ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এবার একুশে বইমেলা শুরু ৭ জানুয়ারি


এবার একুশে বইমেলা শুরু ৭ জানুয়ারি

অমর একুশে বইমেলা ২০২৭ আগামী ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। এই মেলা চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বাংলা একাডেমিতে প্রকাশক-প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বাংলা একাডেমি জানিয়েছে।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম রবিবার (১৮ অক্টোবর) এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৩ অক্টোবর সকালে বাংলা একাডেমির শহীদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে অমর একুশে বইমেলা ২০২৭-এর আয়োজন নিয়ে প্রকাশক-প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বইমেলার তারিখ নির্ধারণ করা হয় সর্বসম্মতিক্রমে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সভায় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগমও উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে সাংবাদিক এম এ মোতালিবের ওপর হামলার ঘটনায় আটক ১

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি নির্দেশনা ও হাইকোর্টের আদেশ উপেক্ষার অভিযোগ: মানিকগঞ্জ-টাঙ্গাইলে স্কুল-কলেজের মাঠে মেলা, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাছুদুর রহমান আসলাম, স্টাফ রিপোর্টার,

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৫ এম


সরকারি নির্দেশনা ও হাইকোর্টের আদেশ উপেক্ষার অভিযোগ: মানিকগঞ্জ-টাঙ্গাইলে স্কুল-কলেজের মাঠে মেলা, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

সরকারি প্রজ্ঞাপনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজন নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশসংক্রান্ত নথিও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছে একটি মানবাধিকার সংগঠন। এরপরও মানিকগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে স্কুলের মাঠে মেলার আয়োজন চলতে থাকায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা, অনুমোদনের বৈধতা এবং এর পেছনে সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে ১৮ অক্টোবর মাসব্যাপী মেলার উদ্বোধন করা হয়। অন্যদিকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এস.কে. পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে ‘মির্জাপুর দেশীয় শিল্প ও পণ্য মেলা-২০২৬’ শুরু হয় ৯ অক্টোবর। সরকারি বিধানের বিষয়টি সামনে আসার পরও এসব আয়োজন কীভাবে চলছে, তার জবাব সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দিতে হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-৭ শাখা থেকে ২০২২ সালের ২৯ জুন জারি করা ‘মেলা পরিপত্র, ২০২২’-এর স্মারক নম্বর ২৬.০০.০০০০.১০৬.৮৬.০৮৬.১৫.১১১। পরিপত্রের ৫(চ) ধারায় বলা হয়েছে, “কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজন করা যাবে না।”

এদিকে বরিশালের পরেশ সাগর মাঠসংক্রান্ত রিট পিটিশন নম্বর ৬২৫৯/২০২৬-এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ মে ২০২৬ হাইকোর্টের একটি আদেশ জারি হয় বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আশিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে বিষয়টি শুনানি হয়।

মানবাধিকার সংগঠনটির দাবি, সরকারি পরিপত্র, আদালতের আদেশসংক্রান্ত নথি ও আপত্তির বিষয়টি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে মানিকগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকদের জানানো হয়েছে। এরপরও মেলার আয়োজন অব্যাহত থাকায় প্রশ্ন উঠেছে—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন আইনগত ভিত্তিতে এসব অনুমোদন দিয়েছে? সরকারি বিধান বাস্তবায়নের দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের সিদ্ধান্তেই যদি সেই বিধান উপেক্ষিত হয়, তাহলে জবাবদিহি নিশ্চিত করবে কে?

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে জয়মন্টপ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

মানবাধিকার সংগঠনটির ভাষ্য, মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক প্রাথমিকভাবে হোয়াটসঅ্যাপে মাঠটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ নয় বলে মন্তব্য করেন। পরে সংগঠনটির পক্ষ থেকে মাঠের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য, সরকারি পরিপত্র ও অন্যান্য নথি পাঠানো হলেও আর কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এস.কে. পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে দেওয়ান ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের আয়োজনে দেশীয় শিল্প ও পণ্য মেলা চলছে। এ ক্ষেত্রেও মেলার অনুমোদনপত্র, মাঠ ব্যবহারের শর্ত এবং সরকারি বিধান অনুসরণের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

দুই জেলার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে সরাসরি প্রশ্ন—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলার অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হলো? কোন বিধান বা প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে? সরকারি পরিপত্রের বিষয়টি সামনে আসার পর আয়োজন বন্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?


মেলার অনুমোদন ঘিরে সরকারি কোষাগারে নির্ধারিত অর্থ জমা দেওয়ার বাইরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কেউ কেউ বিপুল পরিমাণ অর্থ গোপনে গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি গুরুতর; এর সত্যতা নির্ধারণে অনুমোদন প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের তদন্ত প্রয়োজন।

মূল প্রশ্ন মেলার স্বাভাবিক আয়-ব্যয় নয়; বরং সরকারি প্রজ্ঞাপনে নিষিদ্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলার অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হলো এবং সেই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো আর্থিক সুবিধা বা অনৈতিক স্বার্থ কাজ করেছে কি না। সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া অর্থের বাইরে কোনো অর্থ লেনদেন হয়ে থাকলে তার হিসাবও সামনে আনতে হবে।

সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের অনুমোদনপত্র, মাঠ ব্যবহারের চুক্তি, নির্ধারিত সরকারি ফি, কোষাগারে অর্থ জমার চালান এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ায় জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা প্রকাশের দাবি উঠেছে। সরকারি বিধান উপেক্ষা করে অনুমোদন দেওয়ার বিনিময়ে কেউ আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকলে, তদন্তের মাধ্যমে তাঁদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।


জেলা প্রশাসকদের দায়িত্ব সরকারি আইন, বিধি ও নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা। সেই দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যদি সরকারি বিধান উপেক্ষিত হয়, তাহলে প্রশাসনিক জবাবদিহি এড়ানোর সুযোগ নেই।

আজ যাঁরা জেলা প্রশাসক, ভবিষ্যতে তাঁদের কেউ উপসচিব, যুগ্ম সচিব কিংবা সচিব পদে দায়িত্ব পেতে পারেন। নিজেদের সিদ্ধান্তেই যদি সরকারি বিধান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়, তাহলে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের আইন মানার নির্দেশ দেওয়ার নৈতিক ভিত্তি কোথায় থাকবে?

সরকারি প্রজ্ঞাপন ও আদালতের আদেশ কি শুধু সাধারণ মানুষের জন্য, নাকি প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য? সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের অনুমোদনের আইনগত ভিত্তি এবং গোপন আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট জবাব দিতে হবে।


মানবাধিকার সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনা এবং ২৫ অক্টোবর শুনানির উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সংগঠনটির দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলার আয়োজনের বৈধতা, সরকারি নির্দেশনা অনুসরণের অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা আদালতের নজরে আনা হবে।

সংগঠনটি মেলার অনুমোদনসংক্রান্ত নথি ও অর্থ জমার হিসাব প্রকাশ, সরকারি বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও খেলাধুলার জন্য। সরকারি পরিপত্রের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সেখানে মেলার অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকলে তার দায় সংশ্লিষ্ট অনুমোদনদাতাদের নিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি কোষাগারের বাইরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে আনতে হবে।

প্রশ্ন একটাই—সরকারি প্রজ্ঞাপন ও আদালতের আদেশের বিষয়টি সামনে আসার পরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলার অনুমোদন কীভাবে দেওয়া হলো, আর সেই সিদ্ধান্তের আড়ালে কোনো গোপন আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকলে তার দায় নেবে কে?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তালা ভেঙে বাসায় ঢুকে ৮ লাখ টাকা, ২ ভরি সোনা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি: ডেমরায় চাঞ্চল্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো: রনি সিকদার, চীফ রিপোটার

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৮ এম


তালা ভেঙে বাসায় ঢুকে ৮ লাখ টাকা, ২ ভরি সোনা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি: ডেমরায় চাঞ্চল্য

রাজধানীর ডেমরায় দিনদুপুরে এক ভাড়ারতিয়া পরিবারের তালাবদ্ধ বাসায় প্রবেশ করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোন ও টিভি সহ মূল্যবান দলিলপত্র চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ১২ অক্টোবর (সোমবার) সকাল আনুমানিক ১০:০০ টা থেকে ১০:৩০ টার মধ্যে ডেমরা থানার জয়নব বানু ৭৬ শূণ্যা টেংরা এলাকার জাহিদ সাহেবের বাড়িতে এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনাটি ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, মোসাঃ নাজমা বেগম (৩২) নামের এক গৃহবধূ প্রতিদিনের মতো গত ১২ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাসার দরজায় তালা লাগিয়ে তাঁর সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সকাল ১০:৪৫ টার দিকে সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে বাসায় ফিরে এসে দেখেন ঘরের প্রধান ফটকের তালা ভাঙা। ভিতরে প্রবেশ করতেই দেখতে পান রুমের যাবতীয় মালামাল এলোমেলো ও ওলটপালট অবস্থায় পড়ে আছে।

ক্ষতিগ্রস্ত নাজমা বেগম জানান, চোরের দল ঘরের তিনটি পাটের দুটি কাঠের আলমারি, দুটি কাঠের ওয়্যারড্রফ এবং একটি শোকেসের লক ভেঙে তছনছ করে। চোরেরা আলমারিতে রক্ষিত সঞ্চিত নগদ ৮,০০,০০০ (আট লাখ) টাকা, প্রায় ২ ভরি ৩ আনা ওজনের স্বর্ণালঙ্কার (যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫,০০,০০০ টাকা), তিনটি অ্যান্ড্রোয়েড স্মার্টফোন (যার আনুমানিক মূল্য ৭০,০০০ টাকা), একটি ৪২ ইঞ্চি ভিশন এলইডি টিভি (যার মূল্য আনুমানিক ৫২,০০০ টাকা) এবং ঘরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র নিয়ে চম্পট দেয়। অপহৃত সর্বমোট মালামাল ও নগদ টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ টাকারও বেশি।

ঘটনার পর পরই বাড়ির মালিক, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বিষয়টি অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে বাসার বাইরে থাকা সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সকাল ১০:০০ টা থেকে ১০:৩০ টার সময়সীমার মধ্যে অজ্ঞাতনামা দুইজন ব্যক্তি কৌশলে বাসার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং দ্রুততার সঙ্গে চুরির কাজ শেষ করে সিসিটিভি ক্যামেরার নজর এড়িয়ে কেটে পড়ে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে স্থানীয়দের সহযোগিতায় চোর সনাক্ত করার বেশ কিছু চেষ্টা চালানো হলেও এখনো পর্যন্ত তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোসাঃ নাজমা বেগম চুরি হওয়া মালামালের সঠিক হিসাব-নিকাশ এবং সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে অপরাধীদের প্রাথমিক সনাক্তকরণের চেষ্টা চালিয়ে ডেমরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ডেমরা থানা পুলিশ সূত্রের খবর, লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির পর ঘটনা তদন্তে পুলিশ তৎপর রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় অজ্ঞাত চোরদের সনাক্ত ও গ্রেফতারসহ চোরাই মালামাল উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দিনদুপুরে সংঘটিত এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল চোর চক্রের চলাফেরা:

ঘটনার আকস্মিকতায় দিশেহারা হয়ে নাজমা বেগম বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির মালিক, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশী ডেমরাবাসীকে জানান। পরবর্তীতে আশেপাশের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য বসানো সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার ফুটেজ নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হয়।

ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সকাল আনুমানিক ১০:০০ টা থেকে ১০:৩০ টার মধ্যে অজ্ঞাতনামা দুই যুবক অত্যন্ত সুকৌশলে বাসার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। চুরির কাজ শেষ করে ১০:৩০ টার মধ্যেই তারা জিনিসপত্র ব্যাগে ভরে এলাকা ত্যাগ করে। সিসিটিভি ফুটেজে দুই চোরের চেহারা স্পষ্টভাবে দেখা গেলেও, স্থানীয় লোকজনদের তা দেখালে কেউই তাদের সনাক্ত করতে সক্ষম হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, পেশাদার এই চোর চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকা ও ভুক্তভোগী পরিবারের চলাফেরার ওপর নজরদারি (রেকি) চালিয়ে এই চুরির ছক এঁকেছিল।

পুলিশি পদক্ষেপ ও এলাকার সার্বিক চিত্র:

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার উদ্যোগ নিয়েছে। চোরদের সনাক্তকরণ এবং চুরির নিখুঁত হিসাব বের করতে সামান্য বিলম্ব হলেও ভুক্তভোগী পরিবার শেষ পর্যন্ত ডেমরা থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ডেমরা থানা সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে অপরাধীদের সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সাথে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চুরি যাওয়া মোবাইল ফোনগুলোর আইইএমআই (IMEI) নম্বর ও অবস্থান ট্রেস করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। পুলিশ আশা করছে, খুব দ্রুতই এই চক্রকে গ্রেপ্তার করে চোরাই মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

এদিকে, জয়নব বানু টেংরা এলাকায় দিনদুপুরে এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে চরম নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে। স্থানীয় অধিবাসীরা অবিলম্বে পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

চলবে....................

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলীকদমে পিকআপ উল্টে নিহত ১, আহত ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৩ এম


আলীকদমে পিকআপ উল্টে নিহত ১, আহত ৩

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় একটি কলাবোঝাই পিকআপ গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ের ঢালু সড়ক থেকে নিচে পড়ে যায়। এই ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন এবং কলার মালিক ও চালক-হেলপারসহ তিনজন আহত হয়েছেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত ৮টায় উপজেলার ৩ নম্বর নয়াপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ম্যানথাক ম্রো পাড়া-সংলগ্ন নাইক্ষ্যংছড়ি টপ এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম সাহাব উদ্দিন (৪০)। তিনি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভাঙ্গারমুখ এলাকার মৃত নাজির আহমদের ছেলে এবং পেশায় গাড়ির মিস্ত্রি ছিলেন।

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত কলার মালিক আব্দুল মোবিন (৩২) একই এলাকার মৃত নুরুল কবীরের ছেলে। আহত চালক জোবায়ের হোসেন রুবেল (৩২) বান্দরবানের লামা থানার ইয়াংছা এলাকার বাসিন্দা। তবে আহত হেলপারের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাইক্ষ্যংছড়ি টপ থেকে কলা বোঝাই করে পিকআপটি পাহাড়ি ঢালু রাস্তা দিয়ে নিচে নামছিল। গাড়িটির ব্রেক ফেল করায় এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি টপের নিচে আছড়ে পড়ে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আলীকদম সদর এলাকা থেকে পিকআপ কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হানিফ জানান, রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত চারজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাহাব উদ্দিন নামের একজন মারা যান। গুরুতর আহত কলার মালিক আব্দুল মোবিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার সুযোগ নিয়ে পিকআপ চালক জোবায়ের হোসেন রুবেল ও তার হেলপার কৌশলে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শীতের আগমনে গফরগাঁওয়ে প্রস্তুতির ধুম, বাজারে শীতকালীন পণ্য আসছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৩ এম


শীতের আগমনে গফরগাঁওয়ে প্রস্তুতির ধুম, বাজারে শীতকালীন পণ্য আসছে

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে শীতের আগমনি বার্তা ইতোমধ্যে অনুভূত হতে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে আবহাওয়ার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উত্তরের শীতল হাওয়া প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। রাতের বেলা হালকা ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে, ভোররাতে ঠান্ডার পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পায় এবং দিনে আবহাওয়া বেশ গরম থাকে।

প্রকৃতিতে ঋতুবদলের আয়োজন চলছে। শরৎ শেষে হেমন্তকাল শুরু হয়েছে, এরপর শীতকাল আসবে। তবে প্রকৃতি এখনই শীতের আগমনি বার্তা জানাচ্ছে। শরতের কুয়াশায় সবুজ ঘাস ও ধানের পাতায় শিশির জমা হচ্ছে। দূর থেকে সবুজ ধানক্ষেত ও ঘাসের দিকে তাকালে মনে হয় যেন মুক্তার মতো শিশিরকণা জমে রয়েছে। সকালে সূর্যালোকে দুর্বাঘাস ও ফসলের পাতায় শিশিরবিন্দু ঝলমল করছে। ভোরের আকাশ কুয়াশায় ঢাকা পড়ে যাচ্ছে।

একই সঙ্গে বাজারে শীতকালীন শাকসবজির আগমন শুরু হয়েছে। তবে দাম কিছুটা বেশি। আগাম শীতে সবজি বিক্রি করে কৃষকরা অতিরিক্ত দাম পাচ্ছেন, যা তাদের জন্য সুখকর। লেপ-তোশকের কারিগররাও এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তবে লেপ-তোশক তৈরির খরচ বেড়ে গেছে। আগের মতো সস্তায় কারিগররা লেপ-তোশক তৈরি করতে পারছেন না। তুলা, কাপড় ও শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে যাওয়ার কারণে দোকানিরা লেপ-তোশক তৈরিতে বেশি খরচ দাবি করছেন।

গ্রামে গ্রামে খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য গাছিরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাদের কদর বেড়ে গেছে। আগের মতো কম টাকায় খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য প্রস্তুতির কাজে রাজি হচ্ছেন না তারা।

গফরগাঁওয়ের গ্রামাঞ্চলে আগের মতো খেজুর গাছ দেখা যায় না। চারা রোপণে আগ্রহী মানুষের অভাবের কারণে এখানে খেজুরের চারা রোপণ কম হচ্ছে। এই কারণে গ্রামাঞ্চল থেকে খেজুর গাছ হারিয়ে যাচ্ছে।

শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে গফরগাঁওয়ের বিভিন্ন হাটবাজারে পিঠার দোকান বসতে শুরু করেছে। গ্রামের বেকার শ্রমজীবী মহিলারা পিঠা তৈরি করে মানুষের রসনা তৃপ্তি দিচ্ছেন। সঙ্গে থাকছে বিভিন্ন ধরনের ভর্তা। সকালে পিঠার স্বাদ নিতে অনেকে দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন।

পিঠা খেতে দোকানে আসা আবু বক্কর নামে একজন রিকশাচালক জানান, "সকালে পিঠা খেতে ভালো লাগে। তাই প্রতিদিন ভোরে পিঠা খেয়ে যাত্রীর সন্ধানে রিকশা নিয়ে বের হই।"

গফরগাঁও পৌর এলাকায় প্রাতঃভ্রমণকারী তপন খান নামে এক ওষুধ ব্যবসায়ী জানান, "গত এক সপ্তাহ ধরে সকালে হাঁটার সময় বেশ শীত অনুভূত হচ্ছে। সকালে মনে হচ্ছে শীতের দিন চলে এসেছে। তবে রাতে ফ্যানের প্রয়োজন হয় না। ফ্যান চালালে কাঁথা ব্যবহার করতে হয়।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%