০৫:৩৩ এম
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে শীতের আগমনি বার্তা ইতোমধ্যে অনুভূত হতে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে আবহাওয়ার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উত্তরের শীতল হাওয়া প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। রাতের বেলা হালকা ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে, ভোররাতে ঠান্ডার পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পায় এবং দিনে আবহাওয়া বেশ গরম থাকে।
প্রকৃতিতে ঋতুবদলের আয়োজন চলছে। শরৎ শেষে হেমন্তকাল শুরু হয়েছে, এরপর শীতকাল আসবে। তবে প্রকৃতি এখনই শীতের আগমনি বার্তা জানাচ্ছে। শরতের কুয়াশায় সবুজ ঘাস ও ধানের পাতায় শিশির জমা হচ্ছে। দূর থেকে সবুজ ধানক্ষেত ও ঘাসের দিকে তাকালে মনে হয় যেন মুক্তার মতো শিশিরকণা জমে রয়েছে। সকালে সূর্যালোকে দুর্বাঘাস ও ফসলের পাতায় শিশিরবিন্দু ঝলমল করছে। ভোরের আকাশ কুয়াশায় ঢাকা পড়ে যাচ্ছে।
একই সঙ্গে বাজারে শীতকালীন শাকসবজির আগমন শুরু হয়েছে। তবে দাম কিছুটা বেশি। আগাম শীতে সবজি বিক্রি করে কৃষকরা অতিরিক্ত দাম পাচ্ছেন, যা তাদের জন্য সুখকর। লেপ-তোশকের কারিগররাও এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তবে লেপ-তোশক তৈরির খরচ বেড়ে গেছে। আগের মতো সস্তায় কারিগররা লেপ-তোশক তৈরি করতে পারছেন না। তুলা, কাপড় ও শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে যাওয়ার কারণে দোকানিরা লেপ-তোশক তৈরিতে বেশি খরচ দাবি করছেন।
আরও পড়ুন: রংপুরে ডাম্পট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় ৩ জন নিহত, ১৮ আহত
গ্রামে গ্রামে খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য গাছিরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাদের কদর বেড়ে গেছে। আগের মতো কম টাকায় খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য প্রস্তুতির কাজে রাজি হচ্ছেন না তারা।
গফরগাঁওয়ের গ্রামাঞ্চলে আগের মতো খেজুর গাছ দেখা যায় না। চারা রোপণে আগ্রহী মানুষের অভাবের কারণে এখানে খেজুরের চারা রোপণ কম হচ্ছে। এই কারণে গ্রামাঞ্চল থেকে খেজুর গাছ হারিয়ে যাচ্ছে।
শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে গফরগাঁওয়ের বিভিন্ন হাটবাজারে পিঠার দোকান বসতে শুরু করেছে। গ্রামের বেকার শ্রমজীবী মহিলারা পিঠা তৈরি করে মানুষের রসনা তৃপ্তি দিচ্ছেন। সঙ্গে থাকছে বিভিন্ন ধরনের ভর্তা। সকালে পিঠার স্বাদ নিতে অনেকে দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন।
পিঠা খেতে দোকানে আসা আবু বক্কর নামে একজন রিকশাচালক জানান, "সকালে পিঠা খেতে ভালো লাগে। তাই প্রতিদিন ভোরে পিঠা খেয়ে যাত্রীর সন্ধানে রিকশা নিয়ে বের হই।"
আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা, গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি, থানায় অভিযোগ
গফরগাঁও পৌর এলাকায় প্রাতঃভ্রমণকারী তপন খান নামে এক ওষুধ ব্যবসায়ী জানান, "গত এক সপ্তাহ ধরে সকালে হাঁটার সময় বেশ শীত অনুভূত হচ্ছে। সকালে মনে হচ্ছে শীতের দিন চলে এসেছে। তবে রাতে ফ্যানের প্রয়োজন হয় না। ফ্যান চালালে কাঁথা ব্যবহার করতে হয়।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন