রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৩৯ পি.এম
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে গুম, আটক, নির্যাতন, হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুই বেঞ্চে বিচারাধীন ২২টি মামলার মধ্যে আসামির সংখ্যা ২৭৫ জন। এর মধ্যে ২০৪ জন পলাতক রয়েছে। বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন ৭১ জন আসামি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিচারাধীন ২২ মামলার মধ্যে একটি মামলার রায় যেকোনো সময় ঘোষণা করা হতে পারে। জুলাই মাসে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চারজন আসামি রয়েছেন। গত ১০ জুন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। উল্লেখ্য, চার আসামিই পলাতক।
আরো পড়ুন
আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের আধিপত্য রুখে দিতেই গ্রিনল্যান্ড চুক্তি?
সূত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একই সময়ে আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামল ও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ৪৪টি মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব মামলায় আসামির সংখ্যা ১৪৪ জন।
বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গুম, আটক, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ছয়টি মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে র্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল ও ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম, আটক ও নির্যাতনের অভিযোগে দুটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। পাশাপাশি শাপলা চত্বরের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, কল্যাণপুরের ‘জাহাজ বাড়ি’, গাজীপুরের জয়দেবপুর ও টেকনাফে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলি বিচারাধীন রয়েছে।
এসব মামলার মধ্যে ট্রাইব্যুনাল-১-এর অধীনে ৩৪টি এবং ট্রাইব্যুনাল-২-এর অধীনে ১০টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে গুম সংক্রান্ত ১১টি মামলা, কথিত ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধের দুটি মামলা, জঙ্গি দমনের নামে হত্যাকাণ্ডের একটি মামলা এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ৩০টি মামলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আরো পড়ুন
নতুন ২ প্রকল্প অনুমোদন, মিলবে ২৬৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ
এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম মন্তব্য করেন, গুমের মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তদন্ত করা হচ্ছে। অচিরেই ১১টি গুম সংক্রান্ত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে তদন্ত সংস্থা।
এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া আড়াই শতাধিক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে একটি নতুন মামলা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এসব অভিযোগের মধ্যে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের গুমের ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে চলমান ড্রোন হামলার ফলে শহরের তেল শোধনাগারের একটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমন তথ্য জানিয়েছেন মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তায় সোবিয়ানিন উল্লেখ করেন, মস্কোতে ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে মস্কো তেল শোধনাগারের একটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর নেই।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি সেবা কর্মীরা কাজ করছেন। হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মস্কোর মেয়রের বক্তব্য অনুযায়ী, ড্রোন হামলায় শোধনাগারটির একটি স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং শোধনাগারের কার্যক্রমে এর প্রভাব সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
রাশিয়ার রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। রুশ কর্তৃপক্ষ এসব হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করে আসছে, তবে কিয়েভ সাধারণত এ ধরনের নির্দিষ্ট হামলার দায় স্বীকার করে না।
এদিকে, মস্কো ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকার কথা জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। তবে চলমান হামলার সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি এবং অন্যান্য স্থাপনায় এর প্রভাব পড়েছে কি না, সে বিষয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে। তথ্যসূত্র: তাস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনাসদস্যদের নিহতের সংখ্যা পেন্টাগনের প্রকাশিত তথ্যের তুলনায় বেশি বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের অভ্যন্তরীণ হতাহত তথ্য সম্পর্কে অবগত কয়েকজন কর্মকর্তা। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পেন্টাগনের প্রকাশ্য হিসাবে ১৮ জনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা অন্তত ২২ থেকে ২৩ জন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, প্রতিরক্ষা বিভাগের অভ্যন্তরীণ হতাহত হিসাব সম্পর্কে অবগত ছয় মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে তারা এই তথ্য পেয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন বলেছেন, অন্তত ২২ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। অন্য একজন কর্মকর্তা নিহতের সংখ্যা ২৩ বলে জানিয়েছেন।
তবে কর্মকর্তাদের দেওয়া ওই সংখ্যার সব মৃত্যু কি সরাসরি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বা সংঘর্ষে ঘটেছে, তা স্পষ্ট নয়। একজন কর্মকর্তা জানান, প্রকাশ্য হিসাবে না থাকা কয়েকটি মৃত্যু এমন মার্কিন সেনাসদস্যের, যারা চলমান সংঘাতের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছিলেন। একই কর্মকর্তা যুদ্ধ শুরুর পর ওই অঞ্চলে অবস্থানরত তিন মার্কিন ঠিকাদারের মৃত্যুর কথাও জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, শুক্রবার পর্যন্ত পেন্টাগনের প্রকাশ্য ‘ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম’ বা ডিসিএএসে ইরান সংঘাত শুরুর পর শত্রুতাপূর্ণ ও অশত্রুতাপূর্ণ—উভয় ধরনের ঘটনায় ১৮ মার্কিন সেনাসদস্যের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ১৮ জনের মধ্যে ১৪ জনকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং চারজনকে ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে।
প্রকাশ্য হিসাবের বাইরে থাকা মৃত্যুগুলোর পরিচয়, কখন, কোথায় এবং কীভাবে তারা মারা গেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হতাহতের সংখ্যার এই ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও পেন্টাগন কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, নিহত সেনাদের সঠিক হিসাব শুধুমাত্র জনস্বচ্ছতার বিষয় নয়। কোনো সেনাসদস্য দায়িত্ব পালনকালে মারা গেছেন কি না, তা সামরিক তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়। ওই সিদ্ধান্তের ওপর নিহত সেনাসদস্যের পরিবারের জন্য প্রযোজ্য বিভিন্ন সরকারি সুবিধাও নির্ভর করতে পারে।
পেন্টাগনের প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, ইরান সংঘাত শুরুর পর ৮২০ জনের বেশি মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি পাল্টা হামলায় আহতদের অনেকে মস্তিষ্কে আঘাতজনিত সমস্যাসহ বিভিন্ন শারীরিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন বলে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে।
এদিকে, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়ও দ্রুত বেড়ে চলেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের একটি হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয় প্রায় ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে ব্যবহৃত গোলাবারুদ পুনঃস্থাপনে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর পুনর্গঠনের ব্যয় এতে ধরা হয়নি।
চলমান যুদ্ধের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নির্ভুল লক্ষ্যভেদী অস্ত্রের মজুতেও চাপ তৈরি হয়েছে বলে ওয়াশিংটন পোস্টের পৃথক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের পাল্টা হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়ছে।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কও অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রতিনিধি পরিষদ ২২০-২০৪ ভোটে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান সীমিত করার লক্ষ্যে একটি প্রতীকী প্রস্তাব অনুমোদন করে। এতে সাত রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দেন।
ইরান যুদ্ধের ব্যয় ও হতাহতের হিসাব নিয়ে কংগ্রেসেও প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একটি অংশ পেন্টাগনের কাছে যুদ্ধের ব্যয় ও হতাহত সম্পর্কে আরও পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের দাবি জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে সেনাসদস্যদের মৃত্যুর তথ্য সরকারি হিসাবের বাইরে থাকার অভিযোগের বিষয়টিও তদন্তের দাবি তুলেছে।
তবে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে করা ২২-২৩ জনের হিসাবের দাবি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্স জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি প্রতিবেদনটিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ফলে মার্কিন সেনা নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে পেন্টাগনের প্রকাশ্য হিসাব ও কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের মধ্যে পার্থক্য এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।
এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, পেন্টাগনের সরকারি হিসাবে ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্যের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন পোস্টের সঙ্গে কথা বলা কর্মকর্তাদের দেওয়া হিসাবে সংখ্যা অন্তত ২২ জন, আর একজন কর্মকর্তা ২৩ জনের কথা বলেছেন। অতিরিক্ত মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোন হিসাবটি চূড়ান্ত, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তথ্যসূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান মানুষের প্রশ্ন তুলে বলেছেন, জামায়াতের আমির ও নাহিদ ইসলাম কি নির্বাচনে পাস করেছিলেন। তিনি মন্তব্য করেন, বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা রংপুরে অত্যন্ত ভালো রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান এবং নেতাদের জনপ্রিয়তার মধ্যে যদি বিএনপি প্রার্থী পরাজিত হন, তাহলে কি এটি অবিশ্বাস্য নয়?
সম্প্রতি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট এলাকা পরিদর্শন করার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সহযোগিতায় রংপুর জামায়াত দখল করেছে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে রংপুর ও খুলনা বিভাগে প্রশাসনিক সেটআপ এমনভাবে জামায়াতীকরণ হয়েছিল যাতে করে নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দিলেও জামায়াতের প্রার্থীকে পাস দেখানো হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে যে, নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। জামায়াতের আমির এই নির্বাচন মেনে নিয়েছেন, বুকে পাথর চাপা দিয়ে। মানুষ প্রশ্ন করে, জামায়াতের আমির এবং নাহিদ ইসলাম কি আদৌ পাস করেছিলেন, নাকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের পাস দেখিয়েছিল?’
রাশেদ খান বলেন, ‘জামায়াতের আমির ও নাহিদ ইসলাম যে ফলাফল অর্জন করেছিলেন, অর্থাৎ তারা যে পাস করেননি, তা যদি প্রকাশ করা হতো তাহলে তারা নির্বাচনের ফলাফল মানতেন না। এই কারণে ইন্টেরিম সরকার এক ধরনের মেকানিজম ও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে বলে মানুষ মনে করে। এই ধরনের কথাবার্তা মানুষের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমারও এক ধরনের সন্দেহ হয়, পরিকল্পিতভাবে রংপুর বিভাগ ও খুলনা বিভাগকে জামায়াতের প্রার্থীদের জিতিয়ে দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক ধরনের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে। অন্যথায় খুলনা বিভাগ বিএনপির ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। সেখানে জামায়াতের এত প্রার্থী জিততেন কিভাবে, এটা মানুষ বিশ্বাস করে না।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রশ্ন তুলেছেন, "মন্ত্রী বড়, নাকি স্থানীয় সংসদ সদস্য বড়?"। গুরুত্বপূর্ণ একটি সভায় আমন্ত্রণ জানানো সত্ত্বেও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা প্রকৌশলীদের অনেকে উপস্থিত না থাকায় তাঁদের দায়িত্ববোধ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আজ শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি ভবনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রতিমন্ত্রী কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "মন্ত্রী বড়, না স্থানীয় সংসদ সদস্য বড়—এটা আমি বুঝতে পারছি না।" কর্মকর্তাদের নিয়ে কী সভা করবেন, সেটিও তিনি বুঝতে পারছেন না। বিষয়টি নোট করে রাখার জন্যও তিনি বলেন। তাঁর ভাষায়, "কর্মকর্তাদের এখানে ফাজলামি বা পিকনিক করতে আসার সুযোগ নেই; একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তাঁদের ডাকা হয়েছে।"
সভায় এক পর্যায়ে রাঙামাটি জেলার কর্মকর্তাদের একসঙ্গে দাঁড়াতে বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানতে চান, রাঙামাটি জেলায় কয়টি উপজেলা রয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, সেখানে ১০টি উপজেলা। এরপর উপস্থিত কর্মকর্তাদের গুনে তিনি বলেন, "তাঁরা ছয়জন দাঁড়িয়েছেন; বাকি চারজন কোথায়?"
একজন কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন জানানো হলে প্রতিমন্ত্রী জানতে চান, তিনি কোথায় আছেন এবং তিনি কি নির্বাহী প্রকৌশলী। এরপর তিনি জানতে চান, বাকি উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেন সভায় আসেননি। তখন মঞ্চের সামনে থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, "ওই নির্বাহী প্রকৌশলী এলাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে একটি সভায় আছেন।"
তখন প্রতিমন্ত্রী বলেন, "কোনো উপজেলা বা এলাকার উদ্বোধন নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য কিছু বললে কর্মকর্তাদের বিষয়টি সমন্বয় করতে হবে।" সংসদ সদস্যকে বলতে হবে, "মন্ত্রী, সচিব ও প্রতিমন্ত্রী তাঁদের সভায় ডেকেছেন।" প্রয়োজন হলে সংসদ সদস্যকে জানিয়ে দিতে হবে যে তাঁর সঙ্গে পরদিন বা পরশু বসবেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্যকে মন্ত্রী, সচিব ও প্রতিমন্ত্রীর চেয়ে বড় মনে করে অনুপস্থিত থাকা যাবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ