শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:২৫ পি.এম
ভূমধ্যসাগরের তলদেশে একটি বাণিজ্যতরির ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা বিশ্বের প্রাচীনতম জাহাজ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলের আন্তালিয়া প্রদেশের কেকোভা দ্বীপের নিকটে এই ধ্বংসাবশেষের বয়স আনুমানিক ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৭০০ বছর। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এটি প্রাথমিক ব্রোঞ্জ যুগের নিদর্শন, যখন মিসরের বিখ্যাত গিজার মহাপিরামিড নির্মাণ করা হচ্ছিল। বিবিসি রিপোর্ট করেছে।
জাহাজটির কাঠের কাঠামো এত দীর্ঘ সময় পানির নিচে বিলীন হয়ে গেছে। তবে এর বহন করা মাটির পাত্র ও পাথরের নোঙর সমুদ্রতলে রয়ে গেছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, প্রায় ১০ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হতো।
কেকোভা দ্বীপের উপকূলের কাছাকাছি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০ মিটার গভীরে ঢালু সমুদ্রতলে জাহাজটির নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে। সেখানে তিনটি বড় পাথরের নোঙর এবং ৩০টির বেশি মাটির তৈরি পণ্য সংরক্ষণের পাত্র পাওয়া গেছে। এসব পাত্রকে প্রত্নতাত্ত্বিক পরিভাষায় ‘অ্যামফোরা’ বলা হয়।
নকশায় মিলেছে জাহাজের বয়স
জাহাজটির কাঠের অংশ অবশিষ্ট না থাকায় রেডিওকার্বন পদ্ধতিতে এর বয়স নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তাই প্রত্নতাত্ত্বিকেরা পাত্রগুলোর আকৃতি, নকশা ও অলংকরণ বিশ্লেষণ করে সময়কাল নির্ধারণ করেন।
তুরস্কের আকদেনিজ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হাকান ওনিজের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানের গবেষকেরা দেখতে পান, পাত্রগুলোর দুই পাশে হাতল, মাঝখানে উঁচু খাঁজ এবং সমতল তলদেশ রয়েছে। মিসর ও মধ্যপ্রাচ্যে পাওয়া একই ধরনের প্রাচীন পাত্রের সঙ্গে এগুলোর মিল রয়েছে। এসব তুলনামূলক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে গবেষকেরা জাহাজটিকে প্রাথমিক ব্রোঞ্জ যুগের বলে চিহ্নিত করেছেন।
ওনিজের ভাষ্য অনুযায়ী, পাত্রগুলোর অলংকরণ কৌশল বিশ্লেষণ করে জাহাজটির সময়কাল সম্পর্কে তারা অত্যন্ত নিশ্চিত হয়েছেন।
কোথায় যাচ্ছিল জাহাজটি?
প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, জাহাজটি ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূলের কোনো বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। বর্তমান সিরিয়া, লেবানন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের উপকূলীয় অঞ্চল এর সম্ভাব্য যাত্রাপথের মধ্যে পড়ে।
গবেষকেরা মনে করছেন, জাহাজটি বর্তমান তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত প্রাচীন ট্রয় নগরী কিংবা গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের মিনোয়ান সভ্যতার কোনো গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিল।
মিসরের গিজা, সাক্কারা ও আবুসিরের পাশাপাশি ট্রয় ও ক্রিটে একই ধরনের পাত্র পাওয়ার ঘটনা প্রাচীন ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক যোগাযোগের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দেয়। অর্থাৎ, প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগেও সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ও বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ চালু ছিল।
জাহাজের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার করা পাত্রগুলোর কিছুতে এখনো ঘন, চকচকে পদার্থের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককোয়ারি ইউনিভার্সিটির প্রত্নতাত্ত্বিক ড. কারিন সোভাডা পাত্রগুলো পরীক্ষা করে এ আবিষ্কারে বিস্ময় প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, পাত্রের ভেতরে অবশিষ্ট পদার্থের পরিমাণ দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন। এত দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকার পরও কিছু পাত্রে দৃশ্যমান অবশিষ্টাংশ টিকে থাকা উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
গবেষকেরা এখন পরীক্ষা করে দেখছেন, এসব পাত্রে কী বহন করা হয়েছিল। এগুলোতে জলপাই তেল, ওয়াইন কিংবা গাছের রজন রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে পাত্রগুলো একাধিকবার ব্যবহৃত হয়ে থাকলে ভেতরের অবশিষ্টাংশ আগের কোনো পণ্যেরও হতে পারে।
প্রায় পাঁচ হাজার বছর পর মানুষের স্পর্শ
কেকোভা দ্বীপের আশপাশের সমুদ্রপথ প্রাচীনকাল থেকেই বিপজ্জনক হিসেবে পরিচিত। প্রবল বাতাস ও স্রোতের কারণে এ অঞ্চলে বহু জাহাজ ডুবে গেছে। বর্তমানে এলাকাটিতে শত শত জাহাজের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন।
সমুদ্রের গভীরে কাজ করার সময় ডুবুরিদেরও সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হয়। পানির নিচে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উদ্ধার করতে সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালানো হচ্ছে।
অধ্যাপক ওনিজ বলেন, প্রায় পাঁচ হাজার বছর পর তাঁরা প্রথমবারের মতো এসব বস্তু স্পর্শ করছেন। তাঁর কাছে এ আবিষ্কার শুধু একটি জাহাজের ধ্বংসাবশেষ নয়; বরং সেই জাহাজের সঙ্গে যুক্ত নাবিক, পাত্র নির্মাতা, পণ্য বহনকারী শ্রমিক এবং তাঁদের অপেক্ষায় থাকা পরিবারের সদস্যদের জীবনকাহিনিও।
এই আবিষ্কারের ফলে বিশ্বের প্রাচীনতম জাহাজডুবির রেকর্ড নতুন করে নির্ধারিত হতে পারে। এর আগে গ্রিসের দোকোস দ্বীপের কাছে পাওয়া প্রায় ৪ হাজার ২০০ বছরের পুরোনো জাহাজের ধ্বংসাবশেষকে সবচেয়ে প্রাচীন বলে বিবেচনা করা হতো। অন্যদিকে, কাঠের অংশ সংরক্ষিত থাকা প্রাচীনতম জাহাজের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে কৃষ্ণসাগরে বুলগেরিয়ার উপকূলে, যার বয়স প্রায় ২ হাজার ৪০০ বছর।
কেকোভার এই আবিষ্কার প্রাচীন সামুদ্রিক বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন সম্পর্কে নতুন তথ্য জানার সুযোগ তৈরি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্নীতি প্রতিরোধের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য দেশের তরুণ সমাজকে একটি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
শুক্রবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে ফিউচার বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬’ (বিওয়াইএমইউএন) সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
ডেপুটি স্পিকার উল্লেখ করেন, ‘দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য নিজেদের দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত যোগ্যতা বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তরুণদের সোচ্চার হতে হবে।’
তিনি বলেন, কেবল জিপিএ-৫ অর্জনের সংকীর্ণ প্রতিযোগিতায় আটকে না থেকে সৃজনশীলতা, ইতিবাচক চিন্তা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করা উচিত। তরুণ প্রজন্মকে মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বিশ্বমানের বাংলাদেশ গড়ে তোলার নেতৃত্ব দিতে হবে।
দেশের ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রামে তরুণদের নেতৃত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, সামাজিক মর্যাদা, সমতা এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তরুণেরা বারবার রাজপথে নেমেছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের বড় অংশই ছিলেন তরুণ। সেই আত্মত্যাগ এবং আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার গুরুদায়িত্ব এখন তরুণদের কাঁধে।
উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার পর পড়ালেখা শেষে দেশে ফিরে এসে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, অর্জিত জ্ঞান এবং দক্ষতাকে দেশের অগ্রগতিতে কাজে লাগাতে হবে। গণতান্ত্রিক সহনশীলতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, মতভিন্নতা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। নিজের মত চাপিয়ে না দিয়ে অন্যের যুক্তি শোনার মানসিকতা তৈরি করাই যোগ্য নেতৃত্বের মূল লক্ষণ। তরুণদের সংসদীয় চর্চা এবং নীতি-নির্ধারণী বিতর্ক সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পেতে জাতীয় সংসদের অধিবেশন পর্যবেক্ষণেরও পরামর্শ দেন তিনি।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডোলান্ডসহ অন্যান্য বক্তা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, দুই দিনব্যাপী এই ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলনে দেশের ৬৪টি জেলার দুই শতাধিক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০০ তরুণ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডার্ক ওয়েবে বাংলাদেশের ১৮ লাখেরও বেশি ব্যবহারকারীর রেকর্ড এবং অন্তত ১৭ হাজার ৩৬২ সেট লগইন তথ্য পাওয়া গেছে।
সাইবারস্টেশনের এক রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা ব্রেইন স্টেশন–২৩ পিএলসির সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সাইবার রেজিলিয়েন্স ব্রিফিং ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সরকার, ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি ও শিক্ষা খাতের প্রায় ১৫০ জন প্রতিনিধি ছাড়াও নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাইবারস্টেশন ১৫টি খাতের মোট ৭৬৭টি ডোমেইন পর্যালোচনা করে এবং প্রায় সবকটির ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের প্রমাণ পেয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফাঁস হওয়া নাগরিক তথ্যের সবচেয়ে বড় অংশ সরকারি সেবা খাতের। অন্যদিকে, তথ্য ফাঁসের হার সবচেয়ে বেশি ছিল প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এসব পরিসংখ্যান ন্যূনতম হিসাব; প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
সাইবারস্টেশনের সাইবার নিরাপত্তা সেবাবিষয়ক প্রধান মোহিব্বুল মোক্তাদীর তানিম বলেন, ‘যে ঝুঁকি আমরা দেখতে পাই না, তা আমরা প্রতিকারও করতে পারি না। আমাদের লক্ষ্য, প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বুঝতে পারে কোন তথ্যগুলো ফাঁস হয়েছে এবং অপরাধীরা এসব তথ্যের অপব্যবহার করার আগেই যেন ব্যবস্থা নিতে পারে।’
ব্রেন স্টেশন ২৩-এর নির্বাহী পরিচালক এম জে ফেরদৌস বিদেশি সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার তাগিদ দেন।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক তানভীর হাসান জোহা সচেতনতা বাড়ানো এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক কৌশল তৈরির ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানের একটি প্যানেল আলোচনায় ডার্ক ওয়েবে তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার রোধে অনুষ্ঠানে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন আলোচকেরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাছনপুর গ্রামে বাউন বিলের পাশের একটি সরকারি জমি ব্যবহারের সুযোগ বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শতাধিক মানুষ অংশ নেন ।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বাউন বিলের পাশের খোলা মাঠটি হাছনপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের ব্যবহার্য স্থান। কৃষকেরা এ মাঠে ধান মাড়াই, ফসলের ধান শুকানোসহ বিভিন্ন কৃষিকাজ করে থাকেন। এ ছাড়া মাঠে গবাদিপশু চারণ এবং শিশুদের খেলাধুলারও সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জায়গাটি তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় বাসিন্দা ইসলাম উদ্দিনের অভিযোগ, জমিটি বন্দোবস্ত দেওয়ার পর মাঠে যাতায়াতের ছোট রাস্তা ব্যবহার নিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এতে স্থানীয়দের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ফয়সল আহমদ বলেন, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি বিভিন্ন কৃষিকাজে ব্যবহার করছেন। জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের ব্যবহারের সুযোগ বজায় রাখার দাবি জানান তিনি।
গ্রামের মোতাওয়াল্লি মোশাররফ আলী বলেন, এ জায়গাটি শুধু আমাদের গ্রামের মানুষের প্রয়োজন নয়, আশপাশের শাহপুর, আলমপুর ও মাইজবাড়ী গ্রামের মানুষেরও এটি প্রয়োজন। তাই বৃহত্তর জনস্বার্থে জায়গাটি ব্যবহারের সুযোগ থাকা জরুরি।”
অন্যদিকে, বন্দোবস্ত নেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দিয়ে রাকিব আলীর ভাতিজা মিজানুর রহমান জমিসংক্রান্ত কিছু কাগজপত্র দেখান। তাঁর দাবি, তাঁরা সরকারিভাবে জমিটি বন্দোবস্ত নিয়েছেন এবং কাউকে ব্যবহারে বাধা দেননি। মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে তিনি মিথ্যা বলে দাবি করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী জমিটির ব্যবহার নিয়ে সৃষ্ট বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাঁদের দাবি, স্থানীয় কৃষিকাজ, গবাদিপশুর চারণ, শিশুদের খেলাধুলা ও যাতায়াতের সুযোগ বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টির সমাধান করা হোক।
মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় বাসিন্দা শামসু মিয়া, আকবর আলি, আব্দুল জলিল, মোশাররফ আলী, জামির আলী, শামসুদ্দিন, আলী হোসেন, মসাদ্দর আলী, আম্বিয়া রহমান, আতাউর রহমান, সাজিদুর রহমান, একলাছ আলী, হাবিবুর রহমান, আব্দুল মালেক ও আকাশ মিয়াসহ শতাধিক লোকজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর গুলশান ও বনানী এলাকার অভিজাত ক্লাব এবং পাঁচতারকা হোটেলগুলোতে সম্প্রতি অভিযান জোরদার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। অবৈধ মাদক বিক্রি এবং অনুমোদনহীন কর্মকাণ্ড বন্ধে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে বলা হলেও, এর নেপথ্যে প্রভাবশালী একটি চক্রের চাঁদাবাজি ও চাঁদাদাবির চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
সর্বশেষ গত রাতে গুলশানের তথাকথিত 'জার্মান ক্লাব'-এ একটি অভিযান পরিচালনা করে ডিএনসি। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি 'সেভেন্টি এইট রেস্ট হাউজ সোসাইটি' নামে নিবন্ধিত হলেও মূলত কোনো বৈধ বার লাইসেন্স ছাড়াই অবৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। অভিযানে ডিএনসি বিপুল পরিমাণ মদের বোতল জব্দ করে এবং ক্লাবের ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করে। আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে এই পদক্ষেপ স্বাভাবিক মনে হলেও, এর পেছনের কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর বিতর্ক।
'সমস্যা সমাধানের' নামে মাসোহারা দাবি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বার ও ক্লাব মালিকের অভিযোগ, সম্প্রতি সরকারঘনিষ্ঠ লন্ডন ফেরত এক প্রভাবশালী ব্যক্তির ইশারায় এই সিরিজ অভিযানগুলো চালানো হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যক্তি বার মালিকদের ডেকে নিয়ে 'সমস্যা সমাধান' করার নামে মাসিক নির্দিষ্ট অংকের টাকা (মাসোহারা) দাবি করছেন। চাঁদা না দিলে ধারাবাহিকভাবে এমন অভিযান পরিচালনা করে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
একজন ভুক্তভোগী বার মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের বলা হয়েছে নির্দিষ্ট হারে মাসোহারা দিতে হবে, অন্যথায় অভিযান থামবে না। আইনি ব্যবস্থার আড়ালে মূলত এটি একটি নতুন ধরনের র্যাকেট।"
ক্ষমতার অপব্যবহার ও লুটপাটের নতুন প্রতিযোগিতা
শুধু ক্লাব কেন্দ্রিক চাঁদাবাজিই নয়, বর্তমান শাসনব্যবস্থার ভেতরে বদলি বাণিজ্য, জমি ও সম্পদ দখল এবং দ্রুত অর্থ উপার্জনের এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। ক্ষমতার পদে থাকা অনেকেই অনৈতিক উপায়ে অর্থ কমানোর মিশনে নেমেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির সবচেয়ে করুণ দিক হলো—যারা অতীতে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে রক্ত দিয়েছেন, জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করে মজলুম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন, তারাই আজ ক্ষমতার চেয়ারে বসে 'জালিম'-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।
দেশ পুনর্গঠন ও ভাগ্যোন্নয়নের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত ভাগ্য বদলের এই মানসিকতায় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। দেশবাসী আশা করেছিল পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি সুশাসিত সমাজ গঠিত হবে, কিন্তু বাস্তবে তা নতুন রূপের দখলদারিত্ব ও লুণ্ঠনে রূপ নিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ