সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৫৬ এম
সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিভিন্ন দেশে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এছাড়া বিদেশে বিপুল অর্থপাচার করে পর্তুগাল, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইস ব্যাংকের সম্পদ গড়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
প্রাপ্ত অভিযোগে আর্থিক অনিয়ম ও লেনদেনের যেসব অঙ্ক উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো যোগ করলে পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, এর মধ্যে দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ সবচেয়ে বড় অঙ্কের। বাকি অর্থের অভিযোগ রয়েছে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিভিন্ন পদে নিয়োগ, প্রকল্প, টেন্ডার এবং ঘুস লেনদেন ঘিরে।
এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ৪ জনের দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ বদলি, কেনাকাটা সিন্ডিকেটের মাধ্যমেসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের কথা বলা হয়।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ।
তিনি বলেন, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থপাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে নিয়োগ, ডিসি পদায়ন, বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার নিয়োগ বদলি এবং পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার ও শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতেরও অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিদেশে বিপুল অর্থপাচার করে পর্তুগাল, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইস ব্যাংকের সম্পদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া আসিফ মাহমুদের বাবা, এপিএস ও পিওর বিরুদ্ধে ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, ঘুষ লেনদেনের তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ যাচাই বাছাই শেষে চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে সংযুক্ত করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান দুদকের এই কর্মকর্তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে স্পিকার আরও ৮ মিনিট সময় প্রদান করেছেন। এই বিষয়টি অধিবেশনে হাস্যরসের পরিবেশ সৃষ্টি করে। বক্তব্যের এক পর্যায়ে পার্থ স্পিকারের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের কথাও উল্লেখ করেন।
সাধারণত সংসদে সদস্যদের বক্তব্যের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ থাকে। তবে, যদি বক্তব্য শেষ করার প্রয়োজন হয়, তাহলে স্পিকার বিশেষ বিবেচনায় অতিরিক্ত সময় দিতে পারেন। পার্থর বক্তব্যের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের পর তাকে আরও ৮ মিনিট কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
বাড়তি সময় পাওয়ার প্রসঙ্গটি রসিকতার ছলে তুলে ধরে পার্থ জানান, স্পিকার তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং দীর্ঘদিনের বন্ধু। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, এই বন্ধুত্বের কারণেই হয়ত তিনি বাড়তি সময় পেয়েছেন।
পার্থর এই মন্তব্যে সংসদে হাসির রোল পড়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং উপস্থিত সংসদ সদস্যদের অনেকেই হাসিতে যোগ দেন এবং টেবিল চাপড়ে মুহূর্তটিকে স্বাগত জানান।
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, কোনো সদস্যকে বক্তব্যের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়ার এখতিয়ার স্পিকারের রয়েছে। তবে, পার্থর বক্তব্যের সাবলীলতা এবং স্পিকারের সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ খুনসুটি অধিবেশনের পরিবেশকে কিছুটা প্রাণবন্ত করে তোলে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করার প্রায় দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও এখনো প্রজ্ঞাপন (গেজেট) প্রকাশ করা হয়নি। এই অবস্থায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে, প্রক্রিয়াটি আবারও কোনো জটিলতায় আটকে পড়েছে কি না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সরকারি কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, ‘এক সপ্তাহের মধ্যে গেজেট হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এ কারণে সবাই চিন্তিত।’
গত ৩১ আগস্ট নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর অনুমোদন দেয় সরকার। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি হবে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত সেটি প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
তবে সাবেক আমলারা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার জানান, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের আগে একাধিক প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এসব কাজ শেষ হতে অনেক সময় কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও লাগতে পারে।
কেন সময় লাগছে?
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়কে বিস্তারিত প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুত করতে হয়। এতে বিভিন্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তার বিস্তারিত নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সাবেক সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহ বলেন, শুধু জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী নয়, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, সরকারি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো কীভাবে কার্যকর হবে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হয়। এসব বিষয় প্রস্তুত করতেই অনেক সময় লাগে।
খসড়া প্রস্তুত হওয়ার পর তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে সংবিধান বা বিদ্যমান আইন-কানুনের সঙ্গে কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি আইনি ভাষা ও পরিভাষার যথার্থতাও নিশ্চিত করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয়।
এখনও আইন মন্ত্রণালয়ে যায়নি খসড়া
যদিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেটি এখনও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছেই রয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত সপ্তাহে দুই-এক দিনের মধ্যে খসড়াটি ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু রোববার পর্যন্ত সেটি তাদের কাছে পৌঁছায়নি।
অন্যদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এটি আটকে থাকার বিষয় নয়। গেজেট প্রকাশের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও কারিগরি কাজ শেষ করতে কিছুটা সময় লাগছে। বর্তমানে বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশনা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। খুব শিগগিরই খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
অতীতে কত সময় লেগেছিল?
সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বশেষ জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। সে সময় ৭ সেপ্টেম্বর অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেলেও চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। অর্থাৎ অনুমোদন থেকে গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন মাস সময় লেগেছিল।
সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হচ্ছে। তাই কিছুটা বিলম্ব অস্বাভাবিক নয়।
কার কত বেতন বাড়ছে?
নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হবে। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জুলাই মাস থেকেই বর্ধিত বেতনের সুবিধা পাবেন। প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।
এর আগে জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশ এবং পরবর্তী পর্যালোচনা কমিটির মতামতের ভিত্তিতেই বর্তমান সরকার নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন দিয়েছে.
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের পোষা ছাগল চুরির ঘটনার প্রেক্ষাপটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মন্তব্য করেছেন যে, আসিফ নজরুলের দুটি ছাগলই খাওয়া উচিত ছিল।
তিনি উল্লেখ করেন, "আসিফ নজরুলের একটি ছাগল খাওয়া হয়েছে, অথচ তার দুটিই খাওয়া উচিত ছিল।" একটি বাদ দেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি ধিক্কার জানান। একইসঙ্গে, আসিফ নজরুলকে ‘খুব ভালো মানুষ নন’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পাটওয়ারী আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আসিফ নজরুল গরু, ছাগল ও মুরগি পালন শুরু করেছিলেন এবং এসব প্রাণী যেখানে রাখা হতো, সেখানে পুলিশের নিরাপত্তা প্রদান করা হয়েছিল। তিনি সতর্ক করেন যে, ছাগল খাওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সুযোগ পেলে আরেকটি ছাগলও খেতে পারেন।
এর আগে, একটি টকশোতে আসিফ নজরুল নিজের ছোট মেয়ের পোষা ছাগল চুরির ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি এই ঘটনাটিকে তার জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
আসিফ নজরুল জানান, তিনি হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে একা থাকতেন। তাই সাড়ে ৯ বছর বয়সী ছোট মেয়ের সঙ্গী হিসেবে ছাগলটি কিনে দেওয়া হয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যে মেয়েটির সঙ্গে প্রাণীটির গভীর সখ্যতা গড়ে ওঠে। মেয়ের স্কুলে যাওয়া ও ফিরে আসার সঙ্গে ছাগলটিরও এক ধরনের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। এমনকি, মেয়েটি নিজের ফোনের ওয়ালপেপারে মায়ের ছবির পরিবর্তে ছাগলটির সঙ্গে তোলা ছবিও ব্যবহার করত।
তিনি আরও জানান, ছাগলটি চুরি হয়ে যাওয়ার পর তার মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। কান্নার সময় বমি করে ফেলা এবং প্রায় দেড় দিন খাবার না খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
আসিফ নজরুলের মতে, ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও মূলত মজা করার উদ্দেশ্যেই ছাগলটি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে, একটি শিশুর পোষা প্রাণী চুরি করে সেটি খেয়ে ফেলার ঘটনা অত্যন্ত নির্মম ও অমানবিক।
তিনি বলেন, ছাত্রনেতাদের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধ বা প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ছাগলটি চুরি করে খাওয়ার যে কথা বলা হয়েছিল, সেটি সঠিক নয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শেষ দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা থাকাকালে হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন থেকে আসিফ নজরুলের ছোট মেয়ের পোষা ছাগল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সম্প্রতি পদত্যাগ করা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। এত উচ্চপর্যায়ের একটি পদের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা তার ছিল না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
সায়মা ওয়াজেদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা কোনো বিস্ময়ের বিষয় ছিল না। বিশ্বাসযোগ্য কোনো যোগ্যতা ও দক্ষতা না থাকা সত্ত্বেও শুধু তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে—এই কারণে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে পুতুলকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাকে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জন্য ‘লজ্জার’ বিষয় বলেও বর্ণনা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও গুরুত্ব ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, এমন মানুষ দরকার, যারা সংস্থার নেতৃত্ব দিতে পারবেন। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে খুবই সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
ভবিষ্যতে উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন কোনো প্রার্থীকে বাংলাদেশ সমর্থন করবে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে তিনি মালদ্বীপের একজন প্রার্থীর কথা উল্লেখ করেন, যার ভালো রেকর্ড ও শক্তিশালী যোগ্যতা রয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, অদূর ভবিষ্যতে ডব্লিউএইচও উপযুক্ত নেতৃত্বের হাতে থাকবে।
কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিবার বা শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে কোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকলে তা শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসবে বলেও জানান।
দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ ফেরত আনার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় অংশীদারের সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করছে। যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও বাংলাদেশের এ বিষয়ে একটি অংশীদারত্ব রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফরেনসিক দক্ষতা ও সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা কাজ করব, যাতে বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে চুরি করা সম্পদ ও অর্থ উদ্ধার করা যায়। যাতে জনগণ তাদের অর্থ ফিরে পায় এবং সেই অর্থ তাদের জন্য ব্যয় করা হয়, তা বিদেশে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ