শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:২৩ পি.এম
বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যদিয়ে নড়াইলে মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণের সাহসী সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ট্রাস্টের আয়োজনে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, শোভাযাত্রা, নূর মোহাম্মদের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, গার্ড অব অনার প্রদান, দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপন করা হয়।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল দুপুর পর্যন্ত থেকে নূর মোহাম্মদ নগরে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।
নড়াইল জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা পরিষদ, বীরমুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ট্রাস্ট, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ স্কুল ও কলেজসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে নূর মোহাম্মদের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক নাজমুল হুদার সভাপতিত্বে এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন-জেলা পরিষদ প্রশাসক বীরমুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী আছাদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিংকন বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আহসান মাহমুদ রাসেল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর ই আলম সিদ্দিকী, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার টি. এম. রাহসিন কবির, বীরমুক্তিযোদ্ধা তবিবুর রহমান, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মাদ শেখের ছেলে এস এম গোলাম মোস্তফা কামাল, নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ সরদার, সাজ্জাদুর রহমান রিপনসহ অনেক।
বক্তারা বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সূর্য্যসন্তান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের বীরত্বগাথা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে। তার অবদান স্মরণ করে দেশ ও জনকল্যাণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণের সাহসী সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শাহাদাতববরণ করেন। এদিন পাকবাহিনীর গুলিতে সহযোদ্ধা নান্নু মিয়া গুরুতর আহত হলেও হাতে এলএমজি এবং আহত নান্নুকে কাঁধে নিয়ে শত্রুপক্ষের দিকে গুলি ছুঁড়তে থাকেন নূর মোহাম্মদ। হঠাৎ পাকবাহিনীর মর্টারের আঘাতে তার হাঁটু ভেঙ্গে যায়। তবুও গুলি চালাতে থাকেন তিনি। এক সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন নূর মোহাম্মদ শেখ। যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত হন তিনি। লাল-সবুজের মাঝে স্বাধীন সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশে প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে আজো বেঁচে আছেন বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ।
এদিকে, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মোহাম্মদ আমানত শেখ ও মা জেন্নাতুন্নেছা, মতান্তরে জেন্নাতা খানম। বাল্যকালেই বাবা-মাকে হারান তিনি। সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। তার দুই স্ত্রীর কেউই বেঁচে নেই। বর্তমানে এক ছেলে ও তিন মেয়ে আছেন। তারা নড়াইল ও যশোরে বসবাস করেন।
এই বীরশ্রেষ্ঠের গ্রামের নাম পরিবর্তন করে ২০০৮ সালের ১৮ মার্চ ‘নূর মোহাম্মদ নগর’ করা হয়। সেই থেকে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে গ্রামটিতে। এখানে নির্মিত হয়েছে-বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। এছাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ। ২০০৮ সালের ১৮ মার্চ জাদুঘরটি উদ্বোধন হয়। এছাড়াও নূর মোহাম্মদের বসতভিটায় নির্মিত হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের ৫৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বিজিবির যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)।
শনিবার সকাল ১০টায় শার্শা উপজেলার কাশিপুর বিওপির সন্নিকটে অবস্থিত সমাধিস্থলে বিজিবির পক্ষ থেকে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের সমাধিস্থলে গার্ড অব অনার প্রদান ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনায় ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। শেষে উপস্থিত সবার মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) উপ-অধিনায়ক মেজর নূর উদ্দিন আহমাদ ও সহকারী পরিচালক মো. মাছেদুল ইসলাম খাঁন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতিবছরের মতো এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইনসুলিন বন্ধ করে 'কিটো ডায়েট' ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ অনুসরণের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়াবেটিস রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের হেলথ রেভুলেশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ তদন্তে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা) অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল ইসলাম।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনির-উজ-জামানকে। সদস্য সচিব করা হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. মাহমুদুর রহমানকে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এ হালিম খান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুরজাহান বানু ও বারডেম হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আজিমুন্নেছা শিউলী।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা) অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত নোটিসে বলা হয়েছে, ইনসুলিন বন্ধ করে কিটো ডায়েট ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ অনুসরণ করা রোগীর মৃত্যুর অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঘটনার তদন্তে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সুস্পষ্ট মতামতসহ আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদস্য সচিব ডা. মো. মাহমুদুর রহমান।
অভিযোগে যা বলা হয়েছে
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ এবং একই বিভাগের কর্মরত চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাছে অভিযোগ করেন, ৩৬ বছর বয়সী সুমি বেগম দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি নিয়মিত ইনসুলিন ব্যবহার করতেন।
পরে অনলাইনের মাধ্যমে হেলথ রেভুলেশন লিমিটেডের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হেলথ রেভুলেশন লিমিটেড রোগীর ইনসুলিন বন্ধ করে নির্দিষ্ট শর্করাবিহীন খাদ্যতালিকা অনুসরণ এবং উচ্চমূল্যের কিছু সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। ওই পরামর্শ অনুসরণ করে ইনসুলিন বন্ধ করার পর রোগীর ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে তিনি সিভিয়ার ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন দিতে ছয় সদস্যের কমিটিকে ১০ কর্মদিবস সময় দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উজানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসের মধ্যে আগামী কয়েক দিনে দেশের কয়েকটি নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তবে বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রকাশিত বৃষ্টিপাত, নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী তিন দিন রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ এবং এসব অঞ্চলের উজানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি বেড়েছে। আগামী তিন দিন এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এরপরের দুই দিন এসব নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গা নদীর পানিও বেড়েছে। তবে পদ্মার পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী পাঁচ দিনে গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানি বাড়তে পারে। তবে এ সময় পানি বিপৎসীমার নিচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের তিস্তা ও ধরলা নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। তবে দুধকুমার নদীর পানি কমেছে। আগামী তিন দিনে এসব নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। আগামী এক দিন এ দুই নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে পানি আবার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের কোনো প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে না। তবে উজানে সম্ভাব্য ভারী বৃষ্টি এবং কয়েকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির পূর্বাভাসের কারণে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম গত আগস্টে বেড়ে ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। প্রতিকূল আবহাওয়া, কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন এবং বাণিজ্যপথে অস্থিরতায় চাল, গমসহ বিভিন্ন প্রধান খাদ্যপণ্যের সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনটির বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইউরোপজুড়ে তীব্র গরম ও খরা, ভয়াবহ এল নিনো আবহাওয়ার আশঙ্কা এবং ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধের কারণে বাণিজ্যে অস্থিরতা কৃষিপণ্যের বাজারকে চাপে ফেলেছে। এতে শস্যের দাম তিন বছরের মধ্যে এবং চিনির দাম এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।
এফএওর খাদ্য মূল্যসূচক আগস্টে গড়ে ১৩৩.৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ের সংশোধিত হিসাবে এ সূচক ছিল ১৩০.৮ পয়েন্ট। আগস্টের এই সূচক ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ।
তবে ২০২২ সালের মার্চে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় আগ্রাসন শুরুর পর যে রেকর্ড সর্বোচ্চ খাদ্যমূল্য দেখা গিয়েছিল, আগস্টের সূচক এখনো তার চেয়ে প্রায় ১৭ শতাংশ কম।
এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো এক বিবৃতিতে বলেন, আগস্টে বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম বাড়া একটি সতর্ক সংকেত। জলবায়ুজনিত ধাক্কা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্যিক পরিবহনব্যবস্থায় বাধা একসঙ্গে খাদ্য সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে এবং বাজারে ঝুঁকির প্রভাব আবারও ফিরে আসছে।
আগস্টে এফএওর শস্য, উদ্ভিজ্জ তেল, চিনি, মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের সব কটির মূল্যসূচকই বেড়েছে।
ইউরোপের আবহাওয়ার প্রভাব
ইউরোপের চরম আবহাওয়ার কারণে ভুট্টা ও সুগার বিটের ফলন এবং গবাদিপশুর উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাবে এশিয়ায় পাম তেল ও চিনির উৎপাদন নিয়েও শঙ্কা বেড়েছে বলে জানিয়েছে এফএও।
এদিকে সাড়ে চার বছর ধরে চলা রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে হামলা বাড়ায় রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে শস্য পরিবহন কমে গেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরান সংঘাতের কারণে কৃষিতে ব্যবহৃত সারের সরবরাহও চাপে পড়েছে।
শস্য ও চিনির দাম বেড়েছে
খাদ্যপণ্যের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে আগস্টে এফএওর শস্য মূল্যসূচক মাসিক হিসাবে ২.২ শতাংশ বেড়েছে। এতে সূচকটি ২০২৪ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে উদ্ভিজ্জ তেলের মূল্যসূচক ০.৬ শতাংশ বেড়ে ২০২২ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।
চিনির মূল্যসূচক সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। আগস্টে এটি এক লাফে ১১.৯ শতাংশ বেড়ে ২০২৫ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইউরোপ ও এশিয়ার আবহাওয়াজনিত উদ্বেগের পাশাপাশি ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ মধ্য দক্ষিণ অঞ্চলে চিনি উৎপাদন কমে যাওয়াও এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
কমেছে শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস
আলাদা এক প্রতিবেদনে এফএও ২০২৬ সালের বৈশ্বিক শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস কমিয়েছে। জুলাইয়ের আগের পূর্বাভাসের তুলনায় উৎপাদনের হিসাব ৩৪ লাখ মেট্রিক টন কমিয়ে ২.৯৮০ বিলিয়ন টন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বৈশ্বিক শস্য উৎপাদন ২০২৫ সালের তুলনায় ২.০ শতাংশ কম হবে। ২০১৮ সালের পর এটিই হবে সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন।
তবে উৎপাদন কমলেও ২০২৬ সালের বৈশ্বিক শস্য উৎপাদন ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে ২০২৬ ২৭ মৌসুম শেষে বিশ্বব্যাপী শস্যের মজুতের পূর্বাভাসও ১.১ শতাংশ কমিয়ে ৯৪৭.২ মিলিয়ন টন করা হয়েছে। ফলে মজুত আগের মৌসুমের তুলনায় এখন মাত্র সামান্য বেশি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোর্স: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ