০৩:৪০ পি.এম
বরিশাল, ২ অক্টোবর, ২০২৬ : আদালতের নির্দেশে প্রশাসনের উদ্যোগে ৪৩ বছর পর জমির প্রকৃত মালিককে জমি উদ্ধার করে দেওয়া হয়েছে। জালিয়াতি করে জবর দখল করা জমি ৪৩ বছর পর আদালতের নির্দেশে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় মূল মালিককে বুঝিয়ে দিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
বরিশালের বগুরা আলেকান্দা মৌজার সাড়ে ১৪ শতাংশ জমি দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে মালেক গং জোরজবরদস্তি দখল করে রেখেছিল। একাধিক মামলায় জমির প্রকৃত মালিক আব্দুল হাই বাপ্পি রায় পেলেও ক্ষমতার দাপটে মালেক গং জমির ভোগদখল করতে দেয়নি। নিম্ন আদালত থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৩ বছর আইনি লড়াই শেষে অবশেষে জমির প্রকৃত মালিক তার জমি বুঝে পেলেন।
বরিশাল নগরীর মল্লিক রোডে গতকাল বৃহস্পতিবার বরিশালের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে জালিয়াতি চক্রকে উচ্ছেদ করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে সাজসজ্জায় দেবালয়ের পরেই কৈলাশ পূজামণ্ডপ
এ বিষয়ে জমির মালিক আব্দুল হাই বাপ্পি বলেন, "আমি দীর্ঘ ৪৩ বছর জজ কোর্ট, হাই কোর্ট, সুপ্রিমকোর্ট এবং সুপ্রিমকোর্টের আপিল ডিভিশন এবং রিভিউ খারিজ হওয়ার পরে জেলা প্রশাসনের এডিএম কোর্টে উচ্ছেদের মামলা করে আমার জমি আমি ফিরে পেয়েছি।"
তিনি আরও বলেন, "আজকে এই জমি ফিরে পাওয়ার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এজন্য আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এই ধরনের ভূমি জালিয়াতি চক্রের বিচার দাবি করছি।"
উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকালে বরিশাল সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলাম বলেন, "বরিশালের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে আজকে মল্লিক রোডের সাড়ে ১৪ শতক জমি মূল মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট এই ভূমি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল আমরা সেই মোতাবেক কার্যক্রম পরিচালনা করি, কিন্তু এখানে দীর্ঘদিন যারা ভোগ দখল করে আসছিল তাদের অভিযোগ ছিল তারা কোনো নোটিশ পায়নি। তাই তাদের ১ মাস সময় দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তারা কোনো নোটিশ রিসিভ করেননি। তাই আদালতের নির্দেশ আজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমার চাকরির অভিজ্ঞতায় আজ পর্যন্ত শুনিনি কেউ নোটিশ পেয়েছেন। তারা সবসময়ই একটা কমন ডায়লগ দেন আমরা কোনো নোটিশ পাইনি। এখানেও সেটাই হয়েছে।"
আরও পড়ুন: পানির মধ্যেই ঢালাই, বের হয়ে গেছে রড: কাঠালিয়ায় বিএডিসির স্লুইসগেট নির্মাণে অনিয়ম
তারপরও আমি নিজে ১ মাস সময় দেওয়ার পরও বলছে তারা কোনো নোটিশ পায়নি। এই উচ্ছেদ অভিযানে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরাসহ কোতোয়ালি থানার ওসি তদন্ত উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন