ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কৃষ্ণসাগরে রুশ ড্রোন হামলায় বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবি, নিহত ২


কৃষ্ণসাগরে রুশ ড্রোন হামলায় বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবি, নিহত ২

কৃষ্ণসাগরে রুশ ড্রোনের হামলার ফলে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আগুন লেগে সেটি ডুবে গেছে। এই ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। রোমানিয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, জাহাজটির ১১ জন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে। খবরটি এনডিটিভি থেকে জানা যায়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, নিরপেক্ষ জলসীমায় তুরস্কের মালিকানাধীন একটি বেসামরিক জাহাজে দুটি রুশ ড্রোনের দ্বারা ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। উল্লেখ্য, জাহাজটি ভুট্টা বহন করছিল।

তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ কোরিয়ায় ধর্মীয় নেতার ৩৩ বছরের কারাদণ্ড যৌন নিপীড়নের অভিযোগে

রোমানিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, স্থানীয় সময় সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে কোস্টগার্ডকে বিষয়টি জানানো হয়। জাহাজটি রোমানিয়ার একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবস্থান করছিল। এটি তুলচা কাউন্টির স্ফানতুল জর্জ থেকে প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল বা ৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে ছিল।

আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে মন্ত্রণালয় কিছু জানায়নি। তবে রোমানিয়ার কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কের একটি শস্যবাহী জাহাজ কৃষ্ণসাগরের একটি তেল প্ল্যাটফর্মের দক্ষিণ-পূর্বে ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য নিশ্চিত করেনি।

রোমানিয়ার নৌ কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘রোয়াদ মাম্মাদভ’ নামের জাহাজটিতে আগুন লেগেছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, এটি সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের পতাকাবাহী একটি সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজ। ইউক্রেনের ইজমাইল বন্দর থেকে জাহাজটির ইতালি যাওয়ার কথা ছিল।

রোমানিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জাহাজটির ১১ জন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে দুজনের মরদেহও পাওয়া যায়। আহত কয়েকজনকে হেলিকপ্টারে করে জরুরি চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইয়েমেনের সেনা ঘাঁটিতে হুথিদের হামলায় নিহত ২০

জেলেনস্কি জানান, জাহাজটিতে আজারবাইজান ও ভারতের নাগরিকরা ছিলেন। জাহাজটির ক্যাপ্টেন নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন ক্রুর ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, কৃষ্ণসাগরে উত্তেজনা কমানো ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউক্রেন বারবার সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছে। তৃতীয় কয়েকটি দেশও এ বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু রাশিয়া স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচলের পরিবর্তে সন্ত্রাস ও বেসামরিক জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার পথ বেছে নিচ্ছে।

২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে কৃষ্ণসাগর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ হিসেবে বাড়তি নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এর আগে গত মাসে কৃষ্ণসাগরে নেপচুন ডিপ গ্যাস প্ল্যাটফর্মের কাছে বিস্ফোরক বহনকারী একটি নৌড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর সেটি ধ্বংস করতে রোমানিয়া দুটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছিল। রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটির নৌবাহিনী কৃষ্ণসাগরে ভেসে থাকা নয়টি সমুদ্র মাইন ধ্বংস করেছে।

আরও পড়ুন: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির ফোনালাপ মিসর ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সউদী উপকূলে মার্কিন নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার নিখোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০৮ এম


সউদী উপকূলে মার্কিন নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার নিখোঁজ

সউদী আরবের উপকূলের নিকটে লোহিত সাগরের ওপর মার্কিন নৌবাহিনীর একটি এমএইচ-৬০আর সিহক হেলিকপ্টার জরুরি সংকেত পাঠানোর পর ফ্লাইট-ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছে। হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিএনেরও নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সউদী উপকূলের কাছে উড্ডয়নরত হেলিকপ্টারটি প্রায় ৪৭৫ ফুট উচ্চতায় অবস্থান করার সময় জরুরি সংকেত পাঠায়। এরপর এর প্রদর্শিত উচ্চতা শূন্যে নেমে আসে এবং হেলিকপ্টারটি রাডার ও ফ্লাইট-ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হেলিকপ্টারটির কলসাইন ছিল ভিভিএইচআর৫১২। স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে এটি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। তবে জরুরি সংকেত পাঠানোর কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানা যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, হেলিকপ্টারটি লোহিত সাগরে বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু এসব দাবির পক্ষে এখনো কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

মার্কিন নৌবাহিনী এখনও এই ঘটনার বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। হেলিকপ্টারটির আরোহীদের সংখ্যা, তাদের অবস্থা অথবা জরুরি অবস্থা ঘোষণার কারণ সম্পর্কেও কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

এমএইচ-৬০আর সিহক মার্কিন নৌবাহিনীর বহুমুখী সামুদ্রিক হেলিকপ্টার। এটি সাবমেরিনবিরোধী এবং নৌযানবিরোধী অভিযানে, অনুসন্ধান ও উদ্ধার, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অন্যান্য সামুদ্রিক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়। তথ্যসূত্র: তাস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তারকাদের বিচ্ছেদে ভক্তদের মন ভেঙে পড়ার কারণ জানালেন মনোবিজ্ঞানীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০৮ এম


তারকাদের বিচ্ছেদে ভক্তদের মন ভেঙে পড়ার কারণ জানালেন মনোবিজ্ঞানীরা

ভক্তরা তারকাদের প্রেম, বিয়ে এবং সুখী সংসারের ছবি দেখে অনেক সম্পর্ককে বিশেষ মনে করেন। কিন্তু যখন সেই সম্পর্কের বিচ্ছেদের খবর আসে, তখন শুধু সংশ্লিষ্ট তারকারাই নয়, তাদের অসংখ্য ভক্তও হতাশ হয়ে পড়েন। সম্প্রতি প্রীতম হাসান এবং শেহতাজ মুনিরা হাশেমের বিচ্ছেদের খবর নতুন করে সেই আলোচনাকে সামনে এনেছে।

১০ বছরের সম্পর্কের পর আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রীতম ও শেহতাজ। তাদের মধ্যে প্রায় চার বছর দাম্পত্য জীবন কাটানো হয়েছে। বিচ্ছেদের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তরা পুরোনো ছবি ও স্মৃতি ভাগ করে নিচ্ছেন। চলতি বছর গায়ক ও অভিনেতা তাহসান খান এবং রোজা আহমেদের বিচ্ছেদের খবরও আলোচনায় এসেছে।

এদিকে মিথিলা ও সৃজিত মুখার্জির সম্পর্ক নিয়েও বিভিন্ন সময় আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘদিন একসঙ্গে দেখা না হওয়ায় তাদের বিচ্ছেদ নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও, দুজনের পক্ষ থেকে বিচ্ছেদের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে বিষয়টি এখনো গুঞ্জনের পর্যায়েই রয়ে গেছে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, তারকাদের সম্পর্ক ভেঙে গেলে ভক্তদের মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতে পারে। কারণ অনেকেই তারকাদের জীবনকে বাইরে থেকে নিখুঁত এবং সুখী হিসেবে দেখেন। ফলে যখন সেই সম্পর্ক টেকে না, তখন নিজের সম্পর্ক নিয়েও অনেকে প্রশ্ন করতে শুরু করেন। বিশেষজ্ঞরা কার্যকর যোগাযোগ, পারস্পরিক আস্থা এবং প্রতিশ্রুতিকে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্পর্কের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। অনলাইনে সাজানো সুখী জীবনের ছবি দেখে বাস্তব জীবনের সঙ্গে তুলনা করা, অতিরিক্ত ভার্চুয়াল যোগাযোগ এবং পুরোনো বার্তা বা ছবি ঘিরে তৈরি হওয়া দ্বন্দ্ব সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই তারকাদের বিচ্ছেদের খবর শুধুমাত্র বিনোদনের বিষয় নয়, বরং মানুষের সম্পর্ক ও প্রত্যাশা নিয়েও নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্ত্রী হত্যার দায়ে সাবেক ‘আমেরিকান আইডল’ প্রতিযোগী ক্যালেব ফ্লিনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০৯ এম


স্ত্রী হত্যার দায়ে সাবেক ‘আমেরিকান আইডল’ প্রতিযোগী ক্যালেব ফ্লিনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত সাবেক ‘আমেরিকান আইডল’ প্রতিযোগী ও সংগীত যাজক ক্যালেব ফ্লিনকে তার স্ত্রীকে হত্যার জন্য আমৃত্যু কারাদণ্ডের শাস্তি প্রদান করেছে। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, "আমি আমার স্ত্রীকে হত্যা করিনি।"

৪০ বছর বয়সী ক্যালেব ফ্লিনকে গত সপ্তাহে তার স্ত্রী অ্যাশলি ফ্লিনকে হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সোমবার (৫ অক্টোবর) তাকে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অ্যাশলি ফ্লিন ছিলেন ৩৭ বছর বয়সী একজন স্কুলশিক্ষক ও ভলিবল প্রশিক্ষক। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওহাইওর ডেটন এলাকার নিজ বাড়িতে গুলিতে নিহত হন তিনি। ঘটনার সময় ফ্লিন ও তাদের দুই মেয়ে বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, অ্যাশলি যখন বিছানায় ছিলেন এবং আত্মরক্ষার সুযোগ ছিল না, তখন ফ্লিন তাকে গুলি করেন। এরপর তিনি তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার জন্য একটি নাটক সাজান, যেখানে দাবি করেন যে বাড়িতে ডাকাত বা হামলাকারী ঢুকেছিল।

পুলিশকে ফোন করে ফ্লিন বলেছিলেন, "কেউ বাড়িতে ঢুকে গুলি চালিয়েছে।" তিনি তদন্তকারীদের জানান, ঘটনার সময় তিনি বসার ঘরের সোফায় ঘুমাচ্ছিলেন এবং গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে বিষয়টি জানতে পারেন।

এছাড়া, হত্যার এক দিন আগে এক ব্যক্তি তাদের বাড়িতে এসে অ্যাশলির হাতে একটি মার্কিন পতাকা দিয়ে "আমেরিকা নিয়ে অদ্ভুত বিক্রির কথা" বলেছিল বলেও দাবি করেছিলেন ফ্লিন।

তবে আদালতে ফ্লিনের প্রেমিকা অ্যালেইঘা বটনার ভিন্ন তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান, ফ্লিন তার স্ত্রীকে ঘৃণা করার কথা বলেছিলেন এবং তাকে হত্যার চিন্তাও করতেন।

প্রসিকিউটররা আদালতে ফ্লিন ও বটনারের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া এক লাখের বেশি বার্তার তথ্য উপস্থাপন করেন। একই সঙ্গে, বটনারকে উদ্দেশ্য করে ফ্লিন তৈরি করেছিলেন বলে দাবি করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি কিছু ভালোবাসার গানও জুরিদের শোনানো হয়।

মামলার শুনানিতে বিচারক জিনিন প্র্যাট মন্তব্য করেন, ফ্লিন সমাজের জন্য উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করেন। সাজা ঘোষণার আগে তিনি বলেন, "প্রতারণা, কারসাজি ও নিষ্ঠুরতার যে স্তর এই ঘটনায় দেখা গেছে, তা বোঝা কঠিন।" বিচারক আরও বলেন, ফ্লিন নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস ব্যবহার করে অন্যদের জীবন নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবিত করেছেন।

সাজার সময় ফ্লিন কাঁদতে কাঁদতে নিজের পরিবার ও অ্যাশলির পরিবারের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, "আমি আমার স্ত্রীকে ভালোবাসতাম এবং শেষ পর্যন্ত নিজের নির্দোষ প্রমাণের জন্য লড়াই করে যাব।"

ফ্লিন তার দুই মেয়েকেও ক্ষমা চান। তিনি জানান, "মেয়েরাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ।"

তবে আদালতে উপস্থিত না থাকা দুই মেয়ের লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনানো হয়। তাদের বয়স ছিল ৯ ও ১১ বছর, যখন তাদের মা নিহত হন।

মেয়ে আলিসার চিঠিতে বাবার উদ্দেশে বলা হয়, সে তাকে গভীরভাবে ভালোবাসে। তবে বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সে জানায়, তিনি শুধু নিজেকেই ভালোবাসার মতো আচরণ করেছেন।

অন্য মেয়ে আভা লিখেছে, বাবার বিচারসংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারবার দেখতে হচ্ছে। বাবাকে কষ্ট পেতে দেখে তার কষ্ট হলেও, মাকে হত্যা এবং পরকীয়ার সিদ্ধান্ত বাবাই নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করে সে।

দুই মেয়েই তাদের বাবাকে মাকে হত্যার কথা স্বীকার করার আহ্বান জানায়। তাদের দাদা-দাদি, মামা ও খালাসহ পরিবারের সদস্যরা জানান, ধর্মীয় বিশ্বাসই তাদের এই শোক কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করছে।

অ্যাশলি ফ্লিনের বোন কায়লা কেইট আদালতে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, ফ্লিনের এমন ভয়াবহ সহিংসতায় পরিবারের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার বিষয়টি জানার পর তারা এখনো সেই ধাক্কা ও হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারেননি।

তিনি বলেন, "আমরা আপনাকে বিশ্বাস করেছিলাম। আপনার ওপর আস্থা রেখেছিলাম। সত্যি বলতে, আপনার জন্য আমরা নিজেদের জীবনও দিয়ে দিতে প্রস্তুত ছিলাম।"

মিয়ামি কাউন্টির প্রসিকিউটর পল ওয়াটকিনস আদালতে বলেন, ঘটনাটি ছিল ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত, যার ফলে একটি অপূরণীয় জীবন শেষ হয়েছে এবং পরিবারে স্থায়ী ধ্বংস নেমে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, ফ্লিন এখন পর্যন্ত নিজের দায় স্বীকার করেননি এবং যে জীবন তিনি শেষ করেছেন, তার জন্য প্রকৃত অনুশোচনাও প্রকাশ করেননি।

তবে সাজা ঘোষণার দিনও ফ্লিন নিজের নির্দোষ দাবি করে বলেন, তিনি স্ত্রীকে হত্যা করেননি এবং যতদিন সৃষ্টিকর্তা তাকে সুযোগ দেবেন, ততদিন নিজের নির্দোষ প্রমাণের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত ভাগের ৭০ বছর পর আসাম থেকে ঢাকার পথে প্রথম কার্গো জাহাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০৯ এম


ভারত ভাগের ৭০ বছর পর আসাম থেকে ঢাকার পথে প্রথম কার্গো জাহাজ

ভারতের আসাম রাজ্যের ডিব্রুগড়ের বগিবিল টার্মিনাল থেকে ৫৪০ মেট্রিক টন মিথানল নিয়ে একটি কার্গো জাহাজ ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। এই ঘটনাটি ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের প্রায় ৭০ বছর পর আসাম থেকে প্রথমবারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক বন্দরে সরাসরি পণ্য পরিবহনের সূচনা করেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ঐতিহাসিক এই নৌপথের শুভ উদ্বোধন করেন ভারতের কেন্দ্রীয় বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল। অনুষ্ঠানে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া রাজ্য সরকারের একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ‘আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেড’-এর (এপিসিএল) নামরূপ কারখানায় উৎপাদিত এই মিথানল বাংলাদেশের ঢাকার পানগাঁও নৌবন্দরের উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছে। জাহাজটি ব্রহ্মপুত্র নদের ‘জাতীয় জলপথ-২’ দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ৭৬৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে। এরপর ‘ভারত-বাংলাদেশ প্রোটোকল রুট’ (আইবিপিআর) ধরে চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছাবে। বগিবিল থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত পণ্যবাহী জাহাজটিকে মোট এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার নৌপথ অতিক্রম করতে হবে।

এই যাত্রাকে মূলত উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের সংযোগ স্থাপনে ব্রহ্মপুত্র নদ কতটা বাণিজ্যিকভাবে উপযোগী, তা পরখ করে দেখার পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সর্বানন্দ সোনওয়াল বলেন, ‘আমাদের দাদা-দাদিরা ডিব্রুগড় ঘাটে স্টিমারের সিটি শুনে বড় হয়েছেন। দীর্ঘ ৭০ বছর সেই সিটি বন্ধ ছিল, জাহাজ আসাও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আজ আবারও ডিব্রুগড় থেকে বিশ্বের উদ্দেশে জাহাজ যাত্রা করল। নদী আমাদের কখনোই প্রতারিত করেনি, অভাব ছিল শুধু এটি পুনরুজ্জীবিত করার রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তির।’

একসময় পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যস্ত নদীবন্দর ছিল ডিব্রুগড়। ১৮৫৬ সালের মধ্যেই তৎকালীন কলকাতা থেকে সরকারি স্টিমারগুলো এখানে পৌঁছাত। ১৮৮২ সালে ডিব্রুগড় স্টিমার ঘাট থেকে চালু হয় ‘ডিব্রু-সাদিয়া রেলওয়ে’। ১৯১৩ সালের মধ্যে চা, কাঠ ও যাত্রী নিয়ে প্রতিদিন স্টিমার চলাচল করত এই ঘাটে।

তবে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এই ঐতিহ্যবাহী নৌপথকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ফলে আসামের পণ্য কলকাতায় পৌঁছাতে বাংলাদেশের ওপর নির্ভর করতে হতো। এরপর ১৯৫০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ডিব্রুগড়ে নদীর তলদেশ পরিবর্তিত হয়ে যায়। ধীরে ধীরে চা পরিবহন রেলপথে স্থানান্তরিত হওয়ায় ১৯৫৪ সালে ডিব্রুগড় ঘাট থেকে নিয়মিত বুকিং বন্ধ হয় এবং ১৯৫৬ সালের ১৫ অক্টোবর ঘাটটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এর দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে, ১৯৭২ সালে ভারত ও বাংলাদেশ একটি নদী বাণিজ্য প্রোটোকল স্বাক্ষর করে। ১৯৮৮ সালে সাদিয়া থেকে ধুবড়ী পর্যন্ত ৮৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্রহ্মপুত্র নদকে ‘জাতীয় জলপথ-২’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%