ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

বিএনপি নেতার ‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেওয়ার’ হুমকি, ভাইরাল ভিডিওতে আলোচনা


বিএনপি নেতার ‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেওয়ার’ হুমকি, ভাইরাল ভিডিওতে আলোচনা

শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের দাবিতে বিএনপির মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে, যা জেলা শহরের কাছে শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে পূর্বনির্ধারিত স্থানে চলছে।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরকে ঘিরে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান আমান মাদবর এবার তার ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে টিপু মাদবরের বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় আমান মাদবর এ হুমকি দেন। এ সময় তার পাশে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: সাভারে শ্রমিক আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহকালে তিন সাংবাদিকের ওপর হামলা

ভিডিওতে দেখা যায়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দিচ্ছেন আমান মাদবর। বক্তব্যের একপর্যায়ে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরকে উদ্দেশ্য করে তিনি হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, "হুইপ অপু ভাইকে নিয়ে কটূক্তি করায় আমরা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করেছি এবং সেই সঙ্গে ওই সব কুলাঙ্গারকে দল থেকে বহিষ্কার ও গ্রেফতার দাবি জানিয়ে আমরা সড়ক ব্যারিকেড দিয়েছি। জেলা বিএনপি নেতারা আমাদের রোড ব্লকেডটি উঠিয়ে নিতে বলেছেন। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, দুই-এক দিনের মধ্যে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করবে এবং গ্রেফতার করা হবে।"

তিনি আরও বলেন, "আমরা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, যুবদল- মিয়া নুরুদ্দিন অপু ভাইয়ের বিরুদ্ধে কোনোরকম ষড়যন্ত্র হলে এবং দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দেশের সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করলে, সে যেই হোক, যত বড় শক্তিশালী হোক, তার ‘ঘাড় থেকে মাথা সরিয়ে দেব’ এবং তাকে এই শরীয়তপুর থেকে অবাঞ্ছিত করব। আমরা কোনোভাবেই ওই কুলাঙ্গারদের বরদাশত করব না।"

এ বক্তব্যের ওই অংশটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে চারবার সেরা ওসি হলেন রাকিবুল হাসান

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জেলা শহরের কাছে শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে পূর্বনির্ধারিত স্থানে নির্মাণের দাবিতে গত ২৮ অক্টোবর শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ কর্মসূচির পর জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপুকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা।

এর প্রতিবাদে ১ নভেম্বর দুপুরে জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করেন। পরে শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে তারা টিপু মাদবরের বহিষ্কার ও গ্রেফতারের দাবি জানান। এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার একেএম নাসির উদ্দিন কালুর কাছে স্মারকলিপিও দেন তারা।

এদিকে টিপু মাদবরকে উদ্দেশ করে আমান মাদবরের দেওয়া হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিএনপির ভেতরে দ্বিধা-বিভক্তি দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণ নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থানের পাশাপাশি, প্রকাশ্যে এমন হুমকির ঘটনায় উদ্বেগ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের পাশে স্থাপনের দাবিতে স্থানীয়দের নিয়ে এক উঠান বৈঠকে টিপু মাদবরকে বলতে শোনা যায়, "বিভিন্ন জায়গায় আমার ছবি বানাইয়া পুইড়া ফালাইতাছে, আমার ঘাড় নামাইয়া দিব বক্তৃতা দিতাছে। অথচ গত ১৭ বছর টিপু না থাকলে শরীয়তপুর শহরে কেউ মিছিল নামাইতে সাহস পায় নাই। ১৮ সালে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকালে শফিকুর রহমান কিরণ (২ আসনের সংসদ সদস্য), সাঈদ আহমেদ আসলাম (১ আসনের সংসদ সদস্য), কালু সরদারের (সাবেক ১ আসনের সংসদ সদস্য) বাড়িতে সেদিন সাঈদ আহমেদ আসলাম মারা যেত, শফিকুর রহমান কিরণ মারা যেত, কালু সরদারের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিত। আমি টিপু সেদিন বুক চিতিয়ে মোকাবিলা করে তাদের বাঁচিয়েছি। আমার জীবনটা যুদ্ধে কেটেছে, কেউ আমাকে যুদ্ধের হুংকার দেবেন না। আমি চাই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শরীয়তপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে হবে এটাই আমাদের দাবি। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নাই।"

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সাক্ষাৎ

বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান আমান মাদবর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমি এ ধরনের বক্তব্য দিইনি, আপনারা ভালো করে শোনেন।" যদিও এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ ব্যাপারে শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব মোর্শেদ টিপু মাদবর বলেন, "আমাকে উদ্দেশ করে হুমকি দেওয়া ভিডিওটি আমি দেখেছি। আমি এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরী করতে হবে: জিল্লুর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৫৬ এম


মাদক নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরী করতে হবে: জিল্লুর রহমান

মাদক নিয়ন্ত্রণে অভিযান পরিচালনা কিংবা বাহক ও খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেফতার করার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সুফল অর্জন করা সম্ভব নয়। মাদকের মূল সরবরাহকারী, অর্থের জোগানদাতা এবং নেপথ্যের প্রভাবশালী চক্রকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করার জন্য অপরাধীদের জন্য একটি সমন্বিত কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরী করতে হবে, এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি (চার্জ) ব্যারিস্টার মো: জিল্লুর রহমান।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় এবং ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির আয়োজনে ‘পলিসি ডায়ালগ অন এ ড্রাগ ফ্রি বাংলাদেশ: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অ্যাকশন’ শীর্ষক এক নীতিসংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার মো: জিল্লুর রহমান উল্লেখ করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বৃদ্ধি, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ জন্য রাষ্ট্র, প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে রেলওয়ে পুলিশ প্রধান আরও বলেন, মাদক কারবারিরা পরিবহণের বিভিন্ন মাধ্যমকে নিজেদের নেটওয়ার্ক বিস্তারের কাজে ব্যবহার করছে। রেলপথও তাদের কাছে মাদক পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হয়ে উঠতে পারে। বিশাল রেল নেটওয়ার্ক, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রীর চলাচল এবং বিভিন্ন স্টেশনে মানুষের অবাধ যাতায়াতের কারণে নজরদারি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা আমাদের সেরাটা দিয়ে এই বিষয়টি মোকাবেলা করে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু বাহককে গ্রেফতার করলেই হবে না। কারা মাদকের চালান সংগ্রহ করছে, কারা অর্থায়ন করছে এবং কারা এর পেছনে থেকে পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। মাদক চোরাকারবারিদের জন্য একটি সেন্ট্রাল ডেটাবেজ তৈরী করতে হবে, যেখানে আইনপ্রয়োগকারী সকল সংস্থা একজন মাদক ব্যবসায়ীকে মুহূর্তেই চিহ্নিত করতে পারে। এ ক্ষেত্রে গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো জরুরি।

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র ডিগ্রি দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরির জায়গাও। মাদক প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম, কাউন্সেলিং এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা চালু করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ মাদকে জড়িয়ে পড়লে তাকে শুধুমাত্র শাস্তির আওতায় আনার চিন্তা না করে কেন সে মাদকের দিকে ঝুঁকছে, তা চিহ্নিত করতে হবে। শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যোগাযোগ বাড়াতে হবে। ক্যাম্পাস এবং এর আশপাশে মাদক কেনাবেচার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

ঢাকা মেইলের নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল বলেন, মাদক নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে শুধু অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করলে তার সামাজিক পুনর্বাসনের পথ কঠিন হয়ে পড়ে। মাদকাসক্তি একটি চিকিৎসাযোগ্য সমস্যা। তাই মাদক কারবারি ও মাদকাসক্ত ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য করে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে।

তিনি বলেন, মাদকের বিস্তার নিরসনে সবাইকে আলাদা আলাদা এম্বাসেডর হিসেবে কাজ করতে হবে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছেন। কিন্তু এই উদ্যোগ এখনো যথার্থ নয়।

তিনি আরও বলেন, একটি মানুষ হতাশা থেকে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়েন। সত্যিকারের মূল্যবোধের অভাবেই মানুষ মাদকের দিকে পা বাড়ায়। মানুষের হতাশা কাটাতে হলে মূল্যেবোধে ফিরতে হবে। পাশাপাশি ধর্মীয় অনুশাসন ছাড়া মাদকের বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়। পরকালীন জীবনের মহাসত্যের দিকে আমাদের যেতে হবে; মানুষকে আগে মানুষ হতে হবে; তবেই মাদকের ভয়াল থাবা থেকে আমাদের প্রজন্মকে রক্ষা করা যাবে।

নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দিন বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। মাদক কারবারের সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলে সেগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। শুধু দৃশ্যমান অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে মাদকের বিস্তার বন্ধ করা যাবে না। মাদক সরবরাহের অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে দিতে হবে।

তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন এবং গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পরিচয়ের কারণে কেউ যেন আইনের বাইরে থাকতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাবের মো. সোয়াইব বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলেও শুধুমাত্র অভিযান দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। অভিযানের পাশাপাশি মাদকের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ অনেক সময় তথ্য দিতে ভয় পান। কারণ, অভিযোগ করার পর তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকে। এ ক্ষেত্রে অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তথ্যদাতাদের আস্থায় নেওয়া জরুরি। এ বিষয় ঢাকা জেলা প্রশাসন হ্যালো ডিসি নামে একটি নাগরিক সেবার প্লাটফর্ম তৈরী করেছে।

রাজধানীর কন্টিনেন্টাল হসপিটালের মনোরোগ বিভাগের চিফ কনসালট্যান্ট ডা. এস এম কবির জুয়েল বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে শুধু ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এর সঙ্গে কাউন্সেলিং, পারিবারিক সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি মনোসামাজিক চিকিৎসা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মাদকাসক্তির চিকিৎসায় রোগীর পাশাপাশি পরিবারকেও সম্পৃক্ত করতে হবে। চিকিৎসা শেষ হওয়ার পরও পুনরায় মাদকে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এ জন্য নিয়মিত ফলোআপ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

দেশে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনকেন্দ্রগুলোর মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও কাউন্সেলরের সংখ্যা বাড়াতে হবে। চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর মান নিয়ন্ত্রণ এবং সেবার মান নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে হেয় না করে চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দিতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক্সপ্রেসওয়ের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে তাগিদ সেতু সচিবের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৫৭ এম


এক্সপ্রেসওয়ের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে তাগিদ সেতু সচিবের

ঢাকা, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ সকল ধরনের প্রতিবন্ধকতা জরুরি ভিত্তিতে দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নগরবাসীর প্রত্যাশার একটি গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প। প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, যাতে জনভোগান্তি সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকে।

আজ সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের নির্মাণকাজের প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় প্রকল্পের রুট অ্যালাইনমেন্টে বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থার ইউটিলিটি লাইন অপসারণ ও স্থানান্তর, জমিসংক্রান্ত জটিলতা এবং নির্মাণকাজের অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সভায় রেলওয়ের জমিতে অননুমোদিত স্থাপনার কারণে প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। কমলাপুর আইসিডি-সংলগ্ন বাংলাদেশ রেলওয়ের জমিতে অননুমোদিত ট্রাক স্ট্যান্ডের কারণে কমলাপুর আপ-র‌্যাম্পের নির্মাণকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় ট্রাক স্ট্যান্ডটি দ্রুত অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

এছাড়া আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টিটিপাড়া থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত সকল সেবাদানকারী সংস্থার ইউটিলিটি লাইন সরেজমিনে যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রাক্কলন প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সেবাদানকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা, ইউটিলিটি অপসারণ ও প্রতিস্থাপনের কাজে নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইসিবির প্রতিনিধি, প্রকল্প মনিটরিং টিমের আহ্বায়ক, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) এবং প্রকল্প দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাঠে গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে তেনেরিফের স্ট্রাইকার জেসুস দে মিগুয়েল নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৫৭ এম


মাঠে গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে তেনেরিফের স্ট্রাইকার জেসুস দে মিগুয়েল নিহত

স্প্যানিশ ফুটবলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খেলার মাঠে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের সঙ্গে মারাত্মক সংঘর্ষের ফলে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তেনেরিফের ৩০ বছর বয়সী স্ট্রাইকার জেসুস দে মিগুয়েল। স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগ লিগে অ্যান্ডোরা ও তেনেরিফের মধ্যকার রোমাঞ্চকর ম্যাচটি শেষ মুহূর্তে গিয়ে পরিণত হয় এক ট্র্যাজেডিতে।

ম্যাচের ফলাফল ছিল ২–২। অতিরিক্ত সময়ের ৭ মিনিটে, তেনেরিফের একটি দূরপাল্লার পাস নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে মাঝমাঠের দিকে ছুটছিলেন স্ট্রাইকার জেসুস দে মিগুয়েল। অন্যদিকে, বল বিপদমুক্ত করার জন্য পোস্ট ছেড়ে দ্রুত এগিয়ে আসেন অ্যান্ডোরার গোলকিপার জেসুস ওউনো।

বল দখলের জন্য সংঘর্ষের সময় গোলকিপার ওউনোর হাঁটু গিয়ে সরাসরি আঘাত করে মিগুয়েলের মাথা ও বুকে। মারাত্মক এই ফাউলের কারণে রেফারি গোলকিপারকে লাল কার্ড দেখান। কিন্তু মাঠে মিগুয়েল নিথর হয়ে পড়ে থাকেন।

মাঠে পাঁচ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর মিগুয়েলকে অ্যাম্বুলেন্সে করে স্থানীয় নুয়েস্ত্রা সেনোরা দে ক্যানদেলারিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে যাওয়ার পথে মিগুয়েল 'কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট'-এর শিকার হন। প্যারামেডিকসদের আপ্রাণ চেষ্টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় মিগুয়েল না ফেরার দেশে চলে যান।

মিগুয়েলের মৃত্যুর পর তার ক্লাব তেনেরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে খবরটি নিশ্চিত করে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানায়, 'সিডি তেনেরিফ গভীর শোকের সঙ্গে জানাচ্ছে যে আমাদের ফুটবলার জেসুস দে মিগুয়েল আলমাদা আর আমাদের মাঝে নেই। এই অপূরণীয় ক্ষতি ও শোক ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা মিগুয়েলের পরিবার ও ভক্ত-সমর্থকদের পাশে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে আছি।'

একই সঙ্গে মিগুয়েলের পরিবার সকলের সহানুভূতি ও প্রার্থনার জন্য ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি এই কঠিন সময়ে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান জানানোর আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাসের চাপায় অটোরিকশার যাত্রী নিহত, স্বামী ও সন্তান আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৫৯ এম


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাসের চাপায় অটোরিকশার যাত্রী নিহত, স্বামী ও সন্তান আহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যাত্রীবাহী বাসের চাপায় অটোরিকশার যাত্রী জুথি আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্বামী জাকির হোসেন এবং দেড় বছর বয়সী সন্তান জায়ান আহমেদ আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া পীরবাড়ি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জুথি আক্তার সরাইল উপজেলার চুন্টা গ্রামের মো. হুমায়ুন মিয়ার কন্যা। তিনি স্বামী ও সন্তানসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মেড্ডা সিও অফিস এলাকায় বসবাস করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসা টিএ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পীরবাড়ি এলাকায় প্রবেশ করার সময় মহাসড়কে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশায় থাকা জুথি আক্তার, তার স্বামী এবং সন্তান আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুথি আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। এদিকে, ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটিতে ভাঙচুর চালায়।

সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বাসটিকে জব্দ করা হয়েছে। নিহত গৃহবধূর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%