০৬:৪৯ পি.এম
ভারতের ব্যঙ্গধর্মী অনলাইন রাজনৈতিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)’র প্রতিষ্ঠাতা জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এ আন্দোলনকে এবার রাজপথে নিয়ে যেতে, তিনি শুক্রবার নয়াদিল্লি ফিরতে যাচ্ছেন।
নয়াদিলি থেকে এএফপি জানায়, অনলাইন আন্দোলনের উদ্যোক্তা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরছেন এবং শনিবার শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য পুলিশের অনুমতি চাইবেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র নামের অনুকরণে গঠিত ব্যঙ্গাত্মক ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গত মাসে যাত্রা শুরুর পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো অনুসারী অর্জন করেছে।
আরও পড়ুন: চিনা স্যাটেলাইটে ধরা পড়লো ইরান ঘিরে ৩ মার্কিন রণতরী
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক শুনানিতে সরকারের সমালোচনাকারী তরুণদের ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করেছেন বলে খবর প্রকাশের পর সিজেপির জন্ম হয়। পরে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য প্রসঙ্গের বাইরে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বিরোধী দল আম আদমি পার্টি (এএপি)-র সাবেক কর্মী এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপকে ১৬ মে অনলাইনে কাল্পনিক দলটি প্রতিষ্ঠা করেন।
‘তরুণদের জন্য, তরুণদের দ্বারা, তরুণদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম’ এই স্লোগান নিয়ে দলটির জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। দীপকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ধর্মেন্দ্র প্রধান সমালোচনার মুখে রয়েছেন।
শুক্রবার এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে দীপকে লেখেন, ‘ভারতের পথে আছি... আমার ভাগ্য সংবিধানের হাতে ছেড়ে দিলাম।’
আরও পড়ুন: পতেঙ্গায় শিশু সোহাগ হত্যা: ইমাম হোসেনের মৃত্যুদণ্ড
ভারতের লাদাখ অঞ্চলের বিশিষ্ট অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুকও বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সহিংস বিক্ষোভের পর গ্রেপ্তার হয়ে তিনি ছয় মাস আটক ছিলেন।
ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিষয়বস্তু কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং সিজেপির কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে ভারতে এখনো সচল থাকা দলটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের অনুসারী সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখের বেশি, যা বিজেপির ৯০ লাখ এবং প্রধান বিরোধী দল ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের ১ কোটি ৩০ লাখ অনুসারীর চেয়েও বেশি।
দীপকে এর আগে সমর্থকদের বিমানবন্দরে ভিড় না করার আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার এক্সে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে দিল্লি বিমানবন্দরে যোগ দেওয়ার আহ্বানে যে বিপুল সাড়া পেয়েছি, তা আমাদের কল্পনারও বাইরে ছিল।’
আরও পড়ুন: আ.লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য চেয়েছে সংসদীয় কমিটি
তিনি বলেন, ‘এত মানুষের বিমানবন্দরে সমবেত হওয়া বাস্তবসম্মত নয়। এতে সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর অসুবিধা হবে।’
তিনি জানান, শনিবারের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অনুমতি নিতে তিনি সরাসরি পুলিশের কাছে যাবেন।
দীপকে বলেন, ‘আমরা আইন মেনে চলা নাগরিক এবং আমাদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তাই কেউ যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
আরও পড়ুন: ব্রিটিশদের ৭৪ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি মনে করেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন