১১:৫৯ পি.এম
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) অধীনে নির্মাণাধীন একটি স্লুইসগেটের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও নির্মাণবিধি অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অমান্য করে জোয়ারের পানির মধ্যে সরাসরি ঢালাই দেওয়ায় কাজ শেষ হওয়ার আগেই ভেতরের রড বেরিয়ে পড়েছে। এতে প্রকল্পটির স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
উপজেলার আমুয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বাঁশবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এই স্লুইসগেটটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দারা স্লুইসগেটের নির্মাণকাজের বিভিন্ন ক্রুটি ও অনিয়ম হাতেনাতে দেখিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তাদের অভিযোগ, কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে জোয়ারের পানির মধ্যেই প্রায় তিন ফুট ওপর থেকে সরাসরি সিসি ঢালাই ফেলা হয়েছে। ফলে পানির তোড়ে সিমেন্ট-বালু ধুয়ে খোয়া সরে গেছে এবং ভেতরের রডগুলো পুরোপুরি বেরিয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের আশঙ্কা, সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে যথাযথ মান বজায় না রাখায় স্লুইসগেটটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে। এতে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে ত্রুটিপূর্ণ কাজ বন্ধ করে পুরো ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন: মন্দিরে অর্থ সহায়তা করলেন আলিনগর ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী কাওসার হাওলাদার
তবে অনিয়মের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাদের দাবি, নির্মাণকাজে কোনো ধরনের গাফিলতি করা হচ্ছে না। এমনকি স্থানীয়রা যে স্থানে ঢালাই ভেঙে রড বেরিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন, সেখানে কোনো সিসি ঢালাই দেওয়াই হয়নি বলে দাবি তাদের।
স্লুইসগেটটির নির্মাণকাজের অগ্রগতি, প্রকল্পের বরাদ্দের পরিমাণ এবং স্থানীয়দের প্রকাশ্য অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিএডিসির ঝালকাঠির সহকারী প্রকৌশলী মো. জামাল উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। এমনকি তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
বিএডিসির ঝালকাঠি জেলা কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারাও এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারি এই প্রকল্পের হরিলুট বন্ধ করে দ্রুত তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আরও পড়ুন: আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ১১ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহায়তা দিলেন মেয়র পদপ্রার্থী আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন