ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পটুয়াখালীতে অটোচালক জাকারিয়া হত্যা মামলার প্রধান পরিকল্পনাকারীসহ ৩ জন গ্রেফতার


পটুয়াখালীতে অটোচালক জাকারিয়া হত্যা মামলার প্রধান পরিকল্পনাকারীসহ ৩ জন গ্রেফতার

পটুয়াখালীতে চাঞ্চল্যকর অটোচালক মোঃ জাকারিয়া শরীফ (২৮) হত্যা মামলার প্রধান পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে ভিকটিমের ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা ও চোরাইকৃত তিনটি ব্যাটারী।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ সাইফুল ইসলাম (২৯), তার সহযোগী মোঃ মামুন হাওলাদার (২৯) এবং চোরাই ব্যাটারী ক্রয়কারী মোঃ শুক্কুর আকন (৪৫)।

আজ দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পটুয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন: নড়াইলে ‘ড. রাফি-বেগম মেমোরিয়াল জুনিয়র গলফ টুর্নামেন্টের পুরস্কার ও চারা বিতরণ

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাকারিয়া শরীফ অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে জৈনকাঠী ইউনিয়নের লোহালিয়া নদী থেকে তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ভিকটিমের পিতা মোঃ রুহুল আমিন শরীফের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পটুয়াখালী সদর থানায় পেনাল কোডের ৩০২/৩৭৯/২০১/৩৪ ধারায় একটি মামলা (মামলা নং-২৯) দায়ের করা হয়।

মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশের একাধিক দল, ডিবি, সিআইডি ও পিবিআই যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আসামীদের শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে গাজীপুর থেকে প্রধান আসামী সাইফুল ইসলাম, পটুয়াখালী থেকে মামুন হাওলাদার এবং মহিপুর থানা এলাকা থেকে চোরাই ব্যাটারীর ক্রেতা শুক্কুর আকনকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেয়া আসামীদের ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ভিকটিম জাকারিয়া ও আসামী সাইফুল পূর্বে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। ইয়াবা সরবরাহের কথা বলে সাইফুলের কাছ থেকে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেন জাকারিয়া। কিন্তু পরবর্তীতে ইয়াবা দিতে না পারায় তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও বলেন, এরই জেরে সাইফুল তার সহযোগী মামুনকে সাথে নিয়ে জাকারিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ইয়াবার চালান আনার কথা বলে জাকারিয়াকে লোহালিয়া নদীর তীরে জৈনকাঠী খেয়াঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মাদক সেবনের এক পর্যায়ে টাকার লেনদেন নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে আসামী সাইফুল সিএনজির তার/ক্যাবল দিয়ে জাকারিয়ার গলায় ফাঁস দেন এবং আসামী মামুন পা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে: শিমুল বিশ্বাস

হত্যার পর আসামীরা জাকারিয়ার অটোরিকশাটি বিসিক শিল্প এলাকার পাশে নদীর পাড়ে নিয়ে যায় এবং সেখানকার ৩টি ব্যাটারী খুলে নিয়ে অটোরিকশাটি নদীতে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে চোরাই ব্যাটারীগুলো মহিপুরের শুক্কুর আকনের কাছে ২০,০০০ টাকায় বিক্রি করে টাকা ভাগাভাগি করে নেয় আসামীরা।

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ নদী থেকে ভিকটিমের ফেলে দেওয়া অটোরিকশা ও শুক্কুর আকনের নিকট থেকে বিক্রি হওয়া তিনটি ব্যাটারী উদ্ধার করেছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে এবং এর সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিশোরগঞ্জে চাঞ্চল্যকর ঝর্ণা হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৮ পি.এম


কিশোরগঞ্জে চাঞ্চল্যকর ঝর্ণা হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

একটি সংসার ছিল। দুই কন্যাসন্তান ছিল। কিন্তু সেই সংসারের ভেতরেই দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ঝর্ণা আক্তার দুই সন্তানকে নিয়ে মায়ের আশ্রয়ে ফিরে গিয়েছিলেন। তবে সেখানে গিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। মায়ের বাড়িতে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় তাঁকে। প্রায় এক দশক পর সেই হত্যার মামলায় আদালতের রায়ে স্বামী ইসমাইল সাগর মিয়ার মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জনাকীর্ণ আদালতে আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক সুপ্রিয়া রহমান। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত ইসমাইল সাগর মিয়া (৩২) কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার উত্তর সরারচর এলাকার মৃত আয়েত আলীর ছেলে।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ঘটনার প্রায় ১০ বছর আগে ঝর্ণা আক্তারের সঙ্গে ইসমাইল সাগর মিয়ার বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামীর হাতে ঝর্ণা আক্তার নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ঝর্ণা দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে গাজীপুরের ভাড়া বাসা থেকে বাজিতপুর উপজেলার নিলক্ষী নয়াহাটে মায়ের বাড়িতে চলে আসেন। সেখানে তিনি মায়ের কাছে স্বামীর নির্যাতনের কথা জানান।

পরদিন ১২ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে ইসমাইল সাগর মিয়া অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান। ওই সময় বাড়ির পূর্ব পাশে মাটির চুলায় রান্না করছিলেন ঝর্ণা আক্তার। মামলার এজাহার অনুযায়ী, সেখানে ইসমাইল সাগর কোমর থেকে ধারালো ছুরি বের করে ঝর্ণার ওপর হামলা চালান। রক্তাক্ত অবস্থায় ঝর্ণা মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও হামলা থামেনি। তাঁকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

ঝর্ণার চিৎকার শুনে তাঁর বোন স্বপ্না আক্তার, রাজিব মিয়া, সবুজ মিয়াসহ কয়েকজন এগিয়ে এসে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় আসামি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে সবুজ মিয়ার হাতে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় ঝর্ণা আক্তারকে উদ্ধার করে বাজিতপুরের ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোর পর আর কোনো চিকিৎসাই তাঁর জীবন ফিরিয়ে দিতে পারেনি। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। একটি পরিবারের কাছে সেদিনের রাতটি হয়ে উঠেছিল শোকের রাত। দুই কন্যাসন্তান হারায় মাকে, আর একটি পরিবার হারায় তাদের প্রিয়জনকে।

ঘটনার পর নিহত ঝর্ণা আক্তারের মা মোছাম্মাৎ জাহেরা বেগম বাদী হয়ে ইসমাইল সাগর মিয়া ও অজ্ঞাতনামা আরও দুজনের বিরুদ্ধে বাজিতপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়।

পুলিশ নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ মর্গে পাঠায়। পরে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে সোমবার আদালত ইসমাইল সাগর মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। প্রায় এক দশক আগের সেই রাতের রক্তাক্ত স্মৃতি, মায়ের বুক থেকে দুই সন্তানের ছিটকে পড়া, আর একটি সংসারের ভেঙে যাওয়ার বেদনার মধ্য দিয়ে অবশেষে আদালতের রায়ে হত্যার দায়ে শাস্তি পেলেন ঝর্ণার স্বামী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরায়েলি নির্মাতাদের সাহসী কাণ্ড, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নতুন সিনেমা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৯ পি.এম


ইসরায়েলি নির্মাতাদের সাহসী কাণ্ড, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নতুন সিনেমা

ইসরায়েলি নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল জোর গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নতুন প্রামাণ্যচিত্র ‘নাজা’ নির্মাণ করেছেন। তাদের পূর্ববর্তী কাজ ‘নো আদার ল্যান্ড’ অস্কার পুরস্কার অর্জন করেছিল। নতুন ছবিটি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে করতালি পায় এবং বিশেষ জুরি পুরস্কারও লাভ করে। সম্প্রতি নিউইয়র্ক চলচ্চিত্র উৎসবেও ছবিটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘নাজা’ ছবিতে গাজা যুদ্ধ, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। ছবিটি মুক্তির পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এটিকে ‘ইহুদি বিদ্বেষী’ হিসেবে অভিহিত করেন। দেশটির সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহর নির্মাতাদের নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দেওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ইসরায়েলি হিসেবে এমন একটি ছবি নির্মাণের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন দুই নির্মাতা। নিউইয়র্কে ছবিটির প্রদর্শনীর পর দর্শকদের সঙ্গে আলোচনায় ইউভাল আব্রাহাম জানান, যুক্তরাষ্ট্রে ছবিটি প্রদর্শনের উদ্দেশ্য ছিল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে দেওয়া মার্কিন সহায়তা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা সৃষ্টি করা। তিনি আরও বলেন, আসন্ন ইসরায়েলি নির্বাচনের আগে দেশের সমাজে নতুন প্রশ্ন তোলাও তাদের লক্ষ্য।

সহ-নির্মাতা র‍্যাচেল জোর বলেন, ইসরায়েলি সমাজে গাজা যুদ্ধের বাস্তবতা আড়াল করার প্রবণতা ভাঙতে চেয়েছেন তারা। তাদের মতে, সাধারণ মানুষের সামনে যুদ্ধের ঘটনাগুলো আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরাই ছিল এই নির্মাণের অন্যতম উদ্দেশ্য।

‘নাজা’ নির্মাণে গাজা যুদ্ধে অংশ নেওয়া ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ২৪ জন সাবেক সেনাসদস্যের গোপন সাক্ষাৎকার ব্যবহার করা হয়েছে। ছবিতে যুদ্ধের বিভিন্ন দিক, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং ইসরায়েলি সমাজের প্রতিক্রিয়া নিয়ে নির্মাতাদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেবার মান না বাড়ালে বাস কোম্পানির রুট বাতিলের হুঁশিয়ারি সড়কমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৯ পি.এম


সেবার মান না বাড়ালে বাস কোম্পানির রুট বাতিলের হুঁশিয়ারি সড়কমন্ত্রীর

ঢাকার গণপরিবহনের শৃঙ্খলা ও যাত্রীসেবার মান নিশ্চিত করার জন্য বাস কোম্পানিগুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে চান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। যদি এই সময়ের মধ্যে সেবার মান উন্নত করা না হয়, তবে সংশ্লিষ্ট রুটে নতুন কোম্পানি গঠন করা হবে। যদি তাতেও কাজ না হয়, তাহলে প্রয়োজনে রুট বাতিল করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বাস পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁও সড়ক ভবনের অডিটরিয়ামে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রমের আওতায় বাসমালিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বাসমালিকদের উদ্দেশে বলেন, বাসের মান, যাত্রীসেবা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা কোম্পানির দায়িত্ব। যদি কোনো মালিক বাসের যথাযথ সংস্কার না করেন অথবা চালক-কর্মচারীরা নিয়ম না মানেন, তাহলে সেই দায় কোম্পানিকে নিতে হবে।

শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, "আমি কোনো বাসমালিক চিনব না, কোম্পানি চিনব। বাসটি আপনার কোম্পানির অধীনে চলে।" তিনি উল্লেখ করেন, যদি মালিক মানসম্মতভাবে বাস সংস্কার না করেন, যাত্রীর সুবিধা নিশ্চিত না করেন, চালক কথা না শুনলে এবং কর্মচারীরা শৃঙ্খলা না মানলে, সেই বাসের দায় তাদের নিতে হবে। তিনি সতর্ক করেন যে, তা নিশ্চিত করতে না পারলে ওই মালিকের বাস কোম্পানিতে রাখা হবে না।

মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করে ব্যবসা করার সুযোগ কারও নেই। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসব পরিবর্তন চাইবেন। তা না হলে প্রয়োজনে নতুন কোম্পানি গঠন করবেন। যদি তাতেও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা না যায়, তবে রুট বাতিল করে সরকারি পর্যায় থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

বাসমালিকদের লোকসানের যুক্তির জবাবে মন্ত্রী বলেন, আগে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে হবে, এরপর ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে পারলে প্রয়োজন অনুযায়ী ভাড়া সমন্বয়ে সরকার আলোচনা করবে। তিনি বলেন, "আপনারা মানসম্মত যাত্রী পরিবহন নিশ্চিত করুন। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করুন। বাসে চড়তে মানুষকে আগ্রহী করার মতো পরিবেশ তৈরি করুন।"

মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম উল্লেখ করেন যে, সেবার মান না বাড়িয়ে শুধু ভাড়া বাড়ানোর দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, "কোনো ব্যবসায় প্রত্যাশা অনুযায়ী লাভ না হলে সেই ব্যবসা চালিয়ে যেতেই হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।" তিনি সতর্ক করেন, যাত্রীদের ওপর চাপ তৈরি করে ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না।

ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চার্জিং অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট এলাকা ও নিয়মের মধ্যে এসব যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকায় তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপযুক্ত চালকদের দ্রুত ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, বাস কোম্পানিগুলোকে দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও শারীরিক-মানসিকভাবে সক্ষম চালক চিহ্নিত করে বিআরটিএতে পাঠাতে হবে। তিনি বলেন, "আপনারা উপযুক্ত চালক চিহ্নিত করে পাঠান।" তিনি চালকদের নিয়ম ও দক্ষতা সম্পর্কে জানার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বাসস্টপেজ চিহ্নিত করা এবং সেগুলোর মান উন্নয়নে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষকে (ডিটিসিএ) দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, রুটভিত্তিক বাস কোম্পানিগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বাসস্টপেজ চিহ্নিত করতে হবে। পরে সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে সেগুলো যাত্রীবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাসের সেবার মান উন্নত করতে কোম্পানির ব্যয় ও মালিকদের কাছ থেকে নেওয়া বিভিন্ন অর্থের পরিমাণ কমানোর পরামর্শ দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন বা ভালো বাস যুক্ত করতে মালিকদের কাছ থেকে নেওয়া ফি এবং অন্যান্য খরচ কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, "আপনারা হয়তো তিন-চার মাস আগের মতো আয় করতে পারবেন না।" তবে তিনি অনৈতিকভাবে কালেকশন করা হলে সেটা কমিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, মালিকের কাছ থেকে গাড়ি বুকিং ফি বেশি নেওয়া হলে, ট্রিপপ্রতি বেশি টাকা নেওয়া হলে, সেটা কমিয়ে দিতে হবে।

পরিবহনের মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাসের সেবার মান উন্নত করা এবং শ্রমিকদের জীবনমান পরিবর্তনে উদ্যোক্তা হিসেবে তাদের দায়িত্ব রয়েছে। সরকার পরিবহনের মালিকদের সঙ্গে নিয়েই পরিবর্তন আনতে চায়। তবে অনিয়ম, গাফিলতি ও অসহযোগিতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

মন্ত্রী আরও বলেন, এক দিনে বা এক মাসে সব পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে এ উদ্যোগ থেকে সরে আসবে না সরকার। মালিকদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে, কিন্তু অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা মেনে নেওয়া হবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেঘনায় ট্রলারডুবিতে ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার, বাবারও শনাক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৯ পি.এম


মেঘনায় ট্রলারডুবিতে ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার, বাবারও শনাক্ত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের (৫৪) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর ফলে নিহতের সংখ্যা এখন ৫ জনে পৌঁছেছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সোনারগাঁয়ের মেঘনা নদীর শাখা নদী মারিখালীর রতনপুর ব্রিজের নিচে থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা নিখোঁজের চারদিন পর ঘটে।

বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শাহ কামাল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আর কেউ নিখোঁজ নেই। ট্রলার ডুবির ঘটনায় দুর্ঘটনার জনিত একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

এর আগে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ও শনিবার সকালে সোনারগাঁওয়ের মেঘনা নদী থেকে একই পরিবারের তিন ভাইবোনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন হেলাল উদ্দিনের মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৭) এবং দুই ছেলে সজীব হোসেন (২৪) ও সামিন হোসেন (৫)। একই সঙ্গে ঘটনার দিন রাশিদা বেগম (৪০) নামের এক নারীর মরদেহও উদ্ধার করা হয়। তারা কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের বাসিন্দা।

নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে কুমিল্লার হোমনার শ্রীমুদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁওয়ের হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া গ্রামের শাহ পরানের মেয়ে সাজিয়া আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রলারে করে আসছিলেন ১৩ আত্মীয়স্বজন। ট্রলারটিতে দুটি গরু ও একটি খাসি ছিল। সোনাময়ী এলাকায় আমান সিমেন্ট কোম্পানির কারখানার কাছে পৌঁছালে নদীতে ঝোড়ো বাতাস শুরু হয়। এর ফলে নদীতে বড় ঢেউ সৃষ্টি হলে ট্রলারে পানি উঠতে শুরু করে এবং এক পর্যায়ে তা ডুবে যায়।

এ সময় কাছাকাছি থাকা আমান সিমেন্ট কারখানার একটি ট্রলার দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। তারা আট জনকে জীবিত উদ্ধার করে। আধাঘণ্টা পর নদী থেকে রাশিদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও চার জন নিখোঁজ হন। পরে আরও তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখনও একজন নিখোঁজ আছেন।

ট্রলারডুবির কারণ হিসেবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘ট্রলারটিতে ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী তোলা হয়েছিল। সেটিতে ১৩ জন যাত্রী ও দুটি গরু এবং খাসি উঠানো হয়েছিল। ওই অবস্থায় নদী পার হওয়ার সময় ঝড় শুরু হলে ট্রলারটি ডুবে যায়। এছাড়া দুর্ঘটনার সময় ট্রলারের পাশে একটি নৌযান সহযোগিতা করতে চাইলেও ট্রলারের মাঝি কোন সহযোগিতা নেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%