মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৪৮ পি.এম
বাংলাদেশ গুগলের সঙ্গে অংশীদারি গড়ে তুলতে চায় শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল দক্ষতা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও সাইবার নিরাপত্তায়। এই লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় গুগলের সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছে।
মাউন্টেন ভিউয়ে গুগলের সদর দপ্তরে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল লস অ্যাঞ্জেলেসের উদ্যোগে এই বৈঠকটির আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। প্রতিনিধিদলে ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ; প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ; প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কর্মকর্তা-২ কামরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব-১ মো. জাহিদুল ইসলাম। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল কাজী মোহাম্মদ জাবেদ ইকবালও উপস্থিত ছিলেন।
গুগলের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন গুগল ফর এডুকেশনের স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড অপারেশনসের ভাইস প্রেসিডেন্ট দিব্যা জানি। বৈঠকে গুগলের নির্বাহী ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মারারিতুচ্চি, আবু সালেহ, গ্রেস কেলি ও মারিয়া তুবিও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিকায়নে প্রযুক্তি ও এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়। শিক্ষকদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং শিক্ষার ফলাফল উন্নত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ দক্ষতা উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারে বাংলাদেশ ও গুগলের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য এ ধরনের সহযোগিতার বাস্তব সুফল নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক শিক্ষার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাক্রম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল সংযোগ, উন্নত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা।
বৈঠকে সমন্বিত ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এর আওতায় লার্নিং ও স্কুল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন, ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্কুল পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয় রয়েছে।
এ ছাড়া এআইনির্ভর শিক্ষক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল নিরাপত্তা, শিক্ষক সনদ এবং শ্রেণিকক্ষে এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়। গুগলের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন দেশে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, এআইনির্ভর শিক্ষা এবং শিক্ষার ফলাফল পরিমাপের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
আলোচনায় গুগল ওয়ার্কস্পেস ফর এডুকেশন, গুগল ক্লাসরুম, জেমিনি ফর এডুকেশন এবং প্রশিক্ষণ ও সনদের মাধ্যমে শিক্ষকদের সক্ষমতা বাড়ানোর বিভিন্ন পদ্ধতিও উঠে আসে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এআই, ভার্চুয়াল লার্নিং, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটা সায়েন্সে সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরেন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পেশাজীবী ও তরুণদের জন্য কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর শিক্ষা, প্রযুক্তি ও দক্ষতার সঙ্গে কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের সংযোগের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বাংলাদেশকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম জনশক্তির উৎস হিসেবে গড়ে তোলা এবং দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্থানীয় এআই ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ইউটিউব কনটেন্ট নির্মাতা বা ক্রিয়েটর ইকোসিস্টেম নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, উদ্যোক্তা কার্যক্রম ও সৃজনশীল কনটেন্টকে বৈশ্বিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে ক্রিয়েটরদের দক্ষতা, দায়িত্বশীল কনটেন্ট, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও টেকসই আয় নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে শিক্ষা, এআই, ডিজিটাল দক্ষতা, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল কনটেন্ট নিয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিক উদ্যোগ চিহ্নিত করতে গুগল ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মধ্যে ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল গুগলের সঙ্গে পরবর্তী যোগাযোগ এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করবে। আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলোকে বাস্তব প্রস্তাব ও বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে এ সমন্বয় করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এবং এর গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মতামত ও প্রস্তাব এসেছে। এ বিষয়ে আরও উন্মুক্ত আলোচনা প্রয়োজন। সংসদ যে প্রক্রিয়া জনগণের জন্য উপযুক্ত মনে করবে, সেটিই গ্রহণ করা হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিভাবে এবং কাদের নিয়ে গঠন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব তথ্য জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বৈঠকে ইলেকট্রনিক মিডিয়া, টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন পোর্টাল, বার্তা সংস্থা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হয়েছে। আজকের আলোচনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিকেন্দ্রীকরণ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির মতো বিভিন্ন বিষয়ে মতামত উঠে এসেছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে কিছু প্রস্তাব ও ভিন্নমত বিদ্যমান। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের জন্য কোন কোন ধাপ অনুসরণ করা হবে, তার একাধিক বিকল্প প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগকে অংশগ্রহণমূলক করতে কমিটি সকল রাজনৈতিক দলকে আলোচনায় আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। বিরোধী দলের কোনো বক্তব্য বা প্রস্তাব থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনা করা হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়ে বৈঠকে মতামত এসেছে। তিনি বলেন, কেউ কেউ মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকার সময়সীমা নির্ধারণ করা গণতান্ত্রিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। জনগণ যদি কোনো নেতাকে পুনরায় দায়িত্বে দেখতে চায়, তাহলে সেই সুযোগ থাকা উচিত-এমন মতামতও এসেছে। তবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ যেন তৈরি না হয়, সে বিবেচনায় ১০ বছরের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি ১০ বছরের সীমা নির্ধারণের যে প্রস্তাব জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় দিয়েছিল, সে অবস্থান থেকে তারা এখনো সরে আসেনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে প্রণীত ও স্বাক্ষরিত হয়েছে, কমিটি সেটি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সনদের কোনো বিষয়ে ভিন্ন প্রস্তাব থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তা বিবেচনা করা যেতে পারে।
দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একক রাষ্ট্র হওয়ায় দেশের জন্য দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রয়োজন আছে কি না, সে বিষয়ে বৈঠকে প্রশ্ন উঠেছে। তবে জুলাই জাতীয় সনদে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হওয়ায় কমিটি সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এগোতে চায়। সংসদে এ বিষয়ে কোনো নতুন প্রস্তাব এলে তা বিবেচনার সুযোগ থাকবে।
কমিটির সভাপতি বলেন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার পর সংবিধান বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হবে। পরে সেই প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে এবং এর ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের বিল সংসদে আসবে। সংসদে বিল নিয়ে আলোচনা ছাড়াও সংসদের বাইরেও মতামত নেওয়ার সুযোগ থাকবে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাবেক সদস্য ও জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের সঙ্গেও কমিটি আলোচনা করবে। এ বিষয়ে আগেই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের ভিত্তি ছিল ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন। এসব কমিশনের সঙ্গে প্রায় সব রাজনৈতিক দলের আলোচনা হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোর ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কাজ করেছে। অন্যান্য সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন বর্তমানে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার বাধ্যতামূলক অংশ নয়। তবে সরকার প্রয়োজন মনে করলে ভবিষ্যতে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে নতুন সংস্কার কমিশন গঠন করে সুপারিশ নিতে পারে। যেমন, গণমাধ্যম সংস্কার নিয়ে আলাদা কমিশন গঠন করা হলে তার বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশও পরবর্তীতে বিবেচনা করা সম্ভব।
তিনি আরও যোগ করেন, সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি পর্যায়ক্রমে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, বিচারক ও সাবেক বিচারক, শিক্ষাবিদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামাজিক শক্তি, সংগঠন ও ব্যক্তিত্ব এবং গত ১৭ বছরে বিভিন্নভাবে নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার ও জীবিত ব্যক্তিদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবে। জুলাইয়ের শহীদদের পরিবারের সঙ্গেও মতবিনিময় করা হবে।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, কমিটির সদস্য ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, কমিটির সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, কমিটির সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং কমিটির সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মন্তব্য করেছেন যে, দেশে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে গুপ্ত ও নিষিদ্ধরা নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে উপজেলা চত্বরে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মীর শাহে আলম বলেন, "বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে একটি বিষয় তাদের মনে রাখতে হবে—এ দেশের জনগণ শেখ হাসিনাকে আর মেনে নেবে না।"
বিএনপির রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, "বিএনপি রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেই আজ রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলন ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। তাই বিএনপিকে পতনের হুমকি দিয়ে কোনো লাভ হবে না। ষড়যন্ত্র কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না।"
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে কাজ করছে সরকার। এ অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে কোনো ধরনের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য কিংবা ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না।"
তিনি উল্লেখ করেন, "সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে নিজেরাই হামলা করে বিএনপির ওপর দায় চাপানো হয়েছে। অথচ এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন জামায়াতের একজন সংসদ সদস্যের জামাই। এসব ঘটনা থেকে ষড়যন্ত্রের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।"
এর আগে শিবগঞ্জ উপজেলা চত্বর থেকে আয়োজিত মশাল মিছিলে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের প্রস্তুতির জন্য উভয় দলই নিজেদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সাজাতে ব্যস্ত রয়েছে। ভারত ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের দল গঠন প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যেখানে ক্যারিবীয়রা তাদের বোলিং আক্রমণকে আরো শক্তিশালী করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।
ক্রিইকইনফোর রিপোর্ট অনুযায়ী, তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে তিরুঅনন্তপুরমের মাঠে ভারতকে শুরুতে বেশ চাপে ফেলেছিল ক্যারিবীয় ব্যাটাররা। জাস্টিন গ্রিভসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং জন ক্যাম্পবেলের হাফ-সেঞ্চুরির সুবাদে তারা প্রথম উইকেট জুটিতে ১৩৫ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়।
কিন্তু কুলদীপ যাদবের অসাধারণ স্পিন বোলিং (৪/৪০) এবং পরে বিরাট কোহলি (১৩৯*) ও শুবমান গিলের (১১০) জোড়া শতকের উপর ভর করে ভারত সহজেই ৮ উইকেটের বিশাল জয় অর্জন করে।
সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ভারত তাদের বিশ্বকাপ রোডম্যাপের অংশ হিসেবে অলরাউন্ডারদের বেশি সুযোগ দিচ্ছে। অন্যদিকে, ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার জন্য আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিতব্য গ্লোবাল কোয়ালিফায়ারে নজর রাখছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এ কারণে ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনের বিপক্ষে উইকেট শিকারের দক্ষতা বাড়াতে গতি তারকা শামার জোসেফ এবং লেগ-স্পিনার ভাইটেল লাওসকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে তারা।
গুয়াহাটির আসাম ক্রিকেট সংস্থা স্টেডিয়ামে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত দেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, "পর্যটন খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।"
তিনি মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার বারিধারায় ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বাসভবনে অনুষ্ঠিত ‘এ ককটেল রিসেপশন টু হাইলাইট ইউকে ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ ট্যুরিজম সেক্টর’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, "বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা শুধুমাত্র সুন্দরবন, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম বা সিলেটের মতো পরিচিত গন্তব্যে সীমাবদ্ধ নয়।" দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বৈচিত্র্য বিদ্যমান। এসব সম্ভাবনাকে একটি পরিকল্পিত, টেকসই ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, সরকার পর্যটন খাতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ এবং বিনিয়োগের পরিবেশ সহজ করতে কাজ করছে। অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির অংশ হিসেবে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগও বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, "পর্যটন খাতের উন্নয়নের সঙ্গে বিমান চলাচল খাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।" বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য বোয়িং ও এয়ারবাসের সমন্বয়ে একটি টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ বহর গঠনের লক্ষ্যে কাজ চলছে।
এয়ার কার্গো খাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিধিনিষেধ প্রত্যাহারেও যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, "২০১৭ সালের জুন থেকে ইইউ বাংলাদেশ থেকে পাঠানো কার্গো ও ডাককে ‘হাই রিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।" ইইউর উদ্বেগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
মন্ত্রী আরও জানান, গত ১৭ জুলাই যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগের মূল্যায়নে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৮ শতাংশ এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৪ শতাংশ স্কোর অর্জন করেছে। তিনি ব্রিটিশ হাইকমিশনের সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন যাতে এই বিধিনিষেধ দ্রুত প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়।
বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, "যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে এসে পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।" সরকার বিনিয়োগের জন্য অনুকূল ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ