ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

১৩ বছরের কিশোরী একসঙ্গে ১৪টি চুম্বক গিলে ফেলায় অস্ত্রোপচার


১৩ বছরের কিশোরী একসঙ্গে ১৪টি চুম্বক গিলে ফেলায় অস্ত্রোপচার

একসঙ্গে ১৪টি ছোট চুম্বক গিলে ফেলেছিল ১৩ বছরের কিশোরী। এর ফলে তার শরীরে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা দেয়। শেষ পর্যন্ত, মিসরের চিকিৎসকদের দক্ষতার কারণে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার ছাড়াই তার পেট থেকে বের করা হয়েছে বাকি নয়টি চুম্বক। চিকিৎসকেরা অন্ত্র না কেটেই জটিল এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিসরের কাফর এল-শেখ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের দ্বারা ন্যূনতম কাটাছেঁড়ার মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করে কিশোরীর পেটে আটকে থাকা বাকি চুম্বকগুলো বের করা হয়।

প্রথমে মুখ দিয়ে একটি বিশেষ নল প্রবেশ করিয়ে ঊর্ধ্ব পরিপাকতন্ত্রে এন্ডোস্কোপি করা হয়। এ পদ্ধতিতে পাঁচটি চুম্বক বের করা সম্ভব হয়। তবে, বাকি চুম্বকগুলো ওই পদ্ধতিতে নাগালের মধ্যে না থাকায় সেগুলো বের করা যায়নি। পরে কিশোরীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: আর্কটিকে উপস্থিতি বাড়াতে নতুন কৌশল ঘোষণা করছে ইইউ

একপর্যায়ে তার অন্ত্রে বাধা সৃষ্টির লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকেরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে প্রাণঘাতী জটিলতা দেখা দিতে পারে।

অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকেরা পেটে ছোট একটি ছিদ্র করে অন্ত্র পরীক্ষা করেন। এরপর অন্ত্রের দেয়াল না কেটেই পায়ুপথ দিয়ে বাকি নয়টি চুম্বক বের করে আনেন তারা। এতে বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন এড়ানো সম্ভব হয় এবং অন্ত্রের ক্ষতি ও অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকিও কমে।

সফল অস্ত্রোপচারের পর কিশোরীটি দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। পরে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: গলফ নিউজ

আরও পড়ুন: বেইজিংয়ে ‘বাংলাদেশ ডে’: চীনা ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর আহ্বান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয়কৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য জরুরি এমপিও নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১৬ পি.এম


জাতীয়কৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য জরুরি এমপিও নির্দেশনা

জাতীয়করণ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য এমপিও ইনডেক্স কর্তনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এই নির্দেশনার উদ্দেশ্য হল সরকারি পিডিএস ব্যবস্থায় নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

বিভিন্ন এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ এবং স্কুল-কলেজ ইতোমধ্যে জাতীয়করণ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে, এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের রাজস্ব খাতভুক্ত পদে পদায়নও সম্পন্ন হয়েছে। এই নির্দেশনা বিশেষভাবে তাদের জন্য প্রযোজ্য।

১৯ অক্টোবর, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর একটি চিঠির মাধ্যমে এ তথ্য জানায়। ইতোমধ্যে দেশের সকল অঞ্চলের মাউশি অধিদপ্তরের পরিচালক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘জাতীয়করণকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পূর্বে এমপিওভুক্ত বা ইনডেক্সধারী ছিলেন এবং পরবর্তীতে রাজস্ব খাতভুক্ত পদে পদায়ন পেয়েছেন—এমন শিক্ষক-কর্মচারীদের ইনডেক্স যথাযথ প্রক্রিয়ায় কর্তন করতে হবে। এরপর রাজস্ব খাতভুক্ত জনবল হিসেবে নতুন পিডিএস আইডি পাওয়ার জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।’

এই নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইনডেক্স কর্তনের প্রক্রিয়াটি এমপিও অনলাইন সফটওয়্যার অথবা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) হার্ডকপিতে আবেদনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাবে।

প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদনের পর এমপিও ইনডেক্স কর্তন সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মচারীরা রাজস্ব খাতভুক্ত জনবল হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে পিডিএসভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খিলগাঁওয়ে চিরকুটসহ পাকিস্তানি যুবক শাহবাজের লাশ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১৬ পি.এম


খিলগাঁওয়ে চিরকুটসহ পাকিস্তানি যুবক শাহবাজের লাশ উদ্ধার

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় একটি বহুতল ভবনের নিচতলার কক্ষ থেকে মোহাম্মদ শাহবাজ (২৬) নামে এক পাকিস্তানি নাগরিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে দক্ষিণ বনশ্রীর এফ ব্লকের একটি বাসা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, মৃত্যুর পূর্বে তিনি একটি চিরকুট লিখে গেছেন। ওই চিরকুটে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দুটি মোবাইল নম্বর উল্লেখ করে মৃত্যুর পর ওই নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করার জন্য তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন।

নিহত শাহবাজ পাকিস্তানের মুলতান জেলার জালালপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার বাবার নাম নাজির আহমেদ। তিনি দক্ষিণ বনশ্রীর এফ ব্লকের ৯/৫ নম্বর সড়কের ৩৮ নম্বর বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষে ভাড়া থাকতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেশায় ব্যবসায়ী শাহবাজ বিদেশে লোক পাঠানোর কাজে যুক্ত ছিলেন।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শাহবাজ ওই ভবনের একটি কক্ষ ভাড়া নেন। সেখানে সাত থেকে আট দিন একসঙ্গে বসবাসের পর তার স্ত্রী চলে যান। এরপর থেকে শাহবাজ ওই কক্ষে একাই থাকতেন। জানা গেছে, তার স্ত্রী চট্টগ্রামের মারমা জনগোষ্ঠীর একজন নারী, তবে তার নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, স্ত্রীর সঙ্গে শাহবাজের আগেই বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল।

এদিকে, শাহবাজ বিদেশে লোক পাঠানোর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকায় তার কাছে বেশ কয়েকজনের টাকা পাওনা ছিল বলে জানা গেছে। তবে কতজন তার কাছে টাকা পেতেন কিংবা পাওনা টাকার পরিমাণ কত, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মৃত্যুর আগে শাহবাজের লিখে যাওয়া একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। চিরকুটে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দুটি মোবাইল নম্বর উল্লেখ রয়েছে। এর একটি বাংলাদেশে থাকা তার সাবেক স্ত্রীর এবং অন্যটি পাকিস্তানে থাকা তার ভাইয়ের বলে জানা গেছে। মৃত্যুর পর লাশের বিষয়ে ওই দুটি নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে চিরকুটে। তবে বাংলাদেশে থাকা তার সাবেক স্ত্রীর মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

খিলগাঁও থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সকালে ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে শাহবাজকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান লোকজন। পরে ভবনের দারোয়ান থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কক্ষের দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে শাহবাজ আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ জানায়, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ১ লাখ টাকা ও ৩ খাসি নেন বিএনপি নেতা রমিজ উদ্দিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১৬ পি.এম


পদ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ১ লাখ টাকা ও ৩ খাসি নেন বিএনপি নেতা রমিজ উদ্দিন

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি দলীয় পদ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক লাখ টাকা ও তিনটি খাসি গ্রহণ করেছেন। এই অভিযোগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভাওরখোলা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মো. মোসলেম মোল্লা কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

লিখিত অভিযোগে মোসলেম মোল্লা উল্লেখ করেন যে, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক পদ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে রমিজ উদ্দিন লন্ডনী তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেন। তিনি আরও জানান, তাকে তিনটি খাসি উপহার দেওয়া হয়। অভিযোগে তিনি দাবি করেন যে, এ-সংক্রান্ত প্রমাণ তার কাছে রয়েছে।

তিনি আবেদন করেছেন যে, অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাশেম বলেন, "আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ভিডিওটিও আমাদের নজরে এসেছে। তবে এ ঘটনায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।"

প্রসঙ্গত, ১১ অক্টোবর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেনকে (৭২) লাঞ্ছিত করার অভিযোগে বিএনপি নেতা রমিজ উদ্দিন লন্ডনীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাশেম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দৃষ্টিনন্দন বনায়ন: রাঙ্গামাটিতে ১০ একর জমিতে ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১৭ পি.এম


দৃষ্টিনন্দন বনায়ন: রাঙ্গামাটিতে ১০ একর জমিতে ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ

রাঙ্গামাটি, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক ঘোষিত ৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের কর্মসূচির অংশ হিসেবে, রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া এলাকায় বন বিভাগের উদ্ধার করা প্রায় ১০ একর উঁচু-নিচু পাহাড়ি জমিতে ১০ হাজারের অধিক বৃক্ষরোপণ করে দৃষ্টিনন্দন বনায়ন গড়ে তুলেছে রাঙ্গামাটি ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগ।

এই তথ্যটি বাসস’কে নিশ্চিত করেছেন রাঙ্গামাটি ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. তবিবুর রহমান।

তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কার্যক্রমের ঘোষণার পরপরই রাঙ্গামাটি ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের পক্ষ থেকে জেলায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হয়।

তবিবুর রহমান আরও জানান, এই কর্মসূচি বর্তমানে চলমান রয়েছে। বর্তমানে বন বিভাগের পক্ষ থেকে পরিত্যক্ত পাহাড় পরিষ্কার করার পাশাপাশি রোপণকৃত চারাগুলোর পরিচর্যা করা হচ্ছে।

রাঙ্গামাটি জেলা শহর থেকে কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া সৃজনী স্কুলের রাস্তা দিয়ে মূল সড়ক থেকে প্রায় ২-৩ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে যাওয়ার পর, কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া মৌজার কলমপতি বিটের খাসখালী রেঞ্জের দখলমুক্ত ১০ একর বনভূমিতে দেখা যায় হাজার হাজার প্রায় ৫০ প্রজাতির রোপণকৃত গাছের চারা। এখানে বনজ, ফলদ ও ওষুধি গাছের চারাসহ বিলুপ্ত বিভিন্ন প্রজাতির চারা নিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে সংরক্ষণমূলক বাগান।

এই বাগানে লাগানো চারার মধ্যে রয়েছে গোদা, গুটগুটিয়া, বৈয়লাম, চাপালিশ, ঢেউয়া, সিভিট কদম, চারমুগড়া, বাঁশপাতা, বট, পাকুড়, জগডুমুর, অর্জুন, সোনালু, উদাল, মায়লারম, ঐরিয়াম ও মুহুয়া, ‘শরিফা, আতা, গোলাপ জাম, ঢাকি জাম, ত্রিপলা, আমলকি, বহেরা, চালতা, কাঁঠাল, দেশী আম, জারুল, দেশী গাব, বিলাতি গাবসহ নানা প্রজাতির গাছ।

এই বাগান তৈরির ফলে স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। এখানে কাজ করছে স্থানীয় অনেক শ্রমিক।

বাগানে কাজ করা শ্রমিকরা জানিয়েছেন, পাহাড়ের পরিত্যক্ত জমিতে এ ধরনের বাগান তৈরির ফলে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। তারা বলেন, "আমরা এই বাগানে দৈনিক পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে কাজ করছি।" শ্রমিকরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এ ধরনের জনবান্ধব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য।

ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. তবিবুর রহমান বাসস’কে আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়াতে গড়ে তোলা বাগানটি ভবিষ্যতে গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাহাড়ি বনজ উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য, বৃদ্ধি, সংরক্ষণ ও বীজ উৎপাদন নিয়ে গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি খাসখালী রেঞ্জ এলাকায় বীজ ও নতুন চারা উৎপাদন করা হচ্ছে এবং উৎপাদিত নতুন চারাগুলো জেলার বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, দখলমুক্ত ১০ একর বনভূমিটি এখন সবুজায়নের আওতায় আসার পাশাপাশি পাহাড়ে বিলুপ্ত প্রায় গাছের প্রজাতি সংরক্ষণে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া খাসখালী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আব্দুল জলিল বাসস’কে জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এই রেঞ্জের আওতায় ১০ একর জমিতে প্রায় ১০ হাজার ৫শ’ চারা রোপণ করা হয়েছে। অন্যান্য জবরদখলকৃত বনভূমি দখলমুক্ত করে সেসব জমিও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে এই রেঞ্জের মাধ্যমে বীজ ও নতুন চারা উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। যে সব চারা লাগানো হয়েছে সেগুলো নিয়মিত পরিচর্যার জন্য সার্বক্ষণিক বন বিভাগের লোকজন কাজ করছে।

আমরা আশা করছি ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগ আশানুরূপ বৃক্ষরোপণের টার্গেট পূরণ করতে পারবে।

রাঙ্গামাটি ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. তবিবুর রহমান বাসস’কে আরও বলেন, বন বিভাগের এ বাগানটি সরকার প্রধান ঘোষিত ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি জানান, ইতঃপূর্বে এই বাগানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের জাতীয় বৃক্ষরোপণ সেলের সদস্য ও টেকনিক্যাল এক্সপার্ট জামাইল বশির জেবি। তিনি এই বাগানটি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

সহকারী বন সংরক্ষক মো. তবিবুর রহমান আরও বলেন, বর্তমান সরকারের কয়েকটি কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো সারাদেশে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ।

বৃক্ষরোপণের অংশ হিসেবে সারাদেশে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে এসব বৃক্ষ লাগানো হয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে কর্মসূচি তদারকি করা হচ্ছে। বেতবুনিয়ার এই বাগানটি সম্পর্কে সবসময় সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

পরিকল্পিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করা গেলে রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ার বাগান ভবিষ্যতে পাহাড়ি বনজ উদ্ভিদের বীজ ও চারা সংরক্ষণ, গবেষণায় এবং পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দেশের এক দশমাংশ অঞ্চল জুড়েই পার্বত্য চট্টগ্রামের অবস্থান। এই অঞ্চলের অব্যবহৃত ও জবরদখলকৃত ভূমি বৃক্ষ রোপণের আওতায় আনা গেলে, তারেক রহমান ঘোষিত সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে টার্গেট রয়েছে, তার অনেকাংশ টার্গেট পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

জীববৈচিত্র্য রক্ষা, সবুজায়নসহ বৃক্ষরোপণে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে পাহাড়ের সম্ভাবনাময় অঞ্চলকে কাজে লাগাতে এখন প্রয়োজন সরকারের কার্যকর উদ্যোগ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%