০৭:২২ পি.এম
টেস্টে ‘ফেল’ দেখিয়ে জামানত, নগদে অর্থ আদায়; তদন্ত দাবি অভিভাবকদের
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধিভুক্ত বেগম তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপকে কেন্দ্র করে বোর্ড নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বিভিন্ন খাতে ব্যাংক হিসাবের বাইরে নগদে অর্থ নেওয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো বৈধ রসিদ বা আর্থিক নথি দেওয়া হচ্ছে না। এতে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ফরম ফিলাপের আগে অনুষ্ঠিত টেস্ট পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অকৃতকার্য দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের পথ তৈরি করা হচ্ছে। এরপর বিষয়প্রতি ১০০ টাকা করে ‘মার্ক উন্নয়ন’ পরীক্ষার নামে ফি নেওয়া হয়। ওই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করলে একই পরিমাণ অর্থ জরিমানাসহ মোট ২০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক অভিভাবক।
আরও পড়ুন: পিরোজপুরে বৃদ্ধকে মারধরের মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আ: লীগ নেতা নোমান মৃধা গ্রে-প্তা-র
অভিযোগ রয়েছে, টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য দেখানো শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছ থেকে একটি অঙ্গীকারনামা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিষয়প্রতি ১ হাজার টাকা করে ‘জামানত’ আদায় করা হচ্ছে। একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে প্রতিটি বিষয়ের জন্য পৃথকভাবে এ অর্থ নেওয়া হচ্ছে। বোর্ড পরীক্ষায় শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হলে টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলে মৌখিকভাবে জানানো হলেও অঙ্গীকারনামায় জামানতের অর্থ কিংবা তা ফেরতের বিষয়ে কোনো লিখিত উল্লেখ নেই বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিভাবকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বোর্ড নির্ধারিত ফির বাইরে কোচিং ও মডেল টেস্টের নামে ১ হাজার ৫০০ টাকা, ফরমের মূল্য বাবদ ১০০ টাকা, টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে বিষয়প্রতি ১ হাজার টাকা এবং পুনর্মূল্যায়ন বা পূর্ণ নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করলে ১০০ টাকা ফি ও ১০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব অর্থ কলেজের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা নেওয়া হচ্ছে না; বরং নগদে গ্রহণ করা হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অর্থ গ্রহণের বিপরীতে কোনো মানি রিসিভ বা অফিসিয়াল রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে আদায়কৃত অর্থের হিসাব ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, বোর্ড নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থের বিষয়ে প্রশ্ন তুললে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়। তাদের ভাষ্য, ‘টাকা না দিলে সন্তানের ফরম ফিলাপে জটিলতা হতে পারে’—এমন আশঙ্কা দেখানো হয়। বাধ্য হয়েই তারা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করছেন।
আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় বন বিভাগের ১৩টি গাছ বিক্রি ও কাটার অভিযোগ, থানায় মামলা
আরেক অভিভাবক বলেন, “জামানতের নামে হাজার হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো কাগজে সেই টাকার উল্লেখ নেই। পরে টাকা ফেরত না দিলে তার প্রমাণও থাকবে না।”
এদিকে, অভিযোগ উঠেছে যে, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের পুরো প্রক্রিয়ায় কলেজের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির প্রধান সহকারী অধ্যাপক আফজাল হোসেনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত ফির বাইরে কোনো অর্থ আদায় করা হলে তার সুস্পষ্ট নীতিমালা, লিখিত অনুমোদন এবং বৈধ রসিদ থাকা বাধ্যতামূলক। অন্যথায় তা আর্থিক অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
আরও পড়ুন: রুয়েটে পাইপ চুরির অভিযোগে জয় আটক, অভিভাবকের জিম্মায় হস্তান্তর
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা বরিশাল শিক্ষা বোর্ড, জেলা প্রশাসন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিভাবকদের ভাষ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে ফরম ফিলাপ ও টেস্ট পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের অনিয়ম অব্যাহত থাকবে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন