শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৩৩ পি.এম
বাগেরহাট, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলার নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলামের সঙ্গে জেলার স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাগেরহাটে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পুলিশের সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে তার কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম বলেন, "বাগেরহাটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়ন, মাদক ও সাইবার অপরাধ নির্মূল এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে আরও সক্রিয় ও জনবান্ধব ভূমিকা পালন করতে হবে। পুলিশের সেবা যেন সাধারণ মানুষ সহজে ও দ্রুত পেতে পারে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
তিনি আরও বলেন, "আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি গণমাধ্যমেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সাংবাদিকরা সমাজের নানা অসংগতি ও অপরাধের চিত্র তুলে ধরার মাধ্যমে পুলিশকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন। বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং অপরাধ প্রতিরোধে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।"
নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার উল্লেখ করেন, "মাদক ও সাইবার অপরাধ বর্তমানে জননিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এসব অপরাধ প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও সাইবার অপরাধসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন।
এ সময় পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের বিভিন্ন বক্তব্য ও পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাগেরহাটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ সময় বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাঈদ শুনু, সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন লিটন, বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিদুর রহমান, ডিআইওয়ান মো. মাসুম বিল্লাহসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মো. জামিরুল ইসলাম গত বুধবার বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের দায়িত্ব পালনের সময় রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ তার সাফল্য কামনা করেছেন।
লাভরভ আশা প্রকাশ করেছেন যে, সাধারণ পরিষদের বর্তমান অধিবেশন বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং হুমকি মোকাবিলায় দেশগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার সুযোগ প্রদান করবে।
২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ চলাকালে খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ মন্তব্য করেন। রুশ দূতাবাসের একটি বিবৃতিতে আজ এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকের সময় উভয়েই অধিবেশনের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংলাপের একটি প্রতিনিধিত্বশীল ফোরাম হিসেবে সাধারণ পরিষদের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তারা সাধারণ পরিষদের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মানভিত্তিক সংলাপ পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। লাভরভ আশা প্রকাশ করেন যে, অধিবেশনের কার্যক্রম পেশাদারভাবে পরিচালিত হবে এবং তা রাজনৈতিকীকরণমুক্ত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটার শেয়ারের দাম চলতি সপ্তাহে ২০২৫ সালের গ্রীষ্মের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ফিরে এসেছে। বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহের কারণে কোম্পানিটির নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সহকারী বা এজেন্ট ‘মিউজ’ এর ফলে শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
মিউজের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের বাইরেও নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার, মেটার শেয়ারের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। এর আগে সোমবার, শেয়ারের দাম এক লাফে ১১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর এক দিনে সবচেয়ে বড় উত্থান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বর্তমানে মেটার শেয়ারের দাম প্রায় ৭৭৮ ডলার। মার্চের শেষের দিকে শেয়ারের দাম প্রায় ৫২৫ ডলারে নেমে গিয়েছিল। তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মেটার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর প্রভাব নিয়ে দুটি আদালতের রায়ের পর ওই দরপতন ঘটেছিল।
জুলাইয়ের শেষ দিকেও মেটার শেয়ারে আবার পতন ঘটে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিপুল ব্যয়ের কারণে কোম্পানিটির আয়-ব্যয়ের হিসাব চাপের মধ্যে পড়ে। চলতি বছর এআই খাতে মেটার ব্যয় ১৪৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
মেটার আয়ের প্রায় পুরোটাই বিজ্ঞাপননির্ভর। ফলে এআই খাতে এত বিপুল বিনিয়োগ করে কোম্পানিটি শেষ পর্যন্ত কতটা আর্থিক সুবিধা পাবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
এরপর গত ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে এবং ১৮ সেপ্টেম্বর কানাডায় মিউজ চালু করা হয়। বর্তমানে এই দুই দেশে এটি ব্যবহার করা যাচ্ছে।
মিউজ একটি বহুমুখী এআই সহকারী বা ‘এজেন্ট’, যা ব্যবহারকারীর হয়ে বিভিন্ন কাজ করতে পারে। যেমন—ভ্রমণের বুকিং দেওয়া, ই-মেইল পাঠানো কিংবা অনলাইনে কেনাকাটা করা।
শুধু ১৮ বছরের বেশি বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য মিউজ উন্মুক্ত। এটি বিনামূল্যে ব্যবহার করা গেলেও ব্যবহারের সীমা রয়েছে। বেশি ব্যবহারের জন্য মাসে ২০ ডলার বা ১০০ ডলারের দুটি ঐচ্ছিক সাবস্ক্রিপশন সুবিধা রয়েছে।
অ্যাপ বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাপটোপিয়া জানিয়েছে, চালুর দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে উত্তর আমেরিকায় আইফোনে মিউজ ১৮ লাখ বার ডাউনলোড হয়েছে। তুলনায়, ওপেনএআইয়ের চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি ২০২৩ সালের মে মাসে অ্যাপ হিসেবে চালুর পর একই সময়ে ১৩ লাখ বার ডাউনলোড হয়েছিল।
বুধবার, মেটার বার্ষিক ‘কানেক্ট’ সম্মেলনে কোম্পানিটি জানায়, শিগগিরই মিউজ তাদের স্মার্ট চশমাতেও ব্যবহার করা যাবে। একই সঙ্গে ওয়ালমার্টের মতো খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে অংশীদারত্বের কথাও জানিয়েছে মেটা। এর ফলে মিউজের মাধ্যমে হওয়া কেনাকাটা থেকে কমিশন আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
তবে অনলাইন বাণিজ্য জায়ান্ট অ্যামাজন রোববার মিউজকে তাদের ওয়েবসাইট ব্যবহারে বাধা দেয়। অ্যামাজনের অভিযোগ, মেটার এআই এজেন্ট ওয়েবসাইট ব্রাউজ করার সময় নিজেকে এআই এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দেয়নি এবং গ্রাহকদের লগইন তথ্য সংরক্ষণ করেছে। মেটা অবশ্য বলেছে, মিউজ ব্যবহারকারীদের পাসওয়ার্ড বা পেমেন্টের তথ্য দেখতে পায় না।
বৃহস্পতিবার বিনিয়োগ ব্যাংক জেপিমরগ্যান মেটার শেয়ারের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৯২০ ডলার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, মিউজ ‘চ্যাটজিপিটির পর ভোক্তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এআই অ্যাপ্লিকেশন’ হয়ে উঠতে পারে।
তবে অন্য কয়েকজন বিশ্লেষক এখনো এ বিষয়ে সংশয়ী। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওপেনহাইমারের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক অন্য অ্যাপের পাসওয়ার্ড মেটার কাছে সংরক্ষণ করতে আস্থা রাখেন। অথচ এ ধরনের এআই সহকারী বা এজেন্টকে ব্যবহারকারীর হয়ে কাজ করতে এসব তথ্যের প্রয়োজন হতে পারে। একই জরিপে গুগলের ক্ষেত্রে এই আস্থার হার ছিল ৩০ শতাংশ।
মিউজের সম্ভাব্য প্রসারের ক্ষেত্রে মেটার বিশাল ব্যবহারকারীভিত্তি একটি বড় সুবিধা হতে পারে। কোম্পানিটির দাবি, তাদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রতিদিন ৩৬০ কোটির বেশি মানুষ সক্রিয় থাকেন।
২০২৩ সালে মেটা থ্রেডস চালু করে। ইলন মাস্ক টুইটার কেনার কয়েক মাস পর এক্সের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে থ্রেডস চালু করা হয়।
মাত্র পাঁচ দিনে থ্রেডসে ১০ কোটি সাইনআপ হলেও পরে এর প্রবৃদ্ধির গতি কমে যায়। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের হিসাবে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে থ্রেডসের দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ছিল প্রায় ১৪ কোটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) নির্বাচন দীর্ঘ ৩৬ বছর পর অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যাশা ছিল যে নির্বাচিত ছাত্রসংসদ শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও শিক্ষার্থীসেবামূলক কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় ১১ মাস পর প্রশ্ন উঠেছে, রাকসু কতটা সফল হয়েছে? নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলোর কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে? শিক্ষার্থীরা কি তাদের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট? দলীয় বা লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকার যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, বাস্তবে রাকসু কতটা তা ধরে রাখতে পেরেছে?
নির্বাচনের আগে বিভিন্ন প্যানেলের ইশতেহারে আবাসন সংকট নিরসন, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, প্রশাসনিক ডিজিটালাইজেশন, গবেষণা সহায়তা বৃদ্ধি, হলের খাবারের মানোন্নয়ন, সাংস্কৃতিক বিকাশ ও শিক্ষার্থী কল্যাণসহ নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ফলে দীর্ঘদিন পর নির্বাচিত ছাত্রসংসদকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশাও ছিল অনেক বেশি।
গত বছরের ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত রাকসু নির্বাচনে ২৩টি পদের মধ্যে ২০টিতে জয় পায় ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’। তাদের মূল নির্বাচনী ইশতেহার ছিল ‘১২ মাসে ২৪ সংস্কার, ৭টি হ্যাঁ ও ৭টি না’। অন্যদিকে, স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত বর্তমান সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের ইশতেহারে পূর্ণাঙ্গ আবাসিকতা, আধুনিক মেডিকেল সেন্টার, প্রশাসনিক ডিজিটালাইজেশন, হল ডাইনিংয়ের মানোন্নয়ন ও পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ছিল।
নির্বাচনের পর শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল, এসব প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাকসু একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক ছাত্রসংসদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
যেসব উদ্যোগ দৃশ্যমান
দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় ১১ মাসে রাকসুর বেশ কিছু উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের নজরে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে রাকসুর উদ্যোগে প্রশাসনের সহযোগিতায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র স্থাপন, বিভিন্ন হলের পাঠকক্ষে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র স্থাপন, বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার বসানো, ক্যাম্পাসে প্রথমবারের মতো ফার্মেসি চালু, নারী উদ্যোক্তা মেলা ও থিসিস প্রণোদনা।
এছাড়া বিদেশি শিক্ষকদের অংশগ্রহণে সেমিনার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, তথ্য যাচাই, অ্যাপ তৈরি, ওয়েবসাইট তৈরি ও গবেষণা পদ্ধতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। জুলাই ম্যারাথন, বিনামূল্যে আইইএলটিএস প্রস্তুতি, খেলাধুলার আয়োজন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভেন্যুর ফি কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
এসব উদ্যোগকে অনেক শিক্ষার্থী ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে তাঁদের অনেকে মনে করছেন, নির্বাচনে অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ছিল আবাসন সংকট নিরসন। সেই তুলনায় দৃশ্যমান অর্জন এখনো সীমিত।
যেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি
রাকসুর আলোচিত প্রতিশ্রুতিগুলোর অধিকাংশই এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি ছিল আবাসন সংকটের সমাধান অথবা অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভাতা চালু করা। এ ছাড়া বাসের ট্রিপ ও রুট ব্যবস্থাপনা, মেডিকেল সেন্টারের সংস্কার, অন-ক্যাম্পাস চাকরির সুযোগ এবং পূর্ণাঙ্গ টিএসসিসি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও ছিল।
নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা, নারী শিক্ষার্থীদের অধিকার সুরক্ষা, অপরাধ দমন, মেস নীতিমালা প্রণয়ন, গবেষণা অনুদান ও বৃত্তি বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া প্রশিক্ষক নিয়োগ, হলগুলোর ইন্টারনেট সমস্যার সমাধান এবং প্রশাসনিক ডিজিটালাইজেশনের মতো প্রতিশ্রুতিগুলোর বেশির ভাগই এখনো আংশিক বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য।
প্রত্যাশা ও হতাশা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
রাকসুর ১১ মাসের কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশের মতে, নির্বাচনের সময় যেভাবে উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তব অগ্রগতির সঙ্গে তার বড় ব্যবধান রয়েছে।
সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ আলবী বলেন, দীর্ঘদিন পর ছাত্রসংসদ নির্বাচন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা অনেক ছিল। কিন্তু ১১ মাস পেরিয়ে গেলেও পরিবহন, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা হলের খাবারের মানে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি। শিক্ষার্থী হিসেবে মনে হয়, ইশতেহারের অনেক প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়িত হয়নি। অন্তত হলের খাবারের মান ভালো হবে, এমন আশা ছিল। কিন্তু সে জায়গায়ও আমরা হতাশ। বাকি সময়ে রাকসু নেতারা তাদের ইশতেহারগুলো কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পারবেন, সেটাই এখন মুখ্য বিষয়।
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ফেরদৌস বলেন, রাকসু নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আবাসন সংকট নিরসন, নিরাপদ ক্যাম্পাস বিনির্মাণ, মানসম্মত খাবার নিশ্চিতকরণ এবং নারী শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, নির্বাচনের প্রায় ১১ মাস অতিক্রান্ত হলেও ছাত্রসংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ইশতেহার অনুযায়ী বেশ কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী জিহাদ হোসেন বলেন, রাকসুর কার্যক্রম দেখে মনে হয়েছে, তারা শিক্ষার্থীদের ইশতেহারের চেয়ে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নেই বেশি মনোযোগী। প্রায় ১১ মাস হয়ে গেলেও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
তবে আরেক অংশের শিক্ষার্থীর মতে, দীর্ঘদিন পর ছাত্রসংসদ পুনরায় কার্যক্রম শুরু করায় প্রশাসনিক জটিলতা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও নীতিগত অনুমোদনের কারণে সব প্রতিশ্রুতি অল্প সময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।
প্রশাসনিক ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারের অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য বড় অঙ্কের বাজেট, সিন্ডিকেটের অনুমোদন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। ফলে এসব প্রতিশ্রুতির অনেকগুলো এককভাবে রাকসুর পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।
তাদের মতে, দীর্ঘদিন ছাত্রসংসদ অকার্যকর থাকায় বাস্তবতার তুলনায় কিছু নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল বেশ উচ্চাভিলাষী। ফলে প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে একটি ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
বছরজুড়ে বিতর্ক
রাকসুর ১১ মাসের কার্যক্রমে বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনাও হয়েছে। বিতর্কিত মন্তব্য, হুমকি ও রাজনৈতিক অবস্থানসহ বিভিন্ন ঘটনায় আলোচনায় ছিলেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার।
আম্মার বলেন, আমি এখন শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি। আমার শিক্ষার্থীরা আমাকে কীভাবে দেখছে, সেটাই মূল বিষয়। তারা যদি আমার কোনো কর্মকাণ্ডকে ভুল হিসেবে দেখে, তাহলে আমি দুঃখিত। কে কী দেখছে, কোনো সুশীল সমাজ, এমপি-মন্ত্রী কিংবা রাজনৈতিক দল কীভাবে দেখছে—সেটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।
এছাড়া রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের নিউজ সংগ্রহ করে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সাংস্কৃতিক সম্পাদক জাহিদ হাসান জোহাকে শহীদজননী জাহানারা ইমাম সম্পর্কে অশোভন মন্তব্যের অভিযোগেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।
লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতি থেকে কতটা মুক্ত রাকসু
নির্বাচনের আগে বিভিন্ন প্যানেলই ক্যাম্পাসে লেজুড়ভিত্তিক ছাত্ররাজনীতির বাইরে গিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারও একই অঙ্গীকার করেছিলেন।
তবে গত ১১ মাসে বিভিন্ন ইস্যুতে রাকসুর অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। একাংশের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুতে ছাত্রসংসদের অবস্থান দলীয় প্রভাবমুক্ত বলে মনে হয়নি। প্রশাসনের কিছু সিদ্ধান্তেও তারা প্রত্যাশিত দৃঢ়তা দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনেক শিক্ষার্থীর মতে, ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে ভিপি, এজিএসসহ অধিকাংশ প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ায় তাদের কিছু কার্যক্রমে দলীয় অগ্রাধিকারের প্রতিফলন দেখা গেছে।
ওপরদিকে, রাকসু নেতাদের দাবি, তারা দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের স্বার্থেই কাজ করছেন। বিভিন্ন সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক বাস্তবতা ও সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় নিতে হয়েছে বলে জানান তারা।
যা বলছেন ছাত্রসংসদ নেতারা
রাকসু নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, হতাশা ও বাস্তবতা সম্পর্কে জানতে চাইলে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের কারণে অনেক কাজ নির্ধারিত সময়ে করা সম্ভব হচ্ছে না। আগের উপাচার্যের সময়ে অনেক বিষয় গুছিয়ে ফেলেছিলাম। কিন্তু নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর সেগুলো নিয়ে আবার নতুন করে কাজ শুরু করতে হয়েছে।
নিজের ইশতেহার বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলাম, সেগুলোই ইশতেহারে তুলে ধরেছি। আমি কোনো অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিইনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অঙ্গ ও দপ্তর যদি সমন্বিতভাবে কাজ করত, তাহলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো।
তিনি বলেন, আমার ইশতেহারের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতিই দীর্ঘমেয়াদি। আবাসন, মেডিকেল সেবার উন্নয়ন ও শিক্ষক মূল্যায়নের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আম্মার বলেন, আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও প্রতিবছর রাকসু নির্বাচন হওয়া উচিত। রাকসু থাকলে শিক্ষার্থীদের কোনো নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠন বা দলের ওপর নির্ভর করতে হবে না। যখন রাকসু থাকবে না, তখন শিক্ষার্থীরা বুঝবে রাকসু কেন দরকার ছিল।
রাকসুতে শিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের’ নির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, রাকসুকে শতভাগ সফল করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। আমরা আমাদের ইশতেহারের প্রায় ৭৩ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ করতে পেরেছি, আর বাকিটা করতে পারিনি।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বড় চাহিদাগুলোর মধ্যে অন্যতম অনাবাসিক ভাতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ২০ হাজারই অনাবাসিক। এ ছাড়া অনেক অসচ্ছল শিক্ষার্থী বিভাগীয় ফি, মেসের ভাড়া এমনকি খাবারের টাকাও জোগাড় করতে পারছেন না। আমরা অনাবাসিক ভাতার বিষয়ে কাজ করার কথা বলেছিলাম। তবে এটি বাস্তবায়নে প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিলে শিক্ষার্থীদের এই হতাশা অনেকটাই দূর করা সম্ভব হতো।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অসহযোগিতাকে দায়ী করে জাহিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের চরমভাবে অসহযোগিতা করেছে। প্রথমে যেমন অসহযোগিতা করেছে, এখন সেটা আরও বেড়ে গেছে। অনাবাসিক ভাতা, মেডিকেল সংস্কার ও ডাইনিংয়ে খাদ্য ভর্তুকির ব্যাপারে আমরা প্রশাসনকে বারবার বলেছি। কিন্তু প্রশাসন এসব ব্যাপারে বারবার “ইগনোর পলিসি” অবলম্বন করছে। বিশেষ করে অনাবাসিক ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের ভাতা দেওয়ার ব্যাপারে কোনো ভ্রুক্ষেপই করছে না। দুই মাস ধরে রাকসুর কোনো অধিবেশন হচ্ছে না। এটা প্রতিনিধিদের জন্য চরম ভোগান্তির।
লেজুড়ভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি থেকে রাকসু কতটা মুক্ত—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা রাকসুকে দলীয় লেজুড়বৃত্তি থেকে মুক্ত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আমরা ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে নির্বাচিত হলেও আমাদের কাজগুলো দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য ছিল। কোনো দল বা মতকে আমরা বলিনি যে তাদের কোনো সেবা দেওয়া হবে না।
রাকসুর ১১ মাসের পথচলায় যেমন কিছু দৃশ্যমান উদ্যোগ রয়েছে, তেমনি অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন ও হতাশা। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দাবির সমন্বয়েই ছাত্রসংসদের কার্যক্রমের মূল্যায়ন নিয়ে আলোচনা চলছে। মেয়াদের বাকি সময়ে বড় প্রতিশ্রুতিগুলোর কতটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, এখন সেদিকেই নজর শিক্ষার্থীদের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : তাইগ্রে বিদ্রোহীদের আবালা শহরে হামলা চালানোর প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করতে গিয়ে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের মধ্যে রাতভর তীব্র সংঘর্ষ ঘটে। শুক্রবার এএফপির একটি মানবিক সংস্থার সূত্র এই তথ্য প্রকাশ করে।
এএফপির ওই সূত্র জানায়, ‘রাতভর তীব্র লড়াই হয়েছে। সরকারি বাহিনী বিদ্রোহীদের শহরে প্রবেশ ঠেকিয়ে দিয়েছে।’
সূত্রটি আরও জানায়, শহরটি আফার ও তাইগ্রে অঞ্চলের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত। আবালা শহরকে রক্ষা করতে ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনী একটি ড্রোনও ব্যবহার করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ