১০:৪২ এম
হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের একটি এতিমখানা থেকে বুয়েনস আইরেসের ফুটবল মাঠে পৌঁছানো। এটি রূপকথার মতো শোনালেও, এটি স্টিফেন ‘কিকি’ রামোসের জীবনের বাস্তবতা। অনিশ্চয়তা এবং অন্ধকারের দেয়াল টপকে তিনি আজ আর্জেন্টিনার ফুটবলের অন্যতম সম্ভাবনাময় নাম হয়ে উঠেছেন।
একটি আর্জেন্টাইন পরিবারের ভালোবাসায় তিনি নতুন জীবন, নতুন ভাষা এবং সংস্কৃতিকে আপন করে নিয়েছেন। আজ, সেই শিশুটি বিশ্ব ফুটবলের আঙিনায় আলবিসেলেস্তেদের আশার আলো হয়ে উঠেছে।
মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ভেলেজ সার্সফিল্ডের যুব অ্যাকাডেমি থেকে তার প্রতিভা ফুটে উঠেছে এবং তিনি আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ভেলেজের বয়সভিত্তিক দলে নিয়মিত খেলছেন এবং তার পছন্দের পজিশন হলো লেফট উইং। তবে যদি দলের দরকার হয়, তিনি ডান প্রান্তেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিতে পারেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসংস্থান চুক্তি
রামোসের বাঁ পায়ের জাদুকরী নিয়ন্ত্রণ, দ্রুতগতির ড্রিবলিং, ক্ষুরধার কাউন্টার অ্যাটাক, এবং প্রতিপক্ষের কাছ থেকে দ্রুত বল কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা তাকে অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলে ইতিমধ্যেই বিশেষভাবে পারিচিত করেছে।
চলতি মৌসুমে তিনি ভেলেজের যুব দলের হয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। ১৬ বছর বয়সেই তার নামের পাশে রয়েছে ১২টি গোল, যার মধ্যে অ্যাথলেটিকো দে রাফায়েলার বিরুদ্ধে একাই চার গোল করে তিনি তার সক্ষমতা প্রমাণ করেছেন।
এই ধারাবাহিক দারুণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি কোচ দিয়েগো প্লাসেন্তের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন এবং আলবিসেলেস্তেদের অনূর্ধ্ব-১৭ দলে জায়গা পেয়েছেন।
জাতীয় দলের আকাশি-সাদা জার্সিতে তিনি দারুণ উচ্ছ্বসিত। আবেগ চেপে না রেখে তিনি জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনাই হচ্ছে তার আসল ঘর। এই দেশ, এই ভাষাতেই তিনি আজকের রামোস হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে তার মূল স্বপ্ন হলো, ভেলেজের মূল দলে স্থান পাওয়া এবং একদিন আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করা।
আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার শিকার প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচের দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিতে এখন এক নিখুঁত লেফট উইঙ্গারের প্রয়োজন। বিশ্লেষকদের মতে, রামোসের মধ্যে সেই শূন্যতা পূরণের প্রকৃত সম্ভাবনা রয়েছে। যদি তার উন্নতির এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তবে ২০৩০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের মূল খেলোয়াড় হিসেবে তাকে দেখা যাবে, এটা সময়ের অপেক্ষা।
রামোসের উত্থানের পেছনে একটি ভিন্ন বৈচিত্র্যও রয়েছে। আর্জেন্টিনার ফুটবলে কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়দের উপস্থিতি অত্যন্ত কম। যদি হাইতিতে জন্ম নেওয়া রামোস ভবিষ্যতে জাতীয় দলের নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠেন, তবে তা হবে হাইতিয়ান বংশোদ্ভূত ফুটবলারের জন্য একটি নতুন ইতিহাস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন