ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আমরা অধিকারের আগে থাকা ‘মানব’ শব্দটিই ভুলে গেছি: প্রধান বিচারপতি জোবায়ের রহমান চৌধুরী


আমরা অধিকারের আগে থাকা ‘মানব’ শব্দটিই ভুলে গেছি: প্রধান বিচারপতি জোবায়ের রহমান চৌধুরী

বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি জোবায়ের রহমান চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, বর্তমান বিশ্বে 'জোর যার মুল্লুক তার' এই নীতিটি ক্রমশ বাস্তবায়িত হচ্ছে। পৃথিবীর দিকে তাকালে এর উদাহরণ স্পষ্টভাবে দেখা যায়। তিনি নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করতে চাননি এবং শালীনতার খাতিরে তা থেকে বিরত থাকছেন। তবে প্রধান বিচারপতি মনে করেন, মানবতা ও মানবাধিকার আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের 'সামসময়িক বিশ্বে সার্বভৌমত্ব, মানবতা ও আইন' শীর্ষক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে মানুষের জীবন সবচেয়ে সহজে বিসর্জন দেওয়া যায় এমন পণ্য বা সম্পদ। তিনি এই মতের প্রতি অটল রয়েছেন এবং এর অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। তথ্যসূত্র বা উদ্ধৃতি দেওয়ার প্রয়োজন নেই, চারপাশে তাকালেই তা দেখা যায়।

আরও পড়ুন: বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বসুন্ধরা শুভসংঘের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

তিনি উল্লেখ করেন, বাঘের অধিকার, কচ্ছপের অধিকার, শিশুদের অধিকার, শ্রমের অধিকার এবং শ্রমিকদের অধিকার—এইভাবে আমরা অধিকারের বিভিন্ন শ্রেণিবিভাগ করে থাকি। কিন্তু মানবাধিকার তো মানবাধিকারই। অধিকারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছি যে, অধিকারের আগে থাকা ‘মানব’ শব্দটিই যেন ভুলে গেছি।

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, "আমরা কি এমন একটি দিনের কথা বলতে পারি, যেদিন কোনো একটি দেশ, এমনকি কোনো একটি শহরেও একজন নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি ঘটেনি? এমন কোনো দিনের কথা কি আপনার মনে পড়ে? আমার তো পড়ে না। তবে আমার মতের সংশোধন হলে আমি তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত।"

আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে দেশের বাহিরে থেকে আগত গবেষক ও শিক্ষাবিদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সাঈদা আঞ্জু বলেন, ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, নেপাল, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ সুদান, নামিবিয়া, গ্রিসসহ বিভিন্ন দেশ থেকে গবেষক ও শিক্ষাবিদদের অভাবনীয় সাড়া আমাদের সম্মেলনকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে। জমা পড়া অসংখ্য গবেষণাপত্রের সারসংক্ষেপ থেকে মৌলিকত্ব ও একাডেমিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে উপযুক্ত গবেষণাপত্র নির্বাচন করায় Abstract Selection Committee-কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি দেশ-বিদেশ থেকে আগত সম্মানিত সেশন চেয়ার ও প্যানেল আলোচকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও মূল্যবান মতামত এই সম্মেলনের গবেষণামূলক আলোচনা ও একাডেমিক উৎকর্ষকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জগুলো আমাদের জন্য নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। এমন একটি জটিল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব, মানবতা ও আইনের মধ্যকার সম্পর্ক নতুন করে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সার্বভৌমত্ব আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি মৌলিক নীতি। তবে সার্বভৌমত্বের পাশাপাশি মানবিক মর্যাদা রক্ষা, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমাদের সম্মিলিত দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

আরও পড়ুন: ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ভারতের সঙ্গে লিয়াজোঁ শুরু করেছে জামায়াত: রাশেদ খান

উপাচার্য আরও বলেন, আইনের শাসন কেবল রাষ্ট্র পরিচালনার একটি মাধ্যম হিসেবেই কাজ করবে না; বরং অন্যায়, বৈষম্য এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ হিসেবেও ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, বেসরকারি বাহিনী, অভিবাসন এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের মতো বিষয়গুলো বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন আইনি ও নৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজন উদ্ভাবনী আইনি চিন্তাভাবনা, আন্তবিষয়ক গবেষণা এবং আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।

অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলিম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, দেশ ও দেশের বাইরের গবেষক ও শিক্ষাবিদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ

আরও পড়ুন: বিএনপি মোদী সরকারের সঙ্গে দেশ বিক্রির চুক্তি করেছে: রাশেদ প্রধান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেকে লাইফস্টাইলে অ্যান্টি-এজিং স্পেশালিস্ট মি. এ জয়া প্রকাশ সন্তুষ্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩১ পি.এম


জেকে লাইফস্টাইলে অ্যান্টি-এজিং স্পেশালিস্ট মি. এ জয়া প্রকাশ সন্তুষ্ট

জেকে লাইফস্টাইলের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এবং এটির কার্যক্রম পরিদর্শন করে সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারণের জন্য পরামর্শ প্রদান করেন মি. এ জয়া প্রকাশ।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন, অভিজ্ঞ এস্থেটিক সার্জন এবং এজ(বয়স) ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট মি. এ জয়া প্রকাশ (Mr. A Jeya Prakash) বুধবার (২৮ অক্টোবর) জেকে লাইফস্টাইলের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

এ সময় তিনি ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং জেকে লাইফস্টাইলের সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম, চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের লাইফস্টাইল কনসাল্টেন্সি, অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে কেন্দ্র করে পরিচালিত কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত হন।

মি. এ জয়া প্রকাশ দীর্ঘদিন ধরে এস্থেটিক সার্জারি ও এজ ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কাজ করছেন। তার বর্ণিল ক্যারিয়ারে প্রাধান্য পাওয়া বিষয়গুলো হচ্ছে- স্বাভাবিক সৌন্দর্য বজায় রাখা, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত পরিবর্তনগুলো যথাযথভাবে মোকাবিলা করা এবং চিকিৎসার ফলাফল সম্পর্কে বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা তৈরি করা।

তিনি তার অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে জেকে লাইফস্টাইলের সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগ সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয় জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরিদর্শনকালে মি. এ জয়া আল্টিমেট অর্গানিক লাইফের অর্গানিক ফুড, জেকে ফুড অ্যারেনার স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও খাদ্যাভ্যাসবিষয়ক উদ্যোগ এবং জেকে ফিটনেস অ্যারেনার ফিটনেস কার্যক্রম সম্পর্কেও বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন।

মি. এ জয়া প্রকাশ জেকে লাইফস্টাইলের বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে মানুষের কল্যাণে এসব উদ্যোগের পরিধি সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আরও বেশি মানুষের কাছে সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন।

জেকে লাইফস্টাইলের মূল লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, রোজা বা অটোফেজি, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক প্রশান্তির গুরুত্ব তুলে ধরা। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটি পুষ্টি পরামর্শ, চিকিৎসকের নির্দেশনা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং ফিটনেস কার্যক্রমকে সমন্বিতভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত থেকে আমদানি করা চালে ‘ক্যান্সার সৃষ্টিকারী’ উপাদান, বিতরণ সাময়িক স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩২ পি.এম


ভারত থেকে আমদানি করা চালে ‘ক্যান্সার সৃষ্টিকারী’ উপাদান, বিতরণ সাময়িক স্থগিত

ভারত থেকে আমদানি করা চট্টগ্রাম ও ঢাকার সরকারি গুদামে রাখা চালের নমুনায় সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী বিষাক্ত উপাদান ‘আফলাটক্সিন’-এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তর ওই চালানের বাকি ৯ হাজার ৫০০ টন চালের বিতরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ব্রির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. কাজী শিরীন আক্তার জাহান গণমাধ্যমটিকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত চালে আফলাটক্সিন তৈরি হতে পারে। নমুনায় যা শনাক্ত হয়েছে, তার মাত্রা সহনীয় পর্যায়েই রয়েছে।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, সহনীয় মাত্রা অতিক্রম করলে আফলাটক্সিন স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। গত ১৭ আগস্ট চট্টগ্রামের হালিশহর ও দেওয়ানহাট সেন্ট্রাল স্টোরেজ ডিপোর (সিএসডি) চালের স্তূপ থেকে তিন সদস্যের একটি ব্রি প্রতিনিধিদল নমুনা সংগ্রহ করে। পরীক্ষায় হালিশহর এবং ঢাকার একটি সরকারি গুদামের চালের নমুনায় এই বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি মেলে। এর পর খাদ্য অধিদপ্তর ওই চালান থেকে গ্রহণ করা পুরো ৯ হাজার ৫০০ টন চালের বিতরণ স্থগিত করে।

হালিশহর সিএসডির ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, খাদ্য কর্মকর্তারা এই লটের চাল দুবার পরীক্ষা করেছেন এবং ডিপো কর্তৃপক্ষকে চাল বিতরণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন; তবে পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক ফলাফল এখনো ডিপোতে পৌঁছায়নি। চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগের চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক রেজওয়ান সাকিবও চাল বিতরণ বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রাথমিক পরীক্ষায় ছাড়পত্র পায় চালান

টিবিএসের প্রতিবেদনের তথ্য মতে, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রতি টন ৩৫৩ দশমিক ১১ ডলার দরে ৫০ হাজার টন চাল আমদানির চুক্তির অংশ হিসেবে এই চাল সরবরাহ করেছিল সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল’। এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার ৮৭৮ টন ওজনের চূড়ান্ত চালানটি নিয়ে ‘এমভি এইচটি পাইওনিয়ার’ জাহাজটি গত ২১ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। পরদিন খাদ্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণাগারে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে চাল মানুষের খাওয়ার উপযোগী বলে ঘোষণা করা হয় এবং কর্তৃপক্ষ ২৪ ও ২৫ জুলাই চালানের খালাসের অনুমতি দেয়। এরপর চালগুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুরের সরকারি গুদামগুলোতে পাঠানো হয় বলে গণমাধ্যমটি জানায়।

তবে পরবর্তীতে গুদামের কর্মকর্তারা চালানের একাংশের মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং কিছু চাল অত্যন্ত নিম্নমানের ও খাওয়ার প্রায় অনুপযোগী বলে উল্লেখ করেন। নিম্নমানের কারণে বন্দর থেকেই প্রায় ১ হাজার ৩৭৮ টন চাল জাহাজে ফেরত পাঠায় কর্তৃপক্ষ এবং অবশিষ্ট ৯ হাজার ৫০০ টন চাল গ্রহণ করা হয়।

এরপর খাদ্য অধিদপ্তর চালের অধিকতর পরীক্ষার ব্যবস্থা করে এবং মহাপরিচালক এম জসিম উদ্দিন খান পরীক্ষা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চাল বিতরণ স্থগিতের নির্দেশ দেন।

তবে আফলাটক্সিন পাওয়ার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল। তাদের দাবি, বাংলাদেশের খাদ্য কর্মকর্তা এবং সরবরাহকারীর যৌথভাবে সংগৃহীত নমুনা ভারতের একটি পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং তা চুক্তির শর্তাবলি পূরণ করেছিল।

এক ইমেইলে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ব্রিতে পরীক্ষা করা সিলগালা যৌথ নমুনায় কোনো আফলাটক্সিন পাওয়া যায়নি বলেও তাদের জানানো হয়েছিল। নিজেদের দাবির সপক্ষে তারা সংযুক্ত এসজিএস প্রতিবেদনের পাঁচ ও ছয় নম্বর পৃষ্ঠার উল্লেখ করে।

সরবরাহকারী আরো জানায়, মান বজায় রাখতে তারা যথাযথ কার্যপ্রণালী অনুসরণ করেছিল এবং বিতরণ স্থগিত করার আগে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ তারা পায়নি।

সরবরাহকারীর শিপিং এজেন্ট সেভেন সিজ শিপিং লাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী আকবর অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি সরবরাহকারীর সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘এমনটা চলতে থাকলে কোনো আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী বাংলাদেশে খাদ্যশস্য সরবরাহে আগ্রহ দেখাবে না, যা দেশকে বিপাকে ফেলবে।’

এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে; বিশেষ করে প্রাথমিক নমুনাগুলো পুরো চালানের সঠিক প্রতিনিধিত্ব করেছিল কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এখনো চালে থাকা বিষাক্ত উপাদানের সুনির্দিষ্ট ঘনত্ব প্রকাশ করেনি, কিংবা চিহ্নিত চালের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বা অন্যান্য গুদামে আরো পরীক্ষা চালানো হবে কি না সে বিষয়েও স্পষ্ট কিছু জানায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করে টিবিএস।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এম জসিম উদ্দিন খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিনজারের সংকট এবার সমাধান করতে পারবে বাগদাদ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩২ পি.এম


সিনজারের সংকট এবার সমাধান করতে পারবে বাগদাদ?

ইয়াজিদি গণহত্যার ১২ বছর পরেও ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় সিনজারে নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। বাগদাদ এবার ইয়াজিদি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে কুর্দি আঞ্চলিক সরকারের আপত্তি, ইরান ও তুরস্কের প্রভাব এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্দশা এই সংকট সমাধানের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা সিনজারে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক সংকট নিরসনে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি বাগদাদ ঘোষণা করেছে যে, সিনজারে প্রভাবশালী ইয়াজিদি নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে। ২০১৪ সালে ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের ওপর ইসলামিক স্টেটের (আইএস) গণহত্যার পর থেকে অঞ্চলটিতে ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলমান রয়েছে।

কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইয়াজিদি সশস্ত্র সংগঠন সিনজার রেজিস্ট্যান্স ইউনিটস (ওয়াইবিএস) ২০০০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার ইয়াজিদি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার উদ্দেশ্যে এই সংগঠনটি গড়ে ওঠে।

২০১৪ সালের আগস্টে ইসলামিক স্টেট সিনজারে হামলা চালিয়ে ইয়াজিদিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা শুরু করলে ওয়াইবিএস যোদ্ধারা তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করেন। ওই গণহত্যায় অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হন এবং হাজার হাজার নারী ও শিশুকে অপহরণ করা হয়।

সোমবার এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ওয়াইবিএসকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরাকের রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির প্রায় আড়াই হাজার স্থানীয় যোদ্ধা ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীতে যোগ দেবেন।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদি গত মাসে ইরাকি সংসদ সদস্য মুরাদ ইসমাইলের নেতৃত্বাধীন ইয়াজিদি কজ অ্যালায়েন্সের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। সিরিয়ার ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসকে (এসডিএফ) দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগের সঙ্গে এই পদক্ষেপের কিছুটা মিল রয়েছে।

মুরাদ ইসমাইল বলেন, ‘সিনজার পর্বতের কয়েকটি অবস্থান ইরাকি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে আজ থেকেই কার্যক্রমের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই যোদ্ধাদের কোন বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সবাইকে একটি মাত্র নিরাপত্তা বাহিনীতে নেওয়া হবে না; একাধিক বাহিনীতে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আজই নামের তালিকা রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

বাগদাদ ও কুর্দি সরকারের বিরোধ

২০১৫ সালে কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের (কেআরজি) পেশমার্গা বাহিনী সিনজার শহর পুনর্দখল করে। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালে বাগদাদ-সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) বা হাশদ আল-শাবি দক্ষিণ সিনজারের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তবে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ ওয়াইবিএসকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

মঙ্গলবার কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাগদাদের উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের বক্তব্য, সিনজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জাতিসংঘের সমর্থনে ২০২০ সালে বাগদাদ ও কেআরজির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাস্তবায়ন করা উচিত। ওই চুক্তিতে ওয়াইবিএসসহ অন্যান্য রাষ্ট্রবহির্ভূত সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সিনজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল।

কেআরজির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেবার আহমেদ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘কেআরজির সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় ছাড়া সিনজারে নেওয়া কোনো পদক্ষেপই ভালো ফল বয়ে আনবে না।’ তাঁর মতে, এ ধরনের উদ্যোগে স্থিতিশীলতা ফিরবে না এবং বাস্তুচ্যুত ইয়াজিদিদের ঘরে ফেরার পথও সহজ হবে না।

অন্যদিকে বাগদাদ সরকার নিজেদের নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমান বলেন, ‘সিনজার জেলার নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের চলমান পদক্ষেপগুলো আইনের শাসন জোরদার এবং অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ কঠোরভাবে সরকারি ফেডারেল ও সামরিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের অধীনে আনার বিষয়ে ইরাকি সরকারের সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ।’

২০২০ সালের বাগদাদ-কেআরজি চুক্তি কখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ওয়াইবিএস এবং ইরান-সমর্থিত কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ওই চুক্তির বিরোধিতা করে সিনজার ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। অন্যদিকে তুরস্ক চুক্তিটির পক্ষে ছিল। কারণ, পিকেকের মিত্র হিসেবে বিবেচিত ওয়াইবিএসের প্রভাব কমানো ছিল আঙ্কারার অন্যতম লক্ষ্য।

২০১৭ সালের অক্টোবরে পেশমার্গা বাহিনী সিনজার থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হলে সেখানে কেআরজির প্রভাবও সীমিত হয়ে পড়ে।

সিনজারভিত্তিক সাংবাদিক ও বিশ্লেষক আহমদ শিঙ্গালি বলেন, ‘মূলত এই দ্বন্দ্ব দুটি সরকারের মধ্যে সংঘাত। আরও স্পষ্ট করে বললে, কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি (কেডিপি), বিভিন্ন ইয়াজিদি, সুন্নি ও শিয়া গোষ্ঠী এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে সিনজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ চলছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি পক্ষ নিজেদের লক্ষ্য ও স্বার্থ অনুযায়ী সিনজারকে পরিচালিত করতে চায়। বাস্তবে এটি মূলত ইরান কিংবা তুরস্কের স্বার্থে পরিচালিত একটি পরোক্ষ সংঘাত।’

২০২৪ সালে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের সরকারের পতনের পর দেশটিতে বিকল্প প্রবেশপথ হিসেবে সিনজারের কৌশলগত গুরুত্ব ইরানের কাছে কিছুটা কমেছে। তবে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত বিরোধের অবসান এখনো হয়নি।

এখন বড় প্রশ্ন হলো, বাগদাদের নতুন উদ্যোগ সিনজারের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সংকটের অবসান ঘটাতে পারবে কি না। বিশেষ করে কেআরজি নিজেদের উপেক্ষিত মনে করছে এবং হাজার হাজার ইয়াজিদি এখনো বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন।

সংকট সমাধানে তুরস্কের ভূমিকা

সিনজার দীর্ঘদিন ধরে আঙ্কারা ও বাগদাদের মধ্যে বিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে রয়েছে।

পিকেকের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে তুরস্ক বরাবরই সিনজারে ওয়াইবিএসের উপস্থিতির বিরোধিতা করে আসছে। ২০১৪ সালের আগস্টে পেশমার্গা বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর সিরিয়া থেকে পিকেকে যোদ্ধারা সিনজারে প্রবেশ করেছিলেন। তাদের সহায়তায় বহু ইয়াজিদি আইএসের গণহত্যা থেকে প্রাণে বেঁচে যান।

সিনজার জেলার মেয়র মাহমা খলিলের মতে, ‘সিনজারকে নিজস্ব প্রশাসনসহ একটি পৃথক অঞ্চলে পরিণত করা উচিত।’

তুরস্ক বিভিন্ন সময়ে ওয়াইবিএসের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে ২০২৪ সালের অক্টোবরে পিকেকের সঙ্গে শান্তিপ্রক্রিয়া শুরু করার পর থেকে এসব হামলা বন্ধ রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার ফলে ওয়াইবিএসকে ইরাকের রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি মেনে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আঙ্কারাভিত্তিক গবেষক ও বাবিল রিসার্চের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মেহমেত আলাকা বলেন, ‘ইরাকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে পরিচালিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আওতায় আনার উদ্যোগকে তুরস্ক স্পষ্টভাবে সমর্থন করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘স্থানীয় বাহিনী নিয়ে তুরস্কের প্রকৃতপক্ষে কোনো সমস্যা নেই। তাদের প্রধান উদ্বেগ হলো পিকেকের সেই সদস্যরা, যাঁরা বাইরে থেকে এই অঞ্চলে এসেছেন। এসডিএফের ক্ষেত্রে যেমন হয়েছে, তেমনি স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এখানেও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে বলে আশা করা যায়।’

গত ২৩ সেপ্টেম্বর তুরস্ক ও ইরাকের সরকার যৌথভাবে ঘোষণা দেয়, তুর্কি সেনাবাহিনী বাশিকার জিলকান সামরিক শিবির ইরাকি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করবে। তবে এর শর্ত হিসেবে ইরাককে সিনজারে ‘নিষিদ্ধ বিদেশি উপাদানগুলোর’ উপস্থিতি বন্ধ করতে হবে।

বুধবার তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সিনজারে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে ইরাকি সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।

পুনর্গঠন ও বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবর্তনই বড় চ্যালেঞ্জ

ওয়াইবিএসকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার পরও সিনজারের সামনে বেশ কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন প্রশাসন গঠন, ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া।

সিনজারে হাউস অব কো-এক্সিসটেন্সের প্রতিষ্ঠাতা ইয়াজিদি অধিকারকর্মী মির্জা দিনাইয়ি মিডল ইস্ট আইকে বলেন, সিনজারের অন্যান্য জটিল সমস্যার সমাধান করতে ইরাকি সরকার কতটা সক্ষম হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

তিনি বলেন, ‘পরবর্তী পদক্ষেপগুলো স্থানীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের সব অংশীদারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। কেডিপি এবং নিনেভে অঞ্চলের সক্রিয় রাজনৈতিক পক্ষগুলোকে বাদ না দিয়ে ইরাকি সরকার যদি সিনজারে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তা সফল হবে।’

দিনাইয়ি আরো বলেন, সিনজারের পুনর্গঠন, ক্ষতিপূরণ, বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবর্তন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাগদাদ কতটা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের গত আগস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কুর্দিস্তান অঞ্চলের বিভিন্ন শিবিরে এখনো ৮৯ হাজার ৭০৯ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ অবস্থান করছেন। তাঁদের অধিকাংশই ইয়াজিদি।

নিরাপত্তাহীনতা, দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো, পর্যাপ্ত পুনর্গঠনের অভাব, জীবিকার সীমিত সুযোগ এবং ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার কারণে তারা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারছেন না।

সাংবাদিক আহমদ শিঙ্গালি বলেন, ‘সিনজারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো শিবিরগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা বাস্তুচ্যুত মানুষদের দুর্দশার অবসান। তারা এখনো ক্ষতিপূরণ পাননি, বাড়ি ফেরার চূড়ান্ত কাগজপত্রও সম্পন্ন হয়নি। ফলে তাদের পরিস্থিতি কুর্দিস্তান অঞ্চল ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক দর-কষাকষির হাতিয়ার হয়ে রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেআরজি শিবিরগুলোতে তাদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে পারছে না। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারও তাদের আইনি অবস্থান নির্ধারণ, ক্ষতিপূরণ প্রদান কিংবা আইএসের হামলায় শহরটিতে যে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার ব্যবস্থা করতে পারছে না।’

মেয়র ছাড়াই চলছে সিনজার

২০২৩ সালে ইরাকে প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধের কারণে সিনজারে কোনো মেয়র নেই। সম্প্রতি নিনেভে প্রাদেশিক পরিষদ মেয়র পদে মনোনয়ন গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

সাবেক সংসদ সদস্য ও সিনজার জেলার সাবেক মেয়র মাহমা খলিল বলেন, ‘ইরাকের সংবিধান অনুযায়ী একটি প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং সিনজারকে নিজস্ব প্রশাসনসহ একটি অঞ্চলে পরিণত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, সিনজারের বাসিন্দাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, বাস্তুচ্যুতদের ফিরিয়ে আনতে হবে এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ করতে হবে।

ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমান জানিয়েছেন, প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণে নিনেভের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে বাগদাদ। এ জন্য এমন একটি দক্ষ স্থানীয় প্রশাসন গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এবং জেলার বাসিন্দাদের সেবার চাহিদা পূরণ করতে পারবে।

তিনি আরও জানান, সিনজারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো যাতে নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে সাংবাদিক শিঙ্গালির মতে, সিনজারের প্রশাসনিক অচলাবস্থা দূর করা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্দশার অবসান ঘটানোই সবচেয়ে বড় দুটি চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যার সমাধান না হলে স্থানীয় জনগণের স্বাভাবিক জীবনে ফেরা, শহরটির পুনর্গঠন এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাশিয়া : পুতিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৩ পি.এম


ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাশিয়া : পুতিন

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মন্তব্য করেছেন যে, রাশিয়া ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। তবে তিনি এও জানিয়েছেন যে, তার দেশ কোনো সংঘাত চায় না। দ্য টেলিগ্রাফের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপের পর পুতিন জানান, ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে তিনি সমর্থন করেন।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইউরোপের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য রাশিয়া প্রস্তুত। উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কোনো পক্ষই জয়ী হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পুতিন বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত, তবে ইউরোপের সঙ্গে কোনো সংঘাত চাই না। তবে তাদের কেউ যদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে চায়, তাহলে নিতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার কৌশলগত পরাজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য অর্জনে পশ্চিমারা ব্যর্থ হয়েছে। পুতিন বলেন, ‘রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যুদ্ধ হলে কোনো বিজয়ী থাকবে না।’

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব এবং নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন পুতিন। রুশ নেতা জানান, ইউরোপীয় নেতারাই ওই ফোনালাপের উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং আলোচনাকে সঠিক পথে এগোনোর একটি পদক্ষেপ বলেও উল্লেখ করেন।

সম্প্রতি প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাটোর দৃঢ়তা যাচাই করার জন্য রাশিয়া জোটটির পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে হামলা চালাতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, বাল্টিক অঞ্চলের কোনো একটি দেশে ছোট পরিসরে স্থল অভিযান চালিয়ে অথবা পূর্ব ইউরোপজুড়ে সাইবার হামলা চালিয়ে পুতিন উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারেন।

যদিও ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ না চাওয়ার কথা বলেছেন, তবুও রাশিয়া কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন ধরনের হাইব্রিড হামলার মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলো ও ন্যাটোর সক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখছে। এর মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ড্রোন বিস্ফোরণের ঘটনাও রয়েছে।

দ্য টেলিগ্রাফ চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, ইউক্রেনের সঙ্গে পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনায় পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর সম্প্রসারণ নিয়ে ছাড় আদায়ের চেষ্টা করবে রাশিয়া। পুতিন এই সম্প্রসারণকেই যুদ্ধের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুতিন সম্ভবত ইউরোপে ন্যাটোর উপস্থিতি কমানোর দাবি জানাবেন। এর অর্থ হতে পারে পোল্যান্ড, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও ফিনল্যান্ড থেকে ন্যাটোর সেনা প্রত্যাহার।

ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং সতর্ক করে বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির শত্রুরা হামলা চালানোর অবস্থানে পৌঁছাতে পারে।

দ্য টেলিগ্রাফে লেখা এক নিবন্ধে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ঠেকাতে হলে আমাদের সেই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রথমত, এর অর্থ হলো আমাদের সক্ষমতা বাড়ানো, যাতে প্রতিপক্ষ আমাদের ওপর হামলার আগে দুবার ভাবে। তাতে কাজ না হলে ব্রিটেন যেন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%