০১:৩২ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এ সপ্তাহে নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের অ্যাশভিলে অনুষ্ঠিত জি২০ অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের বৈঠকের সংবাদ সংগ্রহের জন্য কয়েকটি প্রধান সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। এ তথ্য সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
এ বছর জি২০-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে যুক্তরাষ্ট্র। তাই বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়টি ট্রেজারি বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
তবে একটি অস্বাভাবিক সিদ্ধান্তের কারণে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, ব্লুমবার্গ নিউজ এবং দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের কয়েকজন সাংবাদিককে বৈঠকে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র প্রদান করা হয়নি বলে গণমাধ্যমগুলোর নিজস্ব প্রতিবেদন ও অন্যান্য সংবাদে জানা গেছে।
ব্লুমবার্গ নিউজ রোববার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান এবং চীনে কর্মরত তাদের সাংবাদিকদের কাউকেই বৈঠকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। একাধিকবার আবেদন করা সত্ত্বেও কেন অনুমতি দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে ট্রেজারি বিভাগ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি বলেও প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।
ব্লুমবার্গ নিউজের একজন মুখপাত্র মন্তব্য করেছেন, বৈঠকে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার না দেওয়া ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের কাছে জবাবদিহি ব্যবস্থাকে দুর্বল করে।’
তিনি আরও বলেন, বৈঠকের কার্যক্রম সম্পর্কে নিরপেক্ষ ও সঠিকভাবে সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ সংবাদকর্মী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য তারা কাজ চালিয়ে যাবেন।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস শনিবার জানায়, তাদের অর্থনৈতিক নীতিবিষয়ক প্রতিবেদককে বৈঠক থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যদিও তিনি বহু বছর ধরে এ ধরনের আন্তর্জাতিক বৈঠকের সংবাদ সংগ্রহ করে আসছেন। তবে পত্রিকাটির বার্লিন ব্যুরো প্রধানকে বৈঠকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
টাইমসের এক মুখপাত্র বলেন, এই সিদ্ধান্ত ‘স্বাধীন সাংবাদিকতাকে দুর্বল করার প্রশাসনের আরেকটি উদ্বেগজনক প্রচেষ্টা, বরং জনসম্মুখের নজরদারি এড়িয়ে যাওয়ার একটি স্পষ্ট চেষ্টা।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রশাসন সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার আরও কঠোর করেছে। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রেস অফিসকে ‘গোপনীয় এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
টাইমসের মুখপাত্র আরও বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, বন্ডের বাজার এবং মূল্যস্ফীতির মতো বিষয় যখন জি২০ অর্থমন্ত্রীদের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে, তখন এই বৈঠকের গুরুত্ব বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মার্কিন জনগণের জন্য অত্যন্ত বেশি।’
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
ট्रेजারি বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রায় এক ডজন দেশের প্রায় ৩০০ জন সাংবাদিককে এই বৈঠকের সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘বৈঠকজুড়ে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ব্যাপক যোগাযোগের সুযোগ থাকবে। আর এই সুযোগের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিকতার নীতি মেনে তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের দায়িত্বও রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে ‘ক্লিক, পাঠকের আগ্রহ বাড়ানো বা চমকপ্রদ উপস্থাপনাকে’ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত নয়।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিকদের বৈঠকে প্রবেশে বাধা দেওয়ার বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও পত্রিকাটি কোনো জবাব দেয়নি।
আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন