০৫:২৫ পি.এম
মাদারীপুর, ২১ আগস্ট ২০২৬ : জেলার শিবচরে শাম্পা খাতুন (২৮) নামে এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে ফারুক নামের ১ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফারুক পুলিশের নিকট স্বীকার করেছে যে, ধর্ষণের পর ওই নারীর মরদেহ ঝোঁপের পাশে ফেলে রেখে ছিল। একই ঘটনার মধ্যে ফারুক তার ১ বছর বয়সী শিশু পুত্র আবিরকে আড়িয়াল খাঁ নদীতে ফেলে হত্যার কথা পুলিশকে জানিয়েছে। তবে শিশুটির মরদেহ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, গত ১৯ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শিবচর উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরের কান্দি এলাকায় খানবাড়ির দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া মাদরাসার বিপরীতে একটি জমির ঝোঁপের পাশ থেকে অজ্ঞাত ১ নারীর মরদহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ তার পরিচয় শনাক্ত করে।
নিহত শাম্পা খাতুন নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় ৩ বছর আগে তার বিয়ে হয় মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে। তাদের ১ বছর বয়সী ছেলে আবির রয়েছে।
আরও পড়ুন: মাদারীপুরে খাবারের অভাবে লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ছে বানর, সংখ্যা কমছে
পুলিশ সূত্র জানাচ্ছে, একটি মামলা সংক্রান্ত ঘটনায় শাম্পার স্বামী কারাগারে থাকাকালে মাদারীপুর আদালত প্রাঙ্গণে ফারুকের সঙ্গে শাম্পার পরিচয় হয়। এই পরিচয়ের সূত্র ধরে তাকে কৌশলে ডেকে এনে ধর্ষণের পর হত্যা করে।
মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের বাবা ছামরুল ইসলাম শিবচরে এসে মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন। তিনি এসময় জানতে পারেন যে, তার নাতি আবিরও নিখোঁজ। এর পর, ২০ আগস্ট তিনি বাদী হয়ে শিবচর থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার পর মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদেরের নেতৃত্বে শিবচর থানা পুলিশ ও র্যাব-৮ তদন্ত শুরু করে। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় শিবচর ও রাজৈর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফারুককে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ফারুকের বাসা থেকে নিহত শাম্পার স্বর্ণের নাকফুল, রুপার গলার চেইন, একজোড়া জুতা এবং পোড়ানো অবস্থায় একটি ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে। ফারুক খুলনার তেরখাদা উপজেলার জয়সোমা এলাকার বাসিন্দা। তাকে কয়েক মাস আগে গাড়ি চুরির অভিযোগে শিবচর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ায় ৫০ চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি, জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকি
শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদের বাসসকে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। শিশুটিকে আড়িয়াল খাঁ সেতু থেকে নদীতে ফেলে দেয়ার কথাও সে জানিয়েছে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চলছে।
তিনি এ সম্পর্কে আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শাম্পাকে প্রথমে ধর্ষণ করা হয়। এরপর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তাকে হত্যা করে মরদেহ ঝোঁপের পাশে ফেলে রাখা হয় এবং তার স্বর্ণালংকার এখানেই রেখে দেয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি-না এবং ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত কি-না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি শিশুটির মরদেহ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের খোসা থেকে তৈরি হচ্ছে 'ম্যাংগো পিল টি'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন