শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৫৯ পি.এম
বরগুনায় কৃষকরা তীব্র সার সংকটের কারণে সমস্যায় পড়েছেন। আমতলী, তালতলী ও বরগুনা সদরের বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজনের সময় সার না পাওয়ায় তাঁরা বাজার ও বিক্রয়কেন্দ্রে ঘুরছেন। নির্ধারিত সময়ে সার প্রয়োগ করতে না পারায় আমনসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নতুন সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, অযোগ্যদের সুপারিশ এবং স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ কৃষকদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন মিরাজ জানিয়েছেন, ১৯ অক্টোবর চালিতাতলী খেয়াঘাট এলাকায় তিনি দেখেছেন, তালতলীর এক কৃষক সার না পেয়ে বেতাগী উপজেলার চান্দখালী বাজার থেকে সার সংগ্রহ করে ট্রলারে বাড়ি ফিরছেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত ইরি-বোরো মৌসুমে সার ও জ্বালানি সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। চলতি আমন মৌসুমেও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কৃষক এবং সামগ্রিক অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে পড়বে।
তালতলীর সোনা কাটার ইউনিয়নের লাউপাড়া গ্রামের কৃষক মোঃ নিজাম উদ্দিন বলেন, "জমিতে সার দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় আছে। সেই সময়ে সার না পেলে পরে কিনে আনলেও কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকে। এক দোকানে না পেয়ে অন্য দোকানে যেতে হয়। দূরের বাজার থেকে সার আনতে গেলে পরিবহন খরচও বাড়ে।"
আমতলী উপজেলার চাওলা ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামের আব্দুল লতিফ মাতুব্বর বলেন, "সার কিনতে বাজারে গিয়ে প্রয়োজনমতো না পেলে চাষাবাদের কাজ পিছিয়ে যায়। সময়মতো সার না পেলে ধানসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ার ভয় থাকে। আমরা চাই, সরকারি নির্ধারিত দামে পর্যাপ্ত সার বিক্রি নিশ্চিত করা হোক।"
বরগুনা সদরের কৃষক আব্দুল কাদের মোল্লা বলেন, "কৃষকের যখন সার প্রয়োজন, তখনই সরবরাহ থাকতে হবে। সংকটের সময় কোথায় কত সার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, ডিলারদের কাছে কত মজুত রয়েছে এবং কী দামে বিক্রি হচ্ছে, এসব তদারকি করা দরকার। কৃষক যেন সার কিনতে গিয়ে হয়রানির শিকার না হন।"
তালতলীতে ডিলার নিয়োগের সুপারিশ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়ন পরিষদের এক চেয়ারম্যানের ছেলেকে নতুন ডিলারশিপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যদিও তাঁর আগে থেকেই খুচরা সার বিক্রির লাইসেন্স রয়েছে। পর্যাপ্ত গুদামসুবিধা না থাকা এক আবেদনকারীর নাম সুপারিশের তালিকায় রাখার অভিযোগও রয়েছে। গুদামঘরের মালিক স্বপন চন্দ্র শীলের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগটিও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।
আমতলীর আড়পাঙ্গাশিয়া ও হলদিয়া ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের সুপারিশে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। তাঁদের দাবি, আড়পাঙ্গাশিয়ায় সোহাগ মুন্সী এবং হলদিয়ায় মো. ওহাব খানকে সুপারিশের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম বদরুল আলম জানিয়েছেন, ডিলার নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগ যাচাই করা হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সুপারিশ বা ডিলারশিপ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষকদের দাবি, সার সংকটের কারণ অনুসন্ধান করে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে। পাশাপাশি ডিলারদের মজুত, বরাদ্দ ও বিক্রির হিসাব নিয়মিত তদারকি এবং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। তাঁদের মতে, সময়মতো ন্যায্যমূল্যে সার নিশ্চিত করা না গেলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে ফসলের ফলন এবং চাপে পড়বে গ্রামীণ অর্থনীতি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলায় ৪০ ফিট খাল পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধার অভিযান সম্পন্ন হয়েছে। গো আপ ফাউন্ডেশন এবং ফুটস্টেপ বাংলাদেশের উদ্যোগে ১০ থেকে ১৪ অক্টোবর পাঁচদিন ধরে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে ৬০০ জনেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বর্জ্যকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সহযোগিতায় এবং সিটি ব্যাংক পিএলসির অংশীদারিত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এটি ফুটস্টেপ বাংলাদেশের ‘চলো খাল বাঁচাই’ উদ্যোগের পঞ্চম কার্যক্রম হিসেবে পরিচিত।
দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় খালটির পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। ফলে এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছিল, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছিল। অভিযানে খালের বর্জ্য পরিষ্কার করা হয় এবং সংগৃহীত বর্জ্য প্রতিদিন ডিএনসিসির সহায়তায় সরিয়ে নেওয়া হয়।
এছাড়া, এলাকায় ১০টি ডাস্টবিন স্থাপন করা হয় এবং বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির জন্য প্রচার চালানো হয়। খালের ভাঙা রেলিং মেরামত করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের বসার জন্য একটি বেঞ্চ স্থাপন করা হয়।
অভিযানের সময় আয়োজকেরা ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিলন এবং প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের কাছে এলাকার নষ্ট স্ট্রিটলাইটের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাদের অনুরোধের পর মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে বাতিগুলো সচল করা হয়।
ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, "দেশের খাল, নদী ও জলাশয় পুনরুদ্ধারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ কাজে তরুণ সমাজের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও এগিয়ে আসতে হবে।"
ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিলন জানান, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ ঢাকা গড়তে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
গো আপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ খান বলেন, "পাঁচ দিনে ৬০০ জনের বেশি মানুষের অংশগ্রহণে একটি খাল পরিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে। একসময় খালটি মাদক বিক্রি, মশা ও ডেঙ্গুর প্রজননক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। পরিষ্কারের পর সেখানে মানুষের চলাচল বেড়েছে। মাদকের কারবার বন্ধ হয়েছে। মশার উপদ্রবও কমেছে।"
তিনি আরও জানান, খালের পাশে স্থাপিত ডাস্টবিন, রেলিং এবং বেঞ্চের দেখভাল করবে গো আপ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকেরা। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও চলবে। ডিএনসিসির সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকার অন্যান্য খালগুলোতেও এমন উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
আয়োজকেরা এই কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য সিটি ব্যাংক পিএলসি, ডিএনসিসি, স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বর্জ্যকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, গো আপ ফাউন্ডেশন একটি বাংলাদেশি অলাভজনক সংস্থা। শিক্ষা, মানবিক সহায়তা, সামাজিক উন্নয়ন এবং স্বেচ্ছাসেবার মাধ্যমে তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে সংস্থাটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মেহেরপুর, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ : আজ মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা জেলা বিএনপি’র উদ্যোগে পরিচালিত হয়।
এ কর্মসূচিটি আজ শুক্রবার সকাল ১০ টায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক লিটন, রোমানা আহমেদ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ মোহাম্মদ এবং সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এহান উদ্দিন মনা, জেলা জাসাসের সদস্য সচিব বাকা বিল্লাহ সহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান জানান, "হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে। রোগীরা যাতে নির্বিঘ্নে চিকিৎসাসেবা পান এবং কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে লক্ষ্যে জেলা বিএনপি কাজ করবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)।
সম্প্রতি, সংস্থাটির পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) প্রফেসর মো. নাজমুল হকের স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী ঢাকার রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মিরপুর বাঙলা কলেজসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেন। ওই পরিদর্শনের পর, ঢাকা মহানগরীসহ দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন এবং সুশৃঙ্খল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে।
মাউশির চার দফা নির্দেশনাসমূহ:
১. প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ, অফিসকক্ষ, বারান্দা, ছাদ, শৌচাগার, আঙিনা এবং আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
২. কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা পরীক্ষা করে অবিলম্বে তা অপসারণ করতে হবে এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৩. শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মচারীদের সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
৪. প্রতিষ্ঠানের সার্বিক শৃঙ্খলা, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়টিকে ‘অতিব জরুরি’ হিসেবে চিহ্নিত করে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : আগামী নভেম্বরে চীনের শেনজেনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কিম জং উনের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে আলোচনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বৈঠকের সম্ভাবনা এখনও খুবই কম।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমকে ৬০ ঘণ্টার ট্রেনযাত্রা করে দেশে ফিরতে হয়েছিল খালি হাতে।
এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ট্রাম্প বারবার বৈঠকের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করছেন, কিন্তু পিয়ংইয়ং এখনও নীরব রয়েছে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, আগামী মাসে এশিয়া সফরের সময় কিমের সঙ্গে তাঁর বৈঠক ‘হতে পারে’ এবং এমন বৈঠক ‘রোমাঞ্চকর হবে’।
সিউল থেকে এএফপি জানায়, তবে সোমবার তিনি বলেন, ‘আমি জানি না... কেউ বৈঠকের জন্য অনুরোধ করছে কি না, সে বিষয়েও আমি নিশ্চিত নই।’ তিনি আরও বলেন, কিম জং উনের সঙ্গে তাঁর ‘সম্পর্ক খুব ভালো’ রয়েছে।
দুই নেতার মধ্যে যেকোনো বৈঠক গণমাধ্যমে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করবে। তবে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলতে পারে, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য আলোচনার ঘোষণা দিলে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট পররাষ্ট্রনীতিতে একটি সাফল্য অর্জনের চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্পের সঙ্গে কিমের আরেকটি বহুল আলোচিত বৈঠক থেকে লাভবান হওয়ার সুযোগ কিমের তুলনামূলকভাবে কম।
ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধকে সহায়তা করতে সেনা ও অস্ত্র পাঠানোর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কিম রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন পেয়েছেন। এর ফলে পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার চাপ মোকাবিলায় দেশটি সুবিধা লাভ করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জুলাই মাসের একটি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি টানা তৃতীয় বছরের মতো ৩ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। ব্যাংকটি পিয়ংইয়ংয়ের ‘রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ’কে এর প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ওয়াশিংটনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চীনও উত্তর কোরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। দেশটির জন্য কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহায়তার অন্যতম প্রধান উৎস বেইজিং।
কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের অধ্যাপক লিম উল-চুল এএফপিকে বলেন, ‘আমি বৈঠকের সম্ভাবনা প্রায় দেখতেই পাচ্ছি না।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘এই মুহূর্তে কিম জং উনের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখাই সবচেয়ে ভালো বিকল্প।’
এদিকে, গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কাং কিয়ং-হোয়া জানান, কিম ও ট্রাম্পের বৈঠকের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি হয়নি।
‘প্রেমে পড়েছিলেন’
ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে তিনবার কিমের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এক সময় তাঁদের সম্পর্ক বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, তাঁরা ‘প্রেমে পড়েছিলেন’। যদিও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এরপর থেকে উত্তর কোরিয়া তার অস্ত্রভাণ্ডার সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের কাজ অব্যাহত রেখেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনামূলকভাবে নমনীয় প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বারবার কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই পিয়ংইয়ংকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে তিনি প্রস্তাব করেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিনিময়ে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি অবিলম্বে পুরোপুরি বিলুপ্ত করার পরিবর্তে তা স্থগিত রাখার বিষয়ে ওয়াশিংটনের আলোচনা করা উচিত।
সমালোচকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ উত্তর কোরিয়াকে কার্যত পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। একই সঙ্গে নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডার পরিত্যাগ না করেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সুযোগ পেতে পারে পিয়ংইয়ং।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতাকে পরোক্ষভাবে মেনে নেওয়ার দিকে এগিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
গত জুনে পিয়ংইয়ংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে আতিথ্য দেন কিম। এর অল্প কিছুদিন আগে শি বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও পুতিনের সঙ্গে পরপর দুটি শীর্ষ বৈঠক করেন।
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে পিয়ংইয়ং বা বেইজিং-- কোনো পক্ষের সরকারি বিবৃতিতেই কিছু বলা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি চীনের নীরব সম্মতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষক হং মিন এএফপিকে বলেন, ‘একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান এবং অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া, চীন ও রাশিয়াকে নিয়ে দুটি পৃথক জোটে বিভক্তি উত্তর কোরিয়ার জন্য উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করছে।’
‘নির্বোধ’
পিয়ংইয়ং বারবার স্পষ্ট করেছে, তারা আর পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত নয়।
কিমের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং গত সেপ্টেম্বরে বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান ‘চূড়ান্ত’। তিনি জানান, দেশটির পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের আশা যারা করেন, তাদের তিনি ‘নির্বোধ’ বলে অভিহিত করেন।
অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের কোরীয় অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ভ্লাদিমির তিখোনভ এএফপিকে বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বিলুপ্ত হবে না—এই বাস্তবতাকে ভিত্তি ধরে ওয়াশিংটন আলোচনা শুরু করবে কি না, সেটিই আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।’
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা যথেষ্ট বলেই আমি মনে করি।’
বিশ্লেষকদের মতে, পিয়ংইয়ং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালনের ওপরও চীনের প্রভাব অনেকাংশে নির্ভরশীল। ফলে শেনজেনে ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে সরাসরি কোনো সমঝোতা হলে এবং তাতে বেইজিংকে পাশ কাটানো হলে, উভয় পক্ষের ওপর চীনের প্রভাব কমে যেতে পারে।
উত্তর কোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়াং মু-জিন বলেন, ‘পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্মতি নিয়েই সংলাপ এগিয়ে নেওয়া হতে পারে।’
তবে বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার কাছ থেকে তাৎক্ষণিক সুবিধা পাওয়ায় সময় ও কৌশলগত গতিপ্রবাহ এখন কিমের অনুকূলে রয়েছে।
ইয়াং বলেন, ‘এসব সুবিধা ছেড়ে দেওয়া, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে সরে আসা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অনিশ্চিত সংলাপে প্রবেশ করা—এই মুহূর্তে এমনটা কল্পনা করাও কঠিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ