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল এবং যুবদলের নেতাকর্মীরা রয়েছে।
এদের মধ্যে দুজন কারাগারে রয়েছেন, চারজন জামিন পেয়েছেন এবং বাকিরা পলাতক রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় হোটেল অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছে। কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ২২ আগস্টের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ যথাযথ ব্যবস্থায় দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ১৫জি মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন আবাসিক হোটেলে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং দুজন ভারতীয় নাগরিক আছে। এতে নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী এবং একটি শিশু রয়েছে।
নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে রয়েছেন আকরাম আলী, দেবাশীষ দত্ত, আফসানা শিরমিন, সর্নাশীষ দত্ত, বাবু আহমেদ, রেবতী সরকার এবং এস এম আলিমুজ্জামান। দুই ভারতীয় নাগরিক হলেন ঝাড়খণ্ডের সন্দীপ পাশওয়ান এবং শিলিগুড়ির যোগ নারায়ণ আগারওয়াল।
বৃহস্পতিবার কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে নিহত নয়জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। সেই দিন দুই ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলেও অন্যান্য সাত বাংলাদেশির মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে যে, শনিবারের মধ্যে মরদেহগুলো দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
ইতোমধ্যে কুষ্টিয়া থেকে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের সদস্যরা এবং সাতক্ষীরা থেকে মোহাম্মদ আলিমুজ্জামানের পরিবারের সদস্যরা কলকাতায় পৌঁছেছেন। ভারতীয় নাগরিক সন্দীপ পাশওয়ান ও যোগ নারায়ণ আগারওয়ালের পরিবারের সদস্যরাও মর্গে উপস্থিত ছিলেন।
মোহাম্মদ আলিমুজ্জামানের ভাগ্নে মোহাম্মদ আমিনুল হক বলেন, আলিমুজ্জামান তার মামা। তিনি কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। বাংলাদেশ থেকে মামার মৃত্যুর খবর পেয়ে মরদেহ দেখতে মর্গে এসেছেন। ব্যবসায়ী আলিমুজ্জামান চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কলকাতায় এসেছিলেন বলে জানান তিনি।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর হোটেলটির ইজারাদার আবু জাফরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও দুজন হোটেলকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এন্টালি থানার মেইন মার্কেট এলাকা থেকে আবু জাফরকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাড়ি জোড়াসাঁকো এলাকায়। পুলিশ হোটেলটির পরিচালন ব্যবস্থা, লিজ সংক্রান্ত নথি এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছে।
প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসি মেশিনে বিস্ফোরণ অথবা শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে। পরে আগুন হোটেলের অন্তত চারটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের সঙ্গে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ঘটনার তদন্তে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে। দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার। তারা অগ্নিকাণ্ডের উৎস, ভবনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখছেন।
এদিকে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিট ও আশপাশের এলাকার হোটেল ও লজগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করার কাজ শুরু করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে কলিন লেনের সাতটি লজ ও চারটি গেস্ট হাউসে আপাতত অতিথি না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার কারণ জানার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়েছে।
কলকাতার সীমায় নয়, বরং অগ্নিকাণ্ডের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করার অভিযান শুরু হয়েছে। বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, মালদা, উত্তর ২৪ পরগনাসহ বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁয় পারিবারিক কলহ ও কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে স্ত্রী হালিমা খাতুনকে হত্যার অভিযোগে স্বামী মো. শামীম সরদারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে নওগাঁ জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-০১-এর বিচারক মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান কর্তৃক এ রায় ঘোষণা করা হয়।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৮ আগস্ট নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দোহালী-কোয়ালীপাড়া গ্রামের মো. শামীম সরদার ও হালিমা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা ঢাকায় বসবাস করতে শুরু করেন। পরে যখন হালিমা একটি কন্যাসন্তান জন্ম দেন, তখন শামীম সন্তানকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান এবং স্ত্রী ও সন্তানের প্রতি অবহেলা শুরু করেন।
একপর্যায়ে শামীম এবং হালিমার মধ্যে পারিবারিক বিষয়ে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। হালিমার পরিবারের সদস্যরা স্ত্রী ও সন্তানের কাছে যেতে বললে, শামীম বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তা এড়িয়ে যান। ২০১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর শামীম হালিমার পরিবারের সদস্যদের ফোন করে তাকে নওগাঁর মহাদেবপুরে গ্রামের বাড়িতে পাঠাতে বলেন। হালিমার পরিবার যখন তাকে একা পাঠাতে অসম্মতি জানায়, তখন ২৭ ডিসেম্বর সকালে হালিমার পরিবারের সদস্যরা তাকে শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দেন।
এরপর শামীম হালিমাকে সঙ্গে নিয়ে মহাদেবপুরের উদ্দেশে রওনা হন।
হালিমাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে, শামীম বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে থাকেন। পরে ২৯ ডিসেম্বর নওগাঁ সদর মডেল থানাধীন তিলকপুর ইউনিয়নের কিশোরীপুর এলাকার একটি ধানখেত থেকে হালিমার গলাকাটা এবং ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
খবর পেয়ে হালিমার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। তার গলা, মুখ এবং পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। ওই সময় তারা জানতে পারেন, মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই শামীম পলাতক ছিলেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শামীম ২০১৯ সালের ২৭ থেকে ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে যেকোনো সময় হালিমাকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে ধানখেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। এই ঘটনার পর নিহতের বাবা বাদী হয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলাটির তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৩ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ এবং ২০১ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানি শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনা করেন জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. শাহরিয়ার এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. এমরান হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. শাহরিয়ার বলেন, 'এই রায়ে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। ক্ষতিগ্রস্তরা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। এ রায়ের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ