০৯:৩৯ এম
গাজায় যুদ্ধের চতুর্থ শীতকাল শুরু হয়েছে। কিন্তু লাখ লাখ ফিলিস্তিনির জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব রয়েছে। বাস্তুচ্যুত এসব মানুষ ছেঁড়া ত্রিপল ও অস্থায়ী তাঁবুর মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে তাদের আশ্রয়স্থলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজায় প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি বন্যার মাঝারি থেকে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকায় বসবাস করছেন। এর মধ্যে ৪ লাখের বেশি মানুষ বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।
গাজার রাজধানী গাজা সিটি থেকে আলজাজিরার সাংবাদিক ইব্রাহিম আল-খলিল এই তথ্য তুলে ধরেছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর চারটি শীতকাল পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো কয়েক লাখ ফিলিস্তিনি পর্যাপ্ত আশ্রয় পাননি। যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়ি হারানো এসব মানুষ আবারও শীত মোকাবিলা করতে হচ্ছে ছেঁড়া ত্রিপল ও অস্থায়ী তাঁবুর মধ্যে।
আরও পড়ুন: কলম্বিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় তিন সেনা নিহত
সাম্প্রতিক ঝড় তাদের আশ্রয়ের নাজুক পরিস্থিতি আরো স্পষ্ট করে দিয়েছে। কয়েক ঘণ্টার প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসে অনেক তাবু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু তাবুর ত্রিপল ছিঁড়ে গেছে। বৃষ্টির পানিতে ভিজে গেছে বিছানার তোশক, বালিশ, কাপড়চোপড়সহ তাদের শেষ সম্বলটুকুও। অনেক পরিবার কয়েক দিন ধরে নিজেদের আশ্রয়স্থল মেরামত ও শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঝড়ের মুখে সেসব প্রচেষ্টা কার্যকর হয়নি।
গাজায় বন্যার ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা ব্যাপক। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি এমন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন, যেখানে বন্যার ঝুঁকি মাঝারি থেকে উচ্চপর্যায়ের। তাদের মধ্যে ৪ লাখের বেশি মানুষ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে রয়েছেন।
শুধু অস্থায়ী তাঁবুতে থাকা মানুষই ঝুঁকিতে নেই। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ২ হাজার ৩০০টির বেশি ভবনে প্রায় ৪৪ হাজার ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছেন। এসব ভবন ধসে পড়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।
আলজাজিরার সাংবাদিক ইব্রাহিম আল-খলিল বলেন, "তাঁবুতে ছেঁড়া ত্রিপল জোড়া লাগিয়ে বা সাময়িক মেরামত করে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।" গাজায় বাস্তুচ্যুত বহু পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, তাদের প্রয়োজন স্থায়ী ও উপযুক্ত আশ্রয়। একই সঙ্গে নিজেদের জীবন নতুন করে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রীও দরকার।
আরও পড়ুন: সানায় হামলার জবাবে সৌদিতে দফায় দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল হুতিরা
তার মতে, এসব প্রয়োজন মেটাতে গাজায় জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয় ও পুনর্গঠনের সামগ্রী প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। অন্যথায় যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি শীত ও বন্যার ঝুঁকিও বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ আরো বাড়াবে।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন