মোঃআসাদ মিয়া রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
১২:৫৯ পি.এম
দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ফজলুল করিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর ২০২৬) বিদ্যালয় মাঠে ভরাট কার্যক্রম চলতে দেখা যায়।
বিদ্যালয়ের মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে থাকায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে মাঠটি সংস্কারের দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। মাঠ ভরাটের কাজ শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থী ও খেলোয়াড়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ ও উৎসাহ।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মাঠটি ভরাট ও সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি স্থানীয় তরুণদের ক্রীড়া চর্চার ক্ষেত্রও আরও সম্প্রসারিত হবে। এতে নতুন খেলোয়াড় তৈরির পাশাপাশি সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে শিক্ষার্থীরা।
মাঠ ভরাটের উদ্যোগ নেওয়ায় পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন এবং ছোটবাইশদিয়া ফজলুল করিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ জাকারিয়া জীবন-এর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
তাদের প্রত্যাশা, মাঠ ভরাটের কাজ দ্রুত শেষ করে এটি শিক্ষার্থী ও খেলোয়াড়দের নিয়মিত খেলাধুলার উপযোগী করে তোলা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরগুনায় দৈনিক কালবেলার জেলা প্রতিনিধি মোঃ আসাদুল হক সবুজকে এক চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতারের পর আদালতে সোপর্দ করার পূর্বে বিতর্কিতভাবে ডোপ টেস্ট (মাদক পরীক্ষা) করানোর অভিযোগ উঠেছে বরগুনা সদর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। মাদক সংক্রান্ত কোনো মামলা বা সরাসরি অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া না মেনে কিংবা আদালতের অনুমোদন ছাড়াই এই টেস্ট করানো নিয়ে দেশজুড়ে আইনজ্ঞ ও সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
মামলার বিবরণ ও গ্রেফতার: পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, বরগুনা সদর উপজেলার একটি জমি বেকু দিয়ে ভরাট করা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (আমলী আদালত-১, বরগুনা)-এ নালিশি দরখাস্ত দায়ের করেন স্বপন কুমার ঘোষ নামের এক ব্যক্তি। আদালতের নির্দেশে বরগুনা সদর থানায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:১০ মিনিটে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয় (মামলা নম্বর-৪২, ধারা: ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩৮৫/৪২৭/১০৯/৫০৬(২) পেনাল কোড)। উক্ত মামলায় দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি আসাদুল হক সবুজকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়।
পরবর্তীতে বরগুনা সদর থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যৌথ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
হ্যান্ডকাফ পরিহিত ছবি ভাইরাল ও ডোপ টেস্ট বিতর্ক: গ্রেফতারের পর আসামির হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো অবস্থায় কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় নানা আলোচনা। পাশাপাশি আদালতে সোপর্দ করার আগে তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ডোপ টেস্ট করানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো আক্রোশ থেকে পুলিশের একটি অংশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে মানসিকভাবে হয়রানি করতে এই পদক্ষেপ নেয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার হওয়া একজন সাংবাদিকের মাদক সংক্রান্ত কোনো ইতিহাস বা বর্তমান অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও এভাবে পরীক্ষা করানো আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার ব্যত্যয়।
আইন কী বলে? বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধান অনুযায়ী, কোনো আসামির ক্ষেত্রে ইচ্ছামাফিক ডোপ টেস্ট করানোর সুযোগ নেই:
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮: উক্ত আইনের ২৪ ধারা অনুযায়ী, কেবল মাদক সেবন, বহন বা মাদক সংক্রান্ত অপরাধের সুনির্দিষ্ট মামলা বা অভিযোগ থাকলে এবং সুনির্দিষ্ট শারীরিক লক্ষণের ভিত্তিতে নমুনা পরীক্ষা করা যায়।
চাঁদাবাজির মতো সাধারণ ফৌজদারি মামলায় তদন্তের স্বার্থে শারীরিক নমুনা বা পরীক্ষা করাতে হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে (IO) প্রথমে সংশ্লিষ্ট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করে লিখিত অনুমতি নিতে হয়।
সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আইনানুযায়ী ব্যতীত কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা বা শরীরের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বরগুনা সদর থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মোঃ আজিজুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ডোপ টেস্ট করানোর বিষয়ে তিনি অবগত নন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (পুলিশ সুপার ও ওসি) এ বিষয়ে বলতে পারবেন।
পরবর্তীতে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, যৌথ অভিযানের সময় আসামির আচরণ দেখে সন্দেহ হওয়ায় জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডোপ টেস্ট করানো হয়েছিল। পরবর্তীতে উক্ত ডোপ টেস্টের ফলাফল ‘নেগেটিভ’ এসেছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
ডোপ টেস্টের রেজাল্ট নেগেটিভ আসায় পুলিশ প্রশাসনের এই অতিরঞ্জিত ও তড়িঘড়ি ভূমিকা নিয়ে জেলাজুড়ে সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পেশাদার একজন সাংবাদিককে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন উদ্দেশ্যে আইন বহির্ভূতভাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কি না—তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠছে। মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নানা ধরনের অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। গত ২৪ ঘণ্টায় মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পৃথক আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে ১৭ পিস ইয়াবাসহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে।
বিএমপি মিডিয়া সেলের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বরিশাল মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। মহানগর পুলিশের চারটি থানা ও ডিবি পুলিশের একাধিক দল যৌথ ও পৃথকভাবে এ অভিযানে অংশ নেয়।
অভিযান চলাকালে ১৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত ২ জন, নিয়মিত মামলার আসামি ২ জন এবং অন্যান্য আইনের অধীনে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি বরিশাল মহানগর অধ্যাদেশের আওতায় আরও ২ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সব মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার এই অভিযানে মোট ১০ জন অভিযুক্তকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশ বাহিনীর এই বিশেষ অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
একই সাথে মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি পুনর্ব্যক্ত করে মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে বরিশাল মহানগর পুলিশ। তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়।
মাদক সংক্রান্ত তথ্য জানাতে যোগাযোগের নম্বর: ☎️ ০১৩২০-০৬৪০০০ ☎️ ০১৩২০-০৬৪০৪৪
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, এই নিয়োগের মধ্যে ৮০ শতাংশ নারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে সরকার এই এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই নারী হিসেবে নিয়োগ পাবেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এ প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণে এই তথ্য প্রকাশিত হয়। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস)।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা প্রদান করা হবে। তিনি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন।
জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিপুল জনম্যান্ডেট নিয়ে বাংলাদেশে একটি নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। জনগণের সেই ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকার হলো জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। এখন প্রতিশ্রুতি থেকে সরাসরি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।
সামাজিক সুরক্ষার জন্য ফ্যামিলি, কৃষক ও হেলথ কার্ডের বিষয়েও মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা অগ্রাধিকার পান। ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে, যা সবচেয়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নগরবাসীর চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দখল হয়ে থাকা ফুটপাত পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করার অভিযান অব্যাহত থাকবে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন জানিয়েছেন, যদি কেউ পুনরায় ফুটপাত দখলের চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সময় সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এর সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, ডেঙ্গু ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, রেড ক্রিসেন্ট ও বিডি ক্লিনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং সাংবাদিকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য সিটি কর্পোরেশনে পরিণত করার বিষয়ে তিনি বলেন, নগরের বিভিন্ন চলাচলের পথ দখল করে মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। কিছু ব্যবসায়ী ও হকার ফুটপাত দখল করে চকি-মাচা ও অন্যান্য স্থাপনা বসিয়ে নগরবাসীর চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, উদ্যোগ নিয়ে সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সবচেয়ে বেশি ফুটপাত দখলের জায়গাগুলোর একটি ১০ নম্বর থেকে হোপ মার্কেট পর্যন্ত ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। এ কাজে এলাকার সাধারণ মানুষ সহযোগিতা করেছেন বলেও তিনি জানান।
ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর সাধারণ মানুষের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে শফিকুল ইসলাম বলেন, অনেকে জানিয়েছেন, ১৩ থেকে ২০ বছর ধরে তারা ওইভাবে ঢাকার রাস্তায় হাঁটতে পারেননি। ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় ফুটপাত দখল করে রাখা হয়েছে, সেসব জায়গায়ও পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করার অভিযান চালানো হবে। ফুটপাত দখলমুক্ত করার এই কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং কেউ পুনরায় ফুটপাত দখলের চেষ্টা করলে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।
দখলমুক্ত করা ফুটপাত যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে জন্য মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। স্থানীয় জনগণ, সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের যৌথ উদ্যোগে গঠিত এই টিম প্রতিদিন সকাল, দুপুর, বিকাল ও সন্ধ্যায় ফুটপাত এলাকায় পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি মাইকিং করে ফুটপাতে কাউকে বসতে না দেওয়ার বিষয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, ফার্মগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনও কিছু ফুটপাত দখল রয়েছে। সেখানে আগেও একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং কিছু জায়গা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব জায়গাতেও দখলমুক্ত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
ফুটপাত দখল নিয়ে রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ সিটি কর্পোরেশনই নিচ্ছে। তিনি নিজে বিএনপির একজন কর্মী উল্লেখ করে বলেন, নিজের উদ্যোগে সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হচ্ছে।
ফুটপাত দখলমুক্ত করার জন্য কাউকে আগে জানানো প্রয়োজন আছে কিনা- এমন প্রশ্নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নগরবাসীর চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী যেখানে ফুটপাত দখলমুক্ত করা দরকার, সেখানে কাউকে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, যে এলাকায় প্রয়োজন হবে, সেখানেই ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে। দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, কিছু কুচক্রী মহল সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্টদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। দলের ভেতরে ও বাইরে যারা দুষ্কৃতিকারী হিসেবে কাজ করছে, তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম নিয়ে গণমাধ্যমে যেভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, একইভাবে জনগণের প্রতিক্রিয়াও তুলে ধরতে হবে। জনগণের প্রতিক্রিয়া গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে আরও সচেতনতা তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, নগরবাসী সচেতন হলে এবং সিটি কর্পোরেশনকে সহযোগিতা করলে বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং নগরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ