ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

অনিয়মের অভিযোগে তিন রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল, জামানত জব্দ


অনিয়মের অভিযোগে তিন রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল, জামানত জব্দ

উচ্চ বেতন ও নানাবিধ সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণামূলকভাবে রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ৩০ জন বাংলাদেশি যুবককে পাঠানোর অভিযোগে সরকার তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছে। একই সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর জামানতও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর নির্দেশে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনটি লাইসেন্স বাতিল হওয়া এজেন্সির নাম— আর এস ইন্টারন্যাশনাল (আরএল-১৪২৮), জাবাল-ই-নূর (আরএল-২৫০৫) এবং টিএস ওভারসিস লিমিটেড (আরএল-১৭৫৫)।

ভুক্তভোগী যুবকদের দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক চ্যানেলে জোর তৎপরতা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মস্কোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে জরুরি ভিত্তিতে ফোন করে ভুক্তভোগীদের সার্বিক সুরক্ষা এবং নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

আরও পড়ুন: দাঁড়িপাল্লার বিজয়ে তৎপর জামায়াতসহ ১১ দল

এ বাসায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশের নাগরিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে প্রতারণামূলকভাবে বিদেশে পাঠানোর মতো জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত কোনো চক্র, সংস্থা বা ব্যক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, কোনো এজেন্সির অসততার কারণে আমাদের সম্ভাবনাময় বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেয়া যাবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা রোধে তদারকি আরও জোরদার করার কথা জানান তিনি।

তিনি যোগ করেন, যেকোনো রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে টাকা লেনদেন বা বিদেশে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বৈধতা এবং কাজের শর্তাবলি মন্ত্রণালয় বা জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে যাচাই করে নেওয়ার জন্য পুনরায় আহ্বান জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১০ জন নিয়ে খেলেও প্রবাসী ফুটবলারে সমৃদ্ধ পাকিস্তানকে রুখে দিল বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৩৮ পি.এম


১০ জন নিয়ে খেলেও প্রবাসী ফুটবলারে সমৃদ্ধ পাকিস্তানকে রুখে দিল বাংলাদেশ

প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে গড়া পাকিস্তানকে ১০ জনের বাংলাদেশ রুখে দিয়েছে। চার জাতি টুর্নামেন্টে পাকিস্তান তাদের মূল জাতীয় দল নিয়ে খেলছে, যে দলে রয়েছে ১৩ জন প্রবাসী ফুটবলার। অন্যদিকে, সম্পূর্ণ স্থানীয় খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২৩ দল শক্তিমত্তায় পিছিয়ে রয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ নিজেদের রক্ষণ সামলে খেলার কৌশল নিয়েছিল।

ম্যাচের এক পর্যায়ে বাংলাদেশের দল ১০ জনে পরিণত হলে হারের শঙ্কা জাগে, তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ড্র নিয়েই মাঠ ছেড়ে যায়। এটি একটি বিস্ময়কর অর্জন বাংলাদেশের জন্য।

সোমবার (১ জুন) মালদ্বীপের জাতীয় স্টেডিয়ামে ডায়মন্ড জুবিলি আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তানের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে ১০ জনের বাংলাদেশ। চার জাতির এই টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ অধিনায়ক মনজুরুর রহমান লাল কার্ড দেখায়, তারপরও পাকিস্তান সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি।

ম্যাচের একপর্যায়ে পাকিস্তানের গোলরক্ষক ইউসুফ বাটকে লাথি মারলে সময় রেফারি মনজুরকে লাল কার্ড দেখান।

পুরো ম্যাচে বলের দখলে বাংলাদেশ এগিয়ে ছিল। তবে পাকিস্তানও বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল। প্রতিপক্ষ তিনটি শট লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়, যা বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন। ফলে, আসরের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ জাল অক্ষত রেখেই মাঠ ছাড়ে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাইকোর্টের জামিনের পরও মুক্তি নয়: একের পর এক ‘শোন অ্যারেস্ট’, জেলগেট থেকে পুনরায় আটক সাংবাদিক মো: রাজিব তালুকদার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো: রনি শিকদার স্টাফ রিপোর্টার:

সোমবার, ১ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৫০ পি.এম


হাইকোর্টের জামিনের পরও মুক্তি নয়: একের পর এক ‘শোন অ্যারেস্ট’, জেলগেট থেকে পুনরায় আটক সাংবাদিক মো: রাজিব তালুকদার

 *জামিনে মুক্ত হওয়ার পর জেলগেট থেকে আসামিকে ধরে নিয়ে নতুন মামলায় জড়ানোর মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে।

*ঝালকাঠীতে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ‘শোন অ্যারেস্ট’ বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ।
 *দীর্ঘদিন কারাভোগের পর মুক্তির মুহূর্তে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবির অভিযোগ।
* ‘শোন অ্যারেস্ট’-এর আতঙ্কে ঝালকাঠী জেলাজুড়ে উদ্বেগ বিরাজ করছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

মো: রনি শিকদার স্টাফ রিপোর্টার:
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার বাসিন্দা ও সাংবাদিক রাজিব তালুকদারকে ঘিরে একের পর এক মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’ (ঝযড়হি অৎৎবংঃ), আদালতের একাধিক আবেদন খারিজ হওয়ার পরও কারামুক্তি না পাওয়া এবং জেলগেট থেকে পুনরায় আটকের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের নথি, আইনজীবীদের বক্তব্য, পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের একটি মামলায় গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে মামলা নং-০৪, তারিখ ০৮/০২/২০২৬, জিআর নং-১৬/২০২৬ (কাঠালিয়া) দায়ের করা হয়। উক্ত মামলায় গ্রেপ্তারের পর তিনি মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের মিস কেস নং-১৬৮৪৯/২০২৬ (টেন্টেটিভ নং-১৭৩১৩/২০২৬)-এর মাধ্যমে ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে এক বছরের জামিন লাভ করেন।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তিনি জামিনে মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতা, বিস্ফোরক ও নাশকতা-সংক্রান্ত মামলায় ধারাবাহিকভাবে ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

২৭ এপ্রিল ২০২৬: কাঠালিয়া থানার মামলা নং-০৩, তারিখ ৫ নভেম্বর ২০২৪, বিস্ফোরক উপাদানবলী আইন, ১৯০৮ (সংশোধনী-২০০২)-এর ৩/৩(ক)/৪ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৪২৭/৩৭৯/৫০৬(২) ধারায় দায়ের করা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হারান চন্দ্র পাল রাজিব তালুকদারকে শোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট কাঠালিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ, ভাঙচুর ও সহিংসতার ঘটনায় তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে ৩ মে ২০২৬ তারিখে শুনানিকালে মামলার বাদী মো. শিপন শিকদার আদালতকে জানান, তিনি রাজিব তালুকদারকে ব্যক্তিগতভাবে চিনলেও ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত নন। একই সঙ্গে তিনি আসামির বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি নেই বলেও আদালতকে অবহিত করেন।

বাদীর বক্তব্য ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত মত দেন যে, গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করার মতো পর্যাপ্ত উপাদান উপস্থাপিত হয়নি। ফলে আবেদনটি নামঞ্জুর করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে জারি করা প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট প্রত্যাহার করা হয়।

গত ২ মে ২০২৬: ঝালকাঠী সদর থানার জিআর নং-২১৫/২০২৪ মামলায়, যা ২০২২ সালের ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগে দায়ের করা হয়েছিল, সেখানে পুনরায় রাজিব তালুকদারকে শোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করা হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিএনপির নেতাকর্মীদের মিছিলে অতর্কিত হামলায় তিনি অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু ৬ মে ২০২৬ তারিখে ঝালকাঠীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আবেদনটি খারিজ করে দেন। আদালত তার আদেশে উল্লেখ করেন, কেস ডায়েরিতে আসামির সম্পৃক্ততার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে থাকলেও কেন এত দেরিতে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। পুলিশ ও আইনজীবীদের বক্তব্য এবং মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত মত দেন যে, গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করার মতো পর্যাপ্ত উপাদান উপস্থাপিত হয়নি। ফলে আবেদনটি নামঞ্জুর করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে জারি করা প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট প্রত্যাহার করা হয়।

তিন মাসের বেশি কারাভোগের পরও মুক্তি মেলেনি: পরিবার, সহকর্মী সাংবাদিক ও আইনজীবীদের দাবি:
শোন অ্যারেস্ট’ বাণিজ্যের অভিযোগ, রাজিব তালুকদারও কি সেই চক্রের শিকার? সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ‘শোন অ্যারেস্ট’কে কেন্দ্র করে কথিত বাণিজ্যের অভিযোগ নতুন নয়। গত ৩ মে ২০২৬ তারিখে জাতীয় দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতায় “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মামলা: শোন অ্যারেস্ট ঘিরে ঘাটে ঘাটে বাণিজ্য” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বিভিন্ন মামলায় শোন অ্যারেস্টকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলের একাংশের দাবি, সাংবাদিক রাজিব তালুকদারের ঘটনাও একই ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, আদালতে একাধিকবার শোন অ্যারেস্টের আবেদন খারিজ হওয়ার পরও ধারাবাহিকভাবে নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. জাকির হোসেন বলেন, “যে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সাইবার-সংক্রান্ত মামলায় রাজিব তালুকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সেই মামলায় গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি কারাগারে থাকলেও ওই সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কিন্তু হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভের পরপরই ধারাবাহিকভাবে একাধিক রাজনৈতিক মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।”

তিনি আরও বলেন, “যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণ থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে একজন পেশাদার সাংবাদিককে পর্যাপ্ত ভিত্তি ছাড়া ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক মামলায় জড়ানো এবং জামিন পাওয়ার পরও মুক্তি না পাওয়া মানবাধিকার, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্ন উত্থাপন করে। বিষয়টি আদালতেই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে এবং আমরা আইনের মাধ্যমেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।” অপরদিকে ঝালকাঠীতে রাজিব তালুকদারের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনাকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মল্লিক মো. নাসির উদ্দিন কবির বলেন, “রাজিব তালুকদারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর আইনগত ভিত্তি ও যৌক্তিকতা আদালতে যাচাই হবে। তবে আমাদের দৃষ্টিতে, তিনি একটি পারিবারিক ও সাইবার-সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পরও পরবর্তীতে একাধিক রাজনৈতিক মামলায় জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একজন পেশাদার সাংবাদিককে দীর্ঘ সময় কারাগারে রাখা এবং ধারাবাহিকভাবে নতুন মামলায় সম্পৃক্ত করার বিষয়টি আমরা আদালতের নজরে এনেছি।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকের ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনের আশ্রয় লাভ এবং ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, আদালত মামলার নথিপত্র, তথ্য-প্রমাণ এবং আইনি যুক্তি পর্যালোচনা করে ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত দেবেন। বিচার বিভাগের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।” আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজিব তালুকদারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো, আদালতের পর্যবেক্ষণ, শোন অ্যারেস্টের আবেদন খারিজ হওয়ার ঘটনা এবং জেলগেট থেকে পুনরায় আটকের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা হলে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে এবং এ বিষয়ে জনমনে সৃষ্ট প্রশ্নেরও উত্তর মিলবে।

তাদের অভিযোগ, মুক্তির সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ৭ মে ২০২৬ তারিখে সকাল প্রায় ১১টার দিকে ঝালকাঠী জেলগেট থেকে বের হওয়ার সময় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা তাকে পুনরায় আটক করেন। পরে তাকে ঝালকাঠী থানার মামলা নং-০১, তারিখ ০১/০৯/২০২৪, বিস্ফোরক উপাদানবলী আইন, ১৯০৮ (সংশোধনী-২০০২) - এর ৩(ক) ধারাসহ দণ্ডবিধির ১৪৩/ ৩৪১/ ৪৪৮/ ৩২৩/ ৩২৪/ ৩২৫/ ৩০৭/ ৩৭৯/ ৪২৭/ ৪৩৬/ ৫০৬/ ৩৪ ধারায় দায়ের করা জিআর নং-২০৫/২০২৪ (ঝালকাঠী) রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

জুলাই আন্দোলনের আহত যোদ্ধা হিসেবে পরিচয় সাংবাদিক মো: রাজিব তালুকদার: সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক রাজিব তালুকদার জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে আহতদের তালিকাভুক্ত একজন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাংলাদেশ সচিবালয় ক্লিনিকে তার চধঃরবহঃ ওউ: ০০১ হিসেবে নিবন্ধন রয়েছে। ৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখের নথি অনুযায়ী তিনি একজন সরকারি ক্যাটাগরির আহত রোগী।

এছাড়া জুলাই-আগস্ট ২০২৪ গণঅভ্যুত্থানে ঝালকাঠী জেলার ৫৫ জন চূড়ান্ত তালিকাভুক্ত ব্যক্তির মধ্যে তিনি ৭ নম্বর ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর-৮২০৪০০০৮৩; ঠিকানা-আওরাবুনিয়া, কাঠালিয়া, ঝালকাঠী; পেশা-সাংবাদিক। সরকারি গেজেট অনুযায়ী, ৪ মার্চ ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে তিনি ‘গ’ শ্রেণির (আহত) তালিকাভুক্ত। গেজেট নং-৩১, মেডিকেল কেস আইডি নং-২৫৪৫০-এ তার নাম মো. রাজিব তালুকদার, পিতা-মো. মজিদ তালুকদার মধু হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। তিনি দৈনিক সরজমিন বার্তা, এশিয়ান টেলিভিশন, দৈনিক স্বাধীন সংবাদ ও তালাশ বিডিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেন। পাশাপাশি তিনি কাঠালিয়া প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পুলিশের বিরুদ্ধে রিটের জের?
অভিযোগ রয়েছে, কাঠালিয়া থানার সাবেক ওসি ও বর্তমান ঝালকাঠী কোর্ট ইন্সপেক্টর পুলক চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে পেশাগত দায়িত্ব পালনে হয়রানি ও গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে রাজিব তালুকদার ২৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং-২২৯২/২০২৪ দায়ের করেন। এ বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি কে. এস. কামরুল কাদের এবং বিচারপতি খিজির হায়াত একটি রুল জারি করেন বলে জানা যায়। এছাড়া ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে তালাশ বিডিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কাঠালিয়ার এক সাবেক ওসির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এরপর থেকেই তিনি পুলিশের ‘চক্ষুশূল’ হয়ে ওঠেন বলে দাবি করা হয়েছে। পরিবার ও সহকর্মীদের অভিযোগ, এসব ঘটনার জেরে তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে একাধিক মামলায় আসামি করা হয়েছে।

সাংবাদিক নেতাদের দাবি: সাংবাদিক নেতাদের অভিযোগ, পুলিশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পর ঝালকাঠী পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক মামলা ও শোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে রাজিব তালুকদারকে পাঁচ মাসের বেশি সময় কারাগারে রাখা হয়েছে। তারা তার মুক্তি এবং কথিত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, কাঠালিয়া থানার কিছু পুলিশ সদস্য অনানুষ্ঠানিকভাবে বলেছেন, “রাজিব তালুকদারকে মামলা দিয়ে ভেতরে না রাখলে তিনি বের হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন এবং আমাদের হয়রানি করবেন।”

পুলিশ সুপারের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন: অভিযোগ অনুযায়ী, ৭ মে ২০২৬ তারিখে জেলগেট থেকে পুনরায় গ্রেপ্তারের পর জাতীয় দৈনিক সরজমিন বার্তার নির্বাহী সম্পাদক মো. মাছুমবিল্লাহ বিষয়টি জানতে চাইলে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, “রাজিব তালুকদার একজন চাঁদাবাজ ও নারীলোভী ভুয়া সাংবাদিক।”
একই ধরনের মন্তব্য জাতীয় দৈনিক স্বাধীন সংবাদের সম্পাদক ও প্রকাশক আনোয়ার হোসেন আকাশকেও তিনি করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, রাজিব তালুকদারকে যদি চাঁদাবাজি বা নারী-সংক্রান্ত অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়ে থাকে, তাহলে তাকে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো কেন?

এ বিষয়ে বিভিন্ন সাংবাদিক প্রশ্ন তুললেও পুলিশ সুপার কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্পাদকদের বক্তব্য: জাতীয় দৈনিক সরজমিন বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক মো. বেল্লাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “রাজিব তালুকদার আমার পত্রিকার সাংবাদিক। তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। তাকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে রাখা হয়েছে। আমি তার মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাই।” অন্যান্য কয়েকটি গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারাও একই ধরনের দাবি জানিয়েছেন।

মানবাধিকার প্রশ্ন: অভিযোগ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের কারণেই তাকে পরিকল্পিতভাবে একাধিক মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাদের দাবি, অতীতে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট দায়ের করায় তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মামলার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে হাইকোর্টের এক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, কোনো ব্যক্তি আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলায় সুনির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণ থাকলে আইন অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার দেখানো যেতে পারে। তবে পর্যাপ্ত ভিত্তি ছাড়া ধারাবাহিকভাবে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে একজন ব্যক্তিকে কারাগারে আটকে রাখা হলে তা ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ৩১ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার, ৩২ অনুচ্ছেদে ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার এবং ৩৫ অনুচ্ছেদে ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। আদালতের আদেশ যথাসময়ে বাস্তবায়ন এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধর্ষণ মামলার পর পদচ্যুত যুবদল নেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:০৩ এম


ধর্ষণ মামলার পর পদচ্যুত যুবদল নেতা

লক্ষ্মীপুরে ধর্ষণের অভিযোগে আল-আমিন ছৈয়াল নামের একজন যুবদল নেতা দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার হয়েছেন। সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় যুবদলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই বহিষ্কারের সম্পর্কিত একটি চিঠি পোস্ট করা হয়েছে।

বহিষ্কারের চিঠিতে জেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল আলিম হুমায়ুন ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রশিদুল হাসান লিংকন স্বাক্ষর করেছেন। বহিষ্কৃত যুবদল নেতা আল-আমিন সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য এবং একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি ওই এলাকার উত্তর চররমনী গ্রামের আবু ছৈয়ালের সন্তান।

মামলা সূত্র অনুযায়ী, আল-আমিনের বিরুদ্ধে একটি প্রবাসীর স্ত্রীকে ছুরি ঠেকিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনা ঘটে ২৮ মে রাতে। শনিবার (৩০ মে) রাতে ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে আল-আমিনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে জানতে আল-আমিনকে একাধিকবার ফোন দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রশিদুল হাসান লিংকন জানিয়েছেন, দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে আল-আমিনকে দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি বলেন, "বহিষ্কৃতের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না।" অন্য নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে তাদের আল-আমিনের সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক রাখতে হবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্রিকেটে আইসিসির নতুন নিয়ম, যেসব পরিবর্তন কার্যকর হলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:০৭ এম


ক্রিকেটে আইসিসির নতুন নিয়ম, যেসব পরিবর্তন কার্যকর হলো

 

টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের বড় সমস্যা হচ্ছে আলোর স্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ওভার নষ্ট হওয়া। এই সমস্যার সমাধান খুঁজতেই এবার ঐতিহাসিক এক নিয়মের অনুমোদন দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

ভারতের আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত আইসিসির বোর্ড সভায় প্রধান নির্বাহীদের কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আইসিসির নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে টেস্ট ম্যাচ চলাকালীন দিনের আলোতেও যদি আলোকস্বল্পতা দেখা দেয়, তবে দুই দলের সম্মতি সাপেক্ষে গোলাপি বল ব্যবহার করে খেলা চালিয়ে যাওয়া যাবে।

টেস্ট ক্রিকেটে আলোকস্বল্পতার কারণে যেন মূল্যবান সময় নষ্ট না হয়, সেই জন্য গভীর গবেষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। ফ্লাডলাইট, আলো পরিমাপন উন্নত ব্যবস্থা, সেন্সর এবং অন্যান্য আধুনিক আলোকসজ্জা প্রযুক্তি নিয়ে আইসিসি এবং মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) যৌথভাবে অর্থায়ন করবে।

আইসিসি তাদের ক্রিকেটীয় নিয়মে আরও একটি বড় পরিবর্তন এনেছে। এখন থেকে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নির্ধারিত ড্রিংকস বিরতির সময় প্রধান কোচ কিংবা দলের মনোনীত স্টাফরা মাঠের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন এবং খেলোয়াড়দের কৌশলগত পরামর্শ দিতে পারবেন। এতদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কেবল দ্বাদশ ব্যক্তি পানি নিয়ে মাঠে যাওয়ার সময় চিরকুট বা বার্তা নিয়ে যেতে পারতেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগের স্ট্র্যাটেজিক টাইম-আউটের আদলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই নিয়ম চালু করা হচ্ছে।

টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই ইনিংসের মধ্যবর্তী বিরতির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ মিনিট। এছাড়া এমসিসির নেওয়া সর্বশেষ সিদ্ধান্তগুলি, যেমন দিনের শেষ ওভারে কেউ আউট হলে খেলা সেখানেই না থামিয়ে ওই ওভার শেষ করা, বানি হপ ক্যাচ এগুলো কার্যকর করা হবে।

অন্যদিকে, ব্যাটাররা যখন ক্রিজে পজিশন পরিবর্তন করেন বা নড়াচড়া করেন, তখন আম্পায়ারদের নিখুঁতভাবে ওয়াইড ডাকার সুবিধার্থে গাইড লাইনের ব্যবহারকে স্থায়ী রূপ দিয়েছে আইসিসি। বিশেষত, লেগ সাইডে বোলারদের কিছুটা ছাড় দিতে ২০২৫ সাল থেকে এই ট্রায়াল শুরু হয়েছিল।

নারী ক্রিকেট সম্পর্কেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছে আইসিসির সর্বশেষ বোর্ড সভায়। ২০২৭ সালের নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজন জুন-জুলাই থেকে এগিয়ে এখন ওই বছরের ১৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এছাড়া, ২০২৮ সালের নারী বিশ্বকাপের দলের সংখ্যা ১০টি থেকে বাড়িয়ে ১২টি করা হচ্ছে। র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৮ দল এবং স্বাগতিক দেশ সরাসরি বিশ্বকাপ খেলবে। যদি স্বাগতিক দেশ আগেই কোয়ালিফাই করে ফেলে, তাহলে র‌্যাঙ্কিংয়ের পরের শীর্ষ দলগুলো বিশ্বকাপে জায়গা পাবে। বাকি দুটি দল আসবে ১০ দলের বাছাইপর্ব খেলে।

বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং নির্বাচন ইস্যুতে প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে আইসিসি। এই প্রতিনিধিরা হলেন ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার ড. মোহাম্মদ মোসাজে এবং জিম্বাবুয়ের তেবাঙ্গা মুকুলআনি।

তারা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলবেন। এছাড়া শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে যাবেন আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা ও দেবজিৎ সাইকিয়া।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান বিস্তার ও আধিপত্য নিয়ে আইসিসি বোর্ড সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমান ক্রিকেট কাঠামোর মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচির (এফটিপি) সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোকে কীভাবে আরও সুশৃঙ্খলভাবে সমন্বয় করা যায়, তা মূল্যায়নের জন্য আহমেদাবাদের সভায় একটি বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, আগামী আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বৈশ্বিক বাছাইপর্বের রূপরেখাও এই সভায় চূড়ান্ত করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%