মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৩০ পি.এম
২০২৭ সালে আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এবং মর্যাদাপূর্ণ আসর আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ। দেশগুলো নিজেদের দল গঠন করতে শুরু করেছে এবং প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। ভারত, যে ক্রিকেটের পরাশক্তি, আগামী বিশ্বকাপের জন্য স্কোয়াড প্রস্তুত করতে শুরু করেছে। এই প্রসঙ্গে, দেশের বোর্ড সভাপতি মিঠুন মানহাস রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলির খেলার সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রোহিত ও কোহলির দলে থাকা নির্ভর করবে ফিটনেস ও পারফরম্যান্সের উপর, বয়সের উপর নয়।
স্পোর্টস্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন, আগামী বিশ্বকাপে এই দুই তারকাকে দলে রাখা হবে কিনা, তা নির্বাচক ও কোচের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। পাশাপাশি, অধিনায়ক শুবমান গিলের পাশে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের উপস্থিতির গুরুত্বও তিনি উল্লেখ করেন।
মিঠুন মানহাস জানান, রোহিত ও কোহলিকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বোর্ড সভাপতির হাতে নেই। নির্বাচক ও কোচই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে তিনি মনে করেন, কোনও ক্রিকেটারকে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে ফিটনেস ও পারফরম্যান্সকে বয়সের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তিনি যোগ করেন, "যদি কোনও ক্রিকেটার খেলার মতো ফিট থাকেন, ভালো পারফরম্যান্স করেন এবং দেশের জন্য ম্যাচ জেতাতে সক্ষম হন, তবে সেটাই তাঁর দলে থাকার মূল মাপকাঠি হওয়া উচিত।"
২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব থাকবে শুবমান গিলের উপর। মানহাস মনে করেন, কোহলি, রোহিত এবং হার্দিক পান্ডিয়ার মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পাশে পাওয়া গিলের জন্য সহায়ক হবে।
মানহাস বলেন, "দলে বিরাট, হার্দিক ও রোহিত থাকলে শুবমানের অবশ্যই সুবিধা হবে। বুমরার মতো ক্রিকেটারও রয়েছে, যে বোলিং বিভাগকে নেতৃত্ব দিতে পারে। একইভাবে ফিল্ডিংয়ের দায়িত্বও কেউ সামলাতে পারে। আসল বিষয় হলো, দলের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া।"
চাপের মুখে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের গুরুত্বও বোর্ড সভাপতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "ওরা অনেক বার চাপের মুখে খেলেছে এবং কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে সাফল্য এনে দিয়েছে। তাই দলে অভিজ্ঞ ও তরুণ ক্রিকেটারদের এই মিশ্রণ খুবই ভালো।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় মিড ডে মিল কর্মসূচির খাবার পেয়ে উচ্ছ্বসিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নিয়মিত খাবার পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেমন আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে, তেমনি বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বাড়ার পাশাপাশি পড়াশোনায় আগ্রহও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
ঠাকুরগাঁও জেলায় সাতটি উপজেলার মধ্যে শুধুমাত্র বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় মিড ডে মিল কর্মসূচি গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে চালু হয়েছে। উপজেলার ১৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৪ হাজার ৬৩৮ জন শিক্ষার্থীর মাঝে এ কর্মসূচির আওতায় খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
মিড ডে মিলে এ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য চালু থাকা মিড ডে মিল কর্মসূচিতে সপ্তাহে পাঁচ দিন পাঁচ ধরনের খাবার দেওয়া হচ্ছে। খাবারের তালিকায় রয়েছে—ডিম, কলা, বনরুটি, বিস্কুট ও দুধ।
এর মধ্যে ডিম, বনরুটি ও কলা—এই তিনটি খাবার সরবরাহ করছে ইএসডিও। অন্যদিকে, বিস্কুট সরবরাহ করছে প্রাণ। আর শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত আরেকটি খাবার ইউএইচটি দুধ।
তবে কিছুদিন আগে ইউএইচটি দুধ পান করার পর অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর আপাতত শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুধ বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা।
কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করেই মিড ডে মিলের খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। খাবারের মান ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
খাবার সরবরাহের আগে এর মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে জানিয়ে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর মোঃ নূর আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান ও নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইএসডিওর টিম নিয়মিতভাবে পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করছে এবং খাবার নিশ্চিত হওয়ার পরই তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান আরও ভালো করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার অতুল চন্দ্র রায় জানান, সরকারের এ স্কুল ফিডিং কর্মসূচীতে শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে খাবারের মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
শিশুরা প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার পেয়ে যেমন আনন্দিত হচ্ছে অন্যদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে উপস্থিতি বাড়ছে, তাদের পড়াশোনায় চাঞ্চল্য বেড়েছে,স্বাস্থ্যর দিকেও উন্নতি হচ্ছে এবং প্রতিদিন উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে। এ প্রকল্পটি চালু থাকলে উপস্থিতি বাড়বে, পড়াশোনার মান বাড়বে,সুনাগরিক এবং সুস্বাস্থ্যের শিক্ষার্থী পাবে বলে মনে করছেন শিক্ষা কর্মকর্তা।
শিক্ষকরাও বলছেন, নিয়মিত মিড ডে মিল চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। খাবারের সময়টুকু শিক্ষার্থীদের কাছে যেমন আনন্দের, তেমনি পুষ্টিকর খাবার পাওয়ায় দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খাবার হাতে পেয়ে শিশুদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। অনেক শিক্ষার্থী আগ্রহ নিয়ে খাবার গ্রহণ করছে। শিক্ষকরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু খাবার বিতরণ নয়, এর সঙ্গে শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করাও এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। তাই খাবারের মান বজায় রাখার পাশাপাশি কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বালিয়াডাঙ্গীর ১৩৮টি প্রতিষ্ঠানে হাজারো শিশুর জন্য চালু হওয়া এ কর্মসূচি দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার পাশাপাশি পুষ্টি নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তোমরা সবাই আমার সন্তানের মতো। সন্তান অনেক সময় বাবা-মায়ের কাছে ভুল-ভ্রান্তি করে ফেলে, তোমাদের আমি ক্ষমা করে দিয়েছি।’—বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর তপন কুমার সাহা এ কথা বলে শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠার পর এক শিক্ষার্থী তাঁর পা ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের পা ধরে ক্ষমা চাইছেন। ওই শিক্ষার্থী বলেন, আগের দিনের ঘটনা নিয়ে তাঁরা সবাই উত্তেজিত ছিলেন এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। অধ্যক্ষকে পিতৃতুল্য উল্লেখ করে তিনি আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
জবাবে অধ্যক্ষ তপন কুমার সাহা বলেন, শিক্ষার্থীরা সবাই তাঁর সন্তানের মতো। সন্তান যেমন কখনো কখনো ভুল করে, তেমনি শিক্ষার্থীদেরও ভুল হতে পারে। তিনি তাঁদের ক্ষমা করে দিয়েছেন জানিয়ে ক্লাসে ফিরে গিয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করার পরামর্শ দেন।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অধ্যক্ষের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অসৌজন্যমূলক আচরণের নিন্দা জানিয়েছেন এক ব্যক্তি। পোস্টে তপন কুমার সাহাকে সৎ, আদর্শবান ও ভদ্র শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
পোস্টদাতার ভাষ্য অনুযায়ী, তপন কুমার সাহা বরিশালের বিএম কলেজসহ বিভিন্ন কলেজে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন। তাঁর কর্মজীবনের কথা উল্লেখ করে পোস্টদাতা জানান, তাঁর বিরুদ্ধে কখনো কোনো অভিযোগের কথা শোনেননি। একই সঙ্গে অধ্যক্ষের ভদ্রতা ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করেন তিনি।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বক্তব্য এবং প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানা যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থেকে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মোহাম্মদ ফজলুর রহিম কাজলের (৫৫) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এ ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের কাকিয়াম গ্রামে নিহতের নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্ত্রীর, বড় ভাই, দুই সন্তানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ফজলুর রহিম কাজল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর নওধার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ৭ অক্টোবর বুধবার সকালে অফিসে যান,পরে প্রকল্পের টাকা উত্তোলনের উদ্দেশ্যে ব্যাংকে যাওয়ার জন্য অফিস থেকে বের হন। এরপর তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ওই দিন দুপুরে এক স্বজন তাঁকে ধর্মপাশামুখী একটি অটোরিকশায় দেখেছেন বলে পরিবারকে জানান। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে মারুফ হাসান রনক ৭ অক্টোবর রাতে ধর্মপাশা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি।
পরে ৯ অক্টোবর শুক্রবার নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বিরামপুর গ্রামসংলগ্ন কংস নদের পাড়ের একটি জঙ্গল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরিবার গভীর শোকের পাশাপাশি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাঁরা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করতে চান না। তবে কীভাবে ফজলুর রহিম কাজল নিখোঁজ হলেন, মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছিল, তিনি ব্যাংকে গিয়েছিলেন কি না এবং তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা চক্র জড়িত কি না—এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করতে হবে।
পরিবারের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার সময় থেকে মরদেহ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত তাঁর চলাচল ও যোগাযোগের তথ্য যাচাই, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য আইন সম্মতভাবে পরীক্ষা, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ, তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তদন্তের অগ্রগতি পরিবারকে অবহিত করা। পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়েছে ।
লিখিত বক্তব্যে পরিবারের সদস্যরা বলেন, তাঁরা কোনো প্রতিহিংসা চান না; তাঁরা চান সত্য উদ্ঘাটিত হোক এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান তাঁরা।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, এ ঘটনায় মোহনগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে প্রথম সোমালি বংশোদ্ভূত শরণার্থী নারী হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন লেবার পার্টির নবনির্বাচিত এমপি সাগাল আবদি-ওয়ালি। তিনি সোমবার (১২ অক্টোবর) শপথ গ্রহণ করেছেন, যা গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরের ঘটনা।
লন্ডনের হলবর্ন ও সেন্ট প্যানক্রাস আসনের উপনির্বাচনে গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কিকে পরাজিত করে সাগাল আবদি ইতিহাস গড়েন। আসনটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ছেড়ে দিয়েছিলেন।
শৈশবে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্যে আসা সোমালি বংশোদ্ভূত আবদি-ওয়ালি লন্ডনের ক্যামডেন এলাকায় তার জীবনের একটি বড় অংশ কাটিয়েছেন। রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা ও স্কুলের সাথে কাজ করেছেন এবং পরে ক্যামডেন কাউন্সিলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শরণার্থী থেকে স্থানীয় সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসার এই যাত্রা যুক্তরাজ্যের সোমালি এবং বৃহত্তর আফ্রিকান সম্প্রদায়ের মধ্যে তার প্রার্থিতার প্রতি ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
আবদি-ওয়ালি নির্বাচনে ৪৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি ৩৩ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। কনজারভেটিভ পার্টি ৭ শতাংশ এবং অভিবাসনবিরোধী রিফর্ম পার্টি ৬ শতাংশ ভোট অর্জন করেছে।
বিজয়ী ভাষণে আবদি-ওয়ালি গৃহহীনতা মোকাবিলা এবং তরুণদের জন্য সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। স্টারমারের উত্তরসূরি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম আবদি-ওয়ালির জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তার সাথে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ