মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:১২ এম
আফগানিস্তান জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানে পরাজিত করেছে সেদিকুল্লাহ আতালের অসাধারণ সেঞ্চুরি ও রশিদ খানের কার্যকরী বোলিংয়ের মাধ্যমে। আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে আফগানিস্তান প্রথমে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ২৯৪ রানে অলআউট হয়। জিম্বাবুয়ের সামনে ২৯৫ রানের লক্ষ্য থাকলেও, রশিদের ৪ উইকেটের শিকার হয়ে তারা মাত্র ৩৮.৪ ওভারে ১৩৬ রানেই গুটিয়ে যায়। এটি আফগানিস্তানের ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম জয়।
আফগানিস্তানের ইনিংসে আতালের অবদান ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। তিনি ১১০ বলে ৮টি চার ও একটি ছক্কায় ১০২ রান সংগ্রহ করেন। দ্বিতীয় উইকেটে ইব্রাহিম জাদরানের ৯০ রানের ইনিংসও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। জাদরান ৯৬ বলে ৯টি চার ও দুটি ছক্কা হাঁকান। এই দুই ব্যাটারের জুটিতে আফগানিস্তান একটি বড় সংগ্রহ গড়ার ভিত্তি পায়। যদিও শেষের দিকে জিম্বাবুয়ের বোলাররা কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন, তবুও আফগানরা ২৯৪ রান পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
জিম্বাবুয়ের পক্ষে ব্র্যাড ইভান্স ও আর্নেস্ট মাসুকু তিনটি করে উইকেট নেন। তবে ২৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে জিম্বাবুয়ে শুরু থেকেই সমস্যায় পড়ে। একের পর এক উইকেট হারানোর ফলে রান তোলার গতি থেমে যায়। সিকান্দার রাজা ৮০ বলে ৪৮ রান করে কিছুটা লড়াই করলেও, তার সঙ্গে বড় কোনো জুটি গড়ে ওঠেনি। রায়ান বার্ল ৩১ রান করেন। শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের ইনিংস ১৩৬ রানে শেষ হয়।
বল হাতে আফগানিস্তানের প্রধান নায়ক ছিলেন রশিদ খান। তিনি ৮ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। মোহাম্মদ নবী একটি উইকেট নেন। জিম্বাবুয়ের শেষ চার উইকেটের তিনটিই রশিদ তুলে নেন, ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দ্রুত আফগানিস্তানের হাতে চলে আসে।
অবশেষে ১৫৮ রানের বিশাল জয় নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই আফগানিস্তান তাদের শক্তি প্রদর্শন করল। অন্যদিকে, বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৯৯ রানের জয় পাওয়ার পর, দ্বিতীয় ম্যাচে বড় ব্যবধানে পরাজিত হলো জিম্বাবুয়ে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আয়োজিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্থানীয় প্রতিনিধি ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। মাদক কারবারিদের অর্থ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ, কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ রাখা এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষকের বিরুদ্ধে মামলা করার মতো বিষয়গুলো নিয়ে সংক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করা হয়েছে।
সোমবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহরাম আলী অভিযোগ করেন, অনেক সময় মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করার পর অর্থ নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চিকিৎসক কমল কদর দাবি করেন, মাদক কারবারিরা থানার কথিত এক ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের কথা বলে থাকে। তবে এসব দাবির সপক্ষে সভায় কোনো দাপ্তরিক প্রমাণ বা নথি উপস্থাপন করা হয়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, থানায় তথাকথিত কোনো ‘ক্যাশিয়ার’ বা অর্থ সংগ্রাহক নেই। তিনি উল্লেখ করেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও কঠোর অবস্থানে থেকে কাজ করছে।
সভায় আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সারবোঝাই ট্রাকের কাগজপত্র পরীক্ষা করতে গিয়ে জাতীয় কৃষি পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক মো. আইয়ুব আলীর গ্রেপ্তার ও মামলা। উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. মোরসালিন অভিযোগ করেন, কৃষি দপ্তরের পরামর্শে সার পরিবহনের সঠিকতা যাচাই করতে গেলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দেওয়া হয়। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, সারগুলো নিলামে কেনা হয়েছিল এবং স্থানান্তরের বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও চলাচলে বাধা দেওয়ায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সভায় সীতাকুণ্ড মডেল থানা, বার আউলিয়া হাইওয়ে থানা ও কোস্ট গার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের অনুপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুর। তিনি উপকূলীয় অঞ্চলে অবৈধ বালু উত্তোলন ও সংঘাতের বিষয়গুলো তদন্তের আহ্বান জানান।
কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে ইউএনও মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিদের বাধ্যতামূলক উপস্থিত করানোর আইনি সুযোগ নেই। তবে অনুপস্থিতির এ ধারা অব্যাহত থাকলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে।
সভায় সম্প্রতি সলিমপুর এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে ডাকাতি, বৈদ্যুতিক সার্ভিস তার ও কৃষিসরঞ্জাম চুরির ঘটনা নিয়েও গভীর উদ্বেগ ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা। সচেতন মহলের মতে, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সুনির্দিষ্ট তথ্যভিত্তিক তদন্ত, পুলিশের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং সব সংস্থার পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কেবল এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ মন্তব্য করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একজন প্রতিমন্ত্রী হয়েও কেন জনাব ইশরাক হোসেনকে নিজেই অস্ত্র হাতে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে হলো। সরকারের কাছে এই প্রশ্নের জবাব চাওয়া অত্যন্ত জরুরি। গতকাল সোমবার তার ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, এর পেছনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব যেসব প্রতিষ্ঠানের, তারা যদি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করত, তাহলে একজন প্রতিমন্ত্রীকে কেন সরাসরি এভাবে মাঠে নামতে হবে? এই পরিস্থিতির দায় কি শুধুমাত্র ইশরাক হোসেনের, নাকি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতারও দায় রয়েছে? যদি মাদক নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়ে থাকে, তাহলে সেই ব্যর্থতার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপরও বর্তায়। এনসিপির এই নেতা লেখেন, একজন প্রতিমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়াই যদি সমস্যার সমাধান হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কীভাবে?
রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর থাকলে একজন প্রতিমন্ত্রীকে কেন নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়তে হবে? একই ধরনের প্রশ্ন দেখা যায় যখন প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালে গিয়ে টয়লেট পরিদর্শন করতে হয়। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও তদারকি ব্যবস্থা রয়েছে। সেই ব্যবস্থাগুলো যথাযথভাবে কাজ করলে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি এসব বিষয় পরিদর্শনে যেতে হতো কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এটি কেবল একটি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়; বরং দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা কার্যকরভাবে কাজ করছে, তারও প্রশ্ন। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে যদি প্রধানমন্ত্রীকে নিজে তদারকি করতে হয়, প্রতিমন্ত্রীকে নিজে রাস্তায় নেমে মাদক নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি এভাবেই পরিচালিত হতে থাকে এবং একসময় জনগণই যদি পরিস্থিতির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে, তখন সরকার কী করবে? তখন কাকে পদত্যাগ করিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করবে? ব্যক্তিকে সরিয়ে দিয়ে সাময়িকভাবে সংকট সামাল দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার সমাধান হয় না। রাষ্ট্রকে কার্যকর করতে হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে, ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায়, একজনকে সরিয়ে দিয়ে সমস্যার মূল জায়গাটি আড়াল করা ছাড়া আর কিছুই অর্জিত হবে না। দিনশেষে ঘের দখল, দুর্নীতি ও ঘুষের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের ব্যর্থতার বলি ইশরাক হোসেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে কর্মসংস্থান এবং দক্ষতা উন্নয়ন সহযোগিতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর, দুই দেশের মধ্যে ‘ইএসডিপি-এমওসি’ (মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন অন এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট) চুক্তিটি চূড়ান্ত করা হয়। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ আগামী ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশের পক্ষে মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে চুক্তির অনুলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।
চুক্তির প্রাথমিক মেয়াদ পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। মেয়াদ শেষ হলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছরের জন্য বাড়ানোর বিধান রয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য জাপানের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং দক্ষতা উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মন্তব্য করেন, এই চুক্তির মাধ্যমে কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে এবং কর্মী পাঠানো ও গ্রহণের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও জানান, জাপানে কাজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, উচ্চ বেতন এবং দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
চুক্তিতে জাপানি স্থানীয় শ্রমিকদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান সুযোগের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের কারণে নারী কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা কিংবা বৈষম্যের শিকার হওয়ার সুযোগ থাকবে না বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্টদের আশাবাদ, এই নতুন চুক্তি বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলার সীমান্তবর্তী শ্রীরামকাঠী-ভরতকাঠী ফেরিঘাট এলাকায় অতিরিক্ত যাত্রী এবং মোটরসাইকেল বহনের কারণে একটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে।
এই দুর্ঘটনায় শংকর বেপারী নামের এক ব্যক্তির ৮ বছরের শিশু কন্যা নিহত হয়েছে এবং তার স্ত্রী নিখোঁজ রয়েছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত শিশুর নাম অর্পিতা বেপারী (৮) এবং নিখোঁজ রয়েছেন শিশুটির মা রিনা বেপারী (৩৫)। তারা নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের ভরতকাঠী গ্রামের শংকর বেপারীর মেয়ে ও স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কর্মরত শংকর বেপারী দুর্গাপূজার ছুটিতে পরিবার নিয়ে বাড়িতে আসেন। সোমবার রাতে শ্রীরামকাঠী এলাকা থেকে পূজা দেখে ট্রলারযোগে সপরিবারে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। এ সময় ৫০ জনেরও বেশি যাত্রী এবং ৬টি মোটরসাইকেল নিয়ে ট্রলারটি নাজিরপুর প্রান্ত থেকে ভরতকাঠীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। কিন্তু অতিরিক্ত বোঝার কারণে ট্রলারটি ভারসাম্য হারিয়ে নদীতে ডুবে যায়।
অধিকাংশ যাত্রী সাঁতরে ও স্থানীয়দের সহায়তায় পাড়ে উঠতে সক্ষম হলেও শংকর বেপারীর স্ত্রী ও শিশু কন্যা পানিতে তলিয়ে যান।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যান নাজিরপুর ইউএনও সাজিয়া শাহনাজ তমা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন জাহান, নাজিরপুর ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক সোয়াইব হোসেন মুন্সি এবং পিরোজপুরের জেলা ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা রায়হানুর আশরাফ।
পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সহায়তায় রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে নিখোঁজ শিশু অর্পিতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রাতেই মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক রায়হানুর আশরাফ বলেন, ট্রলার দুর্ঘটনায় মা ও মেয়ে নিখোঁজের পরে মেয়ে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে রাত গভীর হওয়ায় আপাতত উদ্ধার অভিযান বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে পুনরায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে।
নাজিরপুর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর পরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধার তৎপরতা তদারকি করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এক শিশুকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে। নিখোঁজ মাকে উদ্ধারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় কারো অবহেলা থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ