০৭:৪২ পি.এম
জুলাইয়ের যোদ্ধাদের প্রতি ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হলে এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে বিএনপির জন্য আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। আওয়ামী লীগ যে পথে হেঁটে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে, বিএনপি যদি একই পথে চলে, তাহলে তাদেরও ক্ষমতায় থাকার সম্ভাবনা কমে যাবে। শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারকে এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ খালপাড় এলাকায় শহীদ রফিক চত্বরে অনুষ্ঠিত ইনকিলাব মঞ্চ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংগঠনের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের। এ সময় সংগঠনের অন্যান্য নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
তিনি জানান, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে কীভাবে বিচারের মুখোমুখি করা হবে, তা সরকারের নিশ্চিত করতে হবে। ইনকিলাব মঞ্চের এই দায়িত্ব নয়, বরং সরকারের।
আরও পড়ুন: মাদরাসা শিক্ষকদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে আহমাদুল্লাহর সমালোচনা ও সতর্কতা
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ওসমান হাদি হত্যার পর থেকেই মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা ভারতে অবস্থান করছেন দাবি করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার চিঠি দেওয়া হলেও ভারত কোনো জবাব দেয়নি। বরং ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে এ বিষয়ে কথা না বলার জন্য ফোন করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব ঘটনাকে হত্যাকাণ্ডে ভারতের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ হিসেবে দাবি করেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক।
উত্তরাঞ্চলের নয় জেলার ৭৩টি উপজেলায় প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে জনমত গড়ে তোলার পরিকল্পনা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারকে যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের সময় বিচার দাবিতে আন্দোলন করলে বলা হয়েছিল, নির্বাচন বানচাল করতেই এ কর্মসূচি। এখন নির্বাচনের আট মাস পেরিয়ে গেলেও কেন হত্যার বিচার হচ্ছে না, সেই প্রশ্নের জবাব সরকারকে দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়েও সরকারের সমালোচনা করা হয়। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক অভিযোগ করেন, গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে মত দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ভোট দিয়েছেন। অথচ এখন সেই রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। বিএনপিকে অক্ষরে অক্ষরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ২০১৩ সালে দিল্লি ও তাদের সমর্থকদের প্রত্যক্ষ মদদে শাহবাগের মতো জায়গায় বিচারব্যবস্থা ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন। পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ভারতের মদদের তথ্য পাওয়া গেছে দাবি করেও এ ঘটনায় বিচার না হওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ কোরিয়া সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর
বিগত ১৭ বছরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বাধা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রাজনৈতিক পরিচয় ও ভোট দেওয়ার কারণে মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এমনকি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে কারও বাবাকে তুলে নিয়ে হত্যা এবং কারও স্ত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপি যদি জুলাইয়ের যোদ্ধাদের প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে না পারে এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তৃণমূল পর্যায়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে উঠবে। তখন সরকার বিচার নিশ্চিত করতে বাধ্য হবে।
সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা যায় না। জনগণের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তামাশা করলে এবং তাদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করলে মানুষের ক্ষোভ বাড়বে। গণভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা বিএনপি যদি সেই গণভোটের রায়ই অগ্রাহ্য করে, তবে তা দলের জন্য বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি করবে।
আরও পড়ুন: মসজিদ-মাদরাসা নৈতিকতা-মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র: প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন