১১:৪৬ পি.এম
বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে সরকার ৯০ দিনের চাহিদার সমপরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
রবিবার (৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুদ সক্ষমতা ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৭১ দিন এবং ২০২৭ সালের মধ্যে ৯০ দিনে উন্নীত করা হবে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ধাপে ধাপে জ্বালানি তেলের মজুদ সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ লক্ষ্যে কাজ চলছে।
বিপিসি চেয়ারম্যান আরও জানান, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসি বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে, যার মধ্যে রয়েছে নিজস্ব সংরক্ষণ অবকাঠামো সম্প্রসারণ, নতুন ডিপো নির্মাণ, অব্যবহৃত ট্যাংক সংস্কার এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত ট্যাংক ভাড়ায় নেওয়া। বেসরকারি ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো যদি জ্বালানি তেলের ট্যাংক নির্মাণ বা সংস্কার করতে পারে, তাহলে মজুদ সক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পাবে। এতে সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্নের সময় সংকট মোকাবেলা সহজ হবে।
আরও পড়ুন: দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে: আইনমন্ত্রী
বিপিসি জানায়, সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত মজুদ সক্ষমতা ভাড়ায় নেওয়ার। পাশাপাশি বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ৮২ হাজার ২০০ টন ধারণক্ষমতার মজুদ অবকাঠামো সংস্কার করে চালু করা হবে। এ ছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওমেরার কাছ থেকে ৩০ হাজার টন ধারণক্ষমতার মজুদ সুবিধা ভাড়ায় নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বিপিসির।
বিপিসি আরো জানায়, পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েলের খালি জায়গায় অতিরিক্ত ডিপো ও ট্যাংক নির্মাণের প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর মধ্যে পদ্মা অয়েলে ৯ হাজার ৫০০ টন ধারণক্ষমতার দুটি ট্যাংক, মেঘনা পেট্রোলিয়ামে ১০ হাজার টন ধারণক্ষমতার তিনটি ট্যাংক এবং যমুনা অয়েলে ৫৮ হাজার ৫০০ টন ধারণক্ষমতার নতুন সংরক্ষণ অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে ৬০ দিনের বেশি জ্বালানি তেল মজুদের সক্ষমতা বিদ্যমান। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এ সক্ষমতা ৭১ দিনে উন্নীত করার কাজ চলছে।
জ্বালানি বিভাগের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) জন্য দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের মোট চাহিদা ৮৪ লাখ ২৬ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেলের চাহিদা ৪৪ লাখ ৭৩ হাজার টন, যার মাসিক গড় চাহিদা ৩ লাখ ৭২ হাজার ৭৫০ টন। এ ছাড়া ফার্নেস অয়েলের চাহিদা ৭ লাখ ৩৫ হাজার টন, জেট ফুয়েলের ৬ লাখ ৬৩ হাজার টন, অকটেনের ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯০০ টন এবং পেট্রোলের ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টন।
আরও পড়ুন: রাজধানীর পান্থপথ, খিলক্ষেত ও ক্যান্টনমেন্টে ককটেল বিস্ফোরণ
বিপিসি জানায়, সংস্থাটির আওতায় পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েলসহ ছয়টি কম্পানির মোট জ্বালানি তেল সংরক্ষণ সক্ষমতা ১৫ লাখ ৪৪ হাজার ৬৬ টন। এর মধ্যে ৬৭ হাজার ৬৩২ টন ধারণক্ষমতার অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। বিপিসির নিজস্ব সক্ষমতায় বর্তমানে ডিজেল ৫৭ দিন, অকটেন ৪৬ দিন, পেট্রোল ২৯ দিন এবং ফার্নেস অয়েল ৭৮ দিনের মজুদ রাখা সম্ভব। তবে দেশের সামগ্রিক কৌশলগত জ্বালানি তেলের মজুদ সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করতে চায় সংস্থাটি।
জাতীয় জ্বালানি নীতি-১৯৯৬ অনুযায়ী, দেশে ৬০ দিনের কৌশলগত জ্বালানি তেল মজুদ রাখার বিধান রয়েছে। দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাংলাদেশ রেলওয়ে ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনসহ (বিআরটিসি) সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১ লাখ ৪২ হাজার ২৯৮ টন ডিজেল এবং ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪০০ টন ফার্নেস অয়েল মজুদের সক্ষমতা রয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন, নতুন জমি অধিগ্রহণ এবং বড় আকারের দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে অব্যবহৃত ট্যাংক সচল করা, কম ব্যবহৃত কেরোসিনের ট্যাংক ডিজেল সংরক্ষণের উপযোগী করা এবং বিদ্যুৎ খাত ও বাংলাদেশ রেলওয়ের উদ্বৃত্ত ট্যাংক ব্যবহার করা অধিক সাশ্রয়ী ও বাস্তবসম্মত হবে। তারা সরকারের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া সিলেটে পদ্মা অয়েল ডিপোর ১ হাজার ৩৭ টন ধারণক্ষমতার তিনটি জেট ফুয়েল ট্যাংক ডিজেল সংরক্ষণের উপযোগী করা হচ্ছে। ভৈরব বাজার ডিপোতে মোট ২ হাজার ১৬৫ টন ধারণক্ষমতার পাঁচটি ট্যাংক নির্মাণের কাজ চলছে।
আরও পড়ুন: সরকার ৬৪ জেলায় প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করবে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন