ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভবদহে পানিবন্দী ২০০ গ্রাম, স্থায়ী সমাধানের দাবিতে পদযাত্রা


ভবদহে পানিবন্দী ২০০ গ্রাম, স্থায়ী সমাধানের দাবিতে পদযাত্রা

যশোরের ভবদহ অঞ্চলে আবারও ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সম্মুখীন হয়েছে, যা অব্যাহত বৃষ্টির কারণে ঘটেছে। অন্তত ২০০ গ্রাম পানির নিচে রয়েছে, যার মধ্যে অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা অন্তর্ভুক্ত। লক্ষাধিক মানুষ তিন মাস ধরে পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু সড়ক ও বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। ফসলি জমি, বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগের মাত্রা বেড়ে গেছে।

এ দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে আজ ৫ অক্টোবর ‘ভবদহ দিবস’ উপলক্ষে পদযাত্রা ও সমাবেশ আয়োজন করেছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। বিকেল ৩টায় অভয়নগর উপজেলা চত্বর থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে আমডাঙ্গা খাল পর্যন্ত চলে। পদযাত্রায় এলাকার পাঁচ শতাধিক নারী পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

পদযাত্রা শেষে আলমডাঙ্গা খালের পাশে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক গাজী আবদুল হামিদ। বক্তব্য রাখেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পাল, উপদেষ্টা তসলিমুর রহমান, সংগঠনের সদস্য শিবপদ মন্ডল প্রমুখ।

আরও পড়ুন: সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সমাবেশে ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, "ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে আগামী মাঘী পূর্ণিমার আগেই কার্যকর ‘টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট’ (টিআরএম) বা জোয়ারাধার চালু করতে হবে।" তিনি আমডাঙ্গা খাল দ্রুত পুনঃখনন ও প্রশস্ত করার দাবি জানান।

এছাড়া মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদীতে পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। নদী সংস্কারে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও টিআরএম চালু না হলে সেই উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী সুফল দেবে না বলে তিনি জানান।

সমাবেশে সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব চৈতন্য কুমার পাল বলেন, "সম্প্রতি পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভবদহ পরিদর্শনের আহ্বান জানানো হলেও এক মাসেও দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি।" নেতৃবৃন্দরা নদী-খাল থেকে কচুরিপানা, নেট-পাটা ও কৃত্রিম বাঁধ অপসারণ, ভবদহের ২১-ভেন্ট স্লুইচগেটের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং টেকা নদীর অবশিষ্ট অংশ দ্রুত খননসহ বিভিন্ন জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানান।

আরও পড়ুন: দেশ গড়তে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৬ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৭ পি.এম


সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৬ জন

সিলেট নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের মাদকদ্রব্যও জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) পক্ষ থেকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

এসএমপি সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১২টা থেকে রবিবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। গ্রেপ্তার ৪৬ জনের মধ্যে রয়েছে নিয়মিত মামলার আসামি, পরোয়ানাভুক্ত আসামি, মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িতরা। এছাড়া ম্যাজিস্ট্রেটের দেওয়া সাজা অনুযায়ী এবং মেট্রোপলিটন অধ্যাদেশের আওতায়ও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালে ৯০টি নেশাজাতীয় টাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ৫ কেজি ৫০ গ্রাম গাঁজা এবং ৩৮টি ইয়াবা বড়ি জব্দ করা হয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল ইসলাম তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মহানগরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ উদ্যোগের ঘোষণা বাণিজ্যমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৮ পি.এম


নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ উদ্যোগের ঘোষণা বাণিজ্যমন্ত্রীর

নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করছে সরকার, এমনটি জানিয়েছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর পাশাপাশি নারীদের ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধি এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকালে শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিডব্লিউসিসিআই) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট সঙ্গীতা আহমেদ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা চালু হলে নারী ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা ট্রেড লাইসেন্স, আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) এবং রপ্তানি নিবন্ধন সনদ (ইআরসি) এর মতো প্রয়োজনীয় নথি অনলাইনে সংগ্রহ করতে পারবেন।

এসএমই খাতে অর্থায়ন সংক্রান্ত বিষয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, এ খাতের জন্য ঋণের পরিসর ৩০০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এই অর্থ ৬ শতাংশ সুদে বিতরণ করা হবে। নারী উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য এসএমই বোর্ড পুনর্গঠন এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন তিনি।

বৈঠকে নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে তথ্যের অভাব, আনুষ্ঠানিক নিবন্ধনের জটিলতা এবং জেলা পর্যায়ে সমন্বয়ের সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিডব্লিউসিসিআই প্রতিনিধিরা আলোচনা করেন। এই বাধাগুলো দূর করতে তারা পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজ তৈরি, কেন্দ্রীয় কমপ্লায়েন্স ডেস্ক স্থাপন এবং নিয়মিত কেন্দ্র-জেলা সমন্বয় সভার প্রস্তাব দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতক্ষীরায় জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৯ পি.এম


সাতক্ষীরায় জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধূলিহর ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা গ্রামে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ওয়াপদার বেড়িবাঁধ কেটে পিভিসি পাইপ স্থাপন এবং একটি মৎস্য ঘেরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

এই হামলার ঘটনা ঘটে রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে। হামলাকারীরা ঘেরের বিপুল পরিমাণ ফলজ গাছও কেটে ফেলে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘের মালিক জয়নাল আবেদীনের অভিযোগ, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুস সবুরের নেতৃত্বে এই তাণ্ডব সংঘটিত হয়, যার ফলে তার প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ভুক্তভোগী জয়নাল আবেদীন জানান, তিনি ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৮ বিঘা জমিতে মাছ চাষ করছেন। জামায়াত নেতা আব্দুস সবুর দীর্ঘদিন ধরে ঘেরটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। জয়নালের অভিযোগ, এলাকায় জলাবদ্ধতা না থাকলেও আব্দুস সবুর ও তাঁর ভাইপোদের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি রাতের অন্ধকারে ঘেরে হামলা ও লুটপাট করে। তারা ঘেরে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি আইলের বিভিন্ন গাছ কেটে তছনছ করে এবং বাধা দিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

জানা গেছে, ৪ অক্টোবর সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া ওই স্থানে কালভার্ট বা পিভিসি পাইপ বসানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক্সেভেটর দিয়ে বেড়িবাঁধ কেটে পাইপ বসানো হয়।

ভুক্তভোগীর ভাই ওমর ফারুক এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। জামায়াত নেতা আব্দুস সবুর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও লুটপাট বা ভাঙচুরের বিষয়ে কিছু জানেন না। তিনি চলে আসার পর কী ঘটেছে তা তিনি বলতে পারবেন না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর মুখে ১১১ বাংলাদেশি উদ্ধার, এখন মিশরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর মুখে ১১১ বাংলাদেশি উদ্ধার, এখন মিশরে

লিবিয়ার তবরুক উপকূল থেকে অনিয়মিত পথে গ্রিসে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে রাবারের নৌকায় পাড়ি দিতে ছেয়েছিলেন শতাধিক বাংলাদেশি। কিন্তু তাদের স্বপ্নের ইউরোপযাত্রা মুহূর্তেই পরিণত হয় জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে। তারা মৃত্যুর মুখোমুখি হন প্রচণ্ড ঝড়, উত্তাল সমুদ্র, নৌকায় পানি প্রবেশ ও ইঞ্জিন বিকল হওয়ার কারণে।

গত ১৪ই সেপ্টেম্বর পৃথক তিনটি নৌযান থেকে বিপদাপন্ন অবস্থায় ১১১ বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ। তাদেরকে পরে মিশরের পোর্ট সাঈদ ও দামিয়াত বন্দরে নিয়ে আসা হয়। উদ্ধার হওয়া নাগরিকদের মধ্যে ৫৮ জন পোর্ট সাঈদ নিরাপত্তা কেন্দ্রে এবং ৫৩ জন দামিয়াত নিরাপত্তা কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) ও রোববার মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইং এর এক কর্মকর্তা দু’দিন ব্যাপী পোর্ট সাঈদ ও দামিয়াত অবস্থান করে তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তিনি সমুদ্রযাত্রা, বিপদের মুহূর্ত এবং উদ্ধারের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। এ সময় প্রত্যেক নাগরিককে ঐ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত মুটোফোন থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়।

পোর্ট সাঈদে থাকা ৫৫ বাংলাদেশি জানান, তারা গত ১৪ সেপ্টেম্বর একটি রাবারের নৌকায় করে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন। যাত্রার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তারা প্রচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়েন। উত্তাল সমুদ্রের মধ্যে প্রায় এক রাত ও এক দিন তাদের নৌযানটি চলতে থাকে। চারদিকে শুধু অন্ধকার পানি আর ভয়াবহ ঢেউ। নৌকাটি উল্টে যাবে কিংবা ডুবে যাবে—এমন আতঙ্কে সময় কাটছিল তাদের। একপর্যায়ে তারা ‘KINGSTON’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজের কাছে সাহায্যের আবেদন করেন। বিপদসংকেত পেয়ে জাহাজটি মিশরের সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং তাদের উদ্ধার করে। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে তাদের পোর্ট সাঈদ বন্দরে নিয়ে আসা হয়।

পোর্ট সাঈদ নিরাপত্তা কেন্দ্রে থাকা আরও তিন বাংলাদেশি জানান, তারা অন্য একটি নৌজানে বাংলাদেশি, মিশরীয় ও সুদানি নাগরিকসহ মোট ৫৬ জন তবরুক থেকে একটি নৌকায় যাত্রা করেছিলেন। সমুদ্রে প্রবেশের পর শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়। প্রায় দুই দিন তারা উত্তাল সাগরে ভাসতে থাকেন। একপর্যায়ে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায় এবং নৌকায় ছিদ্র হয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা সাহায্যের জন্য বিপদসংকেত পাঠান। পরে ‘MSC VIRGINIA’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসে। জাহাজটি তিন বাংলাদেশিসহ মোট ১৭ জনকে উদ্ধার করে।

তবে উদ্ধার হওয়া তিন বাংলাদেশির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই নৌকায় থাকা আরও ৩৯ জন যাত্রী ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ রয়েছেন।

দামিয়াতে থাকা ৫৩ বাংলাদেশির অভিজ্ঞতা আরও ভয়াবহ। তারা জানান, ১৪ সেপ্টেম্বর তবরুক থেকে ৫৩ বাংলাদেশি ও ১৪ সুদানি নাগরিকসহ মোট ৬৭ জন একটি রাবারের নৌকায় যাত্রা করেন। সমুদ্রে প্রবেশের পরই তারা প্রচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়েন। একপর্যায়ে ভেতরে পানি ঢুকতে শুরু করলে নৌকাটি দ্রুত ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। যাত্রীরা আশপাশের বাণিজ্যিক জাহাজ ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার জরুরি বিপদসংকেত পাঠাতে থাকেন। ঠিক তখনই ঘটনাস্থলে পৌঁছে নেদারল্যান্ডসের Wagenborg Shipping-এর ‘IJBORG’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ।

উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিরা জানান, জাহাজটি যদি আরও আনুমানিক ১০ মিনিট দেরিতে পৌঁছাত, তাহলে নৌকায় থাকা সবাই প্রাণ হারাতে পারতেন। মৃত্যুর এত কাছে গিয়ে ফিরে আসা এসব মানুষ দূতাবাস কর্মকর্তার কাছে নিজেদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। নৌকায় পানি ঢোকা, ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়া, প্রচণ্ড ঝড় এবং উদ্ধার আসতে দেরি হওয়ার আশঙ্কা—প্রতিটি মুহূর্তই ছিল তাদের কাছে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই।

অনেকেই সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই উদ্ধার তাদের কাছে নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার মতো।

মিশর গন্তব্য নয়

বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইং এর ঐ কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানান, পোর্ট সাঈদ ও দামিয়াতের ১১১জন বাংলাদেশি অভিবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব বাংলাদেশি মিশরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সমুদ্রযাত্রা করেননি। তারা অনিয়মিতভাবে ইউরোপে প্রবেশের উদ্দেশ্যে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় ভয়াবহ সামুদ্রিক দুর্যোগে পড়েন। পরে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ ও সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক উদ্ধার কর্তৃপক্ষের সমন্বিত তৎপরতায় প্রাণে বেঁচে মিশরে পৌঁছান।

তিনি আরও জানান, উদ্ধারপ্রাপ্ত বাংলাদেশিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় পুলিশ, কারা কর্তৃপক্ষ, ন্যাশনাল সিকিউরিটি, ইমিগ্রেশন সহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে তাদের প্রয়োজনীয় কনস্যুলার ও অন্যান্য সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। খুশির খবর হলো এই ১১১জন বাংলাদেশির কায়রো টু ঢাকা টিকেট আইওএম দিতে সম্মতি প্রকাশ করেছে। মিশরের প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্রুততম সময়ে নিরাপদে দেশে ফেরানোর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এমনকি যাদের কাছে পাসপোর্ট ছিল তাদের বেশ কজন রোববার দেশে ফিরে গিয়েছে। বাকিদের ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে অচিরেই দেশে পাঠানো হবে।

স্বপ্নের ইউরোপ নাকি মৃত্যুর সমুদ্র?

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অনিয়মিত পথে ইউরোপে যাওয়ার এই ঘটনাগুলো আবারও সামনে এনেছে ভয়াবহ বাস্তবতা। নিরাপত্তাহীন রাবারের নৌকা, বৈরী আবহাওয়া, নৌ-নির্দেশনা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং জরুরি মুহূর্তে উদ্ধার সহায়তা পেতে বিলম্ব—সব মিলিয়ে এ ধরনের যাত্রা যেকোনো সময় ভয়াবহ প্রাণহানির কারণ হতে পারে।

দূতাবাসের মতে, মানবপাচারকারী ও অনিয়মিত অভিবাসনে সহায়তাকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে বাংলাদেশিদের এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় যুক্ত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ভূমধ্যসাগরের উত্তাল ঢেউ থেকে ১১১ বাংলাদেশির ফিরে আসা তাই শুধু একটি উদ্ধারকাহিনি নয়—এটি একই সঙ্গে একটি কঠিন সতর্কবার্তা। ইউরোপে পৌঁছানোর স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা করা মানুষগুলোর জন্য কয়েক ঘণ্টার সমুদ্রযাত্রাই যে কখনো কখনো জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে শেষ সীমারেখা হয়ে দাঁড়ায়, সেই নির্মম বাস্তবতাই যেন আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এই ঘটনা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%