ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চিত্রনায়িকা শিমু হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ


চিত্রনায়িকা শিমু হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেল এবং তার সহযোগী এস এম ফরহাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেছে আদালত।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নুসরাত জাবীন নিম্মীর আদালতে মামলার শেষ সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য প্রদান করেন শিমুর ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের প্রজ্ঞা পারমিতা দত্ত। তার সাক্ষ্যগ্রহণের পর আদালত আগামী ২৬ অক্টোবর আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানির জন্য নির্ধারণ করে।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলাটিতে মোট ৩৩ জন সাক্ষীর মধ্যে আদালত ২০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেছে।

আরও পড়ুন: এই দেশে আমার যতটা অধিকার, আপনাদেরও ততটুকু: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের মণ্ডপে

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় সংবাদ পেয়ে কলাতিয়া ফাঁড়ির পুলিশ এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ও কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হযরতপুর ইউনিয়ন পরিষদের আলীপুর ব্রিজের ৩০০ গজ উত্তর পাশে পাকা রাস্তা সংলগ্ন ঝোপের ভিতর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় ৩২ বছর বয়সী এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করে। মৃতদেহের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়। তথ্য-প্রযুক্তির সাহায্যে মৃতদেহের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

তদন্তের সময় জানা যায়, মৃতদেহটি চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুর। দাম্পত্য কলহের কারণে ওই বছরের ১৬ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক ৭-৮ টার মধ্যে যেকোনো সময়ে শিমুকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় শিমুর ভাই হারুনুর রশীদ কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই বছরের ২৯ অগাস্ট মামলাটি তদন্ত করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ইন্সপেক্টর শহিদুল ইসলাম দুজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। একই বছরের ২৯ নভেম্বর দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিরপুরে ছিনতাইয়ের পর হত্যার ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, বিচারক বললেন সমাজের প্রতি মেসেজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩১ পি.এম


মিরপুরে ছিনতাইয়ের পর হত্যার ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, বিচারক বললেন সমাজের প্রতি মেসেজ

চার বছর আগে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে সায়মন নামের এক পোশাককর্মীর টাকা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত এই রায়কে ‘সমাজের প্রতি মেসেজ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলাম মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রায়ের পূর্বে পর্যবেক্ষণে এই মন্তব্য করেন।

রায়ে হত্যার দায়ে ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসানকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। সায়মনের ছিনতাই করা মোবাইল কেনার দায়ে সুজন নামের এক ব্যক্তিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

১৭ বছরের ওই কিশোর সায়মনের হত্যার রায়ের দিন মঙ্গলবার ধার্য ছিল। কারাগারে থাকা আসামিরা ইউসুফ, ইকবাল খাঁ ও মেহেদী হাসানকে আদালতে হাজির করা হয়। সুজন পলাতক রয়েছে।

রায় ঘোষণার পূর্বে বিচারক মামলার বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। এরপর বিচারক বলেন, ‘বর্তমান সময়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে। ছিনতাইয়ের পর আঘাত করার ঘটনাও ঘটছে। অনেকের মধ্যে ধারণা জন্মেছে, এসব ঘটনায় বিচার হয় না। সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায় না। এ মামলা  ভিকটিমের বয়স ১৭ বছর আর উপার্জনক্ষম ছিল। সমাজের প্রতি মেসেজ দেওয়ার জন্য এ মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত।’

এরপর আদালত আসামিদের সাজার রায় ঘোষণা করেন। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা মেহেদী হাসান বলেন, ‘স্যার, আমরা পোলাপাইন মানুষ, জীবন শেষ হয়ে গেল। বাঁইচ্যা তো লাভ নাই। পরকালে একটা বিচার আছে।’

পরে তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। নেওয়ার পথে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তারা বলেন, পুলিশ মারধর করে জোর করে আমাদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায় করেছে। এদেশে যার টাকা আছে, তার বিচার আছে।

সুজন পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

এদিকে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতের এডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী রেজাউল হক রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০ বছর বয়সী সায়মন মিরপুর-১ নম্বরে সনি সিনেমা হলের পেছনে লিবার্টি গার্মেন্টসে ১০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন। ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর অফিস থেকে বেতন তুলে দুই সহকর্মী রিফাত হোসেন রাব্বি ও হৃদয় হাসানের সঙ্গে কেনাকাটা করতে মিরপুর-১ এ যান। কেনাকাটা শেষে রাত ৯টার দিকে বাসায় ফেরার পথে, অজ্ঞাতনামা তিন ছিনতাইকারীর একজন আড়ং শপিং সেন্টারের সামনে সায়মনকে বলেন, সে নাকি তার ছোট ভাইকে মেরেছে। ‘কথা আছে’ বলে সায়মন ও রিফাতকে ভয়ভীতি দেখিয়ে রূপায়ন টাওয়ারের সামনে থেকে রিকশায় করে দারুস সালাম থানার কোনাবাড়ি হয়ে কাঁচাবাজারের সামনে নিয়ে যায়। শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের কাঁচাবাজারের সামনে রিফাতকে নামিয়ে দেওয়া হয় রিকশা থেকে। আর সায়মনকে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের ভেতর নিয়ে যায়। তিন ছিনতাইকারী চাকু বের করে ভয় দেখিয়ে সায়মনের কাছে যা যা আছে দিয়ে দিতে বলে।

সায়মন মোবাইল ও টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। তার কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় তারা। সায়মনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় সায়মনের বাবা শাজাহান শেখ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে দারুস সালাম থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে নেমে দারুস সালাম থানা পুলিশ ইউসুফকে গ্রেফতার করে।

পরে সে ইকবাল ও মেহেদী হাসানও ঘটনার সঙ্গে জড়িত মর্মে স্বীকার করে। সায়মনের মোবাইল বিক্রির টাকা ইউসুফের বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। সুজনের কাছে সায়মনের মোবাইলটি ২২০০ টাকায় বিক্রি করার কথাও সে স্বীকার করে।

মামলার তদন্ত শেষে ইউসুফ, ইকবাল ও মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের পর হত্যার অভিযোগে এবং সুজনের বিরুদ্ধে চোরাই মাল নিজের কাছে রাখার অপরাধে ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন দারুস সালাম থানার এসআই সোহান আহমেদ।

২০২৩ সালের ২ অগাস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

এরপর আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ আদালত থেকে আসামিদের সাজার রায় এলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘বিশেষ ভিডিও’ দেখিয়ে ভারতীয় যুবকের কাছ থেকে ৪৯ লাখ রুপি হাতিয়ে নিল প্রতারক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩২ পি.এম


‘বিশেষ ভিডিও’ দেখিয়ে ভারতীয় যুবকের কাছ থেকে ৪৯ লাখ রুপি হাতিয়ে নিল প্রতারক

ভারতের আহমেদাবাদে ২৫ বছর বয়সী এক যুবকের কাছ থেকে ৪৯ লাখ রুপি ছাড়িয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতারকদের বিরুদ্ধে। ওই যুবককে বোঝানো হয়েছিল যে, একটি ‘নগ্ন ভিডিওতে’ তার মুখ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তার কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়।

পরে ওই যুবক পুলিশে অভিযোগ করেন। ইন্ডিয়া টুডে জানায়, এ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ৩ সেপ্টেম্বর একটি অচেনা নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল আসার পর যুবকটি ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হন। কলটি ধরতেই পর্দায় হঠাৎ এক নগ্ন নারীকে দেখা যায়। ভয়ে তিনি সঙ্গে সঙ্গে কল কেটে দেন এবং নম্বরটি বন্ধ করে দেন। কিছুক্ষণ পর, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ওই যুবকের কাছে অন্য একটি নম্বর থেকে আবার হোয়াটসঅ্যাপে কল আসে।

কলকারী তাকে জানায়, তার ‘নগ্ন ভিডিও’ ধারণ করা হয়েছে। ব্যাংক হিসাবে টাকা না দিলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। যুবকটি আবারও কল কেটে দেন এবং নম্বরটি বন্ধ করে দেন। এ সময় তিনি একটি ভিডিওও পান, যা পরে মুছে ফেলেন।

এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতারকরা আবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। এবার অন্য একটি অচেনা নম্বর থেকে কল করা হয়। কলকারী নিজেকে সঞ্জয় অরোরা বলে পরিচয় দেন এবং দাবি করেন, তিনি দিল্লি সাইবার অপরাধ শাখার কর্মকর্তা। ‘নগ্ন ভিডিও’ নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়ায় যুবকটি ভয় পেয়ে যান। কলকারী তাকে জানান, নগ্ন ভিডিও-সংক্রান্ত অপরাধে সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে এবং আহমেদাবাদ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারও করতে পারে।

এরপর ওই ব্যক্তি অভিযোগকারীকে কথিত ইউটিউব প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে বলেন। গ্রেপ্তার এড়াতে একটি ‘নির্ধারিত প্রক্রিয়া’ সম্পন্ন করার কথাও বলা হয়। পরে প্রতারকরা যুবকটিকে আরেকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়, যে নিজেকে ইউটিউবের কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেয়। পুলিশ জানায়, ওই ব্যক্তি অভিযোগকারীকে বলেন, তার নামে দুটি নগ্ন ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। সেগুলো মুছে ফেলতে হলে তাকে ৭১ হাজার ২৫০ রুপি দিতে হবে। পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় এবং কথিত ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে যুবকটি টাকা দিতে রাজি হন। এরপর প্রতারকরা বিভিন্ন কারণে তার কাছে আরো টাকা দাবি করতে থাকে।

তারা বারবার ‘নগ্ন ভিডিও’ ছড়িয়ে দেওয়ার এবং তার ক্যারিয়ার নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দেয়। যুবকটির দাবি, তাকে পুলিশি ব্যবস্থা ও গ্রেপ্তারের ভয়ও দেখানো হয়। বারবার হুমকি ও দাবির কাছে নতি স্বীকার করে তিনি প্রতারকদের দেওয়া বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ধাপে ধাপে মোট ৪৯ লাখ ৭৮ হাজার রুপি পাঠান।

তবে টাকা পাওয়ার পরও প্রতারকরা তার কাছে আরো টাকা চাইতে থাকে। একপর্যায়ে যুবকটি বুঝতে পারেন যে, তিনি সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপর তিনি সাইবার অপরাধ শাখার কাছে যান। তদন্তকারীরা যে ব্যাংক হিসাবগুলোতে টাকা পাঠানো হয়েছে, সেগুলো খতিয়ে দেখছেন। এই প্রতারণায় মোট কতজন জড়িত ছিল, সেটিও জানার চেষ্টা করছেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভোলায় পিকআপ ভ্যান-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে শিশু নিহত, মা-বাবা গুরুতর আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ পি.এম


ভোলায় পিকআপ ভ্যান-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে শিশু নিহত, মা-বাবা গুরুতর আহত

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় সংঘর্ষের ঘটনায় পিকআপ ভ্যান ও মোটরসাইকেলের মধ্যে মিত্তাফুল রাফা (৬) নামে এক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। একই সঙ্গে শিশুটির বাবা মো. সোহেল এবং মা মুন্নি আক্তার গুরুতর আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুঞ্জেরহাট সংলগ্ন বৈদ্যেরপুল এলাকায় ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তাদের আবাস লালমোহন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, লালমোহনের ব্যবসায়ী মো. সোহেল তার শিশু কন্যা রাফা এবং স্কুলশিক্ষিকা স্ত্রী মুন্নি আক্তারকে মধ্য চরটিটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর জন্য মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলটি বৈদ্যেরপোল এলাকায় পৌঁছালে একটি পিকআপ ভ্যানের সাথে সংঘর্ষ ঘটে। দুর্ঘটনায় তারা গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু রাফাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং শিশুর বাবা সোহেলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

বোরহানউদ্দিন থানার ওসি আশ্রাব আলী মন্তব্য করেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুন্সীগঞ্জে কাজীকে তুলে নিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৩ পি.এম


মুন্সীগঞ্জে কাজীকে তুলে নিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জ শহরের কাটাখালী এলাকার একটি বাসা থেকে এক কাজীকে তুলে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রেখে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হোসেন অপুর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অপুসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেওয়া দুই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী কাজী মো. হাবিবুর রহমানের বয়স ৫২ বছর এবং তিনি মুন্সীগঞ্জ শহরের কাটাখালী এলাকায় বসবাস করেন।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তসলিমউদ্দিন জানান, সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার পর রাজিব হোসেন অপুসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেওয়া দুই লাখ টাকা উদ্ধার করে তাকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। মামলার আসামিদের মধ্যে অপুসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

মামলার লিখিত অভিযোগে হাবিবুর রহমান উল্লেখ করেন, সোমবার দুপুর ২টার দিকে তিনি কাটাখালী এলাকার বাসায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় রাজিব হোসেন অপু, তার বন্ধু স্বপনসহ কয়েকজন তিনটি মোটরসাইকেলে করে তার বাসায় আসেন। বিয়ে পড়ানোর কথা বলে প্রথমে কাটাখালীতে তার কাজী কার্যালয়ে এবং পরে জোর করে শহরের অদূরে মুক্তারপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মুক্তারপুরের একটি কক্ষে হাবিবুর রহমানকে আটকে রেখে রাজিব হোসেন অপুসহ অন্যরা তাকে মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে তার লাইসেন্স বাতিল এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পরে প্রাণভয়ে হাবিবুর রহমান দুই লাখ টাকা দিতে রাজি হন। এরপর তাকে মুন্সীগঞ্জ কাচারিবাজারের অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি শাখায় নিয়ে তার নিজের হিসাব থেকে দুই লাখ টাকা তোলা হয়। তার স্ত্রী নাসিমা বেগমের উপস্থিতিতে ওই টাকা অভিযুক্তদের দেওয়া হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাবিবুর রহমানের ছেলে সাংবাদিক নাহিদ হাসান অভিযোগ করেন, রাজিব হোসেন অপুদের একটি বড় সিন্ডিকেট রয়েছে। ওই সিন্ডিকেটে যুবদল, ছাত্রদল ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত। তার বাবাকে তুলে নিয়ে প্রথমে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল, পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে দুই লাখ টাকা দিতে বলা হয়। টাকা নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

নাহিদ হাসান জানান, ভয়ে তার বাবা প্রথমে তাকেও বিষয়টি জানাতে চাননি। পরে রাত ১০টার দিকে তিনি ঘটনা জানতে পারেন। এরপর তিনি মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামানকে বিষয়টি জানান। সংসদ সদস্যের পরামর্শে বাবাকে নিয়ে থানায় যান। কিছু সময় পর রাজিব হোসেন অপু থানায় এসে দুই লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে ওসির সহযোগিতায় তারা ওই টাকা ফেরত পান।

নাহিদ হাসানের অভিযোগ, টাকা ফেরত দেওয়ার পর বিষয়টি মীমাংসা করে নেওয়ার জন্য কথিত এক নেতা তাদের ওপর চাপ দেন। মামলা করলে তাদের পরিবার ভবিষ্যতে বিপদে পড়তে পারে—এমন ভয়ও দেখানো হয়েছিল।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি সোহেল আহমেদ বলেন, "কোনো চাঁদাবাজ বা দুষ্কৃতকারীর ঠাঁই যুবদলে হবে না। যুবদল তাদের কোনো দায়িত্বও নেবে না। রাজিব হোসেন অপুর ঘটনাটি তারা ইতিমধ্যে জানতে পেরেছেন। অপুসহ যারা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%