১১:৫৬ এম
মুন্সীগঞ্জে গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরণের সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমে গেছে। বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশিরভাগ সবজির দাম কমলেও সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি বিরাজ করলেও, কৃষকরা উৎপাদন খরচ উঠাতে খুবই অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
শুক্রবার (৫ জুন) মুন্সীগঞ্জ শহরের প্রধান সড়কের সবজি হাটে দেখা যায়, কৃষকেরা জমি থেকে তোলা তাজা সবজি নিয়ে সারি সারি পসরা সাজিয়ে বসেছেন। বর্ষাকালীন কহি, দুন্দল, কাঁকরোল ও চিচিঙ্গা ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া কচি লাউ ২০ থেকে ৩০ টাকা পিস, জালি কুমড়া ২০ থেকে ২৫ টাকা পিস এবং মিষ্টি কুমড়া ২০ টাকা কেজি দরে তৈরি-বিক্রি হচ্ছে। ঢ্যাঁড়স ১০ টাকা এবং পটল ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে দেখা গেছে।
আরও পড়ুন: বরগুনার বেতাগীতে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন
হাটে আলুর কেজি ১৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। করলা ও উচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ২০ থেকে ২৫ টাকা, বড় কচু ১৫ থেকে ২০ টাকা পিস, লাল শাক ও পাট শাক ২০ টাকা আঁটি, বরবটি ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং ধনেপাতা ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ী এবং কৃষকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে বাজারে সবজির সরবরাহ খুব বেশি। ফলে পাইকারি ও খুচরা, উভয় পর্যায়েই দাম কমে গেছে। প্রতিদিনের মতো হাটে পাইকার ও ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেলেও, কম দামের ফলস্বরূপ কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত লাভ পাচ্ছেন না।
উত্তর কেওয়ার এলাকার একজন কৃষক আবু বাছেদ বলেন, এবারের আবহাওয়া অনুকূল থাকায় সবজির উৎপাদন ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে খুব কম দাম উঠেছে। এর কারণে উৎপাদন খরচ তুলতেই তারা কষ্ট পেতে হচ্ছে। লাভ তো দূরের কথা, অনেক কৃষক লোকসানে পড়ছেন।
কৃষি বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, শীতকালীন মৌসুম শেষে ১৬ মার্চ থেকে খরিপ-১ মৌসুম শুরু হয়েছে, যা আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এই মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ৯০৬ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের বর্ষাকালীন সবজির আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার ফলে উৎপাদন ভালো হলেও, অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে বাজারদর অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে।
আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে পাবনা ও রাজবাড়ীর ৬৫ চরমপন্থির আত্মসমর্পণ
শিল্পীদের দাবি, মুন্সীগঞ্জে উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। কিছু সবজি বিদেশেও রফতানি করা হয়। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতির কারণে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন