ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

পতেঙ্গায় শিশু সোহাগ হত্যা: ইমাম হোসেনের মৃত্যুদণ্ড


পতেঙ্গায় শিশু সোহাগ হত্যা: ইমাম হোসেনের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় আট বছর বয়সী শিশু সোহাগ হত্যার মামলায় ইমাম হোসেন, যিনি ইমন নামেও পরিচিত (২৮), আদালতের দ্বারা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। আদালত তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানার পাশাপাশি অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডেরও আদেশ প্রদান করেছে।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত এই রায় ঘোষণা করে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী ওমর ফুয়াদ জানান, শিশু সোহাগকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় তার পিতার করা মামলায় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় প্রদান করেছে।

আরও পড়ুন: আ.লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৮ মার্চ বিকেল সাড়ে চারটার সময় পতেঙ্গার খালপাড় এলাকায় খেলার সময় নিখোঁজ হয় শিশু সোহাগ। পরে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের সময় পূর্ব হোসেন আহমদ পাড়ার চেয়ারম্যান গলির একটি পরিত্যক্ত ভাড়া ঘর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বরই খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ইমন হোসেন সোহাগকে ওই পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করা হয়। শিশুটি বাধা দিতে গেলে সে চিৎকার করে এবং পালানোর চেষ্টা করে। তখন ইট দিয়ে তার মাথা ও কপালে আঘাত করা হয়, যা ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু ঘটায়। লাশের পাশে একটি রক্তমাখা ইট পাওয়া যায়।

সোহাগের বাবা মো. ফারুক হোসেন ভূঁইয়া পতেঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার সময় অভিযুক্তের বয়স ছিল ২০ বছর। পরে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তকে শনাক্ত করে এবং গ্রেপ্তার করে।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তিনি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার নুরাবাদ গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে।

আরও পড়ুন: সাংবাদিক মেহেদী হাসান বাবুর পিতা নেওয়াজ আলী সর্দারের ইন্তেকাল

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চিনা স্যাটেলাইটে ধরা পড়লো ইরান ঘিরে ৩ মার্কিন রণতরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৫ পি.এম


চিনা স্যাটেলাইটে ধরা পড়লো ইরান ঘিরে ৩ মার্কিন রণতরী

চীন সাগরে চিনা স্যাটেলাইটের নজরদারির আওতায় মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী উপস্থিতি নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি প্রকাশিত চিনা স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ (CVN-71) বিমানবাহী রণতরী দক্ষিণ চীন সাগর অতিক্রম করছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় যৌথ সামরিক মহড়া শেষে রণতরীটি ইরান উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনা অনুসারে চলতি নভেম্বরের শেষের দিকে ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ ওবায়দুল্লাহ জলসীমা অতিক্রম করে আরব সাগরে পৌঁছাতে পারে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, রুজভেল্ট কি পূর্বে সেখানে মোতায়েন থাকা ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’কে দায়িত্ব হস্তান্তর করে ফিরে আসবে, নাকি ইতোমধ্যে অবস্থানরত ‘ইউএসএস জর্জ এইচ.ডব্লিউ বুশ’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনটি মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার একযোগে ইরানি সীমান্তে শক্তিপ্রদর্শন শুরু করবে?

স্যাটেলাইট ও বিমান চলাচলের তথ্য

৪ নভেম্বর ‘মিজারভিশন’ নামের চিনা একটি বাণিজ্যিক মহাকাশ সংস্থার স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, ইন্দোনেশিয়ার নাটুনা দ্বীপপুঞ্জের উত্তরে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট এবং এর সহযোগী যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস চোসিন’-এর অবস্থান। তবে ছবিগুলোর বিভ্রান্তি এবং মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তার গোপনীয়তার কারণে যুদ্ধজাহাজ বহরের সব তথ্য জনসমক্ষে আসেনি।

এছাড়া, এমএইচ-৬০এস সি হক এবং সিএমভি-২২বি অসপ্রে যুদ্ধবিমানের গতিপথ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ বহরটি মালাক্কা প্রণালীর দিকে দ্রুতগতিতে অগ্রসর হচ্ছে।

কেন ৩টি রণতরীর উপস্থিতি এত গুরুত্বপূর্ণ?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিশাল বিমানবাহী রণতরী যদি একই সঙ্গে আরব সাগরে অবস্থান নেয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ভারসাম্যের পরিবর্তন আনবে। এর মূল কারণগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:

ইরানের ওপর নজরদারি ও প্রতিরোধ: হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষার অজুহাতে ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রতিহত করতে বিপুল পরিমাণ ফাইটার জেট এবং নজরদারি এভিয়েশন মোতায়েনের সুযোগ তৈরি হবে।

আম্ফিবিয়াস ফোর্সের সমন্বয়: মার্কিন ৯,০০০ থেকে ১০,০০০ সৈন্য এবং '১৩তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিট' বহরে থাকায় যেকোনো সামুদ্রিক সংকটে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার পথ উন্মুক্ত হবে।

কূটনৈতিক চুক্তি ও হুমকি: যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত ও বাণিজ্যিক আলোচনার মধ্যবর্তী সময়ে মার্কিন নেতৃত্বের সরাসরি সামরিক ব্যবস্থার যে হুমকি ছিল, এই তিনটি ক্যারিয়ারের উপস্থিতি সেই কৌশলগত চাপকে বাড়িয়ে দেবে।

প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের সঙ্গে মার্কিন সমীকরণ

যুক্তরাষ্ট্র যখন তাদের বড় নৌ-বহর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সরাচ্ছে, ঠিক তখনই প্রশান্ত মহাসাগরে চিনা নৌবাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। চিনা বিমানবাহী রণতরী 'লিয়াওনিং' ইতিমধ্যেই ফিলিপাইন ও জাপানের পার্শ্ববর্তী জলসীমায় টহল দিচ্ছে এবং তাদের নতুন বিমানবাহী জাহাজ 'ফুজিয়ান' ও 'শানডং' সাগরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

আমেরিকার পক্ষে মধ্যপ্রাচ্যে একটি অতিরিক্ত বিমানবাহী রণতরী দীর্ঘমেয়াদে রাখা মানে প্রশান্ত মহাসাগরে চিনের মুখোমুখি হওয়ার সক্ষমতা সাময়িকভাবে কমে যাওয়া।

কৌশলগত ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ

যদিও ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট একটি পারমাণবিক চালিত বিমানবাহী রণতরী, তবে এর সাথে থাকা প্রচলিত শক্তির চালিত রণতরীসমূহ এবং হাজার হাজার সৈন্যের জন্য রসদ সরবরাহের চ্যালেঞ্জ থেকেই যায়। সম্প্রতি এটি চিনের নজর এড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি সরবরাহকারী জাহাজ 'এইচএমএএস স্টালওয়ার্ট'-এর মাধ্যমে মধ্য-সমুদ্রে রিফুয়েলিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি রণতরী দীর্ঘমেয়াদে মোতায়েন থাকবে, নাকি নতুনটি এসে পুরনো রণতরীকে জাপানের প্রধান ঘাঁটিতে ফেরত পাঠাবে—তা আগামী কয়েক সপ্তাহের আন্তর্জাতিক সামরিক বিন্যাসের ওপর নির্ভর করছে। তবে সার্বিকভাবে, মার্কিন এই নতুন শক্তিপ্রদর্শন হরমুজ প্রণালী ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%