ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে : রিজভী


আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে : রিজভী

শিল্পের সঙ্গে কর্মসংস্থানের সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে শিল্প উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শিল্প খাতকে এগিয়ে নিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তিনি সতর্ক করেছেন যে, কোনো অশুভ শক্তির কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে নজর রাখতে হবে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুরের টঙ্গী শিল্প এলাকায় বাংলাদেশ ব্লেড ফ্যাক্টরি লিমিটেডের একটি কারখানার বাণিজ্যিক কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ইংল্যান্ডের উইলকিনসন সোর্ড কোম্পানির কারিগরি সহযোগিতায় সরকারি এই প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মানের সোর্ড ডিসপোজেবল রেজর ব্লেড উৎপাদনের লক্ষ্যে সদ্য সমাপ্ত প্রকল্পের আওতায় কারখানাটি নির্মিত হয়েছে।

রুহুল কবির রিজভী উল্লেখ করেন, ১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই ব্লেড কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে কারখানাটিকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে কোনো অশুভ শক্তি এর উৎপাদন ব্যাহত করতে না পারে।

আরও পড়ুন: সরকারকে সময় না দিয়ে বিরোধিতা করছে বিরোধী দল: ডা. কাজী মনির

তিনি আরও বলেন, কোনো দেশে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যদি কোনো কারণে স্থবির হয়ে পড়ে, তাহলে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই গতানুগতিক ধারার বাইরে এসে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে। শিল্পের উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সচল রাখার পাশাপাশি আধুনিকায়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রাশেদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ব্লেড ফ্যাক্টরি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাকেরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১২ পি.এম


বাকেরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বরিশালের বাকেরগঞ্জে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র পালের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন তালুকদার শাহিন, বাকেরগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি দানিসুর রহমান লিমন, সুপারভাইজার মিনহাজুল ইসলাম সুজন, জসিম উদ্দিন নিক্সন প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলটন চন্দ্র পাল বলেন, ফ্যামিলি কার্ড সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। এ কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ অত্যন্ত জরুরি। তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা যায়।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি, তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজাররা ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাজেকের পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১৮ পি.এম


সাজেকের পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা

সাজেকের পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা করেছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে এই অবরোধ শুরু হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর সশস্ত্র তৎপরতা ও হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদ হিসেবে গৃহীত হয়েছে।

সংগঠন দুটি জানায়, ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়ার পরও তাদের দাবি পূরণ না হওয়ায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই কর্মসূচির বিষয়টি তুলে ধরেন সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এবং সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা।

বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করেন, জেএসএস সন্তু গ্রুপের নামে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সাজেকে অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। ৮ অক্টোবরের সমাবেশ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হলেও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বরং প্রতিবাদকারীদের দোকান ও বাসাবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

নেতারা বলেন, সাজেকের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারা সাজেক ইউনিয়নসহ বাঘাইছড়ি ও দীঘিনালা উপজেলার যানবাহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতাও চেয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অবরোধ চলাকালে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, মরদেহ বহনকারী গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন, সংবাদপত্র বহনকারী যান এবং সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকদের গাড়ি অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে।

অভিযোগ করা হয়, গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর মদদে জেএসএস সন্তু গ্রুপের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সাজেকের ভুয়োছড়ি, চাইল্যাতলী ও মাচলং ক্যাম্পের আশপাশে অবস্থান করছে এবং স্থানীয় লোকজনকে হুমকি দিচ্ছে। ২৯ সেপ্টেম্বর ওই গোষ্ঠীর ছোড়া গুলিতে কস্মিতা ত্রিপুরা (৮) নামে এক শিশু আহত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। সংগঠন দুটির নেতারা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি সশস্ত্র গোষ্ঠীটিকে সরিয়ে নিয়ে সাজেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাসার কাজে কয়েদিদের ব্যবহার করায় সাবেক নারী জেলার গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১৯ পি.এম


বাসার কাজে কয়েদিদের ব্যবহার করায় সাবেক নারী জেলার গ্রেপ্তার

ভারতের রাজস্থানে বাসার কাজ এবং দুই সন্তানের দেখভালের জন্য কারাগার থেকে দুই নারী কয়েদিকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক নারী জেলার দিব্যা চৌধুরী। চাকরি হারানোর পাশাপাশি, তিনি বর্তমানে সেই কারাগারেই বন্দি রয়েছেন, যেখানে তিনি একসময় দায়িত্ব পালন করতেন।

৩৭ বছর বয়সী দিব্যা রাজস্থানের আজমির কেন্দ্রীয় কারাগারের সাবেক জেলার। এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আজমির সেন্ট্রাল জেল থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে একটি ভাড়া বাসায় দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন দিব্যা। তার স্বামী রাজস্থানের কোটা জেলায় কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত আছেন।

অফিসের দায়িত্ব ও সংসার সামলাতে গিয়ে, কারাগারের অধীন মহিলা সংশোধনাগারের কয়েদিদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেন তিনি। ১২ জুলাই, দিব্যা দুই নারী বন্দিকে নিজের বাসায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের মধ্যে একজন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কিরণ, যিনি সেথা নামেও পরিচিত। অন্যজন বিচারাধীন বন্দি সানা।

কারাগারের প্রধান ফটকে দায়িত্ব পালনরত অন্যান্য কর্মীরা এতে বাধা দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, দিব্যা এবং তার সহকর্মী কনস্টেবল সোনিয়া চৌধুরী তাদের বাধা উপেক্ষা করে দুই বন্দিকে নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে যান।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে ওই দুই বন্দিকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়। রাজস্থান কারাবিধি-২০২২ অনুযায়ী, বন্দিদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ঘটনার পর বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে দিব্যা চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ৫ আগস্ট, আজমিরের সিভিল লাইন্স থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেন কারাগারের এক প্রহরী। মামলা হওয়ার পর থেকে দিব্যা আত্মগোপনে ছিলেন।

পরে তাকে গ্রেপ্তারে বিশেষ দল গঠন করে আজমির পুলিশ। তদন্তে সাইবার সেলের সদস্যরাও যুক্ত হন। তারা সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করেন।

৬ অক্টোবর, রাজস্থানের কোটা জেলায় দিব্যার স্বামীর ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে, দিব্যা দাবি করেন যে, তিনি ওপেন জেল থেকে বন্দি আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কারণ, ওপেন জেলের বন্দিদের নির্দিষ্ট শর্তে বাইরে যাওয়ার সুযোগ থাকে। তবে তার সহকর্মী সোনিয়া ভুল করে সাধারণ কারাগারের দুই বন্দিকে নিয়ে আসেন বলে দাবি করেন তিনি।

তবে দিব্যার এই বক্তব্যের বিষয়ে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অবস্থান সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এনসিপির সভায় সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী নিয়ে সমালোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২০ পি.এম


এনসিপির সভায় সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী নিয়ে সমালোচনা

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। বক্তারা সেখানে এই সংশোধনীর বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেন।

বক্তাদের মতে, সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী ডিজিটাল ফ্যাসিবাদের পথকে নতুন করে সুগম করবে। অস্পষ্ট বিধান ও অপব্যবহারের আশঙ্কা বাক্‌স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারকে সংকুচিত করে দিতে পারে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ‘সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী—বাক্‌স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি এই সভার আয়োজন করে।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিক্ষাবিদ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার, ডেইলি ওয়াদার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ, লেখক, বিশ্লেষক ও নাটশেল টুডের নির্বাহী সম্পাদক অপূর্ব জাহাঙ্গীর এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা। আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক অ্যাডভোকেট আরমান হোসাইন।

এনসিপির সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে অসংখ্য মানুষকে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হয়েছে। সাংবাদিক, লেখক এবং সাধারণ মানুষও এই আইনের শিকার হয়েছেন। লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে মৃত্যুর ঘটনা এই আইনের অপব্যবহারের ভয়াবহতা তুলে ধরে। তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রণয়ন করেছিল, যাতে অনলাইন অপরাধ মোকাবিলার পাশাপাশি নাগরিকদের অযাচিত গ্রেপ্তার ও হয়রানির সুযোগ সীমিত রাখা হয়। কিন্তু বর্তমান সরকার প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে অপরাধের সংজ্ঞা অস্পষ্ট ও ব্যাপক করার উদ্যোগ নিয়েছে, যা বাক্‌স্বাধীনতা সংকুচিত করার আশঙ্কা তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ না করে এবং এককভাবে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করে গণভোটের রায় ও জাতীয় ঐকমত্যকে উপেক্ষা করছে। বিএনপি সরকারের এই পদক্ষেপকে তিনি আওয়ামী লীগের আমলের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার সঙ্গে তুলনা করেন। অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে সংবিধান সংশোধনের ফলে ১/১১-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সরকারও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে নিজেদের মতো করে সংবিধান সংশোধনের পথে এগোচ্ছে, যা ভবিষ্যতে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।

আখতার হোসেন বলেন, সরকার-সমর্থকদের গালিগালাজ, গুজব ছড়ানো ও মানহানিকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অথচ সরকারের সমালোচনা করলে বিরোধী দলের নেতা-কর্মী কিংবা সাধারণ মানুষকে আইনের আওতায় আনার আশঙ্কা রয়েছে। অস্পষ্ট আইনের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ভীতি তৈরি করা হতে পারে। তিনি আরও বলেন, দেশে চাঁদাবাজি, লুটপাট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মতো সংকট থাকলেও সরকার কার্যকর সমাধান দিতে পারছে না। এলপিজির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির পেছনে সিন্ডিকেটের ভূমিকা থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসের কারণে স্থগিত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে চাকরিচ্যুত ও গ্রেপ্তার করতে হবে এবং আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ক্ষতিগ্রস্ত চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

তার মতে, সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী কার্যকর হলে গুজব, অপতথ্য ও মানহানির অভিযোগ তুলে এসব সংকট নিয়ে কথা বলা নাগরিকদেরও হয়রানি করা হতে পারে। তাই তিনি প্রস্তাবিত সংশোধনী থেকে সরে এসে জনগণের বাক্‌স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষার আহ্বান জানান।

শিক্ষাবিদ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীর পক্ষে সরকার যেসব যুক্তি দিচ্ছে, সেগুলোর যৌক্তিকতা যাচাই করা জরুরি। অনলাইনে উসকানি, সহিংসতার আহ্বান, নারী ও শিশুর প্রতি হয়রানি এবং অপতথ্য ছড়ানোর মতো ঘটনা অবশ্যই উদ্বেগজনক। তবে এসব কর্মকাণ্ডের অনেকগুলোই বিদ্যমান আইনেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। ফলে এসব অপরাধ প্রতিরোধের যুক্তিতে নতুন করে সংশোধনী আনার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত বিধানগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা স্পষ্ট করা দরকার।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে গুজবের সংজ্ঞা অস্পষ্ট থাকলে তা নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কোন তথ্য গুজব হিসেবে বিবেচিত হবে, কে তা যাচাই করবে এবং যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কী হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্টতা থাকা জরুরি। বিশেষ করে, কোনো অভিযোগের স্বাধীন তদন্তের সুযোগ না থাকলে অভিযোগ উত্থাপনকারী ব্যক্তি বা পরিবারও আইনি হয়রানির ঝুঁকিতে পড়তে পারে। অনলাইনে মানহানির বিষয়টি বিবেচনার ক্ষেত্রে জনস্বার্থে সত্য তথ্য প্রকাশের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রমগুলো সুরক্ষিত রাখা প্রয়োজন।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সাবেক এই সদস্য বলেন, অশালীন বক্তব্য বা গালিগালাজ সামাজিকভাবে অনুচিত হলেও সেগুলো নিয়ন্ত্রণের নামে রাষ্ট্রকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। রাষ্ট্র নাগরিকের অভিভাবক নয়; নাগরিকের রাষ্ট্রের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। তাই বাক্‌শালীনতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ যেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমানের বক্তব্য -'বিএনপি আওয়ামী লীগের মতো আইন ব্যবহার করবে না' - শুধু এ আশ্বাসের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। আইনটি ভবিষ্যতে কীভাবে ব্যবহৃত হবে, তা নিশ্চিত করতে এর কাঠামোতেই অপব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বক্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে কেন্দ্র করে মামলা ও গ্রেপ্তার মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মানুষ হয়রানির আশঙ্কায় নিজের মতপ্রকাশ থেকে বিরত থাকে, যা ‘চিলিং ইফেক্ট’ নামে পরিচিত।

নাবিলা ইদ্রিস আরও বলেন, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর আইন থাকা জরুরি, তবে তা যেন নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন না করে। অপরাধের স্পষ্ট সংজ্ঞা, স্বচ্ছ যাচাইপ্রক্রিয়া, স্বাধীন তদন্তের সুযোগ এবং বিচারিক তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যম নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশকারী সাধারণ নাগরিকসহ সবার অধিকার সমানভাবে সুরক্ষিত রাখতে হবে।

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে কিছু বিষয় অস্পষ্ট রাখা হয়েছে, যা আইনের অপপ্রয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে। ২৬(ক) ধারার সংশোধনী প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো ব্যক্তি আন্তরিকভাবে ছড়ানো একটি তথ্যের ভিত্তিতে কারও মৃত্যুর খবর বিশ্বাস করে ‘ইন্না লিল্লাহ’ পড়ে তাঁর জন্য দোয়া করলে, সেই ব্যক্তিরাও কি শাস্তির আওতায় আসবেন? তাঁর মতে, আইনে অপরাধের সংজ্ঞা ও প্রয়োগের বিষয়গুলো সুস্পষ্ট না হলে সাধারণ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। বিএনপিকে সতর্ক করে তিনি বলেন, অতীতে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় যেসব আইন ও বাহিনী গঠন করা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে সেগুলো বিএনপির বিরুদ্ধেই ব্যবহৃত হয়েছে। তাই কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা থেকে সরে এসে আইনের অপপ্রয়োগের ঝুঁকি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে বন্দর চুক্তি নিয়ে বিএনপি দেশ বিক্রির অভিযোগ তুললেও পরে তারাই একই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বন্দর ইজারার চুক্তি করেছে। বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েও দাম বাড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের ১৮ মাস পূর্ণ হলে জনগণ অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সঙ্গে তুলনা করবে। তাঁর মতে, ব্যাটারিচালিত রিকশার মতো জটিল সমস্যার সমাধানে একতরফা পদক্ষেপ না নিয়ে বেকারত্ব, জনপরিবহন, যানজট, বিদ্যুৎ-সংকট ও সড়কনিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার ও সংকট মোকাবিলা করতে হবে। নিজের সুবিধামতো আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করে কোনো স্বৈরশাসক টিকে থাকতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১৩টি অপ্রয়োজনীয় বলে দাবি করলেও বর্তমান সরকার কয়েকটি অধ্যাদেশ প্রায় অবিকল রেখে আইন করেছে। স্থানীয় সরকারসংক্রান্ত আইনে নির্বাহী আদেশে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণের ক্ষমতা রাখা হয়েছে। অথচ জবাবদিহি নিশ্চিত করার অধ্যাদেশ বাতিল করা হলেও সরকারকে জনপ্রতিনিধি অপসারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সাইবার অধ্যাদেশে অনলাইন যৌন নিপীড়ন ও সহিংসতায় উসকানির মতো বিষয়গুলো সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সাইবার আইনে এমন সংশোধনী আনতে চাইছে, যা ডিজিটাল কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করতে পারে। গত ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর থেকে ফেসবুক পোস্টের কারণে ২১ থেকে ২২ জনকে গ্রেপ্তারের খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসেছে। এসব ঘটনার অনেকগুলোই বিদ্যমান সাইবার আইনের আওতায় না পড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে মানহানি, অপমান ও গুজবের মতো বিষয় যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এসবের সংজ্ঞা স্পষ্ট নয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, রাজনৈতিক সচিব ও সরকারপন্থী প্রচারকদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ারের ৭০০ অটোরিকশা রয়েছে এবং সেগুলো দিয়ে আন্দোলন সংগঠিত করা হচ্ছে—এমন দাবি করা হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, গুজব নির্ধারণ করবে কে এবং সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ছড়ানো কথার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কীভাবে? তিনি আরও বলেন, সরকার একদিকে ছয় মাস অপেক্ষা করতে বলেছে, অন্যদিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের প্রশ্নে ছয় মিনিটও অপেক্ষা করেনি। অতীতের ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা চিরস্থায়ী নিরাপত্তা নয়। জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে; অন্যথায় জেন-জি ও জেন-আলফার প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হতে পারে।

লেখক, বিশ্লেষক ও নাটশেল টুডের নির্বাহী সম্পাদক অপূর্ব জাহাঙ্গীর বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী যেভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তাতে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিতে একধরনের অহমিকার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক সংকট ও পরিবর্তনের পর মানুষ আশা করেছিল, নির্বাচনের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনটি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সরকার সত্যিই এমন আইন প্রণয়ন করতে চায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আইনটি আমলাতান্ত্রিক, নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত—সেটিও বিবেচনার দাবি রাখে।

অপূর্ব জাহাঙ্গীর আরও বলেন, কোনটি অপতথ্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য, তা সরকার নিজেই নির্ধারণ করবে, নাকি আদালত কিংবা তৃতীয় কোনো পক্ষ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে—এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কনটেন্ট অপসারণের ক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতার কারণে এ ধরনের বিষয়ে শুধু সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করা কঠিন। তবে আইনটি নিয়ে আলোচনা চলমান রাখার উদ্যোগকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার প্রস্তাবিত সংশোধনীর ঝুঁকিপূর্ণ দিকগুলো পুনর্বিবেচনা করবে এবং এমন একটি আইন প্রণয়ন করবে, যা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

ডেইলি ওয়াদার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ২৫ ও ২৬ ধারাসহ কয়েকটি বিধান বাক্‌স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক। বিশেষ করে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে যাচাইপ্রক্রিয়ার বাধ্যবাধকতা সাংবাদিকদের সম্পাদকীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে। সরকারি নিশ্চিতকরণ ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করলে মামলা বা হয়রানির আশঙ্কায় সংবাদমাধ্যমের মালিকপক্ষ ও সম্পাদকরা সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেন। এতে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপ তৈরি হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ধামাচাপা পড়ার ঝুঁকি বাড়বে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীর ৮ ধারায় বিচারিক অনুমোদন ছাড়াই কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। এর ফলে শুধু সাংবাদিক নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশকারী সাধারণ নাগরিকেরাও আইনি হয়রানির শিকার হতে পারেন। কয়েকজনকে শাস্তির মুখোমুখি করা হলে অন্যদের মধ্যেও ভীতি তৈরি হবে, যা শেষ পর্যন্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করবে। তাই প্রস্তাবিত সংশোধনীর ঝুঁকিপূর্ণ বিধানগুলো পুনর্বিবেচনা করে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নাগরিকের অধিকার সুরক্ষার আহ্বান জানান তিনি।

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে অস্পষ্ট সংজ্ঞা ও বিধান রাখা হয়েছে, যা বাক্‌স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের জন্য উদ্বেগজনক। ২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা থেকে শুরু করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন—বিভিন্ন সময়ে আইনের নাম পরিবর্তন হলেও এর অপব্যবহারের আশঙ্কা দূর হয়নি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল, আর কখনো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হবে না। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনে গুজবের অস্পষ্ট সংজ্ঞা, মিম তৈরি ও শেয়ার করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ এবং মানহানিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে রাখার বিষয়গুলো নতুন করে দমন-পীড়নের আশঙ্কা তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক বা আইনজীবীদের জন্য আলাদা সুরক্ষা নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সমানভাবে সুরক্ষিত করতে হবে। প্রস্তাবিত আইনে কনটেন্ট অপসারণের ক্ষমতা কোনো নির্বাহী বা অনুমোদিত কর্তৃপক্ষের হাতে না দিয়ে কেবল আদালতের হাতে রাখা উচিত। একই সঙ্গে সাইবার-সংক্রান্ত অপরাধকে মোবাইল কোর্ট আইনের আওতায় এনে তাৎক্ষণিক শাস্তি দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হলে নাগরিক হয়রানির আশঙ্কা বাড়বে। তাই নাগরিককে প্রজা হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা বন্ধ করে বাক্‌স্বাধীনতা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রস্তাবিত সংশোধনীর বিতর্কিত বিধানগুলো বাদ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক অ্যাডভোকেট আরমান হোসাইন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর প্রত্যাশা ছিল, বাক্‌স্বাধীনতা, নাগরিকের ন্যায়বিচার ও চিন্তা-চেতনার বহিঃপ্রকাশ কোনো সরকার কালো আইনের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। কিন্তু বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনীতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত বিধানগুলো ফিরিয়ে আনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওই আইনের মাধ্যমে লেখক ও মতপ্রকাশকারীদের গ্রেপ্তার, কারাগারে নির্যাতন এবং হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তার মতে, প্রস্তাবিত আইনে অস্পষ্ট সংজ্ঞা ও বিধানের কারণে বাক্‌স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইনটির অপব্যবহারের মাধ্যমে মানুষকে আবারও আগের মতো নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হতে হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%