০৫:১৩ পি.এম
মামাতো-ফুফাতো ভাইবোন সুজন ও ছামিনা আক্তার সাম্মি প্রেমের সম্পর্ক করে পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করেছিলেন। নতুন সংসারকে ঘিরে নানা ধরনের স্বপ্ন ছিল তাদের। কিন্তু, বিয়ের মাত্র চার মাসের মধ্যেই মাদকাসক্তির কারণে সেই স্বপ্নের করুণ পরিণতি ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, মাদক কেনার টাকার জন্য স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছেন স্বামী সুজন। ঘটনার পর তিনি নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
সোমবার (৮ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে যশোর সদর উপজেলার শেখহাটি তামালতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত ছামিনা আক্তার সাম্মি (২০) সদর উপজেলার তরফ নওয়াপাড়ার শফিয়ার রহমানের মেয়ে। অভিযুক্ত সুজন (২২) টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের স্থানীয় সিরাজুল ইসলামের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি।
আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা
পরিবারের সদস্যারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর প্রায় চার মাস পূর্বে তারা বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের পর থেকেই সাম্মি জানতে পারেন, সুজন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। এটি জানার পর থেকেই তাদের সংসারে অশান্তি শুরু হয়। সুজন প্রায়ই নেশার টাকার জন্য স্ত্রীকে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করতেন।
সাম্মি স্বামীকে মাদকের অন্ধকার জগত থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ লক্ষ্যে উভয় পরিবারের মধ্যে সুজনকে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়, এবং মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। সোমবার তার বিমানবন্দরের টিকিট কাটার কথা ছিল। কিন্তু, বিদেশযাত্রার ঘটনাগুলোর আগেই ঘটে যায় এই মারাত্মক ঘটনা।
স্থানীয় বাসিন্দা আজিবার বিশ্বাস জানান, ভোরে নেশার টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সুজন ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে সাম্মির শরীরে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় সাম্মিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্ত্রীকে হত্যার পর সুজন নিজ শরীরকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে তাকেও উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জ ডিসি অফিসে সোলার প্যানেলে উৎপাদন হবে ৮০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ
এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুজনের ওপর হামলার চেষ্টা করেন নিহতের কয়েকজন স্বজন। এতে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ সুজনের বাবা-মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সাকিরুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই সাম্মির মৃত্যু ঘটে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাদকাসক্তিকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
আরও পড়ুন: শীতের আগমনে গফরগাঁওয়ে প্রস্তুতির ধুম, বাজারে শীতকালীন পণ্য আসছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন