ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মন্ত্রী বড় নাকি স্থানীয় সংসদ সদস্য বড়, প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের


মন্ত্রী বড় নাকি স্থানীয় সংসদ সদস্য বড়, প্রশ্ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রশ্ন তুলেছেন, "মন্ত্রী বড়, নাকি স্থানীয় সংসদ সদস্য বড়?"। গুরুত্বপূর্ণ একটি সভায় আমন্ত্রণ জানানো সত্ত্বেও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা প্রকৌশলীদের অনেকে উপস্থিত না থাকায় তাঁদের দায়িত্ববোধ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আজ শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি ভবনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রতিমন্ত্রী কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "মন্ত্রী বড়, না স্থানীয় সংসদ সদস্য বড়—এটা আমি বুঝতে পারছি না।" কর্মকর্তাদের নিয়ে কী সভা করবেন, সেটিও তিনি বুঝতে পারছেন না। বিষয়টি নোট করে রাখার জন্যও তিনি বলেন। তাঁর ভাষায়, "কর্মকর্তাদের এখানে ফাজলামি বা পিকনিক করতে আসার সুযোগ নেই; একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তাঁদের ডাকা হয়েছে।"

আরও পড়ুন: মির্জাপুরে ট্রেন লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল চলাচল বন্ধ

সভায় এক পর্যায়ে রাঙামাটি জেলার কর্মকর্তাদের একসঙ্গে দাঁড়াতে বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানতে চান, রাঙামাটি জেলায় কয়টি উপজেলা রয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, সেখানে ১০টি উপজেলা। এরপর উপস্থিত কর্মকর্তাদের গুনে তিনি বলেন, "তাঁরা ছয়জন দাঁড়িয়েছেন; বাকি চারজন কোথায়?"

একজন কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন জানানো হলে প্রতিমন্ত্রী জানতে চান, তিনি কোথায় আছেন এবং তিনি কি নির্বাহী প্রকৌশলী। এরপর তিনি জানতে চান, বাকি উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেন সভায় আসেননি। তখন মঞ্চের সামনে থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, "ওই নির্বাহী প্রকৌশলী এলাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে একটি সভায় আছেন।"

তখন প্রতিমন্ত্রী বলেন, "কোনো উপজেলা বা এলাকার উদ্বোধন নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য কিছু বললে কর্মকর্তাদের বিষয়টি সমন্বয় করতে হবে।" সংসদ সদস্যকে বলতে হবে, "মন্ত্রী, সচিব ও প্রতিমন্ত্রী তাঁদের সভায় ডেকেছেন।" প্রয়োজন হলে সংসদ সদস্যকে জানিয়ে দিতে হবে যে তাঁর সঙ্গে পরদিন বা পরশু বসবেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্যকে মন্ত্রী, সচিব ও প্রতিমন্ত্রীর চেয়ে বড় মনে করে অনুপস্থিত থাকা যাবে না।

আরও পড়ুন: জুবাইদা রহমানের টোকিওতে হাসপাতাল, নার্সিং সেন্টার ও জাদুঘর পরিদর্শন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্যারিবীয় সাগরে নৌযানে মার্কিন হামলায় ৪ নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৪২ পি.এম


ক্যারিবীয় সাগরে নৌযানে মার্কিন হামলায় ৪ নিহত

ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী শনিবার জানিয়েছে, ক্যারিবীয় সাগরে একটি নৌযানে হামলা চালিয়ে মাদক পাচারের অভিযোগে চারজনকে হত্যা করা হয়েছে।

এ খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে জানা গেছে।

সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম), যা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডের অধীনে কাজ করে, এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়েছে যে নৌযানটি মাদক পাচারের কাজে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল। তাদের দাবি অনুযায়ী, হামলার ফলে চারজন ‘মাদক-সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলার একটি ঝাপসা ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সেপ্টেম্বরের শুরুতে ‘অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার’ নামে একটি অভিযান শুরু করে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, লাতিন আমেরিকাভিত্তিক মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত যুদ্ধে রয়েছে।

এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ওই অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পরিচালিত হামলায় ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত যেসব নৌযানে হামলা চালিয়েছে, সেগুলো মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলÑএমন দাবির পক্ষে চূড়ান্ত বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করেনি।

এদিকে, আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এসব হামলা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পর্যায়ে পড়তে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজায় ইসরাইলি হামলায় শিশুসহ ৪ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৪৩ পি.এম


গাজায় ইসরাইলি হামলায় শিশুসহ ৪ জন নিহত

ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : শনিবার ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একটি ১০ বছর বয়সী কন্যাশিশু ও গাজার একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার পুত্রও রয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, শিশুটি গাজার মধ্যাঞ্চলের নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের উত্তরে সকালে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে আহত হওয়ার পর মারা যায়।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, উত্তর গাজার জাবালিয়ায় বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে ইসরাইলি বিমান হামলায় বাসির আল-বার্শ নিহত হয়েছেন। তিনি গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বার্শের ছেলে।

ছেলের জানাজায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মুনির আল-বার্শ বলেন, এই হত্যাকাণ্ড ‘ইসরাইলের অপরাধেরই ধারাবাহিকতা’। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে তার এই বক্তব্য তুলে ধরা হয়।

এছাড়া গাজা সিটির কাছে পৃথক দুটি হামলায় আরও দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে গাজার আল-শিফা হাসপাতাল ও হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন উদ্ধারকারী বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে।

হামলার বিষয়ে এএফপি ইসরাইলি সেনাবাহিনীর কাছে জানতে চাইলে তারা তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি।

গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে এরপরও ইসরাইলি বাহিনী গাজার আরও ভেতরে অগ্রসর হয়েছে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হামাসকে লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ না করার অঙ্গীকার করেছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছিল হামাস।

নেতানিয়াহু আরও বলেছেন, হামাস তাদের সব অস্ত্র সমর্পণ না করা পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরাইলি বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহার করা হবে না।

ইসরাইলি সরকারি হিসাবের ভিত্তিতে এএফপির জানায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় ১ হাজার ২২১ জন নিহত হয়। হামাসের যোদ্ধারা প্রায় ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে ৪৪ জন এরই মধ্যে মারা গেছে।

এর জবাবে ইসরাইলের ব্যাপক সামরিক অভিযানে গাজার অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘ এই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচনা করে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত বছর যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘের মতে, মন্ত্রণালয়টির এসব পরিসংখ্যান সাধারণভাবে নির্ভরযোগ্য।

অন্যদিকে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, একই সময়ে তাদের বাহিনীর পাঁচজন সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া একজন বেসামরিক ঠিকাদারও নিহত হয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুদের হার কমলেও কেন বাড়ছে না বিনিয়োগ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৪৩ পি.এম


সুদের হার কমলেও কেন বাড়ছে না বিনিয়োগ?

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগত সুদের হার কমালেও বেসরকারি খাতে এর সুফল দেখা যাচ্ছে না। সামগ্রিক সুদের হার কমার পরও শিল্প খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসেনি। চলতি বছরের জুন মাসে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি মাত্র ৪.৪৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত ৩৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। জুলাই মাসে সামান্য বেড়ে ৪.৬২ শতাংশ হলেও, ডিসেম্বরের জন্য নির্ধারিত ৬.৮ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় তা এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

উদ্যোক্তা ও অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণের খরচ বা সুদের হার কমানোই যথেষ্ট নয় নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য। বিনিয়োগের পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ লাভের সম্ভাবনা না থাকলে ব্যবসায়ীরা ঋণ নিতে আগ্রহী হন না। কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদনক্ষমতা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে নতুন কারখানা স্থাপন বা সম্প্রসারণের ঝুঁকি কেউ নিতে চাইছেন না। রাজনৈতিক অস্পষ্টতা, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকগুলোও নতুন ঋণ দিতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির (প্রায় ৮.২৬%) কারণে সাধারণ মানুষের কেনার ক্ষমতা কমে গেছে, যার ফলে বাজারে পণ্য ও সেবার চাহিদা মন্দা। ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে রপ্তানিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিআই)-সভাপতি তাসকিন আহমেদ জানান, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও পরিচালনগত সক্ষমতা পুনরুদ্ধার না করে শুধুমাত্র সুদের হার কমালেই বেসরকারি খাতের ঋণগ্রহণ পুনরুজ্জীবিত হবে না। তিনি বলেন, সুদের হার কমানোর উদ্দেশ্য হলো ঋণ গ্রহণে উৎসাহিত করা, তবে ব্যবসায়ীরা তখনই বিনিয়োগ করবেন, যখন তারা পর্যাপ্ত চাহিদা, স্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং বিনিয়োগের ওপর যুক্তিসঙ্গত মুনাফা দেখতে পাবেন।

অর্থনীতিবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মতে, বিনিয়োগের গতি ফেরাতে হলে ব্যাংকঋণ সস্তা করাই যথেষ্ট নয়; বরং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নীতিগত স্বচ্ছতা অপরিহার্য। অন্যথায়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামগ্রিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধার আরো দীর্ঘ মেয়াদে মন্থর হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাটা গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ, অচলাবস্থার মুখে পরিচালনা পর্ষদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৪৪ পি.এম


টাটা গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ, অচলাবস্থার মুখে পরিচালনা পর্ষদ

ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী টাটা গ্রুপের মূল হোল্ডিং কম্পানি ‘টাটা সন্স’-এর শীর্ষ নেতৃত্ব এবং শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি (আইপিও) নিয়ে গুরুতর অভ্যন্তরীণ বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। কোম্পানির ৬৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক ‘টাটা ট্রাস্টস’-কে অবহিত না করে পর্ষদ চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরনকে পুনর্বাহাল করার সিদ্ধান্ত এবং আইপিও-তে যাওয়ার পরিকল্পনার পর এই দ্বন্দ্ব এখন আইনি লড়াইয়ের দিকে এগোচ্ছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫৮ বছরের পুরনো এই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের অচলাবস্থার পেছনে দুটি প্রধান বিতর্ক রয়েছে। প্রথমত, টাটা সন্সের পরিচালনা পর্ষদের মনোনয়ন কমিটি সম্প্রতি এন চন্দ্রশেখরনকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু টাটা ট্রাস্টস এই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ও গঠনতন্ত্রবিরোধী বলে দাবি করেছে। ট্রাস্টসের বক্তব্য, কোম্পানির করপোরেট নীতি অনুযায়ী ৬৫ বছরের বেশি বয়সে কোনো নির্বাহী পদে থাকার নিয়ম নেই, এবং চন্দ্রশেখরন ২০২৮ সালে ৬৫ বছর পূর্ণ করবেন। তাছাড়া, পর্ষদের মনোনয়ন কমিটির এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার কোনো আইনি এখতিয়ার নেই, তারা কেবল সুপারিশ করতে পারে। আগামী বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) যদি টাটা ট্রাস্টস এই পুনর্নিয়োগের বিরুদ্ধে ভোট দেয়, তাহলে সিদ্ধান্তটি বাতিল হয়ে যেতে পারে।

দ্বিতীয়ত, রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) ২০২২ সালে টাটা সন্সকে ‘উচ্চ স্তরের নন-ব্যাংকিং আর্থিক সংস্থা’ হিসেবে চিহ্নিত করে নিয়ম অনুযায়ী শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে নির্দেশ দিয়েছিল। টাটা সন্স ব্যাংক ঋণ শোধ করে এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানালেও, চলতি মাসে আরবিআই তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

রতন টাটাসহ ট্রাস্টের প্রবীণ পরিচালকরা সবসময় কোম্পানিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন রাখার পক্ষে ছিলেন। তাদের মতে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে ট্রাস্টের একক নিয়ন্ত্রণ কমবে এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা মুনাফাকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে। এতে হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ও সামাজিক গবেষণায় ট্রাস্টের দেওয়া অনুদান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া, এয়ার ইন্ডিয়ার মতো সদ্য অর্জিত প্রকল্পগুলোর ঋণের চাপ শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট নাও করতে পারে।

তবে করপোরেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাটার অধীনস্থ বিভিন্ন কোম্পানির মোট বাজারমূল্য ২৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এত বড় একটি শিল্পগোষ্ঠীর পরিচালনা কাঠামো, মূলধন ব্যবহার এবং সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শেয়ারবাজারে আসা প্রয়োজন।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে টাটা গ্রুপে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা তৈরির আশঙ্কা করছেন করপোরেট বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, আগামী দিনগুলোতে পরিচালনা পর্ষদ ও ট্রাস্টের মধ্যে এই টানাপোড়েন ভারতের পুঁজিবাজার এবং বৈশ্বিক ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%