শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৫৫ পি.এম
শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল এবং উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকা সহ মোট ৪২টি পূজামণ্ডপে ৮ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিজিবি সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির (পিএসসি)।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের কাইতকোনা পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে মণ্ডপ সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার সময় তিনি এই তথ্য জানান।
বিজিবি অধিনায়ক উল্লেখ করেন যে, দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার ৮ কিলোমিটারের মধ্যে ২২টি এবং ব্যাটালিয়ন সদরের ৩ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ২০টি পূজামণ্ডপ সহ মোট ৪২টি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির ৮টি প্লাটুন মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।
১৬ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বিজিবির এই দলগুলো সার্বক্ষণিক বিশেষ নজরদারি ও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এছাড়া, সীমান্তের দুর্গম এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি এবং নিয়মিত টহল পরিচালনার সুবিধার্থে একটি বিশেষ বেইস ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসন, পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে আমাদের নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সীমান্তে স্বাভাবিক নজরদারি ও চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি শারদীয় দুর্গাপূজায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে জননিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষায় সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (২৮ বিজিবি) সর্বদা বদ্ধপরিকর।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের নারী দলের সাবেক ব্যাটার পুনম রাউত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। জাতীয় দলের বাইরে দীর্ঘ সময় থাকার পর তিনি বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার কথা জানান।
২০০৯ সালে পুনমের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ভারতের হয়ে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে চারটি টেস্ট, ৭৩টি ওয়ানডে এবং ৩৫টি টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সব ফরম্যাটে মিলিয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সংগ্রহ ৩ হাজার ২৮২ রান।
২০২১ সালের অক্টোবরের পর পুনম আর ভারতের হয়ে খেলার সুযোগ পাননি। দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর তিনি এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন। তবে ২০১৭ সালের নারী বিশ্বকাপে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ভারতীয় ক্রিকেটে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে পুনমের টেস্টে ২৬৪, ওয়ানডেতে ২ হাজার ২৯৯ এবং টি-টোয়েন্টিতে ৭১৯ রান রয়েছে। ওয়ানডেতে তিনটি সেঞ্চুরি এবং টেস্টে একটি সেঞ্চুরি রয়েছে তার। এছাড়া, ওয়ানডেতে ১৫টি এবং টি-টোয়েন্টিতে চারটি অর্ধশতক করেছেন তিনি।
পুনমের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অধ্যায় ২০১৭ সালের নারী বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সেই আসরে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেন তিনি। টুর্নামেন্টে ৩৮১ রান করে ভারতের ফাইনালে ওঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন পুনম।
লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে তিনি ৮৬ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেছিলেন। তবে ভারত শেষ পর্যন্ত ৯ রানে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে। ওই বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে পুনম ১০৯ রানের ইনিংসও খেলেছিলেন। দীপ্তি শর্মার সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে গড়েছিলেন ৩২০ রান, যা নারী ওয়ানডেতে একটি রেকর্ড জুটি হিসেবে পরিচিত।
অবসরের বার্তায় পুনম নিজের ক্রিকেটযাত্রার নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি মুম্বাইয়ের ক্রিকেটের পরিসর থেকে ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলার পুরো পথচলাকে আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন।
বিদায়বার্তায় পুনম লেখেন, "মুম্বাইয়ের রাস্তা থেকে ভারতীয় জার্সি পরা পর্যন্ত এই যাত্রা আশীর্বাদের চেয়ে কম কিছু ছিল না। এই সফরে ছিল অনেক ত্যাগ, লড়াই, কখনো না ভোলার মতো জয় এবং কঠিন শিক্ষা, যে মুহূর্তগুলো সারা জীবন আগলে রাখব।"
ভারতের প্রতিনিধিত্ব করাকে তিনি কেবল স্বপ্নপূরণ নয়, বিশেষ সৌভাগ্য হিসেবেও দেখেন। জাতীয় দলের হয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ তিনি গর্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছিলেন বলে জানান।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অধ্যায় শেষ করার মুহূর্তে পুনম পাশে থাকা মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তার ওপর আস্থা রাখা, সহযোগিতা করা এবং ক্রিকেটজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সমর্থন জোগানো প্রত্যেকের অবদান স্মরণ করেছেন তিনি।
অবসরের পর ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকার আগ্রহও জানিয়েছেন পুনম। খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ হলেও তিনি ক্রিকেটকে কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নতুন ইনিংস শুরু করতে চান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির উলটো দিকের ফুটপাতসংলগ্ন দেয়ালে গুণী ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি আঁকা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের অংশ হিসেবে এটি করা হয়েছে। সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, ফকির লালন শাহ, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় ও অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদিসহ ১০ জন গুণী ব্যক্তির প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছে, যার মধ্যে সঞ্জীব চৌধুরীও ছিলেন।
তবে হঠাৎ করেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন সাংবাদিক, কবি, গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী সঞ্জীব চৌধুরী। তার ছবি মুছে ফেলা হয়েছে। নতুন করে সেখানে যুক্ত হয়েছে বেগম রোকেয়া, কবি জীবনানন্দ দাশ ও জসীম উদ্দীনের প্রতিকৃতি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সঞ্জীব চৌধুরীকে নিয়ে ফেসবুকে আবেগঘন কথা লিখেছেন অনেকে। সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদারও তাদের মধ্যে একজন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) নিজের ফেসবুকে সঞ্জীব চৌধুরীকে স্মরণ করে বাপ্পা লেখেন, ‘সঞ্জীব দা....আপনি মানুষের হৃদয়ে .... ওটাই সব চেয়ে বড় স্থান ...।’
এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার জানান, প্রথমে কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও পরে অন্যদের বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সঞ্জীব চৌধুরীর প্রতিকৃতি আঁকা হলে আজম খান ও আইয়ুব বাচ্চুর মতো শিল্পীদের ছবি কেন থাকবে না, এমন প্রশ্নও সামনে আসে।
তিনি জানান, সঞ্জীব চৌধুরী, আইয়ুব বাচ্চু, আজম খানসহ নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের প্রতিকৃতি অন্য কোনো জায়গায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে ডিএসসিসির।
প্রতিকৃতি নির্বাচনের বিষয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, এটি কারও একক সিদ্ধান্ত নয়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা আলোচনা করে সাংস্কৃতিক অবদান বিবেচনায় প্রতিকৃতি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শিল্পকলা একাডেমিসংলগ্ন এলাকা হওয়ায় সেখানে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবদান রাখা ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
সবাইকে একই জায়গায় স্থান দেওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যে কোনো উদ্যোগের সবকিছু সবার পছন্দ হবে না।’ তবে অধিকাংশ মানুষ ইতিবাচকভাবে দেখলে কাজটি এগিয়ে নেওয়ার উৎসাহ পাওয়া যায় বলেও জানান তিনি।
গত ৫ অক্টোবর ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম শিল্পকলা একাডেমিসংলগ্ন ফুটপাতের দেয়ালে সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন করেন। এর পাঁচদিনের মাথায় গত ১০ অক্টোবর দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি বিকৃত ও নষ্ট করার চেষ্টার ঘটনায় এক নারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্তের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘জেলার ২’ মুক্তির প্রথম দিনেই বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে। গতকাল ১৫ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া এই গ্যাংস্টার ড্রামা বিশ্বব্যাপী আয় করেছে ১২৫ কোটি ২৫ লাখ রুপি। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দুর্দান্ত সূচনা হলেও ভারতের বক্স অফিসে রজনীকান্তের নিজেরই আরেক সিনেমা ‘কুলি’র উদ্বোধনী দিনের রেকর্ড ভাঙতে পারেনি ছবিটি।
বক্স অফিসের হিসাব অনুযায়ী, মুক্তির প্রথম দিনে ভারতে ১৬ হাজার ৫৯৯টি প্রদর্শনী থেকে ‘জেলার ২’ আয় করেছে ৫৯ কোটি ৭০ লাখ রুপি নেট। করসহ ছবিটির মোট আয় বা গ্রস সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৭০ কোটি ২৫ লাখ রুপি। অন্যদিকে, রজনীকান্তের ‘কুলি’ প্রথম দিনেই ভারতের বাজারে ৬৫ কোটি রুপি নেট আয় করেছিল। ফলে আপাতত অভিনেতার ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ডটি ‘কুলি’র দখলেই থাকছে।
ভারতের বাজারে প্রত্যাশিত রেকর্ড গড়তে না পারলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভালো ব্যবসা করেছে ‘জেলার ২’। বিদেশের বাজার থেকে প্রথম দিনেই ছবিটির সংগ্রহ ৫৫ কোটি রুপি। আর তাতেই বিশ্বব্যাপী প্রথম দিনের মোট গ্রস আয় ১২৫ কোটি ২৫ লাখ রুপিতে পৌঁছেছে।
ভাষাভিত্তিক আয়ের হিসাবে এগিয়ে রয়েছে ছবিটির তামিল সংস্করণ। প্রথম দিনে ৯ হাজার ৩২৬টি প্রদর্শনী থেকে এই সংস্করণের আয় ৪৩ কোটি ৩৫ লাখ রুপি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে তেলুগু সংস্করণ। দুই হাজার ৭৯২টি প্রদর্শনী থেকে সেটি আয় করেছে ১২ কোটি ৫০ লাখ রুপি।
অন্যদিকে, উত্তর ভারতের বাজারে হিন্দি সংস্করণের মুক্তি নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়। পিভিআর-আইনক্সের সঙ্গে ওটিটি মুক্তির সময়সীমা নিয়ে বিরোধের কারণে হিন্দি সংস্করণের প্রদর্শনী ব্যাহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এরপরও ৪ হাজার ৩৭১টি প্রদর্শনী থেকে হিন্দি সংস্করণ আয় করেছে ৩ কোটি ৫০ লাখ রুপি। কন্নড় সংস্করণ থেকে এসেছে আরও ৩৫ লাখ রুপি।
সান পিকচার্সের ব্যানারে কালানিথি মারানের প্রযোজনায় নির্মিত ‘জেলার ২’ সিনেমায় রজনীকান্তের সঙ্গে অভিনয় করেছেন রামিয়া কৃষ্ণান, এস জে সুরিয়া, মোহনলাল, বিদ্যা বালান, সুরজ ভেঞ্জারমুডু ও মিঠুন চক্রবর্তীর মতো তারকারা।
মুক্তির পর সিনেমাটি নিয়ে দর্শক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। প্রথম দিনের বিশ্বব্যাপী আয়ের অঙ্কও ছবিটির প্রতি দর্শকের আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে ভারতের বাজারে রজনীকান্তের নিজের রেকর্ড ভাঙতে না পারায় বক্স অফিসের আলোচনায় আপাতত এগিয়ে থাকছে ‘কুলি’।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘সারের ডিলারশিপ না দেন, বিষের ডিলারশিপ দেন-ত্যাগী কর্মীরা মরে যাক’ এই মন্তব্যটি করেছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হান ফেরদৌস সজীব।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই কথা বলেন।
বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের সার ডিলারশিপ না পাওয়ার কারণে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে রায়হান এই মন্তব্য করেছেন। তার মন্তব্যটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
রায়হান ফেরদৌস ‘সজীব রায়হান ট্রেডার্সের’ মালিক। তিনি দাবি করেছেন, বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের সার ডিলারশিপের জন্য সুপারিশে তার নাম দ্বিতীয় স্থানে ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেসার্স বিদ্যানন্দ ট্রেডার্সের মালিক মোস্তফা জামাল ডিলারশিপটি পান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ফেসবুকে ওই মন্তব্যটি করেন।
সজীবের অভিযোগ, মোস্তফা জামাল এবং তার পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার পরও তিনি ডিলারশিপ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
তবে মেসার্স বিদ্যানন্দ ট্রেডার্সের মালিক মোস্তফা জামাল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এগুলো সব মিথ্যা। আমি ও আমার পরিবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না।’
ডিলারশিপ পরিচালনা নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা জামাল বলেন, হারুন উর রশীদ তার জন্য কিছু কথা বলেছিল। তার নামে ডিলারশিপ রয়েছে এবং তিনি তা পরিচালনা করবেন।
রায়হান ফেরদৌস সজীব দাবি করেছেন, তিনি প্রায় ১৭ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। ২০১১ সালে বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ২০১৩ সালে রাজারহাট উপজেলা ছাত্রদলের কোষাধ্যক্ষ এবং ২০২১ সাল থেকে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২২ সালে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের জিয়া মঞ্চের সহসভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন বলে জানান তিনি।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন সময় হামলা-মামলার শিকার হওয়ার দাবি করেছেন সজীব। তার ভাষ্য, ২০১৩ সালে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় করা একটি মামলায় তিনি আসামি হন। ২০১৭ সালে রাজারহাট সোনালী ব্যাংক চত্বরের সামনে যাওয়ার সময়ও হামলার শিকার হন বলে দাবি করেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে কোমরের ব্যথায় ভুগছেন সজীব। তিনি জানান, বাংলাদেশে রংপুর ও ঢাকায় চিকিৎসা নিয়েছেন। পরে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসার জন্য ২০২০ সালে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে চিকিৎসা নিতে পারেননি। বর্তমানে আবারও উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার দাবি, অসুস্থতার কারণে দৌঁড়াতে পারেন না; তবুও বিএনপির কোনো দলীয় কর্মসূচি বাদ দেননি।
সজীব আরও বলেন, আমি একজন জুলাই যোদ্ধা। ১৭ বছর ধরে বিএনপির জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করলাম। বিএনপি সরকার ক্ষমতায়, কিন্তু আমি বিএনপি করেও ডিলারশিপ পেলাম না। অথচ আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা ডিলারশিপ পায় কিভাবে?
এদিকে স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ডিলারশিপ মোস্তফা জামালের নামে থাকলেও ব্যবসাটি নিয়ন্ত্রণ করছেন বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন উর রশীদ। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হারুন উর রশীদ। তিনি বলেন, সবাই কেন জানি এটাই ভাবছেন।
তার দাবি, ডিলারশিপের সব কাগজপত্র মোস্তফা জামালের নামে এবং ডিলারশিপও তিনিই পেয়েছেন।
এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় বলেন, ‘সরেজমিন তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছিল। সার ডিলারশিপ নিয়োগ কমিটিতে আমিও আছি, আরও অনেকে আছেন। সবার সুপারিশক্রমে যাকে ভালো মনে হয়েছে, তাকেই দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ