০৭:১৬ পি.এম
ভারতে নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগে প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেসহ শীর্ষ নেতাদের আটক করা হয়েছে। তাদের অনুপস্থিতিতে দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি ও দলের আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব অজিঙ্কা শিন্ডের কাঁধে পড়েছে, যিনি মহারাষ্ট্রের ৩৫ বছর বয়সী একজন নেতা।
দায়িত্ব গ্রহণের পর শিন্ডে সমর্থকদের দিল্লির যন্তর মন্তরের দিকে এগিয়ে যেতে আহ্বান জানিয়েছেন এবং পুলিশ যেখানে বাধা দেবে, সেখানেই প্রতিবাদ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, "আমাদের ঐক্য দেখে সরকার ভয় পাচ্ছে। দয়া করে যন্তর মন্তরে আসুন। পুলিশ যদি আপনাদের বাধা দেয়, সেই জায়গাকেই যন্তর মন্তরে পরিণত করুন।"
আরও পড়ুন: রাজস্থানে ১৫ ফুট গভীর খাদে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ৮
এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অজিঙ্কা শিন্ডে মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। তিনি কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে পুনেতে একটি আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চাকরি শুরু করেন। পরে তিনি চাকরি ছেড়ে আম আদমি পার্টিতে (এএপি) কর্মী হিসেবে যুক্ত হন। তার বাবা-মা আলিবাগে কৃষিকাজ করতেন এবং পরে লাতুরে বসতি গড়েন।
অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে শিন্ডের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তাদের প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০১৬ সালে গোয়ায়। এরপর থেকে তারা একসঙ্গে কাজ করে আসছেন।
এএপিতে যোগ দেওয়ার পর শিন্ডে পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় অঞ্চলে দলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে সম্পূর্ণরূপে যুক্ত হন এবং এক বছর গোয়ার নির্বাচনি প্রচারে কাজ করেন।
তবে সেখানে এএপির জন্য কোনো আসন নিশ্চিত করতে পারেননি। পরবর্তীতে তিনি এএপির মহারাষ্ট্র শাখায় যোগ দেন এবং সেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিষয়ক সমন্বয়ক ও দলের যুব শাখার মহারাষ্ট্র আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আরও পড়ুন: সৌদি উপকূলে ট্যাংকারে রকেটচালিত গ্রেনেড হামলা, নাবিকরা নিরাপদ
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের আগস্টে অভিজিৎ দীপক শিন্ডেকে সিজেপির জাতীয় পর্যায়ের দলে অন্তর্ভুক্ত করেন। তাকে দলের জাতীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমের দায়িত্বও দেওয়া হয়। তবে সিজেপির জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে শিন্ডের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।
গুজরাটের দুই স্বেচ্ছাসেবক দীপকের বিরুদ্ধে ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। দলের নেতৃত্বের ক্রমে দীপক, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের পরেই শিন্ডের অবস্থান। চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে এই তিন নেতা দলের পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন।
শীর্ষ তিন নেতার আটকের পর শিন্ডেকে আন্দোলনের দায়িত্ব দেওয়াকে তার সাংগঠনিক অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: গ্রেটার নয়ডায় নুডলস খেয়ে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন