ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ওমরের বাঁশিতেই মাঠে গড়াবে এবারের উয়েফা সুপার কাপ


ওমরের বাঁশিতেই মাঠে গড়াবে এবারের উয়েফা সুপার কাপ

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা জটিলতার কারণে বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করতে না পারার হতাশা পেছনে ফেলে এবার বড় মঞ্চে আবার ফিরছেন সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতান। তিনি ইউরোপের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচ উয়েফা সুপার কাপ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন। ইউরোপের বাইরের প্রথম রেফারি হিসেবে এই ম্যাচে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন ওমর আরতান।

বিশ্বকাপের রেফারি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন ওমর আরতান। তবে সেখানে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মায়ামি থেকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফিফার এলিট রেফারিকে এভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় বিশ্বজুড়ে সমালোচনার জন্ম দেয়।

বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ হারানোতে হতাশা অনুভব করলেও, হাল ছাড়েননি ওমর। বরং তিনি কঠিন সময় পেরিয়ে নতুন স্বীকৃতি পেয়েছেন। উয়েফা সুপার কাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচে বাঁশি বাজানোর দায়িত্ব তার ক্যারিয়ারের জন্য নতুন মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: সরকার বিরোধীদলকে সম্মান দিতে ব্যর্থ: জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল

নিজের দুঃসময় স্মরণ করে ওমর বলেন, 'সময়টা আমার জন্য অনেক কঠিন ছিল। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করা। সেখানে সুযোগ পেয়েও ম্যাচ পরিচালনা করতে না পারাটা খুবই হতাশাজনক ছিল। তবে আমি চেষ্টা করে গেছি। যারা এতদিন আমাকে সমর্থন জুগিয়েছেন, তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।'

বিশ্বকাপের হতাশা পেছনে ফেলে এই নতুন অর্জনে উচ্ছ্বসিত এই সোমালি রেফারি। নিজের জন্ম ও বেড়ে ওঠার নানা প্রতিবন্ধকতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

ওমর বলেন, 'নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে হয়। এমন একটি জায়গায় জন্ম ও বেড়ে ওঠার পরও কখনো হাল ছাড়িনি। আজ দেখুন, সেই প্রতিবন্ধকতাগুলো আমার স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। এই খবরটা আমার ও আমার পরিবারের জন্য ভীষণ আনন্দের।'

উয়েফা সুপার কাপের দায়িত্ব পাওয়ায় সোমালিয়ার মানুষও আনন্দিত। ইউরোপ ও অস্ট্রিয়ায় বসবাসরত অনেক সোমালিরা এই ম্যাচকে ঘিরে উচ্ছ্বসিত বলেও জানান ওমর।

আরও পড়ুন: নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ৫ শরীয়তপুরের ব্যবসায়ী নিহত

বুধবার রাতে অস্ট্রিয়ার সালজবুর্গের রেড বুল অ্যারেনায় মুখোমুখি হবে চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী পিএসজি এবং ইউরোপা লিগের চ্যাম্পিয়ন অ্যাস্টন ভিলা। সেই মহারণে বাঁশি হাতে থাকবেন সোমালিয়ার ওমর আরতান। বিশ্বকাপের বেদনা পেছনে ফেলে তিনি নতুন ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় আছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘সমকামিতার’ অভিযোগে ঢাবির হল থেকে দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫১ পি.এম


‘সমকামিতার’ অভিযোগে ঢাবির হল থেকে দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের দুই আবাসিক শিক্ষার্থী সম্পর্কে ‘সমকামিতা’ সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হল কর্তৃপক্ষের দাবি, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়ার পর তাদেরকে হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যায়েও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

হল সংসদের জিএস আহমেদ আল সাবাহের পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্যটি জানানো হয়েছে।

বার্তায় নির্দেশ করা হয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর পক্ষে প্রশাসনের কাছে শাস্তির আবেদন করেন হল সংসদের জিএস। পরে ঘটনার তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তের শেষে অভিযোগের পক্ষে ‘অকাট্য প্রমাণ’ পাওয়ার দাবি করে জানানো হয়েছে যে, দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

হল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থী হলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের আফিফ হাসান নীরব এবং মার্কেটিং বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের আরিফুল হক শুভ। বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, শুভর বাড়ি নেত্রকোনায়।

জিএসের পাঠানো বার্তায় আরও বর্ণনা করা হয়েছে, স্থানীয় অভিভাবকদের উপস্থিতিতে দুই শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব বাতিলের বিষয়েও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কাজ চলছে বলে জানানো হয়েছে।

তবে, এই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন কিংবা অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে, হল সংসদের পাঠানো বার্তায় একজন শিক্ষার্থীর পরিবারের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার দাবিও উত্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু এ দাবির পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫৩ পি.এম


ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মশাখালী রেলওয়ে স্টেশনে, আন্তঃনগর যমুনা ট্রেনের স্থায়ী যাত্রাবিরতির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা রেললাইনে অবস্থান নেয় এবং অবরোধ করে। এই কারণে জামালপুর থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর যমুনা ট্রেন আটকা পড়ে, ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিলে প্রায় এক ঘণ্টা পর রেলপথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে মশাখালী এলাকায় যমুনা ট্রেনটি আটকে দেন স্থানীয়বাসিন্দারা। এই ঘটনায় ট্রেনের যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। একই সঙ্গে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মশাখালী রেলওয়ে স্টেশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেখানে আন্তঃনগর যমুনা ট্রেনের স্থায়ী যাত্রাবিরতি নেই। এর ফলে মশাখালী ও আশপাশের এলাকার মানুষ আন্তঃনগর ট্রেনে যাতায়াতের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই দাবিতে তারা গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে, মশাখালী স্টেশনে যমুনা ট্রেনের স্থায়ী যাত্রাবিরতি দেওয়ার বিষয়ে। তারা বলছেন, গফরগাঁওসহ আশপাশের এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপকৃত হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা সহজে ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। দীর্ঘদিনের এই দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।

এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ হলো, মশাখালী রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও আন্তঃনগর ট্রেনের স্থায়ী যাত্রাবিরতি না থাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই দ্রুত মশাখালী স্টেশনে আন্তঃনগর যমুনা ট্রেনের স্থায়ী যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়েছেন তারা।

ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকতার হোসেন বলেন, মশাখালী স্টেশনে যমুনা ট্রেনের স্থায়ী যাত্রাবিরতির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে আন্দোলন করেছেন। বুধবার সকালে তারা রেললাইনে অবস্থান নিয়ে ট্রেনটি আটকে দেন।

তিনি আরো বলেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বুঝিয়ে রেললাইন থেকে সরানো হয়েছে। পরে সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে আন্তঃনগর যমুনা ট্রেনটি মশাখালী এলাকা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং রেলপথে ট্রেন চলাচলও স্বাভাবিক হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাদিয়ার সঙ্গে প্রেম ছিল, স্বীকার করে যা বললেন খায়রুল বাসার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫৪ পি.এম


সাদিয়ার সঙ্গে প্রেম ছিল, স্বীকার করে যা বললেন খায়রুল বাসার

একসময় খায়রুল বাসার ও সাদিয়া আয়মানের প্রেমের গুঞ্জন ছিল ছোট পর্দায় বেশ চর্চিত। শোবিজে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা চললেও এতদিন কেউই বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি।

বরং একাধিকবার তারা দুজন সেই বিষয়টিকে গুঞ্জন বলে এড়িয়ে গেছেন।

কিন্তু এবার এক পডকাস্টে এসে সাদিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন খায়রুল বাসার। তিনি জানিয়েছেন, সেই সম্পর্ক কিন্তু কয়েক বছর আগেই ভেঙে গেছে।

অভিনেতার কথায়, নাটকে কাজ শুরু করার আগে বিজ্ঞাপনের কাজে সাদিয়ার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল।

সেই পরিচয় একসময় প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয়। তবে কেন তাঁদের সম্পর্কের ইতি ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি বাসার।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তখন গুঞ্জন বলে উড়িয়ে দিতাম। কারণ ভালো কিছু ভালো থাকে না।

ভালো রাখাটা কঠিন হয়ে যায়। এই কারণেই আমি বিষয়টিকে এড়িয়ে গিয়েছিলাম। তবে সাদিয়া আমার প্রেমের সঙ্গী ছিলেন।’

তবে হঠাৎ করেই এই জুটিকে আর একসঙ্গে নাটকে দেখা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা থাকলেও এবার এর কারণ জানিয়েছেন বাসার।

এখন তাঁর ভাষ্য, প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর দুজনের সম্মতিতে একসঙ্গে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই সম্পর্কে অভিনেতা বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, আমাদের একসঙ্গে কাজ না করা আরও ভালো। দুজনের জন্য এটাই ভালো বলেই আমরা একসঙ্গে কাজ করছি না। দর্শক আমাদের দেখতে চায় কিন্তু আমাকে তো স্বাভাবিক থেকে কাজটা করতে হবে। তাঁকেও স্বাভাবিক থাকতে হবে। সত্যি বলতে আমরা ওই জায়গাটি রাখিনি।’

বাসারের বর্ণনায়, ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনের পর পেশাগতভাবে একসঙ্গে কাজ করাটাও তাঁদের দুজনের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। তাই দর্শকের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও আপাতত তাঁরা একসঙ্গে পর্দায় ফিরে আসছেন না।

করোনার পরবর্তী সময়ে টেলিভিশন নাটকে নিয়মিত জুটি হিসেবে দর্শকের নজর কেড়েছিলেন বাসার ও সাদিয়া। তাঁদের অভিনীত ‘ডুব সাঁতার’, ‘বাবুই পাখির বাসা’, ‘জলতরঙ্গ’, ‘দই ফুচকা’ ও ‘দ্য ফার্স্ট কেস’-এর মতো নাটকগুলোও দর্শক মহলে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হালাল অর্থনীতি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার বড় ক্ষেত্র : বাণিজ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৫৬ পি.এম


হালাল অর্থনীতি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার বড় ক্ষেত্র : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, প্রচলিত রপ্তানি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন সম্ভাবনাময় খাতের দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আসিয়ান অঞ্চলের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে পারে।

এটি যা ভবিষ্যতে দেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘আসিয়ান অঞ্চলে হালাল ইকোসিস্টেম: বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে হালাল অর্থনীতিকে খাদ্য ও পানীয় খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়। বর্তমানে এটি খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনী, মোডেস্ট ফ্যাশন, পর্যটন, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি বৃহৎ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘রপ্তানি বাড়াতে হলে প্রথমেই উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। এর জন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ ও আকর্ষণীয় পরিবেশও নিশ্চিত করা জরুরি।’

এলডিসি উত্তরণের পর রপ্তানি প্রতিযোগিতা ধরে রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পাদনের উদ্যোগ নিয়ে কাজ করা হচ্ছে, যেন বাংলাদেশের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার পায়।

খন্দকার মুক্তাদির বলেন, বৈশ্বিক হালাল বাজারের সুযোগ কাজে লাগাতে দেশের জন্য একটি স্বাধীন, নির্ভরযোগ্য এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণ সহজ হবে।

বক্তারা সেমিনারে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পকেন্দ্রিক ছিল, তবে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাণিজ্যে টিকে থাকতে পণ্য ও বাজার উভয় ক্ষেত্রেই বহুমুখীকরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে হালাল অর্থনীতি নতুন সম্ভাবনার একটি বড় ক্ষেত্র হতে পারে।

তারা জানান, বিশ্বজুড়ে হালাল পণ্যের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। খাদ্যের পাশাপাশি ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন, পর্যটন এবং জীবনধারাভিত্তিক বিভিন্ন পণ্যে হালাল মানের গুরুত্ব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বাজারে কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে হলে সমন্বিত উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ এবং সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

আলোচনায় মালয়েশিয়ার হালাল ইকোসিস্টেমকে বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়া হালালকে কেবল একটি পণ্য বা সনদ হিসেবে দেখেনি; বরং এটি উৎপাদন, গবেষণা, সার্টিফিকেশন, বিপণন ও রপ্তানিকে সমন্বিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় রূপ দিয়েছে।

বক্তাদের মতে, বাংলাদেশের রয়েছে বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার, শক্তিশালী কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাত, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ওষুধ শিল্প, চামড়া শিল্প এবং পোশাক খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। এসব সক্ষমতাকে কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক হালাল সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত হতে পারে।

সেমিনারে বাংলাদেশের হালাল খাতকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য উপযোগী করতে পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য জাতীয় হালাল নিশ্চয়তা কাঠামো গড়ে তোলা, আধুনিক পরীক্ষাগার ও উন্নত লজিস্টিক সুবিধাসহ বিশেষায়িত হালাল শিল্প ক্লাস্টার প্রতিষ্ঠা, বিদ্যমান উৎপাদন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, এসএমই ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করা এবং অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ হালাল ব্র্যান্ড’কে বিশ্ববাজারে প্রতিষ্ঠা করা।

বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রেদওয়ানুর রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালাল সার্টিফিকেশন (লাইভস্টক) বিভাগের উপপরিচালক আকতার হোসেন এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) উপপরিচালক (হালাল সার্টিফিকেশন) এস এম আবু সাঈদ।

বক্তারা আরও বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি পণ্যের মান, নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক আস্থা নিশ্চিত করা গেলে হালাল অর্থনীতি বাংলাদেশের রপ্তানির নতুন ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। ইস জন্য প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ, বেসরকারি বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং একটি কার্যকর হালাল ইকোসিস্টেম। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু হালাল পণ্য রপ্তানিকারক নয়, বৈশ্বিক হালাল বাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%