ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়তে সরকার সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে: বাণিজ্যমন্ত্রী


বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়তে সরকার সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

সরকার বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি সক্ষমতা শক্তিশালী করতে দ্রুত গতির সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এ জন্য ব্যবসা শুরু, লাইসেন্স প্রদান, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি খাতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে রাজধানী উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত ‘শিল্পখাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগে সহযোগিতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব তথ্য তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। তিনি বলেন, বিজিএমইএ দেশের অন্যতম শক্তিশালী ও সংগঠিত ব্যবসায়িক সংগঠন। অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাত— যেমন, চামড়া, পাট, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও জাহাজ নির্মাণ—ও উন্নয়ন হচ্ছে, তবে স্বল্পমেয়াদে কোন খাত তৈরি পোশাক শিল্পের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে না। তাই এই খাতের অর্থনীতিতে ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: দল ছাড়ার ঘোষণা বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন

বর্তমানে ব্যবসা শুরু ও লাইসেন্স প্রাপ্তিতে গড়ে ৩৫৫ দিন সময় লাগলেও, এই সময় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোম্পানি নিবন্ধনের মাত্র ১৪ দিনের মধ্যেই উদ্যোক্তারা আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) ও অন্যান্য প্রাথমিক অনুমোদন পাবেন।

মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সংস্থার পৃথক পরিদর্শনের পরিবর্তে সমন্বিত পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করা হবে, যার ফলে উদ্যোক্তাদের হয়রানি কমবে এবং শিল্প স্থাপনের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স, কোম্পানি নিবন্ধন, শেয়ার হস্তান্তর ও কোম্পানি বিলুপ্তিসহ সকল সেবা অনলাইনে প্রদান করা হবে। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার সফল মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বন্দর ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের বিষয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক অপারেটরদের সম্পৃক্ততার ফলে কার্গো পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, জাহাজের অপেক্ষার সময় কমবে এবং পরিবহন ব্যয় হ্রাস হবে। এতে রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকরা বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছাতে পারবেন।

জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও এলএনজি আমদানির পাশাপাশি আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এটি জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ৫৫০–৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করতে সক্ষম হবে।

আরও পড়ুন: ঢাকায় দিনব্যাপী এআই বিজনেস সামিট আগামী বৃহস্পতিবার: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী

মন্ত্রী আরও বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন শুরু করতে পারেনি। তাই নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার, যা শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একটি আধুনিক, দক্ষ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের উপাচার্য ড. রুবানা হক। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ফাউন্ডার কামাল আহমেদ, ইয়াংওয়ান করপোরেশনের চেয়ারম্যান কিহাক সাং এবং এইচএসবিসি ব্যাংকের হেড অব সাসটেইনেবিলিটি সৈয়দা আফজালুন নেসা। অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার কুতুবউদ্দিন আহমেদ এবং সাবেক সহ-সভাপতি ও ঊর্মি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ আশরাফসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমরা ইসলাম নিয়ে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে চাই।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১৯ পি.এম


আমরা ইসলাম নিয়ে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে চাই।

আমীরে হিযবুল্লাহ ছারছীনা দরবার শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা. জি. আ.) বলেছেন- মহাবিশ্বের সূচনা থেকেই ইয়াওмে আশুরা অত্যন্ত গুরুত্ববহ ও মর্যাদাপূর্ণ। মহাজাগতিক ইতিহাসের বহু ঘটনা এই দিনের সাথে সম্পর্কিত। অনেকে মনে করেন ইমাম হোসাইন রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর শাহাদাত ও কারবালার ঘটনার জন্য এই দিনটি মর্যাদাপূর্ণ। কিন্তু এই দিনটি আশুরার জন্যই ফজিলত পূর্ণ হয়েছে। মনে রাখতে হবে যে অপরাধী তার অপরাধের জবাব তাকেই দিতে হবে। ইয়াজিদ এর অপরাধের জন্য কোন সাহাবায়ে কেরাম এর সম্মানের অমর্যাদা করা উচিত হবে না। হযরত মুয়াবিয়া (রাঃ) একজন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর জালিলুল কদর সাহাবী ও কাতিবে ওহী ছিলেন। তার সমালোচনা করা হক আকীদার পরিপন্থী।

হযরত পীর ছাহেব কেবলা আরও বলেন- বিভিন্ন প্রান্তে স্বার্থান্বেষী মহল দেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। আমরা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। আমরা অন্যের ছত্রছায়ায় নয় বরং স্বাধীন বাংলাদেশে দ্বীন ইসলাম নিয়ে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে চাই। দেশের সরকার ও প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অতীতের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করে ভুলের পুনরাবৃত্তি করলে জনগণ দূরে সরে যাবে। এ দেশ পীর মাশায়েখের দেশ। যাদের মাধ্যমে এদেশে ইসলামের সূচনা হয়েছে তাদের পরিবর্তে ভ্রান্ত আকীদার নামধারী আলেমদের প্রচার-প্রচারনায় সয়লাব চলছে। এদের থেকে আমাদেরকে দূরে থাকতে হবে।

২৭ জুন শনিবার ছারছীনা দরবার শরীফের মরহুম পীর ছাহেব বাহরে শরীয়ত হযরত মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ (রহঃ) এর ২য় ইন্তেকাল বার্ষিকী ও তা’লীম দাতাগণের তিনদিনব্যাপী বিশেষ তা’লীমী জলসাহ এবং বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সাংগঠনিক প্রশিক্ষণের শেষদিন বাদ জোহর আখেরী মুনাজাতপূর্ব আলোচনায় হযরত পীর ছাহেব কেবলা একথা বলেন।

মাহফিলের দ্বিতীয় দিন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দের মধ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় গৃহায়ণ ও গনপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুর বলেন- ছারছীনা দরবার শরীফ ও তার অনুসারীদের प्रति বাংলাদেশ সরকার কৃতজ্ঞ। দ্বীন ইসলামের খেদমতে এ দরবারের ভূমিকা আমরা সবাই স্বীকার করি। ইসলামের সঠিক শিক্ষা গ্রহণে যুগ যুগ ধরে এ দরবার খেদমত অব্যাহত রেখেছে। দেশনেতা জনক তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আমরা ধর্মীয় সহানুভূতিশীল একটি দেশ গঠনের স্বপ্ন দেখছি।

পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ. বি. এম. মোশাররফ হোসেন বলেন- ছারছীনা দরবার শরীফ ও বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহ অরাজনৈতিক দল হয়ে ও আকিদার প্রশ্নে সর্বদা দৃঢ়তা বজায় রেখেছে। আমরা মনে করি বর্তমানে সরকার গঠনে ছারছীনা শরীফের ভক্ত অনুসারীদের বৃহৎ ভূমিকা ছিল। এ বিষয়ে দেশনেতা প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন- সারা বিশ্বে ইসলাম ও মুসলমানদের ক্রান্তি লগ্ন চলছে। এ সময়ে সঠিক আকিদার প্রকৃত দ্বীন ইসলামের শিক্ষা গ্রহণের জন্য আমরা ছারছীনা শরীফের থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকি। দ্বীন ইসলামের খেদমতে ছারছীনা শরীফের অবদান সমগ্র বিশ্বে সার্বজনীন স্বীকৃত। ধর্মীয় সহানুভূতি নিয়ে বর্তমান সরকার ও বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল দ্বীন ইসলামের খেদমতে ছারছীনা শরীফের পাশে সর্বদা থাকবে।

পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলাল বলেছেন- ছারছীনা দরবার শরীফে আমরা পীর মাশায়েখদের কাছ থেকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা গ্রহণ করি। অতীতেও দিন ইসলামের খেদমতে এ দরবারের ভূমিকা ছিল, ভবিষ্যতেও বহাল থাকবে। ইসলামের স্বার্থে আমরা রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিগণ সর্বদা সারসিনা দরবার শরীফের পাশে আছি।

মাহফিলের শেষদিন অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সিনিয়র নায়েবে আমীর আলহাজ্ব হযরত মাওলানা হাফেজ শাহ্ আবু বকর মোহাম্মদ ছালেহ নেছারুল্লাহ, নায়েবে আমীর আলহাজ্ব মাওলানা মির্জা নূরুর রহমান বেগ, নায়েবে আমীর অদ্যক্ষ আ. খ. ম. আবু বকর সিদ্দিক, নাজেমে আ’লা ড. সৈয়দ মুহাঃ শরাফত আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোঃ হেমায়েত বিন তৈয়্যেব, ঝালকাঠি জেলা পরিষদের প্রশাসক আ্যাডভোকেট মোঃ শাহাদাৎ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অধ্যাপক ড. হাফেজ মোঃ রুহুল আমিন, ছারছীনা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ রূহুল আমিন আফসারী, ছারছীনা দারুস্সুন্নাত জামেয়া-এ-নেছারিয়া দীনিয়ার মুদীর মাওলানা মাহমুদুম মুনীর হামীম, মির্জা শোয়াইবুর রহমান বেগ প্রমূখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বীমা খাতে আস্থা ফেরাতে সুশাসন, ডিজিটালাইজেশন ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ দরকার : তিতুমীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:২০ পি.এম


বীমা খাতে আস্থা ফেরাতে সুশাসন, ডিজিটালাইজেশন ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ দরকার : তিতুমীর

আজ আইআরএফ আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী সেমিনারে ‘বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বীমা খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রী অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা, প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন।

তিনি বলেন, দেশের বীমা খাতে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন ন্যায্যতা, জবাবদিহি, সুশাসন, পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন এবং কার্যকর বাজারভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। দীর্ঘদিনের দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসনের কারণে বীমাসহ আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর প্রতি মানুষের আস্থা হ্রাস পেয়েছে। এ অবস্থায় গ্রাহকের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

রাজধানীর বিজয়নগর হোটেল একাত্তরে আইআরএফ আয়োজিত এই সেমিনারে তিনি বলেন, সরকার অতিনিয়ন্ত্রণে বিশ্বাসী নয়। তবে গ্রাহকের অধিকার রক্ষায় শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক ও বাজারভিত্তিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রয়োজন। বীমা কোম্পানিতে লুটপাট ও মালিকানার অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে, কৃষি ও স্বাস্থ্যবীমাসহ নতুন পণ্যের সম্প্রসারণ, পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার শক্তি বৃদ্ধি এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ হলেও কৃষি বীমার প্রসার খুবই সীমিত। স্বাস্থ্যবীমাও محدود জনগণের মধ্যে রয়েছে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ছাড়া গ্রাহকসেবা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, বীমা খাত সংস্কারে গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধার, খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ভিত্তি গড়ে তোলাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার অনিষ্পন্ন দাবি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা, ডিজিটাল রূপান্তর ও মাইক্রোইন্স্যুরেন্স সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাঈদ আহমেদ বলেন, বীমা কমিশনকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং অনিয়ম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখতে হবে। মোটরযান বীমাকে বাধ্যতামূলক করা এবং নতুন খাতে বীমা সেবা সম্প্রসারণের গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের সভাপতি বিএম ইউসুফ আলী বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে বীমা খাতকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও গ্রাহকবান্ধব করতে সরকারের, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বীমা কোম্পানিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম জাহিদ উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনীতিতে বীমার প্রবেশযোগ্যতা কম। দুর্বল নিয়ন্ত্রণ, সুশাসনের অভাব ও স্বল্পমেয়াদি লাভের প্রবণতা কাটিয়ে কৃষি ও জলবায়ুভিত্তিক বীমা সম্প্রসারণের উপর তিনি জোর দেন।

জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস মি নুরুজ্জামান বলেন, সাধারণ বীমার তুলনায় জীবন বীমা খাতের সংকট বেশি। সম্পদ বিক্রির জটিলতা দূর এবং ব্যাংকঋণ সহজলভ্য হলে এই সংকট অনেকটাই কমবে।

মূল প্রবন্ধে মনির হোসেন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বীমা খাতের আধুনিকায়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অনুশীলনে সোনালি বুটে নজর কাড়লেন রোনালদো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:২০ পি.এম


অনুশীলনে সোনালি বুটে নজর কাড়লেন রোনালদো

অনুশীলনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কারণ পর্তুগাল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বড় জয়ের পর নিজেদের গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচেও তাই অনুশীলনে রয়েছে তিনি। কারণ, শেষ ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করবে নকআউট পর্বে তারা কাদের সামনে পড়তে পারবে।

চার পয়েন্টের সাথে একটি জয় এবং একটি ড্র নিয়ে পর্তুগাল তাদের গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তাদের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া, যারা প্রথম দুই ম্যাচে জয়লাভ করে গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে।

এদিকে, অনুশীলনের সময় পর্তুগিজ সুপারস্টার রোনালদোকে একটি বিশেষ সোনালি রঙের জুতো পরে অনুশীলন করতে দেখা যায়। ইএসপিএনএফসি-র তথ্য অনুযায়ী, নাইকি বিশেষ সোনালি রঙের ‘গোল্ড স্করপিয়ন’ মার্কারিয়াল সুপারফ্লাই ১১ জুতো বাজারে এনেছে যাতে রোনালদোর বিখ্যাত ডাকনাম ‘সিআর৭’ সাদা রঙে লেখা রয়েছে। তিনি এই জুতোর সঙ্গে অনুশীলন করেছেন।

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে রোনালদো ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসছেন। তার মোট গোলসংখ্যা ১০, যা ইউসেবিও-র ৯টি গোলের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। ইউসেবিও, যিনি ১৯৬৫ সালে ব্যালন ডি’অর জয়ী ছিলেন, ১৯৬৬ বিশ্বকাপে দলকে তৃতীয় স্থানে পৌঁছাতে সহায়তা করেছিলেন। রোনালদো ও ইউসেবিও-র ঠিক পরেই, চারটি গোল নিয়ে পর্তুগালের বিশ্বকাপ গোলদাতার তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন পাউলেতা।

এছাড়া, ছয়টি ভিন্ন ফিফা বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে গোল করা প্রথম খেলোয়াড় হওয়ার গৌরবও অর্জন করছেন রোনালদো। এর মাধ্যমে বড় টুর্নামেন্টগুলোতে (ফিফা বিশ্বকাপ ও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ) তার টানা ১০ ম্যাচের গোলহীন থাকার খরা কাটছে।

তবে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ ড্র করার পর রোনালদো সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। কিন্তু উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে আবারও নিজের প্রতিভা প্রমাণ করলেন এই ফুটবলার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রাজিলের সামনে বড় পরীক্ষা, জাপানের কঠিন ‘ছক’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:২৩ পি.এম


ব্রাজিলের সামনে বড় পরীক্ষা, জাপানের কঠিন ‘ছক’

এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট দলে রয়েছে ব্রাজিল। দুর্দান্ত খেল শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী হয়ে টুর্নামেন্টের নকআউটে পৌঁছেছে সেলেসাওরা। আর এদিকে, যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে বিশ্বকাপের পরবর্তী রাউন্ডে পৌঁছেছে সূর্যদয়ের দেশ জাপানও। এবার এশিয়ার জায়ান্টদের প্রতিপক্ষ ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এর মধ্যেই ব্রাজিলকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন জাপানের কোচ হাজেমি মোরিয়াসু। ঠিক কোন জায়গায় এবারের বিশ্বকাপে জাপান সবার থেকে আলাদা?

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জাপান ডাগআউটে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রটি কোন অপরিচিত প্রযুক্তিগত যন্ত্র নয় বরং একটি সাধারণ সাদা হোয়াইটবোর্ড এবং একটি কালো মার্কার।

হাফটাইমের বাঁশি বাজতেই খেলোয়াড়দের ভিড় জমে সেই বোর্ডের চারপাশে। কয়েকটি সরল রেখা, কিছু তীরচিহ্ন, ছোট ছোট বৃত্ত। দেখা যাচ্ছে যন্ত্রণাগ্রস্ত কিন্তু সেই আঁকাতেই লুকিয়ে রয়েছে পরবর্তী ৪৫ মিনিটের যুদ্ধ পরিকল্পনা। জাপান কোচ হাজিমে মোরিয়াসুর বিশ্বাস, দীর্ঘ অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতার তুলনায় একটি স্পষ্ট চিত্র অনেক দ্রুত খেলোয়াড়দের মস্তিষ্কে পৌঁছাতে সক্ষম।

এবার সেই হোয়াইটবোর্ডের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গতি, ম্যাথেউস কুনিয়ার তীক্ষ্ণ আক্রমণ এবং নেইমারের সৃজনশীলতা থামানোর জন্য নতুন ছক বর্তমানে সম্ভবত আঁকা হচ্ছে মোরিয়াসুর মার্কারের আঁচড়ের মাধ্যমে। ফুটবল বিশ্বের দৃষ্টি এখন তাই সাদা বোর্ডের দিকে।

জাপানের ফুটবল দর্শণ অন্যদের থেকে স্পষ্টভাবে আলাদা। তারা অযথা বলের দখল ধরে রাখতে আগ্রহী নয়। বরং প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে পাল্টা আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়া তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

দাইচি কামাদা, ওয়াতারু এন্দো এবং কেইতো নাকামুরারা ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের পরিবর্তে দ্রুত ওয়ান টাচ পাস এবং নিখুঁত টাইমিংয়ের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের রক্ষণের ফাঁক তৈরি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আর সামনে ফেনুর্ডের স্ট্রাইকার আয়াসে উয়েদার বুদ্ধিদীপ্ত অফ দ্য বল রান দিয়ে ডিফেন্ডারদের অবস্থান ভেঙে দেয় এবং গোলের সুযোগ তৈরি করে।

মোরিয়াসুর হোয়াইটবোর্ড কৌশলটি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে সংগৃহীত।

প্রথমটি রিয়েল টাইম অ্যাডজাস্টমেন্ট। প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের রক্ষণ কোথায় দুর্বল হচ্ছে, কোন স্থানে বেশি স্পেস তৈরি হচ্ছে, হাফটাইমেই সেগুলো চিহ্নিত করেছেন।

দ্বিতীয়টি জোনভিত্তিক নির্দেশনা। কোন দিক দিয়ে আক্রমণ গড়তে হবে, কোথায় ফুলব্যাকের পেছনের ফাঁকা জায়গায় বল ফেলতে হবে, কিংবা কখন খেলোয়াড়দের অবস্থান পরিবর্তন করতে হবে, সবকিছু বোঝানো হয় সহজ রেখাচিত্রের মাধ্যমে।

তৃতীয়টি মানসিক স্বচ্ছতা। জটিল ট্যাকটিক্যাল ব্যাখ্যার পরিবর্তে সহজ ভিজ্যুয়াল নির্দেশনা খেলোয়াড়দের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। ফলে মাঠে বিভ্রান্তি কমে এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়।

শুধু পরিকল্পনা নয়, ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বদলালে মুহূর্তেই নিজের কৌশল পরিবর্তন করেন মোরিয়াসু। এই বিশ্বকাপে জাপান বেশিরভাগ সময় ৩-৪-২-১ ফর্মেশনে খেললেও বলের নিয়ন্ত্রণ পেলে সেগুলো দ্রুত ৩-৪-৩ তে রূপান্তরিত হয়। প্রতিপক্ষ বুঝে ওঠার আগেই পুরো আক্রমণ কাঠামো পাল্টে যায়। এক পাশ দিয়ে একাধিক খেলোয়াড় নিয়ে প্রতিপক্ষকে আকৃষ্ট করে জাপান। এরপর হঠাৎ করে খেলা বিপরীত উইংয়ে ঘুরে যায়। সেই মুহূর্তে তৈরি হয় নতুন আক্রমণের রাস্তা। দ্রুত ট্রানজিশন, নিখুঁত ওয়ান টাচ পাসিং এবং অসাধারণ অফ দ্য বল মুভমেন্টই এখন সামুরাই ব্লুদের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

কাগজে কলমে ব্রাজিলই টেবিলে সম্ভবত এগিয়ে রয়েছে। ইতিহাস, তারকা এবং অভিজ্ঞতায় সেলেসাওদের পাল্লা ভারী। তবে আধুনিক ফুটবল বারবার প্রমাণিত হয়েছে, শুধু বড় নাম দিয়ে ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়। সঠিক পরিকল্পনা, নিখুঁত বাস্তবায়ন এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল দিয়ে যেকোনো পরাশক্তিকে চাপের মধ্যে ফেলা সম্ভব।

এখন দেখার বিষয়, হাজিমে মোরিয়াসুর সেই সাদা হোয়াইটবোর্ডে আঁকা নতুন ছক কি আরেকটি বিশ্বকাপ বিস্ময় সৃষ্টি করে, নাকি ব্রাজিলের দখলদার আক্রমণের সামনে সামুরাই ব্লুদের স্বপ্ন থেমে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%