০৩:৫৯ পি.এম
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন যে হামাস সম্পূর্ণ অস্ত্র সমর্পণ না করা পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী কোনোভাবেই পিছু হটবে না। গাজা যুদ্ধ বন্ধ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত একটি খসড়া প্রস্তাবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এই কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।
নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যে যুদ্ধবিরতি ও চুক্তি বাস্তবায়নের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এতে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে ইসরায়েলের মতপার্থক্যও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তৈরি প্রস্তাবটিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, হামাস অস্ত্র সমর্পণ শুরু করবে এবং ইসরায়েল হামলা বন্ধ করে গাজার দখলকৃত প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। তবে নির্বাচনের মুখে থাকা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানিয়ে দিয়েছেন যে সেনা প্রত্যাহারের আগে হামাসের পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণ ঘটাতে হবে।
একটি ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো খসড়ায় ইসরায়েল সম্মতি দেয়নি এবং তাদের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ও অবস্থান ইতোমধ্যেই মার্কিন প্রশাসনকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে গাজায় স্বজনদের আহাজারি ও মরদেহ উদ্ধারের হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে গাজার সাবরা এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধসে পড়া একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যার ৪০টি শিশু। গত মঙ্গলবার গাজাবাসীরা সেই হামলায় নিহত শতাধিক মানুষের গণজাজানা ও দাফন সম্পন্ন করেছেন, নিহতদের বেশির ভাগই হাসায়না ও আবু শরিয়া পরিবারের সদস্য ছিলেন।
আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ার দাবানলে বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া
সংঘাত শুরুর পর থেকে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও সাড়ে সাত হাজারের অধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক পদক্ষেপ সত্ত্বেও অঞ্চলটিতে নতুন করে নিহতের ঘটনা ঘটছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলছে। গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ বর্তমানে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন