০৪:৩৩ পি.এম
পাকিস্তানের পুলিশ একটি অভিনব ও সাশ্রয়ী কৌশল গ্রহণ করেছে, যা ড্রোন ও কোয়াডকপ্টার ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একের পর এক হামলা ঠেকাতে সহায়ক হচ্ছে। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের স্পর্শকাতর পুলিশ চেকপোস্ট ও থানাসমূহে সাধারণ মাছ ধরার জাল মাথার ওপর টাঙিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
হাংগু জেলা আফগানিস্তান সীমান্ত থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-সহ বিভিন্ন সশস্ত্র দলের হামলা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১৬ এপ্রিল হাংগু জেলার সারকি পিয়ালা পুলিশ চেকপোস্টে ড্রোন থেকে বিস্ফোরক ফেলার পাশাপাশি চারদিক থেকে হামলা চালায় টিটিপি যোদ্ধারা। প্রায় ৭ ঘণ্টার সেই ভয়াবহ সংঘাত থেকে বেঁচে ফেরা পরিদর্শক ফায়াজ খান জানান, আকাশ থেকে ড্রোন বোমা ফেলার পর বেঁচে ফেরার আশা তারা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন।
হামলার এমন ধরণ বদলের মুখে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা ও সাধারণ জোয়ানরা ড্রোন প্রতিরক্ষায় মাথার ওপর তার ও দড়ি দিয়ে নেট টাঙানোর এই সহজ সমাধান বের করেন। দুই মাস আগে প্রথম এই জাল বসানোর পর থেকে সারকি পিয়ালায় আর কোনো নতুন ড্রোন হামলা সফল হতে পারেনি।
আরও পড়ুন: আসামে ১১০০ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ, ১০ মসজিদ ধ্বংসের ঘটনায় ওলামা অ্যালায়েন্সের নিন্দা
সুলভ মূল্যে প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা
হাংগু জেলার পুলিশ কর্মকর্তা তারিক হাবিব জানিয়েছেন, একটি মানসম্মত পুলিশ চেকপোস্ট পুরো জালে ঢেকে দিতে খরচ পড়ছে প্রায় ৪ লাখ পাকিস্তানি রুপি (প্রায় ১,৪৩৫ মার্কিন ডলার)।
পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, সুরক্ষার কার্যকারিতা হল, কোনো ড্রোন বা কোয়াডকপ্টার পোস্টের ওপর এলে সেটি এই জালে আটকে যেতে পারে। অথবা জালের ওপর বিস্ফোরিত হলেও বোমার ক্ষয়ক্ষতি ও স্প্লিন্টার সরাসরি নিচে থাকা পুলিশ সদস্যদের ওপর না পড়ে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, যা ক্ষয়ক্ষতি ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনে।
হাংগু ছাড়াও কোহাত, কারাক, বান্নু, লাকি মারওয়াত এবং ডেরা ইসমাইল খানের মতো অন্তত পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় এই পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এমনকি কিছু সামরিক পোস্টেও এই নেট ব্যবহার শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: তেহরানে ‘কারাবন্দি ট্রাম্প’, লেখা-এই দৃশ্য না দেখা অপরাধ
তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এটিকে স্থায়ী কোনো সমাধান বলতে নারাজ। ইসলাম রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা গবেষণা কেন্দ্র (CRSS)-এর নির্বাহী পরিচালক ইমতিয়াজ গুলের মতে, "এটি সাময়িক ও সস্তা একটি ব্যবস্থা। পুলিশের মূল প্রয়োজন ড্রোন আকাশে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই তা ইন্টারসেপ্ট করার সক্ষমতা অর্জন করা।"
তা সত্ত্বেও, সীমান্তে দায়িত্বরত সাধারণ পুলিশ সদস্যদের কাছে এটি কিছুটা হলেও স্বস্তি ও বাড়তি সুরক্ষার বার্তা দিচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন