ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দুই টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে, ১৯ আগস্ট স্বাভাবিক হওয়ার আশা


দুই টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে, ১৯ আগস্ট স্বাভাবিক হওয়ার আশা

জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বেড়ে গেছে। দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটের পর মহেশখালীর সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল দুটি একযোগে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

শুক্রবার ভোর ৪টায় সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ আবার স্বাভাবিক হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সামিট এলএনজি টার্মিনালের দিকে যাত্রা করা একটি এলএনজি বহনকারী জাহাজ বৈরী আবহাওয়া এবং অধিক বেগে বাতাসের কারণে ১০ আগস্ট সিঙ্গাপুর বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এর ফলে টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রতিদিন ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গিয়েছিল।

কিন্তু ১৪ আগস্ট নতুন একটি এলএনজি বহনকারী জাহাজ টার্মিনালে পৌঁছানোর পর, সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ হয়ে আজ ভোর থেকে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম

বর্তমানে সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পর্যায়ে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হবে। অন্যদিকে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ থাকা এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত এলএনজি টার্মিনালটির ত্রুটি কিছুটা মেরামতের পর বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ প্রতিবেদন অনুযায়ী গড়ে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট হচ্ছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে এ টার্মিনালের মেরামতকাজ সম্পন্ন হলে, সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে দৈনিক প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হবে।

স্বাভাবিক অবস্থায়, সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনাল থেকে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। অর্থাৎ দুই টার্মিনাল সম্মিলিতভাবে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে। বর্তমানে, দুই টার্মিনাল মিলে দৈনিক প্রায় ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, এর মধ্যে সামিট গ্যাস সরবরাহ করছে ৪৬০ এবং এক্সিলারেট সরবরাহ করছে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে দুই টার্মিনাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হবে।

আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন সময়সীমা ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল ইসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গোলাগুলি, আহত ৩ পুলিশ সদস্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪৯ পি.এম


নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গোলাগুলি, আহত ৩ পুলিশ সদস্য

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য এবং এক অস্ত্রধারী আহত হয়েছেন।

পুলিশ জানায়, বিদেশি একটি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে ফতুল্লা থানার তোলারাম কলেজ এলাকার আরবান স্কুলের সামনে এই ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন এসআই (নিরস্ত্র) মো. রফিক, এসআই (নিরস্ত্র) নন্দন চন্দ্র সরকার এবং কনস্টেবল রাশিদুল। অন্যদিকে, পুলিশের গুলিতে আহত অস্ত্রধারীর নাম জসিম (২৪)।

জসিম ইসদাইর এলাকার রেজ্জাকের ছেলে এবং আটক অপর ব্যক্তি মোহন (২৩), যিনি একই এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে।

পুলিশ জানায়, নিয়মিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ফতুল্লার ইসদাইর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল।

এই সময়, জসিম, মোহনসহ ৭-৮ জন ব্যবসায়ী পুলিশের আভিযানিক দলকে লক্ষ্য করে একটি পিস্তল থেকে গুলি ছুড়ে। তবে কোনো গুলি পুলিশ সদস্যদের গায়ে লাগেনি। পুলিশের এসআই মো. রফিক ও এসআই নন্দন চন্দ্র সরকার আত্মরক্ষার্থে আট রাউন্ড গুলি ছোড়েন এবং একটি গুলি জসিমের উরুতে লাগে। গোলাগুলির কারণে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।

ঘটনার পর অভিযানে বিদেশি একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং দুই অস্ত্রধারীকে আটক করা হয়। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ফতুল্লা থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের সময় অস্ত্রধারীরা পুলিশের ওপর গুলি চালায়। তবে গুলি পুলিশের গায়ে লাগেনি। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়লে একজন মাদক কারবারি গুলিবদ্ধ হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার এবং দুজনকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটকের লক্ষ্যে অভিযান চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুদ্ধের পর ইরানের সামরিক শক্তির পুনর্গঠনের গতি দেখে হতবাক ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫০ পি.এম


যুদ্ধের পর ইরানের সামরিক শক্তির পুনর্গঠনের গতি দেখে হতবাক ইসরায়েল

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি অবধি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল একত্রে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। ইরানও তাড়াতাড়ি অভ্যন্তরীণ স্তরে পাল্টা প্রতিরোধ জোরদার করতে থাকে। ফলস্বরূপ, গোটা মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ওঠে অগ্নিগর্ভ।

যুদ্ধের সময় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার গুরুতর দাবি করেছেন। তবে যুদ্ধের প্রথম কয়েক সপ্তাহের পর ইরানের সামরিক সক্ষমতা যে গতিতে পুনর্গঠিত হয়েছে, তাতে হতবাক হয়ে পড়েছেন ইসরায়েলের সামরিক এবং গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। বিশেষ করে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার দ্রুত পুনর্গঠন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা এবং গোয়েন্দা মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের উল্লেখ করা এক প্রতিবেদনে দেয়া তথ্যমতে, যুদ্ধের মূল পর্ব শেষ হওয়ার পর ইরান যেভাবে তার সামরিক বাহিনী এবং আক্রমণাত্মক সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে সক্ষম হয়েছে, তা ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ)-এর প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি দ্রুত গতিতে পুনর্গঠিত হওয়ার কারণে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা অবাক হয়েছেন।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুনের শুরুতে ইসরায়েল লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর মাধ্যমে তাদের আক্রমণাত্মক কার্যক্রমকে তীব্র করে। জুলাইয়ের শুরুতে এ অভিযান আরও বৃদ্ধি পায় এবং ইরান অঞ্চলটির কয়েকটি আরব দেশে নতুন করে হামলা চালায় বলেও অভিযোগ ওঠে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের উপর হস্তক্ষেপের অভিযোগও তেহরানের বিরুদ্ধে আনা হয়। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত, যেখানে ইরানের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রভাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমটির দাবি, ইরান কীভাবে এত দ্রুত তার আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে, তা নিয়ে দেশটির শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরান তাদের অস্ত্র উৎপাদন এবং সামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য এমন কিছু কৌশল বের করেছে, যা আগে ইসরায়েলি মূল্যায়নে পুরোপুরি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও বিশ্লেষণ করা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর সময় দেশটির হাতে আনুমানিক ১ হাজার ৩০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর সময় সেটি বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০-তে পৌঁছেছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমটি আরও দাবি করেছে, কিছু জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, নতুন অস্ত্র উৎপাদনের গতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে, এবং এ বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

শুধু ইসরায়েল নয়, এমন উদ্বেগ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মহলে। গত মে মাসে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেয়া বক্তব্যে চার জন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছিলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের গতি পূর্বাভাসকৃত সময়সীমাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।

এক মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সময়ে গোয়েন্দা মূল্যায়নে ধারণা করা হয়েছিল যে, ইরান প্রায় ছয় মাসের মধ্যে, অর্থাৎ নভেম্বরের মধ্যে—তার ড্রোন হামলার সক্ষমতা পুরোপুরি পুনর্গঠন করতে সক্ষম হবে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে তা দ্রুত হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে চীনের সহায়তা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে বলেও দাবি করেছেন দুইটি সূত্র। চীনের দ্বারা ব্যবহৃত বিভিন্ন উপাদান ইরানে সরবরাহ করা হচ্ছে, এমন খবর পাওয়া গেছে। তবে ইরানের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং চাপ সেই সরবরাহে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এখন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠনের সাথে সঙ্গে যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঢালাও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য, দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের বিপরীতে অত্যন্ত কমে আসার বিষয়টি প্রকাশ করছে।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের সূত্র দাবি করেছে যে, চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে প্রায় সব এটিএসএমএস এবং প্রেসিশন স্ট্রাইক মিসাইল ব্যবহার করেছে। এর ফলে, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে তুলনামূলক ঝুঁকি পূর্ণ পদ্ধতির ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের রیزার পরিমাণ হ্রাস পেলে লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য পাইলট পরিচালিত যুদ্ধবিমান এবং অন্যান্য বিমান হামলা বৃদ্ধি করার প্রয়োজন হতে পারে।

এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। তিনি যদি ইরানের বিরুদ্ধে আবারও বড় আকারের হামলা শুরুর সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে পূর্বের তুলানায় সীমিত ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের বিষয়টি মার্কিন সামরিক পরিকল্পনায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

ইরানের সামরিক সক্ষমতা কতটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, এই বিষয়ে উদ্বেগের মাঝেও আইডিএফ দাবি করেছে, যুদ্ধের সময় তেহরানের সামরিক সক্ষমতার বিস্তৃত পরিসরে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করা হয়েছিল।

জেরুজালেম পোস্টের প্রশ্নের জবাবে আইডিএফ জানিয়েছে যে, যুদ্ধের সময় ইরানের নানা সামরিক সক্ষমতার ওপর ‘ব্যাপক ক্ষতি’ সাধন হয়েছে। ফলে, যুদ্ধের আগে যে পরিমাণ এবং যে গতিতে এসব সক্ষমতা পুনর্গঠন করা সম্ভব ছিল, তা তখন আর সে মাত্রায় করা সম্ভব নয় বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

আইডিএফ আরও জানিয়েছে, তারা ইরান কীভাবে তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছে, তা ‘ঘনিষ্ঠভাবে এবং ধারাবাহিকভাবে’ পর্যবেক্ষণ করছে। এবং সেই অনুযায়ী, তাদের পরিস্থিতি মূল্যায়ন নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করা হচ্ছে।

তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরানের পুনর্গঠনের সুনির্দিষ্ট গতি কিংবা সক্ষমতার মাত্রার বিষয়ে প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছে। কারণ, এ ধরনের স্পষ্ট তথ্য প্রকাশিত হলে আইডিএফের গোয়েন্দা উৎস ও পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস হয়ে যেতে পারে।

আইডিএফের ভাষ্য, তাদের কাছে থাকা নতুন তথ্য ও বর্তমান পরিস্থিতির ভিত্তিতে সদা-সর্বদা তাদের মূল্যায়ন পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছে।

তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত পুনর্গঠিত হওয়ার খবর যুদ্ধ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে, ইরান যদি দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও সামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠন করতে সক্ষম হয়, তবে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতের নতুন সামরিক অভিযান আগের তুলনায় আরও বড় ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মাঝে পড়তে পারে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইজিজেটের কেবিন ক্রুদের ধর্মঘটে ফ্রান্সে প্রায় ১০০ ফ্লাইট বাতিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫০ পি.এম


ইজিজেটের কেবিন ক্রুদের ধর্মঘটে ফ্রান্সে প্রায় ১০০ ফ্লাইট বাতিল

কেবিন ক্রুদের ধর্মঘটের কারণে ফ্রান্সে ব্রিটিশ এয়ারলাইন ইজিজেট প্রায় ১০০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে।

কর্মীদের ডিউটি ও সময়সূচিতে বারবার পরিবর্তনের প্রতিবাদে এই ধর্মঘট চলছে।

শনিবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইউনিয়নগুলোর দাবি, ফ্রান্সে ইজিজেটের প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ কেবিন ক্রুর মধ্যে অর্ধেকের মতো এই ধর্মঘটে অংশ নিচ্ছেন। এর ফলে প্যারিসের দু’টি বিমানবন্দর, নিস, বোর্দো ও লিয়ন থেকে পরিচালিত প্রায় অর্ধেক ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ইজিজেট ধর্মঘটকে ‘সুযোগসন্ধানী’ আখ্যা দিয়েছে, কারণ ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ছুটির সপ্তাহান্তে সাধারণত বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের ভীড় থাকে।

ফ্রান্স ইজিজেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার। সম্প্রতি মার্কিন প্রাইভেট-ইকুইটি প্রতিষ্ঠান অ্যাপোলো ৭৭০ কোটি ডলারের চুক্তিতে ইজিজেটের মালিকানা নিয়েছে। ফ্রান্সে যাত্রীসংখ্যার দিক থেকে ইজিজেটের অবস্থান এয়ার ফ্রান্সের পরেই।

ইজিজেট জানায়, যাত্রীদের বিকল্প পথে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ করে দিতে বেশিরভাগ ফ্লাইট শুক্রবারই বাতিল করা হয়েছে।

কেবিন ক্রুদের ইউনিয়ন এসএনপিএনসি-এফও-এর নেতা উইলিয়াম বুর্দোঁ বলেন, কর্মীরা তাঁদের ডিউটিতে ‘স্থিতিশীলতা’ চান। তাঁর দাবি, কোনো কোনো কর্মীর কাজের সময় ও গন্তব্য সপ্তাহে ৫০ থেকে ৬০ বার পর্যন্ত পরিবর্তন করা হয়।

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘ব্যক্তিগত জীবন বা সন্তানদের দেখাশোনার মতো বিষয়গুলো পরিকল্পনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ বেশিরভাগ পরিবর্তনই শেষ মুহূর্তে ফ্লাইটের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগে জানানো হয়।’

আলোচনায় থাকা তিনটি ইউনিয়ন ৭ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে।

বুর্দোঁ জানান, কোনো বিমানবন্দরে ইজিজেটের কর্মী সংকট দেখা দিলে অন্য ঘাঁটি থেকে কর্মী এনে ঘাটতি পূরণ করা হয়। এতে আবার ওই ঘাঁটিতেও কর্মী সংকট তৈরি হয়।

এপ্রিলে হওয়া আগের ধর্মঘটে তুলনামূলকভাবে সীমিত প্রভাব পড়েছিল। ইউনিয়নগুলোর অভিযোগ ছিল, ওই ধর্মঘটের দিন কাজে যোগ দিতে কর্মীদের ৭০০ ইউরো (প্রায় ৮১০ ডলার) পর্যন্ত বোনাস দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল ইজিজেট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটের কৃষির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৫২ পি.এম


সিলেটের কৃষির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সিলেট অঞ্চলের কৃষির অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পতিত ও এক ফসলি জমিকে আবাদে আনা, জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং নতুন ও অপ্রচলিত কৃষিপণ্যের চাষ বাড়াতে হবে।

এটি কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে উৎপাদনশীলতা ও কৃষকের আয় বাড়ানোই আগামী দিনের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত।

শনিবার সিলেট নগরীর হোটেল মেট্রোর কনফারেন্স রুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর আয়োজিত ‘আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে জেলা পর্যায়ে বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বিগত বছরের বাস্তবায়ন মূল্যায়ন বিষয়ক জেলা কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সিলেট অঞ্চলে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পতিত ও এক ফসলি জমি রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে হাওর ও নিম্নাঞ্চলে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে পানি জমে থাকে।

এসব এলাকার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে অনেক জমি আবাদে আনা সম্ভব হবে। একইভাবে সেচের অভাবে যেসব জমি বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে অনাবাদি থাকে, সেখানে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এক ফসলি জমিকে দুই ফসলি এবং দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করা সম্ভব।

জলাবদ্ধতার পানি নিষ্কাশন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে খাল খনন একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে।

তিনি সিলেটে তরমুজ চাষের সাফল্যকে নতুন ও অপ্রচলিত কৃষিপণ্যের সম্ভাবনার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আগাম তরমুজ উৎপাদনের মাধ্যমে সিলেটের কৃষকরা দেশের বাজারে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটের মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলসহ শীতপ্রবণ এলাকায় বিট চাষের সম্ভাবনা যাচাই করা যেতে পারে।

স্বল্প সময়ে বিট উৎপাদন করা সম্ভব হওয়ায় একই জমিতে এর পাশাপাশি অন্য ফসলও চাষের সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের কৃষিপণ্যের সম্ভাবনা যাচাইয়ে পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সিলেট বিভাগের কৃষি ও প্রাণিসম্পদে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, এলাকাভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, কৃষি উপকরণ সরবরাহ ও সরকারি সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আগামী সপ্তাহে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক ও কৃষি সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সিলেটে বিশেষ কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের গ্রামীণ জনপদে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ কৃষিনির্ভর।

সুতরাং, প্রতিটি কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে সর্বোচ্চ উৎপাদন ও রিটার্ন নিশ্চিত করতে হবে।

উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারলে দেশের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব এবং বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে খাদ্য, বিশেষ করে চালের ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী উৎপাদনকারী ও রফতানিকারক দেশে পরিণত করার সুযোগ রয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, নতুন ফসলে ঝুঁকি নিয়ে চাষাবাদ করা কৃষকরাই কৃষির নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছেন।

তরমুজ, পিঁয়াজসহ নতুন ফসল চাষে যারা ঝুঁকি নিয়েছেন, তারা সাহসী কৃষক এবং তাদের দেখানো পথে সিলেটের কৃষিকে এগিয়ে নিতে হবে।

কৃষকদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সিলেটের কৃষির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোশাররফ হোসেন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, প্রকল্প পরিচালক রাকিব উদ্দিনসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা, কৃষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%